প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে তিস্তার পানি বণ্টনসহ আটটি সমঝোতার সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে তিস্তা নদীর পানি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনসহ আটটি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার মধ্যে যোগাযোগ, সংস্কৃতি, কারিগরি সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে। আগামী বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী ভারতের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করবেন।

 

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী জানান, দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যকার বৈঠক আগামী ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে তিস্তা-রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়াও সাত থেকে আটটি বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ সংখ্যা ১০টিতেও উন্নীত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (বাসস) এসব তথ্য জানিয়েছে।

 

হাইকমিশনার জানান, হাইকমিশনার জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এর ভারতীয় শাখা ইন্ডিয়ান ইকোনোমিক ফোরাম-২০১৯ এ যোগ দিতে ৩ অক্টোবর সকালে চার দিনের সফরে দিল্লি পৌঁছাবেন। ওই ফোরামে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়াসহ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি তুলে ধরবেন। এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের বর্তমান জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং বিগত কয়েক বছরে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার সরকারের ব্যাপক সাফল্যের কথাও উল্লেখ করবেন। তিনি ভারতের বড় বড় বিনিয়োগকারীকে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগেরও আহ্বান জানাবেন। এছাড়া তিনি ভারতের তিনটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড এক্সচেঞ্জের নেতাদের সঙ্গে শুক্রবার যৌথভাবে বৈঠক ও মতবিনিময় করবেন।

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে শনিবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঐতিহাসিক হায়দ্রাবাদ হাউসে। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। বিকালে শেখ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর সকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

 

এছাড়াও ভারত সফররত সিঙ্গাপুরের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী হেং সুয়ে কেট শুক্রবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তিনি রবিবার ভারতের কংগ্রেস পার্টির প্রধান সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

 

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে হাইকমিশন আয়োজিত সংবর্ধনা ও নৈশভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মভিত্তিক ফিচার ফিল্ম তৈরির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতের প্রখ্যাত চিত্রপরিচালক শ্যাম বেনেগাল রবিবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে প্রযোজিত বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র মুজিব বর্ষ ২০২০-২১ শেষ হওয়ার আগে মুক্তি পাবে।

সিন্ডিকেটের কবলে দেশের পেঁয়াজের বাজার

 

সিন্ডিকেটের কবলে দেশের পেঁয়াজের বাজার। ভারত রোববার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর রাজধানীসহ সারা দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে এ সিন্ডিকেট। কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটা অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারসাজি।

 

তারা সুযোগ বুঝে অতি মুনাফার লোভে একদিনে পেঁয়াজের বাজার বেসামাল করেছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে পর্যাপ্ত মজুদ আছে। মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। কেউ অসাধু পন্থায় দাম বাড়ালে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে।

 

ভারত রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত রাজধানীতে খুচরা পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকা কেজি। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৮০ টাকায়। তবে রাত ৮টার পর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১০০-১১০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০-১০০ টাকা কেজি।

 

আর সোমবার রাজধানীর নয়াবাজার, রামপুরা বাজার, শান্তিনগর কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে ১২০-১২৫ টাকা কেজি। আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১১০-১১৫ টাকায়। রফতানি বন্ধের খবরের পর এক দিনের ব্যবধানে রাজধানীর খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩৫ টাকা।

 

যুগান্তরের ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা বেড়েছে। এদিকে রাজধানীতে দাম সহনীয় রাখতে টিসিবির ৩৫টি ট্রাক চক্রাকারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে।

 

আগামী ২ মাস ভালোভাবে চলার মতো পেঁয়াজের মজুদ আছে জানিয়ে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন সোমবার যুগান্তরকে বলেন, বছরে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ ১৪ হাজার টন। উৎপাদন হয়েছে ২৩ লাখ ৭৪ হাজার টন। এ উৎপাদন থেকে ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। সে হিসাবে সাড়ে ৭ লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতি আছে।

 

