‘বিশ্বব্যাংকের ঋণ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ’

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের আট হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে শিগগিরই সাত লাখ ল্যাপটপ উৎপাদনের কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে একথা জানান।

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, আমার কাছে বিশ্ব ব্যাংকের অফার আছে এক বিলিয়নের প্রকল্প নিয়ে, গত এক বছর ধরে ঘুরে বেড়াইতেছে। আমি বলেছি তোমার টাকা আমার দরকার নাই। আমি আমার নিজের টাকায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবো। এই সাহসী জায়গাটায় আমরা পৌঁছাতে পেরেছি, সেটাই এখন বড় বিষয়।

দুই অংকের প্রবৃদ্ধির জন্য বেসরকারি খাতে প্রাধান্য -সালমান এফ রহমান

জিডিপি প্রবৃদ্ধি দুই অংকে নিতে বেসরকারি খাতের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। গতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিদ্যুতের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে এফবিসিসিআই আয়োজিত অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও ছিলেন এই সভায়।

সরকারের এই দুই নীতি নির্ধারক শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ পেতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে শিল্প কারখানা স্থাপনের পরামর্শ দেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, জিডিপি, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, মাথাপিছু আয়সহ অর্থনীতির সূচকগুলোতে আজকের যে উন্নতি তা ১০ বছর আগে কল্পনাও করা যেত না। এটা সম্ভব হয়েছে কেবল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃঢ় নেতৃত্বের কারণে। প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন নতুন সরকারের এই মেয়াদের মধ্যেই যেন আমাদের প্রবৃদ্ধি দুই অংকে পৌঁছে যায়। বেসরকারি খাতকে প্রাধান্য দিয়ে এই লক্ষ্য অর্জন করতে চাচ্ছেন তিনি। সে কারণে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও সেই মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ এর ঘরে, সেই প্রবৃদ্ধি এই দশ বছরে বেড়ে সাত দশমিক ৮৬ শতাংশ হয়েছে। যত্রতত্র কারখানা স্থাপনর ফলে বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহের অসুবিধার কথা তুলে ধরে পরিকল্পিতভাবে কারখানা স্থাপনের পরামর্শ দেন সালমান এফ রহমান। পাশাপাশি ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে অন্যান্য ক্ষেত্রেও অচিরেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন তিনি।

সালমান রহমান বলেন, ইজি অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে সংখ্যায় এগিয়ে আসার চেয়ে ব্যবসার পরিবেশের উন্নতির জন্য সহায়ক কিছু ক্রাইটেরিয়া নিয়ে কাজ করতে হবে। কিছু সমস্যা আছে যেগুলো আসলেও দ্রুত সমাধানের সুযোগ রয়েছে। সেই ব্যাপারগুলোর দিকে নজর দিতে চাচ্ছে সরকার। ব্যবসা পরিস্থিতির উন্নয়নে কর্মকর্তাদের সেবা ও সহযোগিতার মানসিকতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে যত্রতত্র শিল্প-কারখানা স্থাপনের পরিবর্তে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে শিল্পস্থাপনের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়ার পরমর্শ দেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, কোথাও সুলভ মূল্যে জমি পেলে সেখানে শিল্প স্থাপন করে ফেলা এবং পরে গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সব স্থানে একই হারে একই সুবিধাসহ গ্যাস-বিদ্যুৎ দেওয়া যায় না। তবে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ যাবতীয় ইউটিলিটি সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে সরকার। পরিকল্পিত কারখানা করলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ পাবেন। অন্যথায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সম্ভব নাও হতে পারে।

তিনি বলেন, কল-কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের যে সঙ্কট ছিল তা অনেকখানি কেটে গেছে। নিজস্ব ২৭০০ এমএমসিএফডি গ্যাসের সঙ্গে এখন আমদানি করা এলএনজি যুক্ত হয়েছে প্রায় ৫০০ এমএমসিএফডি। বিদ্যুতের উৎপদান ব্যয় ভোক্তাদের নাগালে রাখতে জ্বালানি বৈচিত্র্যের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।

