বাংলাদেশে গাড়ি বানাবে হুন্দাই।

বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির সম্ভাবনাময় বাজারে যোগ হচ্ছে কোরিয়ার বিখ্যাত অটোমোবাইল ব্র্যান্ড ‘হুন্দাই’য়ের নাম। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে কারখানা স্থাপনে ছয় একর জমি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু হবে। নির্মাণকাজ শেষ করে এ বছরের মাঝামাঝিতে প্রথম ধাপে গাড়ি সংযোজন এবং পরবর্তী সময়ে উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। এ নিয়ে আজ রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হবে।

এর আগে জাপানের মিত্সুবিশি করপোরেশনের কারিগরি সহায়তায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ সরকারের চাহিদা অনুযায়ী গাড়ি উৎপাদন শুরু করে। ২০১৫ সালে দেশে প্রথমবারের মতো সেডান কার বা ব্যক্তিগত গাড়ি সংযোজনের ঘোষণা দেয় চট্টগ্রামের পিএইচপি গ্রুপ। দুই বছর পর তারা গাড়ি বাজারজাত শুরু করে। এবার ‘হুন্দাই’ ব্র্যান্ডের ব্যক্তিগত গাড়ি তৈরি করতে যাচ্ছে ফেয়ার টেকনোলজি লিমিটেড। তারাই দেশে প্রথমবারের মতো হাইটেক পার্কের মধ্যে গাড়ি তৈরি করতে যাচ্ছে। হাইটেক পার্কে কারখানা হওয়ায় বেশ কিছু কর ছাড় পাবে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে তুলনামূলক কম মূল্যে ব্যক্তিগত ‘হুন্দাই’ গাড়ি পেতে পারেন ক্রেতারা।
জানা গেছে, বাংলাদেশের অটোমোবাইল গ্রাহকদের সম্পূর্ণ নতুন গাড়ি এবং মানসম্পন্ন বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে হুন্দাই মোটর করপোরেশনের অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে গত জুলাইয়ে নিযুক্ত হয় ফেয়ার গ্রুপের মোটরগাড়িভিত্তিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফেয়ার টেকনোলজি লিমিটেড। তখন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আলম আল মাহবুব বলেন, ‘মোটরগাড়ি শিল্পে হুন্দাইয়ের সঙ্গে আমাদের নতুন যাত্রা ঘোষণা করতে পেরে আমরা গর্বিত। অটোমোবাইল শিল্পে প্রযুক্তি হস্তান্তর, মানবসম্পদ বিকাশ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই আমাদের লক্ষ্য। শিগগিরই আমরা হুন্দাইয়ের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং সরকারের প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তায় উৎপাদনভিত্তিক কারখানা স্থাপন করব।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, “কালিয়াকৈরে ৩৫৫ একর জমিতে স্থাপিত ‘বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি’ দেশের প্রথম ও বৃহত্তম হাইটেক পার্ক; যেখানে বর্তমানে ৪২টি কম্পানিকে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখানে হুন্দাইয়ের স্থানীয় পরিবেশক ফেয়ার টেকনোলজি লিমিটেড গাড়ির কারখানা স্থাপনে জায়গা নিচ্ছে। আজ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। তারা আমাদের বলেছে, তারা কারখানা স্থাপনের জন্য প্রস্তুত। আগামী সপ্তাহখানেকের মধ্যে তারা কাজ শুরু করবে। এ জন্য লে-আউট, ডিজাইনও তারা পাঠিয়ে দিয়েছে।”

সূত্র জানায়, ফেয়ার গ্রুপ বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে আগেই তিন একর জমি নিয়েছিল। সেখানে ল্যাপটপসহ ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের পরিকল্পনা আছে প্রতিষ্ঠানটির। এখন মোটরগাড়ি কারখানা স্থাপনের জন্য পৃথক ছয় একর জমি নিচ্ছে তারা। তারা এখন একতলা কারখানা করবে। এটি নির্মাণ শেষে তারা গাড়ি সংযোজন শুরু করবে।
আজ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক, দক্ষিণ কোরিয়ার (রিপাবলিক অব কোরিয়া) রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কুয়েনসহ ফেয়ার গ্রুপ ও হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

হাইটেক পার্ক সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে এরই মধ্যে ১৪টি কম্পানি উৎপাদন শুরু করেছে। কম্পানিগুলো এই পার্কে মোবাইল ফোন সংযোজন ও উৎপাদন, অপটিক্যাল কেবল, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ডাটা-সেন্টারসহ উচ্চ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন পার্কে এ পর্যন্ত ৩২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং প্রায় ১৩ হাজার জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।