এ সাড়ে ৭ লাখ টন পেঁয়াজ নিয়েই বর্তমানে ঝামেলা তৈরি হয়েছে। কিন্তু চিন্তার কোনো কারণ নেই। মিয়ানমার থেকে দুটি জাহাজে পেঁয়াজ দেশে আসছে। একটি জাহাজ থেকে ইতিমধ্যে পেঁয়াজ খালাস করা হয়েছে। আরও একটি খালাসের অপেক্ষায় আছে। তবে কি পরিমাণ পেঁয়াজ আসছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

 

তিনি আরও বলেন, তুরস্ক থেকেও পেঁয়াজবাহী জাহাজ বাংলাদেশে আসার পথে আছে। মিয়ানমার থেকে প্রতিদিন পেঁয়াজ ঢুকছে দেশের বাজারে। আর বর্তমানে দেশে যে পরিমাণে পেঁয়াজ মজুদ আছে, তা দিয়ে আগামী ২ মাস ভালোভাবেই চলবে। এছাড়া দেড় মাস পর দেশি নতুন পেঁয়াজও বাজারে আসবে।

 

সঙ্গে ভারতের পেঁয়াজও আনা হবে। তাই বলা যায়, কয়েক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম সহনীয় হয়ে যাবে। আর এ সময় যদি কেউ বেশি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম অনেক বেড়েছে। যা কখনোই কাম্য না। এটা ব্যবসায়ীদের কারসাজি। তাই এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর এ সময় দেখা যায়- দেশে পেঁয়াজ নিয়ে এক ধরনের নৈরাজ্য তৈরি হয়। তাই সরকারের উচিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা। যাতে এ সময়ে দেশে পেঁয়াজ নিয়ে কোনো ধরনের নৈরাজ্য তৈরি না হয়।

 

এদিকে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এ বিষয়ে টিসিবির মুখপাত্র মো. হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। প্রথমে পাঁচটি স্পটে বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়।

 

পর্যায়ক্রমে তা বাড়িয়ে সোমবার থেকে রাজধানীতে ৩৫টি ট্রাকে চক্রাকারভাবে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হয়। তিনি বলেন, একজন ডিলার ৪৫ টাকা কেজি দরে প্রতিদিন এক হাজার কেজি (এক টন) পেঁয়াজ বিক্রি করবে। যা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অব্যহত থাকবে।

 

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন সচিবালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, দেশি পেঁয়াজ ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ মিলিয়ে মজুদ সন্তোষজনক রয়েছে। মনে করি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। যারা পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন, এর কোনো যুক্তি নেই। যারা মজুদ করবেন এবং বাজারকে অস্থির করার চেষ্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখানে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

 

বাণিজ্য সচিব মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, দেশে বর্তমানে কতটুকু মজুদ আছে তা জানতে ১০টি টিম পাঠাচ্ছি। যেখান থেকে বেশির ভাগ পেঁয়াজ আসে সেসব এলাকায় যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে এ টিম যাবে। এছাড়া বিভিন্ন স্থলবন্দর যেমন- বেনাপোল, বাংলাবান্ধাসহ বিভিন্ন বন্দরে আমাদের কর্মকর্তারা থাকবেন। তাদের কাজ হবে মনিটরিং করা।

 

জাফর উদ্দীন বলেন, আমাদের ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট রয়েছে। ভোক্তা অধিকার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ চারটি টিম কাজ করছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে পেঁয়াজ নিয়ে কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আমরা কৃষি ও অন্যান্য মন্ত্রণালয় নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা নিচ্ছি। আমাদের ঘাটতি খুব বেশি নয়।

 

যেহেতু আমরা খাদ্যে স্বয়ঃসম্পূর্ণ হয়েছি কাজেই পেঁয়াজ, রসুন, আদা নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে পদক্ষেপ নিচ্ছি। যাতে ভবিষ্যতে আমদানির দিকে তাকিয়ে থাকতে না হয়। ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করায় একটু সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্য সচিব বলেন, আমরা বসে নেই। এ বিষয় নিয়ে সোমবার সকালে বসেছিলাম। একটি ভালো খবর হল, মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আনার যে প্রক্রিয়া ছিল সেটার দুটি জাহাজ এসে পৌঁছেছে নৌবন্দরে।

 

