জন্মের পর নবজাতকের মৃত্যু ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতাল ভাঙচুর করলেন স্বজনরা

নিউজ২৪লাইন:
শরীয়তপুর থেকে
মিরাজ পালোয়ান :

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় বেসরকারি একটি হাসপাতালে নবজাতক জন্মের ত্রিশ মিনিটের মধ্যে শ্বাসকষ্টে মারা গেছে। নবজাতকের মৃত্যুর দুই ঘন্টা পর তার স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অসর্তকার অভিযোগ তুলে হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে হাসপাতালটির। চিকিৎসক বলছেন জন্মের পর নবজাতক শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। নবজাতকের হার্টে ছিদ্র থাকলে সাধারণত এ ধরণের সমস্যা হয়। নবজাতকের মা সুস্থ রয়েছেন।

শনিবার (২ ডিসেম্বর) বিকেল ৪ টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িষার ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া এলাকার ঘড়িষার ডিজিটাল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯ টার দিকে চরলাউলানী গ্রামের রাসেল রাড়ীর স্ত্রী তামান্না বেগম(২৩) প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তি হোন। এরপর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দুপুর ১ টার দিকে নরমাল ডেলিভারিতে তামান্না কন্যা সন্তান জন্ম দেন। এর আধা ঘন্টা পর নবজাতক শিশুটি শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যায়। প্রথমে তামান্নার স্বজনরা বিষয়টি মেনে নিলেও বিকেল চারটার দিকে হাসপাতালে হামলা চালায়। তামান্নার মামা ও ঘড়িষার ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনসার মাঝি, আল আমিন, তারেক, সাব্বির, কুটুমসহ প্রায় ২০-২৫ জন তিন দফায় ভাঙচুর চালিয়ে হাসপাতালের আল্ট্রা মেশিন, ইসিজি মেশিন, অক্সিজেন মেশিন, দুইটি কম্পিউটার, সিসিটিভি মনিটর, হাসপাতাল সংলগ্ন ফার্মেসীসহ প্রায় ১৭ ধরণের মালামাল ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে হাসপাতালটির।

হাসপাতালের ক্যাশিয়ার মো. সবুজ বলেন, আমি ক্যাশে বসে ছিলাম। হঠাৎ করেই আনসার মাঝিসহ প্রায় ২০-২৫ লোক এসে হাসপাতালে ভাঙচুর করে। একটু বাদেই আরও লোক নিয়ে এসে আবার ভাঙচুর করে। এমনভাবে তারা তিনবার ভাঙচুর করে হাসপাতালের সব কিছু তছনছ করে দিয়েছে।

হাসপাতালটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বিএম মোবারক হোসেন বলেন, আমি সন্ধ্যা ৭ টার দিকে খবর পেয়ে এসে দেখি হাসপাতাল ভাঙচুর করে তছনছ করে দিয়েছে। হাসপাতালের প্রায় ১৭ ধরণের মেশিনপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে তারা ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে। অন্য পরিচালকসহ মালিক পক্ষের সাথে কথা হয়েছে, আমরা এঘটনায় মামলা করব। দোষীদের বিচার চাই, যদি আমার হাসপাতাল স্টাফ বা ডাক্তারদের অবহেলার কারণে এই ঘটনা ঘটে, তাহলে তাদেরও বিচার হবে। কিন্তু আইন হাতে নিয়ে এভাবে ভাঙচুর করে অন্য রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা অন্যায়।

হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার শামসুন্নাহার মনি বলেন, তামান্না আসার পর আমরা তাকে নরমাল ডেলিভারির পরামর্শ দিয়েছি। নরমাল ডেলিভারি হওয়ার পর দেখা যায় বাচ্চাটি নীল হয়ে যাচ্ছে। নবজাতকের জন্মের পর সাধারণত হার্টে ছিদ্র থাকলে শিশুর শ্বাসকষ্ট হয়। শ্বাসকষ্টেই বাচ্চাটি মারা গেছে৷ বাচ্চার মা তামান্না সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে।

ঘড়িষার ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনসার মাঝি বলেন, শিশুটি মারা যাওয়ার পর হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছি। শুধু আমি নই, স্থানীয় জনতাও হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে।

