ফরিদপুরে আলোচিত তুরাগ হত্যার প্রধান আসামী-”কানা তুষার”কে পিস্তলসহ গ্রেফতার

মো:টিটুল মোল্লা, ফরিদপুর।।

ফরিদপুরের আলোচিত সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ছাত্র তুরাগ হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী কানা তুষার কে হত্যায় ব্যবহারীত পিস্তলসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ফরিদপুর পুলিশ সুপার,মো. শাহজাহান তাঁর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন,মাদক কারবারের টাকা আত্মসাৎ করায় তাঁর তুরাগের ওপর ক্ষোভ ছিল দুই দুই ব্যবসায়ীর মধ্যে।

তুরাগেরন ওপর সেই ক্ষোভের জেরেই তুরাগকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আসামীরা।

উল্লেখ্য, ১১ই অক্টোবর সন্ধ্যায় ফরিদপুর সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের একটি বাগানে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে।হত্যার পরে তুরাগের বাঁ হাত কেটে উল্লাস করতে করতে অটোরিকশায় করে চলে যায় হত্যাকারীরা।।

ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পরে তুরাগের বাবা মো. আলাউদ্দিন হাওলাদার (৬৭) কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

২৩ ইং নভেম্বর( বৃহস্পতিবার)ভোরে বরিশালের বাবুগঞ্জ এলাকার ডিগ্রি কলেজের পাশ থেকে তুষারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান,তুরাগ হত্যার মিশনে অংশ নেওয়া ও পরিকল্পনাকারীরা তারা প্রায় সবাই এখন গ্রেপ্তার হয়ে আইনের আওতায় আছে। এদের মধ্যে কানা তুষারের নেতৃত্বে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় রাজন, সাজন, জুয়েল ও টিপু।

 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান,মাদকের টাকা লেনদেনে সমস্যা হওয়ায়তুরগকে হত্যার ছক সাজায় কানা তুষার।এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত দুটি ম্যাগাজিন ও একটি গুলিসহ বিদেশি ৭.৬৫ বোর পিস্তল উদ্ধার করে।

কানা তুষারের বিরুদ্ধে তুরাগ হত্যাসহ দুটি হত্যা মামলা, ১২টি মাদক মামলা, দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলাসহ ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় ২১টি মামলা রয়েছে।

বোন স্বপ্নার চাওয়া উপহার হিসেবে তুরাগের হাত কেটে নেয় কানা তুষার।

এ জন্য হত্যায় জরতীদের মধ্যে মামলায় বোন স্বপ্নাকেও আসামি করা হয়েছে।

 

এছাড়াও পুলিশের একটি সূত্র থেকে যানা যায়, কানা তুষারের অত্যাচারে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরেই অতিষ্ঠ। আনুমানিক ১৫ বছর আগে তাকে পাবলিকে ধরে চোখে চুন ঢেলে দিয়েছিলেন।

তারপর থেকেই এলাকাবাসী তাকে কানা তুষার নামেই ডাকে।এখন সে “কানা তুষার” নামেই পরিচিত।

এতে করে দুটি চোখই কানা হয়ে যায় তুষারের।বিভিন্ন চিকিৎসার উন্নতির ফলে এখন সে হালকা দেখতে পারে বলে জানাগেছে।

 

তিনি বলেন,উক্ত মামলায় কারাগারে ১৭ই (নভেম্বর) রাজন, সাজন, জুয়েল ও আক্কাস জমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

এজাহার ভুক্ত আসামীদের মধ্যে দু’জন আসামী এখনো পলাতক আছে।দ্রুত তাদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলমান আছে বলে জানিয়ে দেন তিনি।

 

পুলিশ সুপার মো.শাহজাহান বলেন,তুরাগের কেটে নেয়া হাতের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি।।ধৃত কানা তুষারের কাছে আরো অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের জন্য আবেদন করবে পুলিশ।।

Spread the love

পাঠক আপনার মতামত দিন