গ্রেফতার ও পদত্যাগে বিপর্যস্ত হেফাজত ইসলাম

একদিকে হেফাজতের শীর্ষ নেতারা পদত্যাগ করছেন হেফাজত আদর্শ বিচ্যুতি হয়েছে এই অভিযোগ করে, অন্যদিকে উগ্রবাদীরা বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হচ্ছেন। গ্রেফতার আর পদত্যাগে হেফাজত এখন বিপর্যস্ত অবস্থায়। সামনে হেফাজতে গণপদত্যাগ আসছে। এই পরিস্থিতিতে হেফাজত অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। শেষ পর্যন্ত সংগঠনটি থাকবে কি থাকবে না এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে হেফাজতের নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ হাসান সহ অন্তত ১২ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে তারা পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন। এই পদত্যাগের ব্যাপারে যদিও হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী তাদেরকে অনুরোধ করছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তার অনুরোধের সত্বেও পদত্যাগ অব্যাহত আছে। সর্বশেষ পদত্যাগ করা হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান বলেছেন যে, হেফাজতকে একটি রাজনৈতিক সংগঠনে রূপান্তরিত করা হচ্ছে এবং বিতর্কিত করা হচ্ছে। এজন্যই তিনি হেফাজতের সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখতে চান না। তিনি এ কারণেই পদত্যাগ করেছেন।

 

 

 

একই অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন অন্যান্য জেলায় বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের আমির হওয়ার পরেই হেফাজতের মধ্যে টানাপড়েনের সৃষ্টি হয়েছিলো। বিশেষ করে জুনায়েদ বাবুনগরী সরকারের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী অবস্থান গ্রহণ করেন, তা হেফাজতের বিভিন্ন মহল গ্রহণ করতে পারেনি। আর গ্রহণ না করার কারণেই তারা মনে করছেন যে হেফাজতে ইসলাম এবং কওমি মাদ্রাসা দুটোর জন্যই নিরাপদ নয়। আর জুনায়েদ বাবুনগরী দায়িত্ব গ্রহণের পরই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিরোধিতা, তারপর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী নিয়ে বিরোধিতা করে হেফাজতকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করান। এই সময় বিশেষ করে ২৬ এবং ২৭ মার্চ ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের নেতৃত্বে নারকীয় তাণ্ডব হয়। তাণ্ডবগুলোকে অনেক একাত্তরের বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করেন।

 

 

 

এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই সমস্ত তাণ্ডবের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে খুঁজে বের করছে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনছে। ইতিমধ্যে সারাদেশে হেফাজতের শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন বলে জুনায়েদ বাবুনগরী দাবি করেছেন। তিনি গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি করে মিনমিনিয়ে কিছু কথা বললেও সেই কথা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা খুব একটা আমলে নেয়নি। কারণ হেফাজতের আমির বাবুনগরীর পায়ের তলার মাটি ইতিমধ্যে সরে যাচ্ছে। তিনি এক রকম চাপের মধ্যে আছেন। আর বিশেষ করে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত যারা, যেমন হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, হেফাজতের নারায়ণগঞ্জ জেলার সেক্রেটারি বশির উল্লাহ`র মতো নেতৃবৃন্দ যখন গ্রেফতার হচ্ছেন তখন বাবুনগরী নিজেই গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন। তাকে পরামর্শ দেওয়ার মতো এবং সহযোগিতা করার মত কোনো লোকও তিনি পাচ্ছেন না।

 

 

 

আল্লামা শফী যখন হেফাজতের আমির ছিলেন তখন তিনি সরাসরি সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করতেন এবং বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরকারের সাথে কথা বলতেন। কিন্তু জুনায়েদ বাবুনগরীকে সরকার পছন্দ করে না এবং তার সঙ্গে জামাতের একটি সম্পর্ক এবং স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে গোপন আঁতাতের খবর পাওয়া যায়। তাদের নির্দেশেই তিনি সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। আর এ কারণেই এখন হেফাজত যে সরকারের সাথে সমঝোতা করবে, আত্মসমর্পণ করবে বা একটা বোঝাপড়া করবে এমন সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যাচ্ছে। ফলে গ্রেফতার আর পদত্যাগের দুই ধারায় হেফাজত সংকুচিত হচ্ছে। হেফাজতের নেতারাই বলছেন, এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে সামনে হয়তো হেফাজতের কোনো নেতাই খুঁজে পাওয়া যাবে না। অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির জন্য হেফাজতকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে এবং সংগঠনটি হয়তো নিঃশেষিত হবে।

Spread the love

পাঠক আপনার মতামত দিন