পদ্মা সেতু‌তে বসা‌নো হ‌য়ে‌ছে সপ্তম স্প্যান

পদ্মা সেতু‌তে বসা‌নো হ‌য়ে‌ছে সপ্তম স্প্যান। বুধবার সকাল ৯টা ৪০ মি‌নি‌টে স্প্যান‌টি বসা‌নো হয়।

বিষয়‌টি নিশ্চিত ক‌রে‌ছেন পদ্মা সেতু প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন ক‌বির। সপ্তম স্প্যান বসা‌নোর ফ‌লে দৃশ্যমান হলো সেতুর ১ হাজার ৫০ মিটার।

মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে সপ্তম স্প্যানটি প্রস্তুত করে রাখা হ‌য়ে‌ছিল। মঙ্গলবার কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে জাজিরার নাওডোবা প্রা‌ন্তে আনা হয়। বুধবার সকাল সা‌ড়ে ৭টার দি‌কে স্প্যানটি ৩৭ ও ৩৬ নম্বর পিলারের ওপর বসানোর কাজ শুরু হয়।

প‌রে সকাল ৯টা ৪০ মি‌নি‌টের সময় সপ্তম স্প্যান‌টি বসা‌নো সম্পূর্ণ হয়। স্প্যানটি শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা প্রান্তের তীরের দিকে এটিই শেষ স্প্যান।

পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি নিয়ে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ক্রেন ‘তিয়ান ই’ দি‌য়ে মাওয়া থে‌কে জা‌জিরা প্রান্তে আনা হয়। জাজিরা নাওডোবা প্রান্তের ৩৭ ও ৩৬ নম্বর পিলারের ওপর ধূসর রঙের স্প্যানটি বসানো হয়।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারের ওপর দ্বিতীয় স্প্যান, ১১ মার্চ ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের ওপর তৃতীয় স্প্যান, ১৩ মে ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারের ওপর চতুর্থ স্প্যান এবং সবশেষ গত ২৯ জুন ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের ওপর পঞ্চম স্প্যান বসানো হয়েছে জা‌জিরার নাও‌ডোবা প্রা‌ন্তে। মাওয়া প্রা‌ন্তে বসানো হয় ষষ্ঠ স্প্যান। সপ্তম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর ১ হাজার ৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়।

পুরো সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি। একটি থেকে আরেকটি পিলারের দূরত্ব ১৫০ মিটার।

পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে আরও স্প্যান প্রস্তুত করার কাজ বেশ দ্রুত চলছে। কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে আরও পাঁচটি স্প্যানের ৯০ শতাংশ প্রস্তুতের কাজ শেষ হয়েছে। এ মাসের মধ্যে এসব স্প্যান প্রস্তুত হয়ে যাবে। এই স্প্যানগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বসানো হবে।

বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ এখন ১৭ হাজার টাকা

স্টাফ রিপোর্টার  

বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু বিদেশি ঋণের পরিমাণ এখন ১৭ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে প্রায় ২০৪ মার্কিন ডলার ঋণের এই পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলে জানিয়েছে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এক প্রতিবেদনে রাষ্ট্রীয় ঋণের চিত্র তুলে ধরেন ইআরডির যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
গত অর্থবছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৫২ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ৮১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা।
অর্থাৎ সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ২০৪ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ১৩৬ টাকা। এই  ঋণের ভারিত গড় সুদ হার ১ দশমিক ২৩ শতাংশ। গড়ে ৮ বছরের রেয়াতকালসহ ঋণ পরিশোধের গড় মেয়াদ প্রায় ৩১ বছর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিচারে বাংলাদেশের বর্তমানে যে বিদেশি ঋণের স্থিতি রয়েছে বা মাথাপিছু বিদেশি ঋণ রয়েছে, তা কোনোভাবেই উদ্বিগ্ন হওয়ার পর্যায়ে যায়নি।
এ বিষয়ে যুগ্ম সচিব রুহুল আমিন বলেন, জিডিপির ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি ঋণকে উদ্বেগজনক বলা হয় না।

