সারা বিশ্বে করোনায় কেড়ে নিয়েছে প্রায় ২০০০ গনমাধ্যম কর্মীর প্রাণ

নিউজ২৪লাইন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

করোনাভাইরাসে ২০২০ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের ৯৪টি দেশে প্রায় দুই হাজার সাংবাদিক মারা গেছেন। এর মধ্যে ২০২১ সালে মারা গেছেন অন্তত এক হাজার ৪০০ জন। এ হিসাবে মাসে গড়ে ১১৬ জন ও দিনে প্রায় চারজন করে সাংবাদিক মারা গেছেন। বাংলাদেশে এ দুই বছরে করোনায় সাংবাদিক মারা গেছেন ৬৮ জন। সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক মারা গেছেন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে। জেনেভাভিত্তিক সংগঠন প্রেস এমব্লেম ক্যাম্পেইন (পিইসি) শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) এসব তথ্য জানিয়েছে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পিইসি ২০২০ সালের ১ মার্চ থেকে করোনায় সাংবাদিকদের মৃত্যুর বিষয়টি হিসাবে রাখছে। তাদের হিসাবে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ৯৪০ জন সাংবাদিকের প্রাণ গেছে করোনায়। এর মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকায়ই রয়েছে প্রায় অর্ধেক তথা ৯৫৫ জন। মারা যাওয়া সাংবাদিকদের তালিকায় এশিয়ায় ৫৫৬, ইউরোপে ২৬৩, আফ্রিকায় ৯৮ এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে ৬৮ জন রয়েছেন। পিইসি সংশ্লিষ্ট দেশের গণমাধ্যম, সাংবাদিকদের জাতীয় সমিতি ও পিইসির আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের তথ্যের ভিত্তিতে এ তালিকা করেছে।
পিইসি বলছে, মৃতদের এই তালিকার বাইরে আরও ৫০ জন রয়েছে। যাঁরা ঠিক করোনায় মারা গেছেন কিনা তা এখনো যাচাই বাছাই চলছে।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের বিশ্বাস, করোনায় মারা যাওয়া সাংবাদিকদের সংখ্যা অবশ্যই আরও বেশি হবে। কারণ সাংবাদিকদের মৃত্যুর কারণ কখনো কখনো নির্দিষ্ট করা হয় না বা তাদের মৃত্যুর বিষয় ঘোষণা (বৃহৎ পরিসরে) দেওয়া হয় না। কিছু কিছু দেশে, কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। পিইসির ভারতীয় প্রতিনিধি নাভা ঠাকুরিয়ার মতে, দক্ষিণ-এশিয়ার দেশগুলোয় করোনা মহামারিতে ৪০০ জনেরও বেশি গণমাধ্যম কর্মী প্রাণ হারিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু তাদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তির করোনাজনিত মৃত্যুর বিষয়টি এখনো প্রমাণিত হয়নি।

টিকা আসার পর কমেছে প্রাণহানির সংখ্যা!

পিইসির মহাসচিব ব্লেইস লেম্পেন বলেছেন, ২০২১ সালের প্রথমার্ধে যে হারে করোনায় সাংবাদিকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তা টিকা আসার পর বছরের দ্বিতীয়ার্ধে কমেছে। পিইসি বলছে, ২০২১ সালের দ্বিতীয়ার্ধে করোনায় ২২৫ জন সাংবাদিকের মৃত্যুর তথ্য তারা নথিভুক্ত করে। এর মধ্যে ডিসেম্বরে ২৫ জন, নভেম্বরে ২৮, অক্টোবরে ২৭, সেপ্টেম্বরে ৩৩, আগস্টে ৪২ ও জুলাইয়ে ৭০ জন মারা যান। অথচ ২০২১ সালের প্রথমার্ধে এক হাজার ১৭৫ জন সাংবাদিক কোভিড-১৯ এ মারা যান।
পিইসি আশা করছে গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধের মতো করোনায় সাংবাদিকদের মৃত্যুর নিম্নমুখী হার চলতি বছরেও অব্যাহত থাকবে। যদিও তারা করোনার নতুন ধরন অমিক্রনের বিষয়ে উদ্বিগ্ন। সংগঠনটি সব গণমাধ্যমকর্মীকে করোনার বুস্টার টিকা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ব্রাজিল, ভারত ও পেরুতে!!

২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক মারা গেছেন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে। সেখানে ২৯৫ জন গণমাধ্যমকর্মী মারা যান। ভারতে এ সংখ্যা কমপক্ষে ২৭৯ জন। এ ছাড়া পেরুতে ১৯৯, মেক্সিকোতে ১২২, কলম্বিয়ায় ৭৯ ও বাংলাদেশে ৬৮ জন সাংবাদিক মারা যান।
পিইসি জানিয়েছে এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে কমপক্ষে ৬৬, ইতালিতে ৬১, ভেনেজুয়েলায় ৫৯, ইকুয়েডরে ৫১, আর্জেন্টিনায় ৪৭, ইন্দোনেশিয়ায় ৪২, রাশিয়ায় ৪২, ইরানে ৩৪, যুক্তরাজ্যে ৩৩, তুরস্কে ২৯, ডোমিনিকান রিপাবলিকে ২৯, পাকিস্তানে ২৭, নেপালে ২৩, মিশরে ২২, বলিভিয়ায় ২০, হন্ডুরাসে ১৯, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৯, স্পেনে ১৯ ও ইউক্রেনে ১৯ জন সাংবাদিক করোনায় মারা যান।
করোনায় পানামায় ১৭, পোল্যান্ডে ১৪, ফ্রান্সে ১১, গুয়াতেমালায় ১১, নাইজেরিয়ায় ১১, আফগানিস্তানে ১০, নিকারাগুয়ায় ১০, জিম্বাবুয়ে ১০, আলজেরিয়ায় ৯, কিউবা ৯, প্যারাগুয়ে ৮, ফিলিপাইনে ৭, উরুগুয়ে ৭, কাজাখস্তান ৫, রোমান ৫, কেনিয়ায় ৫, মরক্কোয় ৪, ক্যামেরুনে ৪ ও ইরাকে ৪ জন মারা যান। করোনাভাইরাসে আলবেনিয়া, আজারবাইজান, কোস্টারিকা, পর্তুগাল, সালভাদর ও সুইডেনে অন্তত ৩ জন করে সাংবাদিক মারা গেছেন।
পিইসি করোনায় দুজন করে সাংবাদিক মারা যাওয়ার তথ্য পেয়েছে অস্ট্রিয়া, বেলারুশ, বেলজিয়াম, বেনিন, বুলগেরিয়া, কানাডা, চিলি, জার্মানি, ঘানা, গ্রিস, গায়ানা, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড ও উগান্ডায়।
আরও ৩০ দেশে অন্তত একজন করে সাংবাদিক করোনায় মারা গেছে বলে পিইসি নিশ্চিত হতে পেরেছে। দেশগুলো হলো, অ্যাঙ্গোলা, বার্বাডোজ, বসনিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ইসরায়েল, জ্যামাইকা, জাপান, জর্ডান, কিরগিজস্তান, কসোভো, লেবানন, লিথুনিয়া, মালয়েশিয়া, মালাউই, মালি, মালদোভা, মোজাম্বিক, মিয়ানমার, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, ফিলিস্তিন, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তাজিকিস্তান, তিউনিসিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

Spread the love

পাঠক আপনার মতামত দিন