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি জাহাজের পেঁয়াজ রোববার খালাস হয়েছে। আর একটি জাহাজ খালাস হবে। মিয়ানমার থেকে দুটি চ্যানেলে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। বর্ডার চ্যানেলে একটা চলমান। আর একটা হল ফরমাল চ্যানেলে নৌবন্দর দিয়ে আনা। এছাড়া তুরস্ক ও মিসর থেকে পেঁয়াজ আনার প্রক্রিয়া চলমান।

 

যুগান্তরের সিলেট ব্যুরো জানায়, ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণার পরপরই দাম বৃদ্ধি ও বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন সিলেটের খোলা বাজারের ব্যবসায়ীরা। রোববার বিকাল ৪টার দিকে এ খবর সিলেটের বাজারে আসে, সে সময় সিলেটের খোলা বাজারে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৬০-৬৫ টাকা। এর আধা ঘণ্টা পর সাড়ে ৪টার দিকে ৯০-১০০ টাকা কেজি বিক্রি শুরু হয়। সন্ধ্যার পর তা বেড়ে ১২০ টাকায় পৌঁছায়। সোমবারও বাজারে ১১০-১২০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়।

 

এদিকে বগুড়া ব্যুরো জানায়, একদিনে প্রতি কেজি পেঁয়াজে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। খুচরা ও পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে বিক্রেতাদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে হঠাৎ আমদানি বন্ধ ও দেশে বন্যার কারণে উৎপাদন কম হওয়ায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

 

সোমবার দুপুরে শহরের বৃহৎ পাইকারি কাঁচামালের বাজার রাজাবাজার ও ফতেহআলী বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- দেশি, ভারতীয় ও বার্মিজ (মিয়ানমার) পেঁয়াজ প্রতি কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। রাজাবাজারের আড়তদার আল্লাহর দানের মালিক জয়নুল আবেদীন শামীম জানান, রোববার পাইকারি প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকা ও খুচরা ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এবং ভারতীয় পেঁয়াজ খুচরা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হয়।

 

সোমবার দেশি পেঁয়াজের দাম পাইকারি ৮৮ থেকে ৯০ টাকা ও খুচরা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া সোমবার প্রতি কেজি বার্মার পেঁয়াজ পাইকারি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ও খুচরা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এ পেঁয়াজ রোববার পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা কম ছিল।

 

বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ার গৃহবধূ আসমা খাতুন বলেন, দু’দিনে প্রতি কেজি পেঁয়াজে ৪০-৫০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় আমরা হিমশিম খাচ্ছি। নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোরে এক লাফে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৫০ টাকা।

 

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড়, নাজিরপুর ও ধারাবারিষা বাজারে রোববার যে পেঁয়াজ ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে, রফতানি বন্ধের খবরের পর সোমবার এক লাফে সেই পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

 

চাঁচকৈড় মোকামের পেঁয়াজ বেপারি উজ্জ্বল শেখ জানান, এক মাসের মধ্যে ৪০ টাকার পেঁয়াজ ৭০-৮০ টাকা হয়। কিন্তু সোমবার সেই পেঁয়াজ ১২০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া মোকামে পাইকারি দরে কিনতে হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি।

 

চুনারুঘাট প্রতিনিধি জানায়, হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের খোলা বাজারে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজি ১০০-১২০ টাকা। এতে ক্রেতারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শহরের বিভিন্ন দোকান ও আড়ত ঘুরে সোমবার দুপুরে দেখা গেছে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে।

 

বিক্রেতারা পেঁয়াজের কেজি ১২০ টাকা হাঁকছেন। কেন এত দাম জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, পেঁয়াজের উৎপাদন কমার ফলে সংকট বেড়েছে। এর মধ্যে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে না। বেশি দামে কিনেছেন তাই বেশি দামে বিক্রি না করলে পোষাবে না।

 

মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি জানায়, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। সোমবার দুপুরে সরেজমিন মোরেলগঞ্জ বাজারে কাঁচাবাজার ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া।

 

রোববার যে পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫৫-৭০ টাকা দরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। আর খুচরা বিক্রেতারা বিক্রি করছে ১১০ টাকা কেজি।

 

মিয়ানমার থেকে ৩,৫৭৩ টন পেঁয়াজ আমদানি

নিউজ24লাইন ডেস্ক:

 