নড়িয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক আবির হোসেন বলেন, সকালে তামান্না নামে এক গর্ভবতী মা হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছিল। দুপুরে সন্তান প্রসবের কিছুক্ষণ পর শিশুটি মারা যায়। তামান্নার স্বজন ও স্থানীয়রা নরমাল ডেলিভারির সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অসতর্কতার অভিযোগ তুলে হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালিয়েছে। শিশুটিকে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে এমপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দিলেন যারা

নিউজ২৪লাইন:
(মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি – আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে (শ্রীনগর- সিরাজদিখান উপজেলা) এমপি প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হোসেন পাটওয়ারী’র কাছে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদিন দুপুর সোয়া ১ টার দিকে প্রথম ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিছুক্ষণ পরই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, বিকল্পধারার যুগ্ম-মহাসচিব ও আসনটির বর্তমান সাংসদ মাহি বি চৌধুরী, তৃনমূল বিএনপির চেয়ারপার্সন অন্তরা হুদা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম- মহাসচিব আতাউল্লাহ হাফেজী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ মো. সিরাজুল ইসলাম নিজ নিজ মনোনয়নপত্র জমা দেন। বিকাল ৫টার দিকে প্রার্থীদের মনোনয়ন জমার বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. ফখর উদ্দিন সিকদার। অপরদিকে ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির মনোনীত এমপি প্রার্থী কেন্দ্রীয় মহিলা পার্টির সহ-সভাপতি দোয়েল আক্তার মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি তিনি (প্রার্থী) নিশ্চিত করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এনিয়ে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দু’জন নারীসহ মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেন।

শরীয়তপুর-৩:আওয়ালীগের মনোনয়নপত্র জমা দিলেন নাহিম রাজ্জাক

ইয়ামিন কাদের নিলয়
বিশেষ প্রতিনিধি
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর -৩ আসনের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নাহিম রাজ্জাক।
বৃহস্পতিবার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ডামুড্যা উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাছিবা খানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।
মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের নাহিম রাজ্জাক বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। প্রধানমন্ত্রীর গত ১৫ বছরের উন্নয়ন, সুশাসন ও সেবার ওপর আস্থা রেখে এই নির্বাচনেও জনগণ নৌকাকে বিপুল পরিমাণ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসবেন।
এ সময় নাহিম রাজ্জাক এমপি সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও শরীয়তপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার, শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবু অনল কুমার দে, ডামুড্যা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির বাচ্ছু ছৈয়াল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাবলু সিকদার, ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ গোলন্দাজ ,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজা খানম লাভলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন মাল , সহ-সভাপতি ইনু বেপারী , যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন মোল্যা প্রমুখ।

শরীয়তপুরে ২য় বারের মত নৌকার মাঝি হলেন অপু-শামীম-নাহিম

নিউজ২৪লাইন:
মোঃ রুহুল আমীন : বিশেষ প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের তিনটি আসনেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক সংসদ সদস্যদের মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। রোববার বিকেল ৪ টায় দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

শরীয়তপুরের তিনটি আসনেই বর্তমান সংসদ সদস্যদের পুনঃরায় মনোনয়ন প্রদান করায় রোববার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে জেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু,

শরীয়তপুর-২(নড়িয়া-সখিপুর) আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম। ও

শরীয়তপুর-৩ আসনে নাহিম রাজ্জাক আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

শরীয়তপুর-১ আসনে পুনঃরায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্ত ইকবাল হোসেন অপু ছাত্র জীবনে মাদারীপুর জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। সভাপতি থাকা অবস্থায় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন ও পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার শাসনামলে ছাত্রলীগের হয়ে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। ইকবাল হোসেন অপু ছাত্রলীগের ১৯৯২ সালে গঠিত মাঈন-ইকবাল কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৯৪ সালে গঠিত শামীম-পান্না কমিটিতে সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হোন। এরপর ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে শরীয়তপুর-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হোন। আসনটিতে দুইটি পৌরসভা ও ২৩ টি ইউনিয়ন রয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩৪৯ জন। আসনটি থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ২০ জন নেতাকর্মী মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছিলেন।

