লকডাউন বাড়ানোর সুপারিশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

ঢাকা- দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান লকডাউনের সময়সীমা আবারও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

লকডাউনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে শুক্রবার (৩০ জুলাই) সকালে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার খুরশীদ আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ক্যাবিনেটে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে করণীয় কী, এ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকেই তো আমরা চলমান লকডাউন বাড়ানোর সুপারিশ করেছিলাম। তবে এ বিষয়ে এখনও সরকার সিদ্ধান্ত নেয়নি।

খুরশীদ আলম বলেন যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, আমরা কিভাবে এই সংক্রমণ সামাল দেবো? রোগীদের কোথায় জায়গা দেবো? সংক্রমণ যদি এভাবে বাড়তে থাকে তাহলে কি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব? অবস্থা খুবই খারাপ হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এসব বিবেচনাতেই আমরা বিধিনিষেধ বাড়ানোর সুপারিশ করেছি।

এর আগে ঈদ পরবর্তী সংক্রমণ সামাল দিতে পূর্বঘোষিত তারিখ অনুযায়ী গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ফের শুরু হয় কঠোর বিধিনিষেধ। যা চলবে আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে পোশাক ও শিল্প-কলকারখানাসহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। বিধিনিষেধ চলাকালীন সড়ক, নৌ, রেলপথে সব ধরনের যাত্রী পরিবহন বন্ধ রয়েছে।

গার্মেন্টস খুলে দিতে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ

নিউজ ২৪লাইন ডেক্সঃ গার্মেন্টসসহ সব ধরনের শিল্পকারখানা খুলে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের আশা, দেশের অর্থনীতি বাণিজ্যের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অনুরোধে সাড়া দেবেন সরকারপ্রধান।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকালে দেখা করে শিল্পকারখানা খুলে দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন দিয়ে আসেন ব্যবসায়ী নেতারা।

সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, আমরা মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। যে লকডাউন চলছে তা থেকে সব ধরনের শিল্প-কারখানা যেন আওতার বাইরে রাখা হয়, সে অনুরোধ করতে এসেছি।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানান ফারুক।

শুধু গার্মেন্টস নয়, সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতির জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আবারো অনুরোধ করেছি, এটাকে যেন লকডাউনের বাইরে রাখা হয়। সবকিছু বিচার বিবেচনা করে আমরা এ অনুরোধ জানিয়েছি।

আইনজীবীদের আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে জরুরি অবস্থা জারি করতে

নিউজ২৪লাইনডেস্ক- করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ ও জনগনের জীবন রক্ষায় সংবিধানের ১৪১(ক) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে জরুরি অবস্থা জারির জন্য রাষ্ট্রপতি বরাবর আবেদন করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম আলী জুনু।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) বিকালে ই-মেইল যোগে এ আবেদন পাঠান।

এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মধ্যে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশ এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। করোনার সংক্রমণ থেকে দেশের মানুষকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, স্পেন, কানাডা ও বেলজিয়ামে জাতীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। জরুরি অবস্থা পালনের ফলে দেশগুলো করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে অনেকাংশেই সফল হয়। ফলে অনেক উন্নত দেশে এখন আর লকডাউনের প্রয়োজন হচ্ছে না। সেসব দেশের মানুষ স্বাভাবিক জীবন অতিবাহিত করছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ও করোনার সংক্রমণ থেকে দেশবাসীকে রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। দফায় দফায় লকডাউন দিতে হচ্ছে। কিন্তু দিন দিন করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, বাড়ছে মৃত্যু হার। লকডাউন পালনে দেশের অনেক মানুষের মাঝে উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। করোনার ভয়াল সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কোনোভাবেই নিম্নমুখী করা যাচ্ছে না।

এছাড়া, করোনা আক্রান্তরা অনেকেই তথ্য গোপন করে জনসম্মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে কোনভাবেই কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে বাধ্য করা যাচ্ছে না না। ফলে করোনাভাইরাসের এই ভয়াল সংক্রমণ থেকে দেশ ও জাতিকে কোনোভাবেই রক্ষা কারা যাচ্ছে না। এছাড়া সরকার বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু অনেকেই নিয়ম না মেনে জনসম্মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, বিদেশি ক্রেতারা পোশাক খাতের ক্রয় আদেশ বাতিল করার ফলে দেশের অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংবিধানের ১৪১ (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে ১২০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হলে দেশ ও জাতি আসন্ন বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে পারে।