এর বেশি হলে তখন উদ্বেগজনক বলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের বিদেশি ঋণের যে স্থিতি রয়েছে, তা ২০৫৭ সালেই পরিশোধ হয়ে যাবে। এ সময়ের মধ্যে নতুন ঋণ না নিলে বর্তমান স্থিতির জন্য দাতাদের কাছে ২০২৭ এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ ১৬০ কোটি ডলারের মতো পরিশোধ করতে হবে। এরপর থেকে ক্রমান্বয়ে কমে আসবে। অর্থাৎ এই বিদেশি ঋণ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
বাংলাদেশের জিডিপির ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও বর্তমানে আমরা যে হারে বিদেশি ঋণ নিচ্ছি, তা ফেরত দিতে কোনো সমস্যা হবে না জানিয়েছেন তিনি।

চলতি বছর প্রবাসী আয় ১১ হাজার ৮৭৭ মিলিয়ন ডলার

নিউজ টুয়েন্টিফোর লাইন ডটকম

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বি.এস.সি বলেছেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ১১ হাজার ৮৭৭.৪২ মিলিয়য়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স আয় হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের ২৩তম অধিবেশনের সোমবারের বৈঠকে সরকার দলীয় সদস্য এম. আবদুল লতিফের (চট্টগ্রাম-১১) লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

নুরুল ইসলাম বি.এস.সি বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীদের অর্থ দেশের ক্রমবর্ধমান কর্মসৃজনের পাশাপাশি বেকারত্ব হ্রাস, দারিদ্র বিমোচন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছে।

চলতি বছর সৌদি আরব গেছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার :

রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হকের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের ১৬৫টি দেশে বাংলাদেশের কর্মী যাচ্ছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি গমন করে থাকে। ২০১৭ সালে দেশটিতে ৫ লাখ ৫১ হাজার ৩০৮ জন এবং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৮৭ হাজার ২২৩জন কর্মী সৌদি আরব গেছেন।

দুই বছরে মালয়েশিয়া গেছেন ২ লাখ ৪১ হাজার :

নাজমুল হক প্রধানের (পঞ্চগড়-১) এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকারি তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্টের মাধ্যমে বেসরকারিভাবে মালোয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ করা হয়। ২০১৬ সালে সরকার অধিকহারে কর্মী প্রেরণের জন্য বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্টকে অন্তর্ভুক্ত করে মালয়েশিয়ার সাথে জিটুজি প্লাস সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এ প্রক্রিয়ায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৮৬৭ জন কর্মী প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইতোপূর্বে সফল শ্রম কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় দুই লাখ ৬৭ হাজার অবৈধ অভিবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের বৈধতা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কারণে যে সকল কর্মী অবৈধ হয়ে পড়েছেন তাদের বৈধকরণের বিষয়ে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

পায়রা সমুদ্রবন্দর : শেষ না হতেই ব্যয় বাড়ল দ্বিগুণ

নিউজ ২৪ লাইন ঃ

নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে না পেরে এখন প্রকল্পের ব্যয় দ্বিগুণ বাড়ানো হলো। সময় বাড়ছে আরো দু’বছর। আর এটি হয়েছে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে। চলতি বছরের জুনে শেষ করার কথা ছিল। সেটা এখন ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হলো। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাষ্টিক সার্জারি ইনষ্টিটিউট স্থাপন করা হচ্ছে ঢাকাতে। এতে ব্যয় হবে ৯১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় পায়রা বন্দর প্রকল্পটিসহ মোট ১৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্পগুলোর ব্যাপারে সাংবাদিকদের জানান। মন্ত্রী জানান, ১৬ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৯ হাজার ৬৮০ কোটি ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৯ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা দেয়া হবে জিওবি খাত থেকে। বিদেশি কোনো অর্থায়ন নেই।

একনেকের তথ্যানুযায়ী, একহাজার ১২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় এই সমুদ্র বন্দরটির উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়িয়ে এখন তিন হাজার ৩৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা করা হয়েছে। এটি তৃতীয় সমুদ্র বন্দর। মেয়াদ শেষে এসে এখন জমি অধিগ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে।

পণ্য কিনে ঠকলে বা প্রতারিত হলে আপনার করণীয় কি?

