ডামুড্যায় কলেজছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রেমিকের বিরুদ্ধে

ইয়ামিন কাদের নিলয়

বিশেষ প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় নিখোঁজের একদিন পর হাত-পা, মুখ ও চোখ বাঁধা অবস্থায় এক কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই ছাত্রীর অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করায় প্রেমিক সিয়াম ও তার সঙ্গীরা তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে ব্রিজের নিচে ফেলে গেছে।
অভিযুক্ত সিয়াম পেদা (১৯) ডামুড্যা উপজেলার সিঁধুলকুড়া ইউনিয়নের ছোট সিঁধুলকুড়া গ্রামের খোদাবক্স পেদার ছেলে। তিনি গোসাইরহাটের সরকারি শামসুর রহমান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিয়াম পেদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর। কিছুদিন আগে তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। এরপর ৩০ মে ওই কিশোরী কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে ডামুড্যার ফরাজি টেক নামক স্থান থেকে সিয়াম পেদা ও তার চার সঙ্গী তাকে তুলে নিয়ে পরিত্যক্ত একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
এদিকে ওই কিশোরী বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করতে থাকেন। পরিবারের লোকজন তাকে কোথাও না পেয়ে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি ডামুড্যা থানা পুলিশকে জানায়। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ভুক্তভোগীর বাবা জানতে পারেন ডামুড্যার সিঁধুলকুড়া কাঠের ব্রিজের ওপর হাত-পা, চোখ মুখ বাঁধা অবস্থায় এক কিশোরীকে পাওয়া গেছে। এরপর ভুক্তভোগীর বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কিশোরীকে শনাক্ত করেন। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠান।
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, “আমার মেয়ে নিখোঁজের সংবাদ থানায় জানিয়ে আমরা বাড়িতে ফিরছিলাম। এমন সময় খবর পাই এক মেয়েকে সিঁধুলকুড়া ব্রিজের ওপর হাত-পা বাধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এরপর ওই ব্রিজে গিয়ে আমি আমার মেয়েকে চিনতে পারি। পরে পুলিশ গিয়ে আমার মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে চিকিৎসার জন্য। এ ঘটনায় আমি আইনের আশ্রয় গ্রহণ করব।”
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মিতু আক্তার বলেন, “ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আলামত সংগ্রহ করে ওই কিশোরীকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমারত হোসেন বলেন, “হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক কিশোরীকে সিঁধুলকুড়া ব্রিজের ওপর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিশোরীকে ব্রিজের ওপর থেকে উদ্ধার করার আগে তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল থানায়। তবে অভিযোগটি নথিভুক্ত করার আগেই আমরা জানতে পেরেছি কিশোরীকে ব্রিজের ওপর পাওয়া গেছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Spread the love

পাঠক আপনার মতামত দিন