ফেয়ার গ্রুপ দেশে স্যামসাং স্মার্টফোন এবং কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদন করছে। এবার হুন্দাইয়ের সঙ্গে গাড়ির ব্যবসায়ও আটঘাট বেঁধে নামছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কোরিয়ান অটোমোবাইল ব্র্যান্ড হুন্দাই তার অত্যাধুনিক ডিজাইন, উন্নত প্রযুক্তি, দীর্ঘমেয়াদি ওয়ারেন্টি, অভিজাত সুযোগ-সুবিধার জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ফেয়ার টেকনোলজি হুন্দাইয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশি অটোমোবাইল গ্রাহকদের ‘মডার্ন প্রিমিয়াম’ গাড়ির অভিজ্ঞতা দেবে।

হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ করলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে একগুচ্ছ কর ছাড় দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মূলধনী যন্ত্রপাতি, নির্মাণসামগ্রী থেকে শুরু করে গাড়ি আমদানি করলেও শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। অবশ্য এ জন্য কমপক্ষে এক কোটি ডলার বা প্রায় ৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

ইসরাইলে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক:

২ মিটার দূরত্বে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ


করোনা ভাইরাস মহামারি জাপটে ধরেছে পুরো বিশ্বকে। দেশে দেশে লকডাউন মেনে ঘরের ভেতর অবস্থান করছে মানুষ। এর মধ্যে ইসরাইলের তেল আবিবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে প্লেকার্ড ধরে, স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেছে তারা। এ খবর দিয়েছে সিএনএন।
খবরে বলা হয়, করোনা সংক্রমণ রোধে ইসরাইলজুড়ে লকডাউন জারি রয়েছে। তবে সরকারের নীতিমালা মেনে দেশটিতে বিক্ষোভ করার অনুমোদন রয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় ওই নীতিমালা মেনে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ। বিক্ষোভের আয়োজকরা জানান, তারা রাবিন স্কয়ারে ২ মিটারের ব্যবধানে ২ হাজার ৮০০ স্থান চিহ্নিত করে রেখেছিলেন বিক্ষোভকারীদের জন্য।

তবে বিক্ষোভে এর দ্বিগুণ পরিমাণ মানুষ যোগ দিয়েছে। অনেকে স্কয়ারের আশপাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, নেতানিয়াহু ইসরাইলের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন।
রোববারের ওই বিক্ষোভে যোগ দেন পার্লামেন্ট সদস্য ইয়াইর লাপিদ। তিনি তার বক্তব্যে নেতানিয়াহু ও পার্লামেন্ট স্পিকার বেনি গান্টজের তীব্র সমালোচনা করেন। গান্টজ কয়দিন আগ পর্যন্ত লাপিদের দলের সদস্য ছিলেন। তবে একমাস আগে দল ছেড়ে নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ করতে রাজি হন। তার এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছেন লাপিদ।
লাপিদ বলেন, কেউ দুর্নীতির ভেতরে ঢুকে এর বিরুদ্ধে লড়াই করে না। আপনি যদি ভেতরে থাকেন, তার মানে আপনি এর সঙ্গে জড়িত। আমরা এখানে বলতে এসেছি যে, আমরা কখনো হাল ছাড়বো না। অনেক ভালো মানুষ ইতিমধ্যে নিজেদের সমর্পণ করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে গণতন্ত্র এভাবেই মরে। পার্লামেন্টে ট্যাংক ঢুকিয়ে গণতন্ত্র মুছে ফেলা হয় না। গণতন্ত্র মরে ভেতর থেকে। কারণ, ভালো মানুষেরা নীরব থাকে ও দুর্বলেরা আত্মসমর্পণ করে। বাইরে থেকে সব দেখতে একইরকম লাগে। পার্লামেন্ট তার জায়গায় থাকে, পুলিশ একই পোশাক পড়ে একই গান বাজায়। নেতাও পাল্টায় না। তাকে দেখতে, শুনতে আগের মতোই লাগে। কিন্তু সেটা গণতন্ত্র থাকে না।

ভেদরগঞ্জে ২ হাজার কেজি জাটকা মাছ সহ একটি ট্রলার জব্দ

শাহাদাত হোসেন ..

ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে উত্তর তারাবুনিয়ার মাষ্টার ঘাট পদ্মা নদী থেকে ২ হাজার কেজি জাটকা মাছ সহ একটি ট্রলার জব্দ করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা মৎস অফিস।

সোমবার রাত ২ টা ৩০ মিনিটের সময় উপজেলা মৎস অফিসার আব্দুস সামাদ সখিপুরের উত্তর তারাবুনিয়ার মাস্টার ঘাট পদ্মা নদী থেকে ২ হাজার কেজি জাটকা মাছ সহ একটি ট্রলার জব্দ করেন।

পরে জব্দকৃত জাটকা মাছ বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় এবং অসহায় মানুষদের মাঝে বিতরণ করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা মৎস্য অফিস।

উপজেলা মৎস অফিসার আব্দুস সামাদ বলেন, গোপন সংবাদ পেয়ে আমরা অভিযান চালাই উত্তর তারাবুনিয়া মাস্টার ঘাট পদ্মা নদী থেকে রাত ২টা ৩০ এর দিকে মাছ ধরতে সক্ষম হই। আগামিতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইউএস ট্রেড শো বাংলাদেশ-মার্কিন ব্যবসায়ী সম্পর্ক সুদৃঢ় করবে।

নিউজ24লাইন ডেস্ক:

ইউএস ট্রেড শো – ২০২০

ঢাকায় তিন দিনব্যাপী ইউএস ট্রেড শো অনুষ্ঠিত হবে ২৭-২৯ ফেব্রুয়ারি। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ও ঢাকার যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস যৌথভাবে এ শো আয়োজন করছে। ট্রেড শোর উদ্বোধন করবেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ূন। 

মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন (ডিসিএম) জো আনে ওয়াগনার বলেন, ২৭তম বার্ষিক ইউএস ট্রেড শোতে বাংলাদেশী ভোক্তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেসব উচ্চমানের, সর্বাধুনিক আমেরিকান পণ্য ও সেবা সরবরাহ করতে পারে, সেগুলো তুলে ধরা হবে। এ ট্রেড শো আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সম্পর্ক সুদৃঢ় করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা (জিএসপি) স্থগিতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে শ্রমিকদের কাজের নিরাপত্তার অভাবের কারণ দেখিয়ে এ সুবিধা স্থগিত করা হয়। কাজের পরিবেশ উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের এ সুবিধা স্থগিত থাকবে। বিশেষ করে রানা প্লাজা ধসের পর থেকেই জিএসপি সুবিধা বাতিল করা হয়। এটা দুই সরকারের বিষয়। এটা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ব্যবসায়ী সম্পর্ক বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে ট্রেড শো আয়োজন করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় ২৭ বছর আগে বাংলাদেশ ট্রেড শোর আয়োজন করা হয়। তখন আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা ছিল ৫৭ মিলিয়ন ডলারের মতো। ২৭ বছর পরে এখন তা ৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশে মোট ব্যবসার ৯ শতাংশেরও বেশি এখন আমেরিকার সঙ্গে। ট্রেড শোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিটা ফিরেছে। আমাদের এক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ অবশ্যই কাজে এসেছে। আমাদের এ ট্রেড শোতে এখন বিভিন্ন ধরনের কোম্পানি আসছে। দিনে দিনে কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ছে। এ বছরে নতুন ১১টি কোম্পানি অংশ নিচ্ছে।
নভেল করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস ইস্যু এখনো চলমান, এটা নিয়ে ট্রেড শোর পরে আলোচনা করা যাবে। এ বিষয়ে সরকার যদি আমাদের কাছে কোনো সহযোগিতা চায়, অবশ্যই করা হবে। ট্রেড শোর মাধ্যমে মূলত আমেরিকার কোম্পানিগুলোর পণ্যের বাজারে পরিচিতি এবং দুই দেশের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ তৈরি করতে চাই।

উল্লেখ্য, ট্রেড শোতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি কোম্পানি অংশগ্রহণ করবে। কোম্পানিগুলো ৭৮টি স্টলে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে। জ্বালানি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং খাদ্য ও পানীয় খাতসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশে সক্রিয় যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো এখানে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে।
ট্রেড শো চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস চারটি তথ্যবহুল সেমিনারের আয়োজন করবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, ওয়ার্ক ভিসাসহ বিভিন্ন ধরনের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে দূতাবাস কর্মকর্তারা আলোচনা করবেন।

এরপর বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে থাকবে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়ন ও এডুকেশন ইউএসএ অ্যাডভাইসিং সেন্টারগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের দেয়া অধ্যয়নবিষয়ক পরামর্শ সেবাবিষয়ক একটি অধিবেশন।