গত কয়েকদিন ধরেই ব্যাপক হারে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। ভারত রফতানি বন্ধ ঘোষণার পর রাজধানীতে শতক ছাড়িয়েছে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম। গত দুদিনে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে মুনাফালোভীরা। হতাশাজনক এ খবরে আশা জাগিয়েছে টেকনাফ স্থলবন্দর কেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা। এখানকার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাড়িয়েছে আগের তুলনায়।

 

সোমবার পর্যন্ত টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে তিন হাজার ৫৭৩ টন। খালাসের অপেক্ষায় আছে পেঁয়াজ ভর্তি আরো ডজনখানিক ট্রলার। মিয়ানমার থেকে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হলেও জেলার স্থানীয় বাজারগুলোতেও পেঁয়াজের দাম এখনো কমেনি। অতিরিক্ত মুনাফালোভীরা যে যার মতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে।

 

টেকনাফ স্থলবন্দর শুল্ক বিভাগ সূত্র জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে ৩ হাজার ৫৭৩ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। খালাসের অপেক্ষায় হাজারের অধিক মেট্রিকটন পেঁয়াজ ভর্তি ডজনাধিক ট্রলার বন্দর ঘাটে নোঙর করে আছে। পেঁয়াজভর্তি আরো একাধিক ট্রলার স্থলবন্দরের পথে মিয়ানমার হতে রওনা দিয়েছে।

টেকনাফে ঢুকেছে সাড়ে ৩ হাজার টন পেঁয়াজ

আমদানিকারকরা অভিযোগ করছেন, শ্রমিক অপর্যাপ্ততার কারণে পেঁয়াজ বোঝাই ১০-১২ টি ট্রলার এখনো বন্দরে নোঙর করে আছে। শ্রমিক সংকটের কারণে পেঁয়াজ ট্রলার থেকে খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে বন্দরের শ্রমিক অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন ব্যবসায়ীরা।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানিকৃত পেঁয়াজ স্থানীয় বাজারে চাহিদা মেটানোর পর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে। সেখান থেকে একাধিক হাত বদল হয়ে পেঁয়াজ সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

 

তবে অভিযোগ উঠেছে, কোন কোন ক্ষেত্রে পেঁয়াজ গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে পেঁয়াজের বাজার অস্তিতিশীল করার চেষ্টা করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিয়ানমারের রফতানিকারকরা টনপ্রতি গড় দাম ৩৫ হাজার টাকায় টেকনাফ স্থলবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছেন। আনুষাঙ্গিক খরচ যোগ করে মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ টেকনাফ বন্দর কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত কেজি প্রতি গড় দাম দাঁড়ায় ৩৬ থেকে ৩৭ টাকা মাত্র। কিন্তু টেকনাফের স্থানীয় বাজারেই ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম হাকাচ্ছে ৮০ টাকা। আর কক্সবাজার শহর, বৃহত্তর ঈদগাঁও বাজারসহ প্রসিদ্ধ বাজার গুলোতে এ দাম ১০০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে।

 

টেকনাফ পাইকারী বাজারের হারুন সওদাগর, নবী সওদাগরসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বন্দরের আমদানিকারকদের কাছ থেকে কেজি ৭০ টাকা দামে পেঁয়াজ ক্রয় করেছেন তারা। টেকনাফ বাজারে এনে ১০ টাকা লাভে বিক্রি করছেন ৮০ টাকায়।

 

টেকনাফে ঢুকেছে সাড়ে ৩ হাজার টন পেঁয়াজ

সাধারণ ভোক্তাদের ভাষ্য, মিয়ানমার থেকে কম দামে পেঁয়াজ আমদানি হলেও কোন অদৃশ্য কারণে স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম কমছেনা। মিয়ানমার থেকে যে পরিমান পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে তাতে পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকা পেরোনোর কথা নয়। অথচ সে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।

 

ঈদগাঁও কলেজ গেইট এলাকার খুচরা দোকানী শাহ আলম সওদাগর জানান, দুদিন আগেও ৫০ টাকা দামে পেঁয়াজ কিনেছি। সোমবার পেঁয়াজ আনতে গিয়ে দেখি পাইকারি দাম চাচ্ছে ১০০-১১০ টাকা। পেঁয়াজ না কিনেই ফিরে এসেছি।

