মাত্র সাত শতক জমির জন্য নিজের মেয়েকে হত্যা করে ভাতিজাদের নামে মামলা

নিউজ ২৪লাইন:

নিজ মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা
খুনি মামলার বাদী, সহযোগীরা সাক্ষী

খুনি মামলার বাদী, সহযোগীরা সাক্ষী
ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ
মাত্র সাত শতক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজাদের ফাঁসাতে নিজের মেয়েকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করলেন এক বাবা।

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের বসন্তপুর এলাকায় পাষণ্ড বাবার লোভের বলি হন মাদ্রাসা ছাত্রী সালমা আক্তার (১৪)।

অথচ পাষণ্ড বাবা সোলেমান মেয়ের হত্যার দায় চাপিয়েছেন নিজ ভাইয়ের ছেলেদের উপর। খুনি নিজেই বাদী হয়ে ভাতিজাদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) কুমিল্লা জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানালেন এমনই তথ্য।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর জানান, বাড়ির ৭ শতক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজাদের ফাঁসাতে সোলেমান তার মেয়ে সালমা আক্তারকে গত ১অক্টোবর রাতে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে এলোপাতাড়ি গলা, পেট, কাঁধ ও পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়, মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সালমাকে পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় সোলেমান নিজেও অস্ত্র দিয়ে মেয়েকে আঘাত করেন।

হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন সোলেমান নিজে, বন্ধু খলিল ও তার দুই ভাইসহ মোট সাতজন। শুধু তাই নয়, ঘটনাকে আরো বিশ্বাসযোগ্য করতে সালমা আক্তারের বাবা নিজের গলা কেটে ফেলেন।

তিনি জানান, জমি নিয়ে সোলামানের সাথে তার দুই ভাতিজা শাহজালাল ও মো. শাহ কামালের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলার বিচারও চলমান। কিন্তু মামলায় সুবিধা করতে না পারায় নিজে মেয়েকে হত্যা করে তাদের ফাঁসাতে সঙ্গীদের নিয়ে এমন নৃসংশ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়ন করেন।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের ধরন, মামলার বিবরণ, সাক্ষ্য ও বাদীদের নানান বক্তব্য গরমিলে নিবিড় তদন্তে নামে পুলিশ। মামলার সাক্ষী সোলেমানের বন্ধু মো: খলিল ও আব্দুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়। তারা স্বীকার করেন জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজাদের ফাঁসাতে নিজের মেয়েকে হত্যা করেন সোলেমান।

মামলার সাক্ষীদের বরাত দিয়ে জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, এছাড়াও সোলেমানের দুই ভাই লোকমান ও বাতেন, প্রতিবেশী আবুল হোসেন, মূল পরিকল্পনাকারী আবদুর রহমান, প্রতিবেশী শফিউল্লাহ ও সোলেমানের বন্ধু খলিল হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মা ও অন্য সন্তানদের সামনে সালমাকে হত্যা করা যাবে না-এ চিন্তা থেকে কৌশলে স্ত্রী ও দুই ছেলে এবং অন্য মেয়েকে নিজের শ্বশুর বাড়ি পাঠিয়ে দেন সোলেমান। সালমা রান্নাবান্না করবে এমন কারণ দেখিয়ে তাকে বাড়িতেই রেখে দেওয়া হয়। আবদুর রহমানের পরিকল্পনায় ঘটনার রাতের কোনো এক সময় বাড়িতে প্রবেশ করেন সোলেমানসহ অন্য খুনিরা।

হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা আবদুর রহমান ও সোলেমানের বন্ধু খলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসমিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানায় পুলিশ।

Spread the love

পাঠক আপনার মতামত দিন