কুমিল্লায় ঘটনায় দায়ীদের শিগগিরই গ্রেপ্তার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ২৪লাইন:, ঢাকা- কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে ঘটে যাওয়া ঘটনায় দায়ীদের খুবই শিগগিরই গ্রেপ্তার করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

রোববার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, যেভাবে এগোচ্ছি, তাতে আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই তাঁদের (দায়ী) গ্রেপ্তার করতে পারব।

তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় ২/৩ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিনষ্ট করতেই এ ঘটনা। তদন্ত করে শিগগিরই দোষীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি কুমিল্লার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছেন? সে বিষয় চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এ ঘটনার পেছনে অবশ্যই কোন কারণ আছে। কিছু দিনের মধ্যে আমরা আরও ক্লিয়ার বলতে পারবো। কুমিল্লার ঘটনায় আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি খুব সিরিয়াসলি দেখছেন। আমরা একটি নির্ভুল তদন্তের মাধ্যমে সব ঘটনাটি শিগগিরই আপনাদের জানাবো বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি আমাদের দেশের লোক ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্যই ঘটনানো হয়েছে। এটা যেই করেছেন বা কার ইন্ধনে করেছেন তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। আমরা প্রমাণ পেলেই আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা অবশ্যই করবো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু কুমিল্লায় নয়, রামুতে, নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা করে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টিই মূল উদ্দেশ্য। আমাদের দেশের লোক ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। আমরা জঙ্গি-সন্ত্রাসকে কোনো দিন স্থান দেইনি। সবাই একত্রিত হয়ে জঙ্গি-সন্ত্রাসকে দূর করেছিল। এমন একটি পরিস্থিতিতে আবার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কাদের লাভ হবে? করা এতে লাভবান হবে আপনাদের কাছে সেই জিজ্ঞাসা আমার। আমরা অনেক কিছু দেখছি, অনেক কিছু অনুমান করছি, এগুলো আমরা প্রমাণের অপেক্ষায় আছি। প্রমাণ পেলেই আপনাদের সামনে তুলে ধরব।

চারজনের প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পরপরই চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ এলাকায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। পুলিশ সদস্যরা আহত হয়েছেন। নোয়াখালী, ফেনী কক্সবাজারে ছোট ছোট ঘটনা ঘটেছে। হাজীগঞ্জ ও নোয়াখালীতে প্রাণহানি হওয়ায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।

তিনি আরও বলেন, কোনো ধর্মাবলম্বী মানুষ এই কাজটা করতে পারে না। সবাই ধর্মভীরু, যার যার ধর্ম সে সেই ধর্ম পালন করেন। কাজটা যেই করেছেন উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছেন, যে করেছেন কারো ইন্ধনে এবং স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে বিনষ্ট করতে করেছেন, আমরা সবকিছুই তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবো, যাতে করে সম্প্রীতি বিনষ্ট করার প্রয়াস যেন কেউ না পায়।

দেশের ৩৫ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

নিউজ২4লাইন, ঢাকা- সারা দেশে বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শুক্রবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ‘শারদীয় দুর্গাপূজা’ শেষ হয়েছে। তবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা ও সিলেট শহরসহ দেশের ৩৫ জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) রাতে বিজিবির পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের চাহিদার ভিত্তিতে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এখন আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা ও সিলেট মহানগরী ও ৩৫ জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি মোতায়েন আছে।’

এর আগে বিজিবির পরিচালক জানিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদা থাকলে রাজধানীসহ দেশের সব জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হবে। সে প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

গত বুধবার কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘির উত্তর পাড়ের একটি পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ পাওয়ার অভিযোগ তোলার পর শহরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেদিন থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব মোতায়েন করা হয়।

বৃহস্পতিবার থেকেই কুমিল্লা, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জসহ ২২টি জেলায় বিজিবি মোতায়েন করে সরকার। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বেশ কয়েক স্থানে জারি করা হয় ১৪৪ ধারাও।

জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে স্লোগান

নিউজ২৪লাইট ডেস্ক: জুমার নামাজের পরপরই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে স্লোগান দিতে দেখা গেছে একদল মুসল্লিকে।

নামাজের সালাম ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গেটের সামনে চলে আসে এসব মুসল্লি। তাদের অনেককে ‘ইসলামের শত্রুরা হুঁশিয়ার, সাবধান’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

মুসল্লিদের কয়েকজনের হাতে ব্যানার দেখা যায়, তবে দ্রুত সামনের নিয়ে এগিয়ে যাওয়ায় সে ব্যানারে কী লেখা ছিল, তা দেখা যায়নি।

জাতীয় মসজিদের গেট থেকে বেরিয়ে মুসল্লিদের অনেককে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে যেতে দেখা যায়। সেখানে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশের গলিতে ঢুকে যায় তারা।
জুমার নামাজের আগে একটি গেট বন্ধ করে দেয়াকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা দেখা যায়।

জুমার নামাজের আগে একটি গেট বন্ধ করে দেয়াকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে মসজিদের উত্তর পাশের একটি কেচি গেট বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। ওই সময় একজন নিরাপত্তারক্ষী গেটটি বন্ধ করে দিলে নামাজ পড়তে আসা একদল মুসল্লি উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

ওই নিরাপত্তারক্ষীকে ধাওয়াও দেয় উত্তেজিত লোকজন। ইসলামী ফাউন্ডেশনের গেটের দিকে ছুটলে নিরাপত্তারক্ষীকে রক্ষা করেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।

এরপর থেকেই উত্তর পাশের সিড়িতে থাকা একদল মুসল্লি নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। নামাজ শেষ হওয়ামাত্রই কিছু মুসল্লিকে দৌড়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে যেতে দেখা যায়।

দূর্গাপূজার বিসজর্নকে কেন্দ্র করে জুমার নামাজের পর যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য সকাল থেকে বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশ। তাদের সঙ্গে কড়া প্রহরায় দেখা যায় র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যদের।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুক্রবার জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই পল্টন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। সম্প্রতি কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় অন্য সময়ের চেয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

এ বিষয়ে খিলগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (পেট্রোল) খন্দকার রেজাউল হাসান জুমার নামাজের আগে দেশের অন্যতম একটি অনলাইনকে বলেছিলেন, ‌ ‘অন্যান্য সময়েও শুক্রবার এ এলাকায় নিরাপত্তা বেশি নেয়া হয়। তবে আজকে আমরা আরও বেশি সর্তক রয়েছি।

‌‘যেহেতু কুমিল্লাতে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনাও দেখা গেছে, তাই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আমরা বায়তুল মোকররমসহ এই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছি।

সুএ: সময়ের কন্ঠসর

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পদ্মায় মা ইলিশ ধরার মহোৎসব!

নিউজ২৪লাইন:, মাওয়া (মুন্সীগঞ্জ)- পদ্মা নদীতে মাছ ধরার দৃশ্য বাস্তবে অনেকেরই দেখাটা অসম্ভব হলেও এ দৃশ্যটি বর্তমান এ মৌসুমে চোখে পড়ার মতো।

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে সরকারিভাবে মা ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও মুন্সীগঞ্জের লৌহজং পদ্মা-নদীর ডহড়ি, কলমা, হাজরা, শুরেশ্বর, বটেরশ্বরসহ বেশহেকটি অংশে ইলিশ নিধন ও বিক্রির ধুম পড়েছে।

সৌখিন ও মৌসুমী চোরা শিকারীদের অপতৎপরতায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ সোচ্চার হলেও কোনভাবেই মৎস্য শিকার রোধ করা যাচ্ছে না।