শরীয়তপুর-২ আসনে দলটির মনোনয়ন প্রাপ্ত একেএম এনামুল হক শামীম ছোটবেলা থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতি জড়িত। স্কুল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে তিনি সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন ছাত্রজীবনে। ২০১২ সালে তিনি প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হোন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি দলটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে শরীয়তপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনা সরকারের চতুর্থ মন্ত্রীসভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শরীয়তপুর-২ আসনে একটি পৌরসভা ও ও ২৪ টি ইউনিয়ন রয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৬৬ জন। আসনটি থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ৯ জন নেতাকর্মী মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছিলেন।

শরীয়তপুর-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্ত নাহিম রাজ্জাক আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে। বাবা আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যুর পর নাহিম রাজ্জাক আসনটির পরবর্তী প্রত্যেকটি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করে এখন পর্যন্ত তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আসনটি তিনটি পৌরসভা ও ২৮ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৯৩ জন। আসনটি থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ১৪ জন নেতাকর্মী মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছিলেন।l

সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন

নিউজ২৪লাইন:
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানী সহ সারা দেশে ডিজিটাল কায়দায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হামলা, জেল, জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন চলমান। সাংবাদিক সাগর, রুনির,কথা এই জাতি কখনো ভুলবে না। সাংবাদিক সমাজের ভুলার কথাও নয়। সম্প্রতি কর্তব্যরত অবস্থায় মনিং টাইমস মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার শামীম আহমেদ,জেএটিভি’র সিনিয়র রিপোর্টার ওমর ফারুক রবিন,সিনিয়র ক্যামেরা পার্সন খোকা আমিন, ক্যামেরা পার্সন রুবিনা শেখ ও সহকারী আমিনুল ইসলাম তারা গত ২৮/১০/২৩ইং তারিখে হামলার শিকার হয়।
এদিকে গুলশান বনানী পরিচিত মুখ অপরাধ বিচিত্রা সংবাদ কর্মী ও খিলক্ষেত প্রেসক্লার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিব সরকার স্বাধীন কে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়, যার যথার্থ প্রমাণ থাকার সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সংবাদ কর্মী স্বাধীন দাবি করেন অপরাধীদের মুখোশ জনসম্মুখে উপস্থাপন করায় আমাকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
যার কল রেকর্ডিং পুলিশের জবানবন্দি যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিপূর্বে ভাইরাল হয়েছে। সর্বশেষ পুলিশের নাটকীয় মামলার অভিযোগ দিয়ে কোন নিরাপত্তা পাইনি। উল্টো পূর্বের মত তাকে আবারও ফাঁসানো হয়, মাদকের মত ভয়ংকর মামলায়। এই সংবাদকর্মী কখনো একটি সিগারেট খাইনি। এছাড়াও কিছুদিন আগে ক্ষমতাশালীদের অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করার জেরে এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের কে সাক্ষী রেখে নাটক সাজিয়ে অবৈধ গ্যাস বিদ্যুৎ সাপ্লায়ার নারীকে দিয়ে আদালতে মামলা করে এই বাহিনী। সংবাদ কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হামলা মামলার প্রতিবাদে গত ২৬/১১/২৩/সকাল ৯ টায় খিলক্ষেত প্রেসক্লাবের আয়োজনে অপরাধ বিচিত্র প্রকাশক এস,এম, মোরশেদের নেতৃত্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায় এই বেপরোয়া তৎপরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
যা দেশের গণমাধ্যম জগতের জন্য এক অশনিসংকেত। বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাগুলো সংবিধানস্বীকৃত স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব করে, যা কোনো গণতান্ত্রিক দেশে কাম্য নয়।
বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর অব্যাহত হামলা-মামলা-নির্যাতন ও হত্যা স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে,
যার সর্বশেষ নিদর্শন জামালপুরে সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী হত্যাকাণ্ড। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক-২০২৩-এর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়। গত দুবছরে বাংলাদেশ (গণমাধ্যম সূচকে) ১১ ধাপ ও ১৪ বছরে ৪২ ধাপ নিচে নেমেছে।
যে বিষয়গুলোর ওপর এই সূচক নির্ধারিত হয়, তার অন্যতম একটি বিষয় হলো সাংবাদিকের নিরাপত্তা। আর ঠিক সেখানেই বাংলাদেশের স্কোর হতাশাজনক ভাবে কম। দেশে বারবার সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা ঘটলেও এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত বিচার না হওয়া। অদৃশ্য শক্তির’ প্রভাবে ছাড় পেয়ে যাওয়ার ফলে দেশে এ ধরনের ঘটনা আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা বলা বাহুল্য। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর অযাচিত আক্রমণ, সহিংস ঘটনার বিচারিক তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য চরম বাস্তবতা হিসাবে দেখা দিয়েছে। বিচারহীনতা, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনাগুলো বাংলাদেশের গণমাধ্যমে নিঃসন্দেহে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

