হেফাজত নেতা শাখাওয়াত-ফখরুল-মঞ্জুরুল ৫ দিনের রিমান্ডে

 

পল্টন থানার নাশকতার মামলায় হেফাজত নেতা শাখাওয়াত হোসেন রাজী, ফখরুল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ৫ দিন করে রিমান্ডে।

 

বিস্তারিত আসছে…

 

‘মুভমেন্ট পাস’ যেভাবে পাবেন

১৪ থেকে ২১ এপ্রিল দেশে চলবে কঠোর লকডাউন। এ সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে যেতে পারবে না।  তবে সর্বাত্মক লকডাউন চলাকালে জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে লাগবে পুলিশ পাস। এজন্য নিতে হবে ‘মুভমেন্ট পাস’।  দেশের যেকোনো নাগরিক এই পাস নিয়ে লকডাউনের সময় বাইরে যেতে পারবেন।

 

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) রাজারবাগ পুলিশ লাইনে এক অনুষ্ঠানে এই মুভমেন্ট পাস অ্যাপের  উদ্বোধন  করেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ।

 

 

যেভাবে আবেদন করা যাবে

১) আবেদনকারীকে (movementpass.police.gov.bd) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পাসের জন্য আবেদন করতে হবে।

 

২) শুরুতে একটি সংক্রিয় মোবাইল ফোন নম্বর দিতে হবে।  আবেদনকারী কোথা থেকে কোথায় যাবেন, তা জানতে চাওয়া হবে।  বক্সে সেই তথ্য দিতে হবে। এরপর একটি নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদনকারীর কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য জানতে চাওয়া হবে। সেই তথ্য ধাপে ধাপে প্রদান করতে হবে। এরপর আবেদনকারীকে একটি ছবি আপলোড করে ফর্মটি জমা দিতে হবে।

 

 

৩) জমা দেওয়া ফর্মে আবেদনকারীর প্রদত্ত তথ্যাবলীর ভিত্তিতে movementpass ইস্যু করা হবে। ওয়েবসাইট থেকে পাসটি ডাউনলোড করে সংগ্রহ করতে হবে।

 

৪) চলাচলের সময় কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারকে ‘পাস’ প্রদর্শন করতে হবে।

 

 

করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ বিস্তার রোধে চলমান লকডাউনে প্রয়োজনীয় চলাচল নিশ্চিত করতে movementpass অ্যাপসটি ব্যবহারের মাধ্যমে পাস সংগ্রহ করার জন্য দেশের নাগরিকদের অনুরোধ করা যাচ্ছে। এই সময় অনিয়ন্ত্রিত চলাচল রোধে নাগরিকদের কাছ থেকে পুলিশ আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে।

হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত গ্রেফতার

মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন 

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপির) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

 

বুধবার সন্ধ্যায় লালবাগ থেকে ডিবির একটি টিম মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজীকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম।

 

তিনি জানান, সম্প্রতি হেফাজতে ইসলাম আন্দোলনের নামে যে তাণ্ডব চালিয়েছে এসব ঘটনায় রাজধানীর একাধিক থানায় কয়েকটি মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটি মামলায় মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

 

এর আগে, হেফাজতে ইসলামের সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজীকে তার লালবাগের বাসার সামনে থেকে আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