এছাড়া ২৯ ফেব্রæয়ারি বেলা ৩টায় যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা (ইউএসএআইডি) ‘বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের সুযোগসমূহ’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করবে।

শরীয়তপুরে যাত্রা শুরু করলো নারী উদ্যোক্তাদের প্লাটফর্ম আমরা রমনী

শরীয়তপুর প্রতিনিধি :   শরীয়তপুরে যাত্রা শুরু করলো নারী উদ্যোক্তাদের প্লাটফর্ম আমরা রমনী। আমরা রমনী সংগঠন হবে, যে সংগঠন সারা বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের খুজে বের করবে এবং তাদেরকে এমন একটি প্লাটফর্ম দিবে যার মাধ্যমে নারীরা অনেক সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকবে।

আমরা রমনী প্লাটফর্মের উদ্যোক্তা মালিহা হোসেন বলেন,আমরা রমনী মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্যে একটি সংগঠন হবে।সংস্থাটি তাদের অনুসন্ধান করে,সূচীকরন করে,প্রচার করতে এবং তাদেরকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সাথে সংযুক্ত করবে।আমরা রমনী প্লাটফর্মের মাধ্যমে নারীদের মধ্যে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। নারীদের কর্মজীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যেমন সহায়ক করবে তেমনি সম্মিলিতভাবে সমাজের নারীদের সম্ভাবনার পথ খুঁজে বের করার ব্যাপারেও উৎসাহ জোগাবে। আমাদের সমাজের নারীদের অবস্থার ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে। নারীরা এখন বৃহত্তর পরিসরে সাফল্যমণ্ডিত।আর এই সাফল্যমণ্ডিত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো থেকে আমাদের দেশে নারী উদ্যোক্তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। যেহেতু নারীকে দুর্বল ভাবা হয়, সেজন্য পরিবার বা সমাজ থেকে নেমে আসে নানা রকম বাধা।

একটি জরিপে দেখা গেছে, দেশের মোট শিল্প উদ্যোক্তার মধ্যে ১০ শতাংশের বেশি নারী। তবে ক্ষুদ্র শিল্পে নারীর সংখ্যা বেশি থাকলেও অন্যান্য শিল্পে নারীর সংখ্যা কম।তাই আমরা রমনী প্লাটফর্মের মাধ্যমে দেশের সফল নারী উদ্যোক্তা গঠন করা হবে।

আমাদের দেশের নারীরা পরিবার থেকে শারীরিক মানসিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহসহ নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হয়, যার ফলে কর্মক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা অনেক কম।তাই আমরা রমনী প্লাটফর্মে নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার ব্যাপারে বিশেষভাবে এগিয়ে আসতে সহায়তা করবে।আমরা রমনী প্লাটফর্ম নারীদের বেকারত্ব হার কমানোর পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা বৃদ্ধি গঠন করবে।

আইসিটিতে নারী উদ্যোক্তাদের করণীয় এবং সমাজের প্রতিকূলতা থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে ধারন অর্জনে সহায়তা করবে।যার ফলে অনেক নারী তাদের জীবনের পথ খুঁজে পাবে এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবে। আমাদের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। অর্ধেক জনসংখ্যা যদি অবহেলিত হয় তাহলে একটি জাতি কখনোই প্রকৃত উন্নতির সোপানে উঠতে পারবে না। আমাদের সমাজের মেধাবী নারীরা যদি জোরালোভাবে দাঁড়ায় তাহলে সফল নারী উদ্যোক্তা গঠিত হবে খুব সহজেই। ইয়ামিন কাদের নিলয় শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিপদে ভারত, বাংলাদেশকে পেয়াজ কেনার অনুরোধ।

ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের সরকারের চাহিদার ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানি করার পর বিপদে পড়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদি নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার।

কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজ আমদানির পর ভারতের বেশিরভাগ রাজ্য সরকার তাদের চাহিদা প্রত্যাহার করে নেয়ায় এই বিপদ দেখা দিয়েছে।

সোমবার ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার রকিবুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দেশীয় চাহিদার ভিত্তিতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ রাজ্য সরকাররা কিনতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী।

বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভারতের জ্যেষ্ঠ এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির ইংরেজি দৈনিক দ্য প্রিন্ট এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারত বিদেশ থেকে মোট ৩৬ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির চুক্তি করেছে। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে ১৮ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রদেশের সরকার আমদানিকৃত পেঁয়াজের মাত্র ৩ হাজার মেট্রিক টন নিয়েছে। অবশিষ্ট পেঁয়াজ মুম্বাইয়ের জওহরলাল নেহরু বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারতের ভোক্তা কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী রাম বিলাস পাসওয়ান জানান, আমদানিকৃত পেঁয়াজের মহারাষ্ট্র সরকার ১০ হাজার মেট্রিক টন, আসাম ৩ হাজার মেট্রিক টন, হরিয়ানা ৩ হাজার ৪৮০ মেট্রিক টন, কর্ণাটক ২৫০ মেট্রিক টন ও ওড়িশ্যা প্রদেশ সরকার ১০০ মেট্রিক টন চাহিদা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

গত নভেম্বর এবং ডিসেম্বরে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১০০ রুপি পেরিয়ে যাওয়ার পর এসব রাজ্য এই নিত্যপণ্যটি আমদানি করতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। এখন তারা আমদানিকৃত পেঁয়াজের উচ্চমূল্য এবং স্বাদের ভিন্নতার অজুহাত দেখিয়ে সেগুলো নিতে রাজি হচ্ছে না।

রাজ্যগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিতে রাজি না হওয়ায় সেগুলো পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ভারত এসব পেঁয়াজ প্রতি মেট্রিক টন ৫০ হাজার থেকে ৫৯ হাজার (৬০০ থেকে ৭০০ ডলারে) টাকায় আমদানি করেছে। এখন বাংলাদেশকে এসব পেঁয়াজ প্রতি মেট্রিক টন ৫৫০ থেকে ৫৮০ ডলারে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মোদি সরকার।

তবে ওই বৈঠকে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার রকিবুল হক বলেছেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেছে এবং নেপাল হয়ে আরও পেঁয়াজ দেশের বাজারে ঢোকার অপেক্ষায় আছে। সুতরাং বিনামূল্যে পরিবহনসহ ভারতের কিছু প্রণোদনা দেয়া উচিত।

উল্লেখ্য যে, প্রায় তিন মাস আগে ভারত সফরে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। ওই সময় বাংলাদেশকে না জানিয়ে হঠাৎ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। যে কারণে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

চারদিনের ওই সফরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমি আশা করেছিলাম ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ার আগে আমাদের অন্তত জানাবে। আমি রাঁধুনিকে বলেছি, আমার কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না করতে হবে। আমি অনুরোধ করবো, আপনারা এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার আগে দয়া করে আমাদের অবগত করবেন।

উৎস, দ্য প্রিন্ট

ভেদরগঞ্জে পিয়াজের দাম চড়া ;প্রশাসন নিরব

ভেদরগঞ্জ প্রতিনিধি

ভেদরগঞ্জে প্রতি কেজি পিয়াজের দাম এখনও ২শত,টাকার বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুদ্র থেকে পাইকারি আরদদাররাও ও এই দামে বিক্রয় করছে। এতে করে সাধারন জনগণ খুবই কষ্টে জিবন কাটাচ্ছে।তবে এখানে প্রশাসন কোন ভূমিকা নেই বললেই চলে।

সরেজমিনে এসে ভেদরগঞ্জের কয়েকটি দোকানির সাথে আলাপকালে তাদের কাছে পিয়াজ কিনতে চাইলে পিয়াজ নাই বললো।যেমন এক দোকানদার মামুনের কাছে পেয়াজ আছে সে বললেন এইযে ভাই মেমো আমি গতকাল জলিল বেপারীর ঘরের থেকে ১০ কেজি পিয়াজ আনছি ২ হাজার টাকা দিয়ে এখন বলেন আমি কত টাকা বিক্রি করবো তাহলে। সে বললো পিয়াজের দাম ২০০ টাকা পাইকারি দাম বাজারে তাই খুচরা বিক্রেতারা পিয়াজ কিনছেনা বিক্রি করার জন্য।

মাঝে মাঝে বিভিন্ন জেলা উপজেলায় দেখা যাচ্ছে পিয়াজের দাম বেশি বিক্রি করলে প্রশাসনের নির্বাহী অফিসাররা ব্যবসায়ীদের জেল জরিমানা দিচ্ছে কিন্তু ভেদরগঞ্জ উপজেলায় দেখা যাচ্ছেনা কোন রকম পদক্ষেপ।
স্থানীয়দের মুখে খুব চাঁপা বিরাজ করছে।

1 2 3 4 5