ভেদরগঞ্জের সখিপুর চুরি করে গরু বিক্রি সেই টাকায় সমাধান

নিউজ২৪লাইন:

আমান আহমেদ সজীব  ( শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার চরসেনসাস ইউনিয়নের বেড়াচাক্কি গ্রামের বাসিন্দা
কাশেম খাঁন ও হানিফ ঢালীর বাড়ি থেকে দুটি গরু চুরি হয়। সোমবার (২০ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে, চার দিকে খোজা খুজির পরেও কোন সন্ধান মিলেনি গরু দুটির। এদিকে গরু না পেয়ে চোখে মুখে অশ্রু জরছে দুই পরিবারের।

স্থানীয়রা জানান একই রাতে দুই বাড়ি থেকে দুটি গরু চুরি হয়। নানিফ ঢালীর নিজের গরু হলেও কাশেম খাঁন কিন্তু নসিংহপুর বাসিন্দা ইসমাইল পাঠওয়ারীর কাছ থেকে গরুটি ভাগে লালন পালন করার জন্য কয়েক মাস আগে আনে।

সামনে ঈদুল আযহা বিক্রি করে কিছু টাকা পয়সা ভাগে পেলে হয়তো সুন্দর করে পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাবাগি করে নিতে পারতো, হলোনা বুঝি তাদের আর ঈদ ও আনন্দ ভাগ করা। গরু টিই ছিলো একমাত্র সম্বল।

স্থানীয়রা কাশেম খাঁন ও হানিফ ঢালীর কে জানান কাল তো উত্তর তারাবুনিয়া চেয়ারম্যান বাজার সেখানো একটু খোজে করে দেখো পাওয়া যায়কিনা৷ তাদের কথা অনুযায়ী উত্তর তারাবুনিয়া চেয়ারম্যান বাজারে আসে কাশেম খান ও তার গরুর মালিক ও হানিফ ঢালী। তার পরেও কোন সন্ধান মিলেনি, পরের দিন (২২জুন) বুধবার সখিপুর বাজার গো-হাটে আসে কাশেম খান ও তার গরুর মালিক ও হানিফ ঢালী, গরুর মালিকরা পরে নিজের গরু দুটি দেখতে পায় এক ব্যবসায়ীর কাছে,
তাকে জিজ্ঞেস করলে, সে তার কেনা রশিদ দেখান, এবং কে বিক্রি করেছে তার নাম উল্লেখ করেন। সেখানে রশিদের বিতরে দেখা যায়, চরসেনসাস ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রোস্তম আলী ভুইয়ার ছেলে হারুন ভুইয়ার নাম, পরে স্থানীয় লোকজনকে ঢেকে গরু দুটি আটক করা হয়।

বিষয়টি চরসেনসাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বি এম আনোয়ার হোসেন বালাকে জানালে, তিনি উভয় পক্ষকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টায় বিচারের আশ্বাস দেন। এবং বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বিকাল ৩ টায়
চরসেনসাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বালার নিজ বাড়িতে রোস্তম আলী ভুইয়ার ছেলে হারুন ভুইয়া (৪৫) কে চোর সাপদ্য করা হয়। এবং তার বিক্রির রশিদের উপর দুটি গরু ১ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়েছে উল্লেখ থাকায়, সেই অনুযায়ী ঐ ১ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা দিয়ে সমাধান করা হয়েছে গরুর মালিকদের সাথে। এবং বিচার টি মেনে নিয়েছে হারুন ভুইয়ার পরিবার ও তার মুরুব্বিগন।

এবিষয়ে কাশেম খাঁন গণমাধ্যমকে মুটোফোনে জানান আমরা গরু চোর কে সনাক্ত করেছি, বিষয়টি আমাদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বালা কে জানানো হয়েছে বিকাল ৩ টায় বিচার করা হবে। বিচার শেষে তিনি আরো জানান চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বালা গরু চোরের বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছে, আমাদের গরু যত টাকা বিক্রি করেছে, হারুন ভুইয়া, আমাদেরকো ঐ টাকাই দিয়া দিবো । আর কিছু জানিনা চেয়ারম্যান সাহেব সব জানে।

এবিষয়ে আক্তারুজ্জামান বালা গনমাধ্যমকে মুটো ফোনে জামান চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বালা গন্যমান্য লোকজন কে নিয়ে বিষয়টি সমাধান করেছে, গরুর রশিদে ১ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা উল্লেখ থাকায়, চোর হারুন ভুইয়াকে দুই গরুর মালিক কে ১ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা দিতে বলা হয়েছে । এবং টাকাটা দেওয়া হবে চরসেনসাস ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মফিজল হক মাদবরের মাধ্যমে।

এবিষয়ে নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় জনসাধারণ, বলেন গরু চুরির বিচার যদি এমন হয়, তাহলেতো মানুষ চুরি করবই । ধরা পরলেই বিক্রি অনুযায়ী টাকা দিয়ে সমাধান হয়ে যাবে। না পরলে নাই । চোরের তো কোন বিচার হয়নি। এদের পিছনে কালো হাত কারা জরিত। তাদের কে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

এবিষয়ে হারুন ভুইয়া বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব সব জানেন, তিনি সমাধান করে দিয়েছে, আমি আমার গরু বিক্রি করতে গিয়ে ছিলাম বাজার,
পরে ঐ গরুর মালিক গিয়ে বলে তাদের গরু। আমার সাথে সরযন্র চলতেছে। চেয়ারম্যান সাহেব দুই গরু যত টাকা বিক্রি করেছি, ঐ টাকাটা দিতে বলেছে, দিয়া দেবো। আমি কারো গরু চুরি করি নাই।

এবিষয়ে চরসেনসাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বি এম আনোয়ার হোসেন বালা কে মোটোফোনে কল দিলে ফোনটি রিসিভ করে বলেন আমি মিটিং এ আছি
পরে আপনার সাথে কথা বলবো।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চরসেনসাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বি এম আনোয়ার হোসেন বালা, আক্তারুজ্জামান বালা, মফিজল হক মাদবর, মেম্বার ইয়াছিন শেখ, শাখরুল বালাসহ স্থানীয় লোকজন প্রমুখ।।

Spread the love

পাঠক আপনার মতামত দিন