গ্রেফতার ও পদত্যাগে বিপর্যস্ত হেফাজত ইসলাম

একদিকে হেফাজতের শীর্ষ নেতারা পদত্যাগ করছেন হেফাজত আদর্শ বিচ্যুতি হয়েছে এই অভিযোগ করে, অন্যদিকে উগ্রবাদীরা বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হচ্ছেন। গ্রেফতার আর পদত্যাগে হেফাজত এখন বিপর্যস্ত অবস্থায়। সামনে হেফাজতে গণপদত্যাগ আসছে। এই পরিস্থিতিতে হেফাজত অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। শেষ পর্যন্ত সংগঠনটি থাকবে কি থাকবে না এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে হেফাজতের নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ হাসান সহ অন্তত ১২ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে তারা পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন। এই পদত্যাগের ব্যাপারে যদিও হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী তাদেরকে অনুরোধ করছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তার অনুরোধের সত্বেও পদত্যাগ অব্যাহত আছে। সর্বশেষ পদত্যাগ করা হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান বলেছেন যে, হেফাজতকে একটি রাজনৈতিক সংগঠনে রূপান্তরিত করা হচ্ছে এবং বিতর্কিত করা হচ্ছে। এজন্যই তিনি হেফাজতের সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখতে চান না। তিনি এ কারণেই পদত্যাগ করেছেন।

 

 

 

একই অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন অন্যান্য জেলায় বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের আমির হওয়ার পরেই হেফাজতের মধ্যে টানাপড়েনের সৃষ্টি হয়েছিলো। বিশেষ করে জুনায়েদ বাবুনগরী সরকারের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী অবস্থান গ্রহণ করেন, তা হেফাজতের বিভিন্ন মহল গ্রহণ করতে পারেনি। আর গ্রহণ না করার কারণেই তারা মনে করছেন যে হেফাজতে ইসলাম এবং কওমি মাদ্রাসা দুটোর জন্যই নিরাপদ নয়। আর জুনায়েদ বাবুনগরী দায়িত্ব গ্রহণের পরই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিরোধিতা, তারপর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী নিয়ে বিরোধিতা করে হেফাজতকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করান। এই সময় বিশেষ করে ২৬ এবং ২৭ মার্চ ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের নেতৃত্বে নারকীয় তাণ্ডব হয়। তাণ্ডবগুলোকে অনেক একাত্তরের বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করেন।

 

 

 

এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই সমস্ত তাণ্ডবের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে খুঁজে বের করছে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনছে। ইতিমধ্যে সারাদেশে হেফাজতের শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন বলে জুনায়েদ বাবুনগরী দাবি করেছেন। তিনি গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি করে মিনমিনিয়ে কিছু কথা বললেও সেই কথা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা খুব একটা আমলে নেয়নি। কারণ হেফাজতের আমির বাবুনগরীর পায়ের তলার মাটি ইতিমধ্যে সরে যাচ্ছে। তিনি এক রকম চাপের মধ্যে আছেন। আর বিশেষ করে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত যারা, যেমন হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, হেফাজতের নারায়ণগঞ্জ জেলার সেক্রেটারি বশির উল্লাহ`র মতো নেতৃবৃন্দ যখন গ্রেফতার হচ্ছেন তখন বাবুনগরী নিজেই গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন। তাকে পরামর্শ দেওয়ার মতো এবং সহযোগিতা করার মত কোনো লোকও তিনি পাচ্ছেন না।

 

 

 

আল্লামা শফী যখন হেফাজতের আমির ছিলেন তখন তিনি সরাসরি সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করতেন এবং বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরকারের সাথে কথা বলতেন। কিন্তু জুনায়েদ বাবুনগরীকে সরকার পছন্দ করে না এবং তার সঙ্গে জামাতের একটি সম্পর্ক এবং স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে গোপন আঁতাতের খবর পাওয়া যায়। তাদের নির্দেশেই তিনি সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। আর এ কারণেই এখন হেফাজত যে সরকারের সাথে সমঝোতা করবে, আত্মসমর্পণ করবে বা একটা বোঝাপড়া করবে এমন সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যাচ্ছে। ফলে গ্রেফতার আর পদত্যাগের দুই ধারায় হেফাজত সংকুচিত হচ্ছে। হেফাজতের নেতারাই বলছেন, এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে সামনে হয়তো হেফাজতের কোনো নেতাই খুঁজে পাওয়া যাবে না। অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির জন্য হেফাজতকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে এবং সংগঠনটি হয়তো নিঃশেষিত হবে।