ক্ষমতা ভোগ-বিলাসের বিষয় না: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ২৪লাইন ডেক্সঃ ঢাকা- সরকার গঠন করা বা ক্ষমতায় আসা ভোগ-বিলাসের বিষয় নয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটা বিরাট দায়িত্ব।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন ও জনপ্রশাসন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অংশ নিয়ে তিনি এ গল্প বলেন।

অনুষ্ঠানে ২০২০ সালে জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে অবদান রাখায় ৯ এবং ২০২১ সালে ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জনপ্রশাসন পদক দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পদক তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গঠন করা বা ক্ষমতায় আসা এটা শুধু ভোগ-বিলাসের বিষয় না। আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েছি বলে যে মহা কিছু হয়ে গেছি, তা না। এটা একটা বিরাট দায়িত্ব।

‘সেই সাথে আমার যারা সহকর্মী, বিশেষ করে সরকারি কর্মচারী, তাদেরও দায়িত্ব। কারণ, বাংলাদেশের জনগণ তারাই তো আপনাদের ভরণপোষণ, খাবার জোগান তারাই তো করেন; আমাদের সকলের জন্যই করেন। তাদের জন্য আমরা কতটুকু কী করতে পারলাম, সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় বিষয়। তাদের সার্বিক উন্নয়নটাই হলো আমাদের সকলের দায়িত্ব, যে যখনই সরকারে আসুক। এটা যদি না হয় তাহলে কিন্তু একটা দেশ এগোতে পারে না।’

সরকারের কর্মকাণ্ড মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করায় জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান সরকারপ্রধান।

এসময় দেশের জনগণকে ব্যাপকভাবে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, ইতোমধ্যে ভ্যাকসিন কেনা আমরা শুরু করেছি। ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে। ব্যাপকভাবে ভ্যাকসিন দিতে হবে। যাতে দেশের সকলেই সুরক্ষিত থাকে।

সরকার প্রধান বলেন, ইতোমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি‑ পরিবারে যারা.. ড্রাইভার থেকে শুরু করে বাড়িতে যারা কাজ করে তাদের জন্য ভ্যাকসিন দিয়ে দেওয়া হয়। তাহলে সবাই সুরক্ষিত থাকতে পারবে। এর জন্য প্রয়োজনে যত টাকা লাগবে, যত ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হবে আমরা কিনব। ভবিষ্যতে আমরা বাংলাদেশে ভ্যাকসিন তৈরি করব। যাতে মানুষের কোন অসুবিধা না হয়।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসবে। নতুন উদ্ভাবন হবে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই আমরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত দেশের মানুষ সেবা পাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা মানুষ ব্যাপকভাবে পাচ্ছে। আমরা দেশের মানুষকে যে সকল সহযোগিতা করছি তার সবকিছুই এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে। এতে আমাদের কাজ যথাযথ হচ্ছে, সময় বাঁচছে।

ঢাকার বাইরে থেকে আসা করোনা রোগীরা দ্রুত মারা যাচ্ছেন

নিউজ২৪লাইন ডেক্স- দেশে করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় নাগরিকদের জীবন রক্ষায় সরকার ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে। এমন পরিস্থিতিতেও রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ঢাকার বাইরের রোগীর চাপ বাড়ছেই। এদের মধ্যে বেশিরভাগ রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগীদের ৪০ শতাংশ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন।

ঢাকার বাইরে থেকে যে করোনা রোগীরা আসছেন বেশির ভাগেরই তীব্র শ্বাসকষ্টসহ ও নানা উপসর্গ রয়েছে। অধিকাংশ রোগীর অবস্থা জটিল হওয়ায় প্রয়োজন হচ্ছে আইসিইউ, যে কারণে বেড়েছে আইসিইউর চাহিদা। এদিকে ঈদের পর চাপ বেড়েছে করোনা নমুনা পরীক্ষার। অনেকের নমুনা পরীক্ষার পর ফল পেতে ৭ থেকে ৮ দিন সময় লাগছে।

সোমবার সকালে রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদের পর করোনা রোগীর চাপ বেড়েছে। ঢাকার বাইরে অধিকাংশ রোগী জটিল অবস্থায় ঢাকায় আসছেন। এদের চিকিৎসা দিয়েও বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।

সোমবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগীর চাপ দেখা গেছে। বাবার তীব্র শ্বাসকষ্টের উপসর্গ থাকায় তাকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন কলেজ শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান।

তিনি বলেন, ‘বাবার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়ার পর স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করাই। তবে গত চার দিনে অবস্থার উন্নতি না হওয়ার কারণে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসি। চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছেন আইসিইউতে নিতে হবে। তবে এখানে আইসিইউ খালি নেই।’