 

টেকনাফ স্থল বন্দর শুল্ক কর্মকর্তা মো. আবছার উদ্দিন বলেন, মিয়ানমার থেকে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ আসছে। সোমবার পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৭৩ মেট্রিকটন পেঁয়াজ বন্দরের কার্যক্রম শেষ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঘাটে পেঁয়াজভর্তি ডজনাধিক ট্রলার নোঙ্গর করা আছে, বন্দরের উদ্দেশ্যে মিয়ানমার ছাড়ছে আরো বেশ কয়েকটি ট্রলার। ফলে পেঁয়াজ আমদানি আরো বাড়তে পারে। এরপরও দামের এ তারতম্য বোধগম্য নয়।

কাল বিশ্ব ব্যাংকের নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন টেমবন

 বাংলাদেশে ও ভুটানে বিশ্ব ব্যাংকের (বিবি) নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে আগামীকাল থেকে কর্মজীবন শুরু করবেন মার্সি মিয়াং টেমবন।

বিশ্ব ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যামেরুনের নাগরিক টেমবন ২০০০ সালে শিক্ষা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিশ্ব ব্যাংকে যোগদান করেন এবং তখন থেকেই বিভিন্ন দেশে নেতৃত্বের জায়গায় ছিলেন।

নতুন দায়িত্বে আসার আগে টেমবন ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের দক্ষিণ ককেশাসে (আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, জর্জিয়া) কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিলেন। তিনি আফ্রিকার বুরুন্ডি ও বুরকিনা ফাসোতে বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ম্যানেজার ছিলেন।

টেমবনন বলেন, ‘বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারিত্বে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেশটি রেকর্ড সময়ের মধ্যে চরম দারিদ্র্য অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে এবং যে কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশ স্কুলে উপস্থিতির ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা অর্জন করেছে তার মধ্যে একটি। আমরা গত কয়েক বছরে দেশটির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করছি এবং আমি অবশিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।’

এটিএম থেকে টাকা চুরি হয়েছে, ছয় বিদেশি আটক;

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রাজধানীর বাড্ডার অটোমেটেড টেলার মেশিনের (এটিএম) বুথ থেকে টাকা তোলা হলেও এর কোনো রেকর্ড ব্যাংকের সার্ভারে নেই। এমনকি কোনো গ্রাহকের হিসাব থেকেও টাকা কমে যায়নি। এমনটি আর কখনো দেখা যায়নি।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্যাংকটির বাড্ডা বুথের দুটি এটিএম বুথ থেকে দুই বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন কার্ড ব্যবহার করে একাধিকবার টাকা উত্তোলন করেন। বুথ থেকে একজন বের হয়ে আবারও টাকা তোলেন। এ সময় বুথে নিরাপত্তাকর্মীরও উপস্থিতি ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, টাকা উত্তোলনের সময় মাস্ক দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করেছেন তাঁরা, চোখে ছিল সানগ্লাস, মাথায় ছিল টুপি।

অভিনব এ নতুন কৌশলে টাকা চুরির ঘটনা নতুন করে চিন্তার ছাপ ফেলেছে দেশের ব্যাংকারদের মধ্যে। কারণ, এর আগে যতবারই এটিএম থেকে টাকা চুরি হয়েছে, প্রতিবারই গ্রাহকের কার্ডের তথ্য চুরি করে ক্লোন কার্ড তৈরি করেছিলেন জড়িত ব্যক্তিরা। প্রতিবারই গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। এবারের ঘটনায় পুরো এটিএম বুথের নিয়ন্ত্রণ নেন জড়িত বিদেশিরা। কীভাবে তাঁরা বুথ থেকে টাকা চুরি করলেন, তার কোনো কূলকিনারা করতে পারেননি ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক ও পুলিশ কর্মকর্তারা। এতে দেশের এটিএম সেবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, গত শনিবার সকালে বাড্ডার এটিএম বুথের টাকার হিসাব মেলানোর সময় তিন লাখ টাকা কম হয়। ওই এটিএমের দায়িত্বে ছিলেন ওরনেট গ্রুপের নিরাপত্তাকর্মী। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দুই বিদেশি কর্তৃক টাকা উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপর সব এটিএম বুথে নিরাপত্তা বাড়ায় ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। শনিবার রাতেই খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় ডাচ্‌–বাংলার এটিএমে টাকা চুরি করতে গেলে দুই বিদেশির একজন ধরা পড়েন। পরে আরও পাঁচজন বিদেশিকে আটক করে পুলিশ।