আমাদের অনেকেই হয়ত জানেন না পণ্য কিনে ঠকলে বা পণ্য সংক্রন্ত কোনো প্রকার প্রতারণার সম্মুখীন হলে তা প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ জানানোর অধিকার আমাদের রয়েছে। ভোক্তা অধিকারবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের দণ্ডের বিধান রেখে ২০০৯ সালে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন’ প্রণীত হয়েছে।

তবে এখনো দেশের বেশিরভাগ মানুষ এ আইন বা এর কার্যকারিতা সম্পর্কে জানেন না। যারা জানেন তাদেরও বড় অংশ মনে করেন, অভিযোগ করে লাভ নেই। ক্রেতা-ভোক্তাদের অভিযোগ অধিদপ্তরে দায়ের করার জন্য বেশ প্রচারণা চালানো হচ্ছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রচারণা চলছে।

যেসব অপরাধে জরিমানা করা হয় সেগুলোর মধ্য উল্লেখযোগ্য : পণ্যের মোড়ক, ইত্যাদি ব্যবহার না করা , মূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করা, সেবার মূল্যের তালিকা সংরক্ষণ ও প্রদর্শন না করা, ধার্য্যকৃত মূল্যের অধিক মূল্যে পণ্য, ঔষধ বা সেবা বিক্রয় করা, ভেজাল পণ্য বা ঔষধ বিক্রয় করা, খাদ্য পণ্যে নিষিদ্ধ দ্রব্যের মিশ্রণ, অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎ‍পাদন বা প্রক্রিয়াকরণ, মিথ্যা বিজ্ঞাপন দ্বারা ক্রেতা সাধারণকে প্রতারিত করা, প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করা, ওজনে কারচুপি করা, বাটখারা বা ওজন পরিমাপক যন্ত্রে কারচুপি করা, পরিমাপে কারচুপি করা, দৈর্ঘ্য পরিমাপের কার্যে ব্যবহৃত পরিমাপক ফিতা বা অন্য কিছুতে কারচুপি করা, পণ্যের নকল প্রস্তুত বা উৎ‍পাদন করা, মেয়াদ উত্তীর্ণ কোন পণ্য বা ঔষধ বিক্রয় করা, সেবা গ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্নকারী কার্য করা, অবহেলা, ইত্যাদি দ্বারা সেবা গ্রহীতার অর্থ, স্বাস্থ্য, জীবনহানি, ইত্যাদি ঘটানো, মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা, অপরাধ পুনঃ সংঘটন করা ইত্যাদি।।

অপরাধের শাস্তি

উপরোক্ত অপরাধগুলোর জন্য আইনে সর্বনিম্ন এক বছর থেকে অনূর্ধ্ব তিন বছর পর্যন্ত কারাদ- এবং অনধিক দুই লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে।

বিচার পদ্ধতি

এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা বিচার করা হবে। কোনো ব্যক্তি কারণ উদ্ভব হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে মহাপরিচালক কিংবা অধিদপ্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দায়ের করবেন এবং অভিযোগ দায়েরের ৯০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাখিল না হলে ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ করবেন না। ম্যাজিস্ট্রেটের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে দায়রা জজের আদালতে আপিল করা যাবে। উল্লেখ্য, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ জামিনযোগ্য ও আপসযোগ্য।

মামলা করার সীমাবদ্ধতা

এই আইনের অধীনে ভোক্তা অধিকারবিরোধী কাজের অভিযোগে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কোনো মামলা সরাসরি দায়ের করা যায় না। মামলা দায়েরের এখতিয়ার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রয়েছে মাত্র। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ে অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ না করলে তা গ্রহণও করা হবে না।

জরিমানার অর্থের ২৫% প্রদান বা অভিযোগকারীর অংশ

দায়েরকৃত আমলযোগ্য অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত ও জরিমানা আরোপ করা হলে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ৭৬(৪) অনুযায়ী আদায়কৃত জরিমানার ২৫ শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারীকে প্রদান করা হবে। গণশুনানিতে অংশগ্রহণ করে সরাসরি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলার সুযোগসহ নানা বিষয়ে ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে বেড়েছে ভোক্তাদের অধিকারের আওতা।

এছাড়া গত বছরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়েছে গণশুনানি। প্রতি সোমবার কারওয়ান বাজারে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে যেকোনো ভোক্তা অংশগ্রহণ করে সরাসরি অভিযোগ, পরামর্শ জানাতে পারেন। এছাড়া আইন সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকলেও তা করার সুযোগ রয়েছে।

মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জরিমানার টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ করার পর তার সত্যতা মিলতে হবে। তাহলেই জরিমানা করা হয়।

কে অভিযোগকারী হতে পারেন?

