সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দেশকে আলোর দিকে নিয়ে যেতে হবে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটি

নিউজ২৪লাইন:

সাম্প্রদায়িক শক্তি দেশে এখনো ষড়যন্ত্র করছে, এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে
দেশকে আলোর দিকে নিয়ে যেতে হবে।
আগস্ট উপলক্ষে রোববার রাতে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ আয়োজিত আলোর
মিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তারা একথা বলেন।

বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক মন্দার এই সংকটকালে সুযোগ সন্ধানী ও দেশ বিরোধীরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পায়তারা করছে। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মুক্তিযোদ্ধা জনতার ঐক্যবদ্ধ শক্তি সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন তারা। বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং দেশদ্রোহী ষড়যন্ত্রের নেতৃত্ব দিতে হবে।

যে পথে ঘাতকের ট্যাঙ্ক ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে গিয়ে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে জাতিকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছে সেপথে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা প্রতিবছর প্রজ্জ্বলিত মশাল হাতে নিয়ে আলোর মিছিল করে। দেশকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় নিয়ে ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর তারা এ কর্মসূচি পালন করে। জাতির পিতার ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এবার তারা ৪৭টি মশাল
নিয়ে এই আলোর মিছিল করে।

মিছিলটি রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু হয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে গিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতির সামনে শপথ গ্রহণ ও ১৫ আগস্টে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হয়।

আলোর মিছিলের উদ্বোধন ঘোষণা করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান এমপি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক শ্রী মৃণাল কান্তি দাস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেনl

শাজাহান খান বলেন, ‘আমরা এই দেশকে কখনোই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীদের হতে যেতে দিতে পারি না। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসের চেষ্টা করছে। ৭৫’র পর ২১ বছর
এই চেষ্টা চলেছে। কিন্তু প্রতিবারই মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা তা প্রতিহত করেছে।’

তিনি বলেন, আজ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের হাতে আলো জ্বলবে। এর মাধ্যমে দেশ থেকে অন্যায়, অবিচার, অনাচার, সাম্প্রদায়িকতা দূর হবে। তৈরি হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি বলেন, বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে প্রমাণ করতে চায়। তারা আরেকটি ১৫ আগস্ট সৃষ্টি করতে
চায়। কিন্তু এদেশে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও তাদের প্রজন্মরা বেঁচে থাকতে তাদের এই আশা কোনো দিন পূরণ হবে না।’

মৃণাল কান্তি দাস বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিলো, কারণ বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর পাকিস্তানের সাথে কনফেডারেশন করার, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের
এবং রেডিও, টেলিভিশনসহ সব ক্ষেত্রে পাকিস্তানি ভাবধারা ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা হয়েছিলো। তারপরের ২০ বছরের অচলাবস্থা ভেঙ্গে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে আবার সরকার গঠন করার মধ্য দিয়ে এবং ২০০৮সালে সরকার গঠন করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে সাড়ে ১৩ বছরে যেভাবে এগিয়ে
নিয়ে গেছেন, তার ফলে বাংলাদেশ আজ পৃথিবীর সামনে একটি গর্বিত রাষ্ট্র।’

মিছিলের আগে আয়োজিত পথসভায় সভাপতিত্ব করেন আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের
কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তি দেশে এখনো ষড়যন্ত্র করছে, এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দেশকে আলোর দিকে নিয়ে যেতে
হবে’।
এসময় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান শাহীন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে
হত্যার মাধ্যমে দেশকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করার যে চক্রান্ত শুরু হয়েছিল আমরা প্রতিবার শপথ নিই,সেই চক্রান্ত নস্যাৎ করার।
পথসভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম সুলতান উদ্দিন আহমেদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শহীদ সংসদ সদস্য নূরুল হক হাওলাদারের কন্যা জোবায়দা হক অজন্তা, শফিউল বারী রানা, আনোয়ার হোসেন বাবু,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশীদ রনি, আল আমিন মৃদুল, ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক মনির, আজহারুল ইসলাম অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির সরকার, কামরুল ইসলাম রাসেল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলজার হোসেন, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম মুন্না, দফতর সম্পাদক শিহাবুল ইসলাম, সিলেট জেলা সভাপতি আতাউর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আশেক রসুল খান বাবু ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

 

Spread the love

পাঠক আপনার মতামত দিন