দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

নিউজ২৪লাইনঃ
ইয়ামিন কাদের নিলয় বিশেষ প্রতিনিধি ঃ
নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কোন প্রকার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে পুকুর কেটে মাছ চাষ করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হাসান ইবনে আমিনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, করোনাকালীন টিকাদানের জন্য বরাদ্দের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন তিনি।
এতে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। যথাসময়ে ডাক্তার অফিসে না আসা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস ত্যাগ করা যেন তাদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোদ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হাসান ইবনে আমিন যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ ওঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার, ভুক্তভোগী রোগী ও স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, নাম সর্বস্ব পত্রিকায় দরপত্রের ঘুপছি বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে পছন্দের লোককে কাজ পাইয়ে দেয়া, টেন্ডারে বেশি মূল্যে খাবার সরবরাহের অনুমতি প্রদান, বছরের পর বছর একই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দ্বারা রোগীদের খাবার সরবরাহ, দালাল দিয়ে সরকারি হাসপাতালের রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে কমিশন বাণিজ্য, হাসপাতাল চত্বরে পুকুর ও সবজি ক্ষেত বানিয়ে মাসে মাসে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ নানা অনিয়মের মূল হোতা ডাঃ হাসান ইবনে আমিন। এছাড়াও সরকারি দামি ওষুধ রোগীকে না দিয়ে ক্লিনিকে সরবরাহ, অস্বাভাবিক মৃত্যুর লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও মারামারি রোগীর সার্টিফিকেট বিক্রিসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে ডাঃ হাসান ইবনে আমিনের বিরুদ্ধে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা চরকুমারিয়ার আসাদ হাওলাদার বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য ফাইজার টিকা দিতে এসেছিলাম। কিন্তু টাকা দিতে পারি নাই বলে আমাকে টিকা দেয়া হয়নি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মারামারির রোগী রুবেল, হৃদয়সহ অন্যান্যরা অভিযোগ করেন, মেডিক্যাল সার্টিফিকেটের জন্য মোটা অংকের টাকা দাবি করেন ডাঃ হাসান ইবনে আমিন। টাকা দিতে পারি নাই বলে সার্টিফিকেট দেয় নাই। ৪০ বছর পর বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন চালু করা হলেও গরীব রোগীরা সেই সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব দুর্নীতির বিষয়ে অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হাসান ইবনে আমিন বলেন, ‘পূর্বে হাসপাতালে রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জামগুলো অকেজো থাকায় তখন চিকিৎসা সেবা ব্যহত হতো। আমি এখন ভালো কিছু করার চেষ্টা করছি।’

Spread the love

পাঠক আপনার মতামত দিন