মহান একুশে বই মেলায় সুলতানা দিল আফরোজের ত্রিরত্ন

“মহান একুশে বই মেলায় সুলতানা দিল আফরোজের ত্রিরত্ন”

সুলতানা দিল আফরোজ,কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারে তাঁর জন্ম। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বে জন্ম নেওয়া এই লেখকের জন্ম তারিখ ২০শে ডিসেম্বর। পিতা জনাব জামাল আহমেদ পেশায় একজন কৃষিবিদ। মাতা হাবিবুন নাহার একজন গৃহিণী। তিন ভাই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। পিতার বদলিযোগ্য চাকরির সুবাদে শৈশবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন। কৈশোরে চলে আসেন চট্টগ্রাম। বাংলাদেশ মহিলা সমিতি স্কুল ও কলেজ এবং চট্টগ্রাম গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজে পড়ালেখা করেছেন।১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা,কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুর কাজিবাড়ির মরহুম সৈয়দ আমিনুল ইসলাম এবং মরহুমা সৈয়দা নুরজাহান বেগমের মেঝছেলে জনাব এস এম আশরাফুল ইসলামের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আবার শুরু হয় দেশের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চলা। এই ছুটে চলায় যুক্ত হয়েছে পৃথিবীর কয়েকটি দেশভ্রমণের অভিজ্ঞতাও। এক কন্যা,এক পুত্র এবং স্বামীকে নিয়ে তাঁর ছোট সংসার।স্বামীর কর্মক্ষেত্রে থাকা এবং ছুটে চলার পথে তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুরে একটি নতুন স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি নিবিড় এবং নিবেদিতপ্রাণ হয়ে সে দায়িত্ব পালন করেন। করোনাকালে জীবনের ব্যস্ততা কিছুটা কমে আসার ফাঁকে তিনি লেখালিখিতে ঝুঁকে পড়েন। তাঁর লিখা তিনটি বই,‘আমার শৈশব আমার বাবা বেলা’(জানুয়ারি ২০২১),‘স্মৃতির আঙিনায়’ (ফেব্রুয়ারি ২০২১),‘ভ্রমণে ভাবনায় সিলেট’(ফেব্রুয়ারি ২০২৩) পাঠক প্রিয়তা অর্জন করেছে।এ ছাড়াও তিনি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এবং লিটল ম্যাগাজিনে নিয়মিত লিখে চলেছেন। চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘প্রকৃতির’ তিনি একজন নিয়মিত লেখক। তাঁর লিখা প্রবন্ধগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য (ক)হৃদয়ে মাটি ও ভাষা (খ)প্রসঙ্গ নারী দিবস এবং আমরা (গ)স্মৃতিতে ঈদ এবং ঈদ কড়চা। ধারাবাহিকভাবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে লিখা হয়েছিল যা পরবর্তীতে বই আকারে প্রকাশ করার একান্ত ইচ্ছা রয়েছে এমন কিছু লিখা হলো_(ক)খাদ্য সংস্কৃতির বিবর্তন বহে ধীর লয়ে (খ)প্রসঙ্গ মির্জা গালিব।বর্তমানে তিনি কাজ করছেন ‘কর্ণফুলীর বাঁকে-পান্থজনের কথকতা’ শিরোনামের একটি বই নিয়ে। আশা করা যায় খুব শীঘ্রই এটি ভিন্ন আঙ্গিকে বই আকারে প্রকাশিত হবে।জাতীয় বইমেলা-২০২৩-এ সিলেট ভ্রমণের উপর তাঁর লিখা বই ‘ভ্রমণে ভাবনায় সিলেট’ প্রকাশিত হয়ে জনপ্রিয় হয়েছে। তাঁর সাবলীল লেখনিতে খুঁজে পাওয়া যায় স্মৃতিচারণ কিংবা ভ্রমণকাহিনি তেমনি দেশপ্রেম,প্রকৃতি,মাটির সোঁদা গন্ধ,ইতিহাস,ঐতিহ্য। নতুন প্রজন্মের সাথে শেকড়ের এক মেলবন্ধন গড়ে তুলতে তাঁর এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। তাঁর লিখায় বিমূর্ত হয়ে উঠে জীবনের বৃহত্তর ক্যানভাস। শৈশব হতেই তিনি ছিলেন একজন নিবেদিত পাঠক। ধীরে ধীরে এই পাঠাভ্যাস তাঁকে একজন লেখকে রূপান্তর করে।
এবারের মহান একুশে বইমেলা- ২৪ এ কথাসাহিত্যিক সুলতানা দিল আফরোজের সময়ে স্বল্পতার কারনে কোন বই প্রকাশ না পেলেও দেশ পাবলিকেশন স্টল নং ৪৭৮_৪৮০ পাওয়া যাবে লেখকের তিনটি বই।
বইগুলো ছুঁয়ে দেখুন, কথা বলুন, একটু সময় দিন দৃষ্টিজয়ীদের সঙ্গে।

Spread the love

পাঠক আপনার মতামত দিন