অন্ধকারে ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক
সাধারণত এটিএম বুথ থেকে প্রতিবার টাকা উত্তোলনের সময় কয়েক ধরনের তথ্য ব্যাংকের সার্ভারে জমা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকের হিসাব নম্বর, টাকা উত্তোলনের সময়, উত্তোলনের পৃথক নম্বর, টাকার পরিমাণ ও অবশিষ্ট টাকার তথ্য। টাকা উত্তোলনের সময় গ্রাহক নিজেও এসব তথ্যসংবলিত রসিদ পেয়ে থাকেন। ব্যাংকগুলো এসব তথ্য এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করে। কারণ, এটিএমে টাকা উত্তোলনসংক্রান্ত অনেক অভিযোগ আসে, যাতে অভিযোগগুলো যাচাই করা যায়। কিন্তু ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের এ ঘটনায় এটিএম বুথ থেকে ব্যাংকটির সার্ভারে বিদেশিদের টাকা উত্তোলনের কোনো তথ্য যায়নি। এতেই চিন্তায় পড়েছে ব্যাংকটি।

ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এখনো জানতে পারিনি কীভাবে তারা টাকা উত্তোলন করল। কারণ, কোনো গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা কমে যায়নি। বুথের টাকা কমে গেছে। তারা কোনো গ্রাহকের হিসাবও হ্যাক করেনি। এ জন্য গ্রাহকদের চিন্তার কিছু নেই। আমরা নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেব।’

সতর্ক অন্য ব্যাংকও
এদিকে বিদেশিরা কেবল ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথেই হানা দিয়েছেন কি না, তা জানা যায়নি। তবে এখন অন্য ব্যাংকও তাদের বুথের নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়িয়েছে। একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বাংলাদেশের এটিএম যন্ত্রের ৯০ শতাংশ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এনসিআর করপোরেশনের। ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের ওই এটিএম বুথও ছিল এনসিআর করপোরেশনের। বর্তমানে দেশে ১ কোটি ৬০ লাখ ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। এটিএম বুথ রয়েছে ১০ হাজার ৫৩৬টি। পয়েন্ট অব সেলস রয়েছে ৪৯ হাজার ৬২টি। দেশের ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে ৫১টি ব্যাংক কার্ড সেবার সঙ্গে যুক্ত।

এটিএম বুথে জালিয়াতি
ব্যাংক ও পুলিশ বলছে, সম্পূর্ণ নতুন ও অভিনব পদ্ধতিতে জালিয়াতি করা হয়েছে

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক হ্যাকাররা একেবারে নতুন পদ্ধতিতে এবার টাকা চুরি করেছে। এখন আমাদের এটিএম সেবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা হালনাগাদ করতে হবে। এ জন্য টাকা খরচের দিকে তাকানো যাবে না। কারণ, ব্যাংক সেবার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।’

আনিস এ খানের পরামর্শ, এটিএমসেবায় কয়েকভাবে গ্রাহকের পরিচিত নিশ্চিত হওয়ার পর সেবা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ ও চোখের পাপড়িকে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

এর আগে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি ইস্টার্ণ, সিটি ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চার এটিএম বুথ থেকে তথ্য চুরি করে ক্লোন কার্ড তৈরি করেন বিদেশিরা। ওই সময় ৪০টি কার্ড ক্লোন করে গ্রাহকের ২০ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়। ২০১৮ সালে বনানী এলাকার একটি সুপারশপ থেকে গ্রাহকদের তথ্য চুরি হয়। ক্লোন কার্ড তৈরি করে ৪৯ গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীরা ছিলেন ব্র্যাক, দ্য সিটি, ইস্টার্ণ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ও ব্যাংক এশিয়ার গ্রাহক।