রয়েল রিসোর্টে হামলা: প্রধান আসামিসহ ৪ হেফাজত নেতা গ্রেফতার।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্টে হেফাজতের নেতা মামুনুল হকের নারীসহ আটকের জেরে রিসোর্টটিতে ভাঙচুর ও মহাসড়কে নাশকতা সৃষ্টির মামলার প্রধান আসামিসহ দলটির চার নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১।

 

রবিবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর জুরাইন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও র‌্যাব-১১-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

গ্রেপ্তারকিৃত আসামিরা হলেন- হেফাজতের সোনারগাঁও থানা শাখা কমিটির সহসভাপতি মাওলানা ইকবাল, সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান শিবলী ও কার্যকরী সদস্য মোয়াজ্জেম। র‌্যাবের ভাষ্য, ঘটনার সময় ইকবাল মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হেফাজত কর্মীদের জড়ো করেছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। রোববার হাসপাতালসহ একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে সমকাল বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

 

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে খালেদা জিয়া জ্বরে ভুগছেন। তাই তিনি করোনা সংক্রমিত কিনা জানতে শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর ঢাকার অন্যতম একটি হাসপাতালে তার করোনা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। সেই পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, শনিবার বিকেল ৩টার দিকে ওই হাসপাতালের করোনা ইউনিট থেকে একজন টেকনোলজিস্ট খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় যান। এর আগে ওই হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন খালেদার জিয়ার পরিবার ও তার চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা। রক্তের নমুনা নেওয়ার সময় খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ডা. মামুনও সেখানে ছিলেন। করোনা পরীক্ষার পাশাপাশি তার ডায়াবেটিস টেস্টের জন্যও নমুনা নেওয়া হয়। গোপনীয়তার সঙ্গে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

 

 

বিএনপির দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

খালেদা জিয়া সরকারের নির্বাহী আদেশে জামিনে রয়েছেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। দুই বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর গত বছর করোনা মহামারির কারণে পরিবারের আবেদনে তাকে ছয় মাসের জামিনে মুক্তি দেয় সরকার, যা তিন দফায় বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক বাদে অন্য কেউ দেখা করতে পারেন না।

ভুয়া কাবিননামা তৈরির চেষ্টা করছে মামুনুল হক: কাজী অফিসে নজরদারি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও রয়্যাল রিসোর্ট থেকে কথিত স্ত্রীকে নিয়ে ধরা পড়ার পর নানামুখী চাপে আছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। তার সঙ্গে থাকা নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে পরিচয় দিয়ে দিলেও তাদের বিয়ের কোনো প্রমাণ নেই। কথিত স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর মামুনুল হকের প্রথম স্ত্রী আমিনা তৈয়বা তার সন্তানদের নিয়ে ঘর ছেড়েছেন।

এদিকে হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফত মজলিশ ছাড়াও নানা মহলে সমালোচিত হচ্ছেন মামুনুল হক। বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে মামুনুল বলেন, “আমি একাধিক বিয়ে করেছি। ইসলামি শরিয়তে একজন মুসলিম পুরুষকে চারটি বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছে। দেশের প্রচলিত আইনেও কোনো বাধা নেই। কাজেই আমি যদি চারটি বিয়ে করি তাতে কার কী। আমি একাধিক বিয়ে করেছি সেটি আমার শরিয়তসম্মত ও নাগরিক অধিকার।”

জানা গেছে, পেছনের তারিখে দেখিয়ে কাবিননামা তৈরির চেষ্টা করছেন মামুনুল হক। তার পক্ষ থেকে দুজন মগবাজার কাজী অফিসে গিয়ে আলোচনা করেছেন বলেও জানা গেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কাজি ঝুঁকি নিতে রাজি হননি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন কাজি অফিসে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো ধরণের জাল কাবিননামা তৈরির ঘটনা যেন না ঘটে সেই লক্ষ্যে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় ও মাঠ প্রশাসন থেকেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

1 2 3 283