ঢাকা মেডিক্যাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে করোনা সেবার জন্য ৭০৬ শয্যার মধ্যে বর্তমানে ৮টি শয্যা খালি রয়েছে। এই হাসপাতালে ২৪টি আইসিইউ আছে। বর্তমানে এর একটিও খালি নেই।

ঈদের পরে ঢাকার বাইরের রোগীর চাপ বেড়েছে জানিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ঢাকার বাইরে থেকে যেসব রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন এর ৪০ শতাংশ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মারা যাচ্ছেন।’

সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন আজ

ঢাকা- ডিজিটাল বাংলাদেশের নেপথ্য নায়ক এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতে ঘটে যাওয়া বিপ্লবের স্থপতি সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন আজ মঙ্গলবার।

সজীব ওয়াজেদ জয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশের পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার পুত্র। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই জন্ম গ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তার নাম রাখেন নানা শেখ মুজিবুর রহমান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা এ দুইজনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করছেন পরিশ্রমী, মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন জীবন-জীবিকার অধিকারী কম্পিউটার বিজ্ঞানী সজীব ওয়াজেদ জয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় জাতির পিতার দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার সময় মা ও বাবার সঙ্গে জার্মানিতে ছিলেন জয়। পরে মায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ভারতে চলে যান তিনি। তার শৈশব ও কৈশোর কাটে ভারতে। সেখানকার নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেন তিনি। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০২ সালের ২৬ অক্টোবর ক্রিস্টিন ওভারমায়ারকে বিয়ে করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে।

লেখাপড়া করা অবস্থায় রাজনীতির প্রতি অনুরক্ত থাকলেও জয় সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখান ২০১০ সালে। ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিতৃভূমি রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ দেওয়া হয় তাকে, যার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে আসেন তিনি।

বর্তমানে মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ২০০৭ সালে জয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম কর্তৃক গ্লোবাল লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড হিসেবে নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার বিষয়টি নিয়ে আসেন।

বর্তমানে বেশিরভাগ সময়েই দেশের বাইরে অবস্থান করতে থাকা সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ফেসবুকে মতামত ব্যক্ত করে থাকেন। ইতোমধ্যেই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের স্থপতি’ হিসেবে তার নাম-ডাক ছড়িয়ে পড়েছে।

দেশের আইসিটি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষাগত যোগ্যতা আর পেশাগত কাজের অভিজ্ঞতা-এই দু’য়ের মিশেলেই দেশের আইসিটি খাতের এমন তড়িৎ উন্নতিতে সফল নেতৃত্ব দিতে পেরেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ইন্টারনেটকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। ইউনিয়ন পর্যায়ের পাশাপাশি চর বা পার্বত্য অঞ্চলের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলো। আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অগ্রসরমান ডিজিটাল প্রযুক্তি: পথিকৃৎ মুজিব হতে সজীব’ শীর্ষক ওয়েবিনার মঙ্গলবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী যুবলীগও মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।

এছাড়া স্বস্থ্যবিধি মেনে জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে মিলাদ ও দোয়া এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হবে।

লকডাউনের চতুর্থ দিনে ঢাকায় গ্রেফতার ৫৬৬ জন

ঢাকা- দেশে চলমান লকডাউনের বিধিনিষেধ ভঙ্গ করে বিনা প্রয়োজনে বাইরের বের হওয়ায় ৫৬৬ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

সোমবার (২৬ জুলাই) লকডাউনের  চতুর্থ দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৬৪ জনকে এক লাখ ২৬ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম সন্ধ্যায় এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, লকডাউনের চতুর্থ দিনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিএমপির ৮টি বিভাগের রমনা, লালবাগ, মতিঝিল, ওয়ারী, তেজগাঁও, মিরপুর, গুলশান ও উত্তরা এলাকায় সরকারি নিয়ম অমান্য করে বাইরে বের হওয়ায় ৫৬৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লকডাউনে সড়কে যানবাহন নিয়ে বের হওয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ট্রাফিক বিভাগ ৪৪৩টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলায় জরিমানা করা হয়েছে ১০ লাখ ২১ হাজার টাকা।

তিনি আরও বলেন, সরকার করোনার সংক্রমণ রোধে দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিতে তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে চতুর্থ দিনেও রাজধানীজুড়ে সক্রিয় ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীতে সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে অকারণে ও নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হওয়ায় এবং লকডাউনেও প্রতিষ্ঠান খোলা রাখায় ১৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ২৬ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

1 2 3 324