আলেগ শেভচুক, দেনিস, নাজারি ভজনোক, ভালোদিমির ত্রিশেনসকি, ভ্যালেনতিন সোকলভস্কি, সেরগেই উকরাইনেতসআলেগ শেভচুক, দেনিস, নাজারি ভজনোক, ভালোদিমির ত্রিশেনসকি, ভ্যালেনতিন সোকলভস্কি, সেরগেই উকরাইনেতস
ঢাকায় নামার পরদিনই হানা
পুলিশ সূত্র জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনই ইউক্রেনের নাগরিক। তাঁরা গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তুর্কি এয়ারওয়েজের একটি বিমানে করে ইউক্রেন থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে বাংলাদেশে আসেন। ৬ জুন তাঁদের ভারতে যাওয়ার কথা ছিল। গ্রেপ্তার ছয়জনসহ আরও একজনের বিরুদ্ধে খিলগাঁও মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ৫০টির মতো কার্ড পাওয়া গেছে, যার অধিকাংশতেই ‘ডিসকাউন্ট’ লেখা। তাঁদের কাছ থেকে মুখোশ, টুপি, সানগ্লাস, ছয়টি মুঠোফোন এবং একটি আইপ্যাড জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন দেনিস ভিতোমস্কি (২০), নাজারি ভজনোক (১৯), ভালেনতিন সোকোলোভস্কি (৩৭), সের্গেই উইক্রাইনেৎস (৩৩), শেভচুক আলেগ (৪৬) ও ভালোদিমির ত্রিশেনস্কি (৩৭)। এ ছাড়া ভিতালি ক্লিমচুক (৩১) নামের আরেকজন পলাতক। জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদেও তাঁরা কেউই তথ্য দিচ্ছেন না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (পূর্ব) খিলগাঁও অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের কাছে যে কার্ডগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলো এটিএম বুথে ঢোকানোর সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাংকের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে ওই বুথের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর তাঁরা নিজেদের মতো করে টাকা তুলে নিয়ে যান। এটি সম্পূর্ণ নতুন ও অভিনব পদ্ধতি। আগে কখনো এই পদ্ধতির ব্যবহার তাঁদের নজরে আসেনি।

শাহিদুর রহমান বলেন, এই বিদেশিদের সঙ্গে দেশীয় কোনো চক্রের সংযোগ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তাঁরা মনে করছেন। কারণ, ঈদের আগে এমন একটি সময়কে তাঁরা বেছে নিয়েছেন, যখন ব্যাংকগুলো এটিএম বুথে তাদের টাকা সরবরাহের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া পলাতক ব্যক্তির কাছে আরও কিছু ডিভাইস রয়েছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে বলে তাঁরা মনে করছেন।

জাজিরার পথে পদ্মা সেতুর নবম স্প্যান

 

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ। মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে জাজিরায় নেয়া হচ্ছে নবম স্প্যান (সুপার স্ট্রাকচার) ‘৬ডি’।

জাজিরা প্রান্তের ৩৪ ও ৩৫ নম্বর পিলারের ওপর ধুসর রঙের স্প্যানটি বসানো হবে। আর তাতে দৃশ্যমান হবে সেতুর ১৩৫০ মিটার (১.৩৫ কিলোমিটার)।

বুধবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি নিয়ে জাজিরার উদ্দেশে রওনা হয়েছে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ক্রেন ‘তিয়ান ই’।

আরও তিন ব্যাংকের অনুমোদন

কার্যক্রম শুরু করতে তিনটি ব্যাংককে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক তিনটি হলো- বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, দ্য সিটিজেন ব্যাংক ও পিপলস ব্যাংক। এ নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা ৬২ তে উন্নীত হতে যাচ্ছে।

আজ রবিবার রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই তিনটি ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবু নাসের মো. ফাত্তাহ সাংবাদিকদের বলেন, বোর্ডসভায় সর্বসম্মতিক্রমে তিনটি ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তাদের পেইড আপ কাপিটাল (পরিশোধিত মূলধন) ৫০০ কোটি টাকা হতে হবে। এটিসহ প্রয়োজনীয় আরও শর্ত পূরণের পর তাদের লাইসেন্স দেওয়া হবে।

1 2 3 4 5