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ২ (৩) অনুযায়ী, নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ এই আইনের
অধীন অভিযোগ দায়ের করতে পারবেনঃ
• কোন ভোক্তা;
• একই স্বার্থসংশ্লিষ্ট এক বা একাধিক ভোক্তা;
• কোন আইনের অধীন নিবন্ধিত কোন ভোক্তা সংস্থা;
• জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বা তার পক্ষে অভিযোগ দায়েরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা;
• সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন সরকারী কর্মকর্তা;
• সংশ্লিষ্ট পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ী।

অভিযোগ দায়েরের সময়সীমা

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ৬০ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি কারণ উদ্ভব হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এই আইনের অধীন অভিযোগ দায়ের করতে হবে। অন্যথায় উক্ত অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবে না।

অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতি:

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ৭৬ (১) অনুযায়ী, “যে কোন ব্যক্তি, যিনি, সাধারণভাবে একজন ভোক্তা বা ভোক্তা হইতে পারেন, এই অধ্যাদেশের অধীন ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কার্য সম্পর্কে মহাপরিচালক বা এতদুদ্দেশ্যে মহাপরিচালকের নিকট ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অবহিত করিয়া লিখিত অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবেন।”

যেখানে অভিযোগ দায়ের করা যাবে

মহাপরিচালক জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ১ কারওয়ান বাজার (টিসিবি ভবন-৮ম তলা), ঢাকা ফোন: +৮৮০২ ৮১৮৯৪২৫
জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র টিসিবি ভবন- ৯ম তলা, ১ কারওয়ান বাজার ঢাকা ফোন: ০১৭৭৭ ৭৫৩৬৬৮
ই-মেইল: nccc@dncrp.gov.bd

উপ পরিচালক চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টিসিবি ভবন, বন্দরটিলা, চট্টগ্রাম ফোন:০৩১-৭৪১২১২
উপ পরিচালক রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, শ্রীরামপুর, রাজশাহী ফোন: +৮৮০৭ ২১৭৭২৭৭৪
উপ পরিচালক খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টিসিবি ভবন, শিববাড়ী মোড়, খুলনা ফোন: ০৪১-৭২২৩১১
উপ পরিচালক বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মহিলা ক্লাব ভবন, বরিশাল ফোন: +৮৮০৪ ৩১৬২০৪২
উপ পরিচালক সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, সিলেট ফোন: ০৮২১-৮৪০৮৮৪
উপ পরিচালক রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া, রংপুর ফোন:০৫২১-৫৫৬৯১
• এছাড়াও প্রত্যেক জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং অধিদপ্তর এর ই-মেইল এ অভিযোগ করা যাবে। ই-মেইল: dncrp@yahoo.com

• বিস্তারিত তথ্য এবং মতামতের জন্য ভিজিট করতে পারেন অধিদপ্তর এর ওয়েব সাইট এবং পেইজ এ। www.dncrp.gov.bd এবং https://www.facebook.com/dncrp

যেভাবে অভিযোগ দায়ের করতে হবে

• দায়েরকৃত অভিযোগ অবশ্যই লিখিত হতে হবে।
• ফ্যাক্স, ই-মেইল, ওয়েব সাইট, ইত্যাদি ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে; বা
• অন্য কোন উপায়ে;
• অভিযোগের সাথে পণ্য বা সেবা ক্রয়ের রশিদ সংযুক্ত করতে হবে.

অভিযোগকারী তাঁর পূর্ণাঙ্গ নাম, পিতা ও মাতার নাম, ঠিকানা, ফোন, ফ্যাক্স ও ই-মেইল নম্বর (যদি থাকে) এবং পেশা উল্লেখ করবেন।

অভিযোগ ফরম
(http://dncrp.portal.gov.bd/…/c9431d5…/Complain%20%20Form.pdf)

1 2 3 4 5