সৌখিন ও মৌসুমী চোরা শিকারীদের সহযোগিতা করছেন স্থানীয় মাওয়া নৌ পুলিশ ফাড়ির ঘনিষ্ঠ একজন পুলিশের সোর্স, এমন অভিযোগ উঠেছে। এই সুযোগে মৎস্য শিকারী ও ক্রেতা-বিক্রেতারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা খেই হারিয়ে ফেলছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর থেকে অভিযান শুরুর পর হতে মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলে আজ পর্যন্ত ১২টি অভিযানে ১ লক্ষ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, প্রায় ১০ মন ইলিশ, কয়েকটি ইঞ্জিন চালিত ডিঙ্গী নৌকা এবং ৭৩ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সাথে ১৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩৫ জন জেলের মধ্যে ১৬ জনকে এক মাস ও ২ জন কে ৩ মাসের জেল এবং বয়স বিবেচনায় প্রায় ২০ জনকে অভিভাবকের মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়েও বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। গত এক সপ্তাহের অভিযানে জব্দকৃত জাল-নৌকা ধ্বংস করাসহ জব্দকৃত ইলিশ স্থানীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল আউয়াল জানান, মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সর্ম্পকে জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে অভিযান ব্যহত হচ্ছে কিছুটা, তবে আমরা প্রতিদিন ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারিসহ মুন্সীগঞ্জের লৌহজং পদ্মা-নদীর বেশ কয়েকটি অংশে অভিযান পরিচালনা করছি।

অল্প সংখ্যক আনসার, ব্যাটালিয়ন আনসার,ও পুলিশ নিয়ে গত দু’দিন আগে নদীতে অভিযান পরিচালনাকালে লৌহজং চরাঞ্চলের চোরা শিকারীরা দলবদ্ধ হয়ে লাঠি-সোঠা হাতে আমার এ্যাসিল্যান্ডের উপর চড়াও হয়েছে।

তিনি জানান, এদের রুখতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক র‌্যাব ও পুলিশ নিয়ে অচিরেই অভিযান পরিচালনা করতে বিশেষ বৈঠকে জরুরী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে এর মধ্যেও নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

লৌহজং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা-আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, প্রজনন মৌসুমে নদীতে জাল-নৌকা বন্ধ রাখতে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলার প্রায় পাচঁশ ২৩ জন প্রকৃত জেলেদের মাঝে ২০ কেজি হারে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও মা ইলিশ শিকার রোধে নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ২৪লাইন ডেস্ক:   দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার সমর্থন এবং সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে চাই এবং এ ব্যাপারে রাশিয়ার অব্যাহত সহযোগিতার প্রয়োজন।’

সোমবার ( ১১ অক্টোবর) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠকের পরে এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।

রোববার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (আরএনপিপি) মূল যন্ত্র রিয়্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। এতে রোসাটম মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বলা হচ্ছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে রাশিয়ার সেরা কর্ম কৌশল চর্চা, বহু বছরের অভিজ্ঞতা এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাকে কাজে লাগানো হয়েছে এবং প্যাসিভ সিস্টেমের অনন্য সংমিশ্রণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পিত স্তরের নিশ্চয়তা দেবে। পাবনার আরএনপিপি, যার দুটি ইউনিট রয়েছে যার প্রত্যেকটির ক্ষমতা ১২শ’ মেগাওয়াট। এটি দেশের প্রথম এ ধরনের বিদ্যুৎ প্রকল্প।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই দক্ষিণাঞ্চলে আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাতকালে নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালককে স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে তারা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (আরএনপিপি) চালাতে পারেন।

আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, বাংলাদেশ এবং রাশিয়ার পারস্পরিক সহযোগিতা পারমাণবিক ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে এবং ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তিধর দেশে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, আরএনপিপি পরিচালনার জন্য তারা বাংলাদেশিদের প্রশিক্ষণ দেবেন এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎখাতে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি স্থানীয় কর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান এবং অন্যান্য জনবলসহ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ আরএনপিপিতে কাজ করে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। অনেক বাংলাদেশি কোম্পানিও সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করছে। তিনি আরএনপিপি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু কমিশনের সহযোগিতারও প্রশংসা করেন।

নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জানান, তারা আরএনপিপি’র নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিবেন এবং তারা প্লান্টের কাছাকাছি এলাকায় সামাজিক উন্নয়নেও কাজ করছেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর সামনে আরএনপিপির কারিগরি ও নিরাপত্তার দিকগুলোও উপস্থাপন করেন। আলেক্সি লিখাচেভ আরএনপিপি বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন রাশিয়ান ফেডারেশনের সমর্থনের কথাও স্মরণ করেন। তিনি মহাপরিচালককে বলেন, কভিড-১৯ মহামারী বাংলাদেশের অগ্রগতি কিছুটা থামিয়ে দিয়েছে, কিন্তু এখন তা কাটিয়ে উঠে এগিয়ে যাচ্ছে।

রোসাটম’র মহাপরিচালক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আরএনপিপিতে কর্মরত ৯০ শতাংশের বেশি রাশিয়ান নাগরিক তারা টিকা দিয়েছেন।

এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, অ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব জিয়াউল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

অনেকে না বুঝে সমালোচনা করে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ২৪লাইন: পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে এসব বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে বুঝে না বুঝেই সমালোচনা করে।

আজ রোববার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল বা পরমাণু চুল্লিপাত্র প্রথম ইউনিটে স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার কারণে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পেরেছেন-এমন মন্তব্য করে অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাকিস্তান শুধু জমি দিয়েছে, কিন্তু রূপপুরে বরাদ্দ টাকা তারা নিয়ে যায় পশ্চিম পাকিস্তানে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭০’র নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের দাবি তোলেন৷ স্বাধীনতার পর তিনি আইএর সঙ্গে চুক্তি করেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সব থেমে যায়। এরপরের শাসকরা এ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার যোগ্য ছিল না, নিতেও চায়নি।’

‘২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আবার এ প্রকল্প এগিয়ে নেয়। ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় এসে তার সরকার রাশিয়ার সহযোগিতায় রূপপুর প্রকল্পকে চূড়ান্ত রূপ দেয়,’ যোগ করেন সরকারপ্রধান।

তিনি আরও বলেন, ‘পরমাণু শক্তির একটা অংশ হিসেবে সেখানে একটা স্থান আমরা করে নিতে পারলাম, আর সেটা শান্তির জন্য। বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, সেই বিদ্যুৎ গ্রাম পর্যায়ে মানুষের কাছে যাবে, মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি হবে।’

এর আগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল বা পরমাণু চুল্লিপাত্র প্রথম ইউনিটে স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ।

উল্লেখ্য, রূপপুর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন।

সৌদির বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, তিন বাংলাদেশিসহ আহত ১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের জাজান শহরের কিং আব্দুল্লাহ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় তিন বাংলাদেশিসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় হামলার এ ঘটনা ঘটে।

দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এর বরাত দিয়ে আজ শনিবার আল-জাজিরা, এনডিটিভি, রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহত অন্য সাতজনের মধ্যে ছয়জনই সৌদি আরবের নাগরিক। আরেকজন সুইডেনের নাগরিক। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের তথ্য পাওয়া গেছে। তারা সামান্য আহত হয়েছেন। অন্য পাঁচজনের অবস্থা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।

সৌদি নেতৃাত্বাধীন জোটের এক মুখপাত্র জানান, ড্রোন হামলায় বিমানবন্দরে জানালার কাঁচসহ বেশ কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হন। শনিবার ভোরের দিকে একই স্থানে হামলার চেষ্টাকালে আরেকটি বিস্ফোরক বোঝাই লাদেন ড্রোন আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জানালার কাঁচ

বার্তা সংস্থা রয়র্টাসের খবরে বলা হয়েছে, হামলায় ছয় সৌদি, তিন বাংলাদেশি ও এক সুদানের নাগরিক আহত হন।

এদিকে, কিং আব্দুল্লাহ বিমানবন্দরে এ হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ দায় স্বীকার করেনি। তবে সম্প্রতি জাজানসহ ইয়েমেন সীমান্তঘেঁষা সৌদি আরবের শহরগুলোতে হামলা চালাচ্ছে হুথি বিদ্রোহীরা। এ হামলার পেছনেও তাদের হাত রয়েছে বলে দাবি সৌদির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

1 2 3 332