রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক বাবুলের যোগসাজশে খুরুশকুল-পিএমখালিতে ৫০ পয়েন্টে অবাধে পাহাড় নিধন ও বালি বিক্রি চলছে

রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক বাবুলের যোগসাজশে খুরুশকুল-পিএমখালিতে ৫০ পয়েন্টে অবাধে পাহাড় নিধন ও বালি বিক্রি চলছে

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের পিএমখালী রেঞ্জের খুরুশখুল বিটের বিশাল বনভূমি বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। রেঞ্জার ফারুক বাবুলের বিরামহীন অনিয়ম—দুর্নীতি ও গাফেলতির কারণে প্রায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে পিএমখালি রেঞ্জ। এসব অভিযোগ স্থানীয় ভুক্তভোগীদের। অভিযোগ উঠেছে, উক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা খুরুশকুল বনবিভাগের আওতাভুক্ত পাহাড়কাটা, গাছপালা কাটা, খালের বালি বিক্রিসহ হেন কোন অপকর্ম নেই তিনি করছেননা। এসব অনৈক কাজ করতে তিনি ৫০টির অধিক পয়েন্ট তৈরি করেছেন। যেখান থেকে প্রতিনিয়ত গাছ কাটা, পাহাড় কাটা ও বালি বিক্রি চলছে অবাধে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, রেঞ্চ অফিসার ফারুক বাবুল তার অপকর্ম নির্বিঘ্নে চালাতে তাকে সহযোগিতা করেন বন কর্মকর্তা পরিচয়ধারী বন প্রহরী তরিকুল ইসলামসহ খুরুশকুল ও পিএমখালির স্থানীয় কিছু দালাল চক্র!
খুরুশখুল তেতৈয়া এলাকায় যে পাহাড়গুলো কাটা হচ্ছে— তেতৈয়ার বেলাল সিকদারের বাড়ির পিছনের পাহাড়। ইউসুফ ফকির পাড়া বাবুলের বাড়ির পাশের পাহাড় প্রায় কাটা শেষের দিকে। হাতকাটা জালিয়া বাপের পাড়া ও নূরানী মাদরাসা এর পাশের আহসান উল্লাহর বাড়ির পাশের পাহাড় এই পাহাড়গুলো কেটে সাবাড়!
কুমারিয়ার ছড়া এলাকায় যে পাহাড়গুলো কাটা হচ্ছে— কুমুরিয়ার ছড়া মসজিদের পূর্ব পাশের পাহাড় রেঞ্জ অফিসার বাবুলের ছত্রছায়ায় কাটতেছে এই পাহাড়।
কুমারিয়ার ছড়া, মালেকের গুনা পাহাড়, কেটে শেষ।
ঘোনার পাড়া মাদ্রাসার পাশে দুইটি পাহাড় কেটে শেষ ৷ আর্দশ গ্রাম, কদমতলী যাওয়ার মুখে পাহাড় কেটে সাবাড়! বওনা কাটা, কয়েকটি পাহাড় কেটে শেষ। দিঘির ঘোনা বিটেও অনেক পাহাড় কেটে শেষ!
রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক বাবুল তার তৈরি করা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংস করে শুধু রাতে নয় দিনের আলোতে বিক্রি করে দিচ্ছে পাহাড় খেকোদের কাছে। এই কাজে তিনি তার ডান হাত খ্যাত খুরুশকুল অফিসের বন প্রহরী তরিকুল ইসলামকে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, পিএমখালি রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক বাবুলের এই অনিয়ম ও অবৈধ পাহাড় কাটা, গাছ বিক্রি ও বালি বিক্রির বিষয়টি স্থানীয় সচেতন মহলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও বিভাগীয় সহকারী বন কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা খুরুশখুলে স্পেশাল টিম প্রেরণ করেন। তবে গ্রাম্য প্রবাদের মত “ঘরের মধ্যে চুর থাকলে চুর ধরবে কেমনে”! স্পেশাল টিম অভিযানে বের হলে রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক বাবুলের নির্দেশে তারই ডানহাত বন প্রহরী তরিকুল ইসলাম পাহাড় খেকোদের ফোন দিয়ে আগেই সতর্ক করে দেন! যার ফলে বিভাগীয় স্পেশাল টিম কোন ধরনের প্রতিকার করতে পারেন নি।

এই বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক বাবুলের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি!

এমতাবস্থায়, স্থানীয়রা এই রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে! স্থানীয়দের দাবি অনতিবিলম্বে এই পাহাড় খেকো, বন খেকো রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক বাবুলকে শাস্তিমূলক বদলি করতে হবে। অন্যথায় তারা মানববন্ধন, জেলাপ্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন!

Spread the love

পাঠক আপনার মতামত দিন