রূপগঞ্জে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী প্রস্তুতি সভা

নিউজ২৪লাইন:
মোঃআবু কাওছার মিঠু
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের করাটিয়া হোমল্যান্ড আবাসন প্রকল্পের মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। রূপগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি অলি উল্লাহ মাষ্টারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি হাফিজ ভুইয়া, শেখ রাসেল নগর ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি শাহজালাল, মুড়াপাড়া ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি বাদল মাষ্টার, গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি আবুল কাশেম, ভোলাব জাতীয় পার্টির সভাপতি মজনু, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সিরাজ, দাউদপুর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন, কাঞ্চন পৌরসভার জাতীয় পার্টির সভাপতি আলী হোসেন, রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নাসরিন, রূপগঞ্জ উপজেলা যুবসংঘতির সাধারণ সম্পাদক সাদিক খান, মুড়াপাড়া ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাংঘঠনিক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ প্রমূখ।

এসময় সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন কিনেছি। আমি নির্বাচিত হলে এ উপজেলার শিক্ষাখাতের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে শিক্ষাখাতকে আরো উন্নত করবো। এছাড়া ব্যাক্তিগতভাবে উপজেলার সকল মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করাবো। এছাড়া মাদক মুক্ত রূপগঞ্জ গড়বো।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে নৌকা পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিবীদ হারুন অর রশিদ

নিউজ২৪লাইন:

মুন্সীগঞ্জ থেকে সুজন বেপারী : – এবার মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী দিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। জেলায় প্রার্থী নির্বাচনে এটাই হতে পারে এবারের চমক।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বিকল্প ধারার মাহি বি চৌধুরী এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নাও পেতে পারেন। তাছাড়া প্রথম অবস্থায় সারাদেশের সকল আসনে প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সেই হিসাবে মুন্সিগঞ্জ ১ আসনে নৌকার প্রার্থী করা হতে পারে হানা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাপান বঙ্গবন্ধু পরিষদ জয়েন্ট ভেঞ্চার এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিবীদ হারুন অর রশিদ।

তবে কালই যানা যাবে আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে নেতাকর্মীদের।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের মিত্র বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বদরুদ্দোজা চৌধুরী। আসনটি এর আগের দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগের দখলেই ছিলো। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে ‘প্ল্যান বি’ নিয়ে রাজনীতির মাঠে হাজির হন মাহি। মাহির দল বিকল্পধারা প্রথমে বিএনপির সাথে যুক্তফ্রন্টে গেলেও পরে যোগ দেয় আওয়ামী লীগের জোটে।

বিএনপির প্রার্থী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের বিপরীতে ৬৫.০৯% শতাংশ ভোট পেয়ে বিকল্প ধারা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাহি বি চৌধুরী।

২০০২ সালে মাহির পিতা বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে আসনটি ছেড়ে দেন। এরপর উপ-নির্বাচনে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাহি। কিন্তু বিএনপি বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য করলে মাহিও সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেন। দুজনে মিলে গঠন করেন বিকল্প ধারা।

২০০৪ সালে আসনটিতে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মমিন আলীকে হারিয়ে বিজয়ী হন মাহি বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

এর আগে ১৯৯১, ১৯৯৬ ফেব্রুয়ারি (ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন), ১৯৯৬ জুন (সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন) ২০০১ ও ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া উপ-নির্বাচনে আসনটি বিএনপির দখলে ছিলো। এই আসনটিতে ২০০৮ সালে মোট ভোটের ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ও বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে হারিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ।

২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি ভোট বর্জন করলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুর মোহাম্মদকে হারিয়ে ৯৬ শতাংশ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সুকুমার রঞ্জন ঘোষ।

1 2 3 412