শরীয়তপুরে ফাতেমা মেডিকেল সেন্টারের গাইনি বিভাগের ডাক্তার দেবশ্রী পাল এর দায়িত্ব অবহেলার কারণে ক্লিনিকের বাথরুমেই প্রসূতির মৃত বাচ্চা প্রসব

নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুরঃ

প্রথম পর্বের।
শরীয়তপুর ফাতেমা মেডিকেল সেন্টারের গাইনি বিভাগের ডাক্তার দেবশ্রী পাল ও নার্সদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে ফাতেমা ক্লিনিকের বাথরুমেই প্রসূতির মৃত বাচ্চা প্রসব।
শরীয়তপুর জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা সোহেল খানের স্ত্রী কেয়া আক্তার(২৪) এর প্রসব বেদনা উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বামী সোহেল খান তার স্ত্রীকে নিয়ে শরীয়তপুর সদর ফাতেমা মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে আসে। ফাতেমা মেডিকেলে আসার প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীর অভিভাবক সোহেল, ডাক্তার দেবশ্রী পাল কে বলেন এর চিকিৎসা এখানে করতে পারবেন তখন দেবশ্রী পাল বলেন পারব, তাদের কথা সন্দেহজনক হলে রোগীর স্বামী সোহেল রোগীকে নিয়ে ঢাকা যেতে চাইলে তখন ডা. দেবশ্রী পাল বাধা প্রদান করেন এবং বলেন ঢাকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই এর চিকিৎসা এখানে চলবে এই বলে রোগী ভর্তি নেয়।
গত ২৬ জুলাই ২০২১ সকাল সাড়ে দশটার দিকে সোহেল খান তার স্ত্রী কেয়া আক্তার কে ফাতেমা মেডিকেলে ভর্তি করেন। রোগী কেয়া আক্তার ফাতেমা মেডিকেল কেবিনে বাচ্চা প্রসব বেদনায় ছটফট করতে থাকে। ভর্তির ২ ঘন্টা চলে গেলেও প্রসূতি কেয়া আক্তার ওই হাসপাতালের ডাক্তার এবং নার্সদের কোন সেবা পায়নি। প্রসূতি কেয়া আক্তার প্রচন্ড প্রসব ব্যাথায় ছটফট করতে থাকে তখন ওই মুহূর্তে ফাতেমা মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তার ও নার্সদের ডেকে না পেয়ে,কেয়া নিজেই কষ্ট করে ঐ ক্লিনিকের বাথরুমে যায়। তখন ঐ মুহুর্তে প্রসূতি কেয়া আক্তার বাথরুমে মৃত বাচ্চা প্রসব করে। প্রসূতি কেয়া আক্তারের চিৎকারের শব্দ শুনে রোগীর স্বামীসহ অভিবাবকরা বাথরুম থেকে উদ্ধার করে ফাতেমা মেডিকেল কেবিনে নিয়ে আসে। অবশেষে ওই হাসপাতালেই প্রসূতি কেয়া আক্তারের চিকিৎসাসেবা চলতে থাকে। এদিকে প্রসূতি কেয়া আক্তারের স্বামী সোহেল খান ফাতেমা মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। তখন ওই মুহূর্তে প্রসূতি কেয়া আক্তারের স্বামী সোহেল ফাতেমা মেডিকেলের দায়িত্ব প্রাপ্তদের বলেন আমি এই বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের জানাবো। তখন ওই মুহূর্তে ফাতেমা মেডিকেল সেন্টারের গাইনি বিভাগের ডাক্তার দেবশ্রী পাল ওই হাসপাতাল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পালিয়ে যায়।প্রসূতি কেয়া আক্তারের স্বামী সোহেল এবং তার ভাই ফাতেমা মেডিকেল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল মিয়াকে বিষয়টি জানালে তিনি অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন এ কাজটি মোটেও ঠিক হয়নি আমরা এখানে বসছি রোগীর সেবা দিতে, সেবা দেওয়াই আমাদের কাজ।
প্রসূতি কেয়া আক্তারের স্বামী সোহেল খান গণমাধ্যমকে বলেন গত ২৬ জুলাই বেলা সাড়ে দশটার দিকে আমার স্ত্রীকে এই ফাতেমা মেডিকেলে ভর্তি করি। ভর্তির দুই ঘন্টার মধ্যে এই হাসপাতালে কোন ডাক্তার কোন নার্সদের সেবা পাইনি। সঠিক সময়ে সেবা না পাওয়ার কারণে আমার স্ত্রী এই হাসপাতালের বাথরুমে মৃত বাচ্চা প্রসব করে। তিনি আরো বলেন এই হাসপাতালের ডাক্তার এবং নার্সদের অবহেলার কারণে আমার স্ত্রীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত। তখন এই দায় কে নিত। সোহেল অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলেন বর্তমানে ক্লিনিকের অবস্থা এমন হয়েছে উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট। এসব ক্লিনিকে ভালো কোনো ডাক্তার নেই ভালো কোন নার্স নেই।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আশেপাশে ব্যাঙের ছাতার মতো ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। রোগীরা প্রকৃত সেবা পাচ্ছে না, এবিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনা উচিত।

দ্বিতীয় ঘটনা:
ক্লিনিকে ভর্তি কৃত ভুক্তভোগী প্রসূতির বড় বোন গণমাধ্যমকে বলেন গতকাল ২৫ তারিখে আমার বোন সীমাকে এই ফাতেমা ক্লিনিকে ভর্তি করাই সিজারে জন্য। তারা রোগীদের কোন গুরুত্ব দেয় না তাদের যে কাজ করা দরকার তারা সেটাও করে না। আমার বোন সীমাকে ডাক্তার দেবশ্রী পাল দুইবার অপারেশন করেছে। ছেলে বাবু হয়েছে রোগীর অবস্থা একটু ভালো। আমার বোনকে দুইবার কেন অপারেশন করল আপনারা ডাক্তার মহিলা কে জিজ্ঞেস করেন।

Spread the love

পাঠক আপনার মতামত দিন