সুলতানা দিল আফরোজ এর “স্মৃতির আঙিনায়” ‘সামাজিক মানুষের বাস্তব প্রতিচ্ছবি’ – সাবেক যুগ্মসচিব।

জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের বধু হিসাবে তৎকালীন যশোর থেকে দূরবর্তী একটি পাড়াগাঁয়ের মেয়ে জ্ঞানদানন্দিনী দেবী মাত্র আট বছর বয়সে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় অগ্রজ সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহধর্মিনী হিসাবে ঠাকুর বাড়িতে পদার্পণ করেন। তাঁর বয়েস যখন চৌদ্দ ১৮৬৪ সালে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের প্রথম ভারতীয় সদস্য হিসাবে সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন। ঠাকুর বাড়ির বধুরা গৃহবধুই ছিলেন, তাঁদের অন্তঃপুরের বাইরে যাওয়া ছিল বারণ। সেই কঠোর কঠিন নিয়ম ছিঁড়েফুঁড়ে স্বামীর সঙ্গে স্বামীর কর্তব্যস্থল বোম্বাইয়ে যাওয়া ঠাকুর পরিবারের প্রথম গৃহবধু ছিলেন জ্ঞানদানন্দিনী দেবী। তিনি স্বামীর সাথে তাঁর আরো কর্মস্থলে – গুজরাট, ‍সিন্ধু, এমনকি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স – গিয়েছিলেন।

 

অনেকের মনে হতে পারে, শিবের গীত গাইছি, মোটেও তা নয়। বন্ধুবর সৈয়দ আশরাফের ক্ষেত্রেও আমি ঐ ঘটনার প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েছি। তিনিও একটি সম্ভ্রান্ত, ধর্মভীরু ও রক্ষণশীল পরিবারের সন্তান হওয়া সত্বেও তাঁর সৃন্দরী গৃহবধু স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন কর্মস্থলে ঘুরে বেড়িয়েছেন। এমনকি তাঁর স্ত্রী তাঁর কর্মস্থলে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা ছাপার অক্ষরে লিখেছেন “স্মৃতির আঙিনায়” নামের বইয়ে। ঠিক যেমনটি জ্ঞানদানন্দিনী দেবী লিখেছিলেন “স্মৃতিকথা” নাম দিয়ে। ১৯৪১ সালে ৯১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে ৪৪ পৃষ্ঠার এ বইটি কলিকাতার রূপা এন্ড কোম্পানী প্রকাশ করেছিল। আর “স্মৃতির আঙিনায়” প্রকাশ করেছে ঢাকার প্র প্রকাশনী ২০২১ সালে। স্থান-কাল-পাত্র কিংবা পরিবেশ-পরিস্থিতি ভিন্নতর হলেও দুজনের মনের কথা বলার আকুতি কিন্তু একই।

 

আমাদের প্রিয় মাতৃভুমি বেশ কিছুদিন যাবত প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনায় বিপর্যস্ত। লকডাউন, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং, স্যানিটাইজিং, ইত্যাদি কতিপয় নতুন নতুন ইংরেজী শব্দবন্ধ এখন অক্ষর-নিরক্ষর নির্বিশেষে সবার মুখে মুখে। এমনকি বাঙ্গালির তেরো পার্বণেও আমরা ঘরে বন্দী। এর মধ্যে সময় কাটানোর অবলম্বন যথেষ্ট সীমিত। অবশ্য বই পড়া তার মধ্যে অন্যতম ও বিশিষ্ট স্থান দখল করে নিয়েছে।

 

এ করোনাক্রান্ত সময়েও আমাদের প্রিয় লেখক সুলতানা দিল আফরোজ অবিরাম লিখে চলেছেন। “স্মৃতির আঙিনায়” তাঁর দ্বিতীয় বই। তাঁরই সৌজন্যে বইটি পেয়েছি আরো আগেই। কিন্তু অন্যবিধ ব্যস্ততা বা কিঞ্চিৎ অলসতার কারণে পড়ার সময় করে উঠতে পারিনি। কিন্তু যখন শুরু করেছি, পুরোটা শেষ না করা পর্যন্ত স্বস্তি পাইনি। দারুণ পছন্দ করেছি।

 

আমাদের মধ্যে ক’জনাই বা জীবন পথের শেষ লগ্নে এসে খানিকটা ফিরে দেখতে চায়, যাপিত জীবনের চর্বিত চর্বণ। কবি জীবনানন্দ দাশের ভাষায়, “কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে!” লেখক সে কাজটাই করতে চেয়েছেন অত্যন্ত নিপুণতা ও বিচক্ষণতার সাথে। আমি মনে করি, তিনি তাতে পুরোপুরি সফল হয়েছেন।

 

বইটির বিষয়বস্তু চমৎকার। লেখক অস্বাভাবিক স্বাভাবিকতায় যান্ত্রিক কার্যকারণ সম্পর্কের নিয়মবদ্ধতার নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলিত জীবনের সহজ বর্ণনা দিয়েছেন। কোন ধরণের বাগাড়ম্বরপূর্ণ বুলি সর্বস্বতায় যাননি। বইটি সুলিখিত ও সুখপাঠ্য। বইটার পঠন শুরু থেকেই উপভোগ করেছি। বইটির পঠনযোগ্যতা এক কথায় অসাধারণ এবং এটি আমাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক অদৃশ্য মায়াজালে জড়িয়ে রেখেছে। এখানে ধীরে ধীরে গল্প জমিয়ে তোলার কোন ব্যাপার আমার নজরে আসেনি। এক লাফে আমি আসরের ঠিক মাঝখানে গিয়ে বসে পড়েছি এবং পুরো ব্যাপারটা বুঝে উঠতে উঠতে আমি কাহিনীর শেষপাদে চলে এসেছি। বিশেষভাবে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবনবোধ, সংস্কৃতি এবং সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের বর্ণনা আমি খুবই উপভোগ করেছি।

 

চরিত্র বর্ণনায় লেখক অতি সুক্ষ্ম বৃত্তান্তও বাদ রাখেননি। চরিত্রগুলোর ভাব-ভঙ্গীর উপস্থাপন এতটা নিখুঁত যে, প্রতিটা চরিত্র আমার মনশ্চক্ষে ভেসে উঠেছে। মনে হয়েছে যেন আমি সেই কক্ষে দাঁড়িয়ে আছি। তাঁর শব্দ চয়ন ও বাক্য গঠন একইরূপ চমৎকারিত্বের সাথে সম্পন্ন হয়েছে। আমি প্রতিটি দৃশ্যের খুঁটিনাটি দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পেয়েছি। এখানেই লেখক হিসাবে সুলতানা দিল আফরোজ এর কৃতিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

 

১৯৮৮ সাল। তাঁর জীবনের একটি মাইলফলক। তিনি সৈয়দ আশরাফ নামের একজন নিরীহ  ভদ্র সরকারি কর্মচারির জীবন সঙ্গী হিসেবে পথচলা শুরু করেন। অবশ্য তাঁর ভাষায় তিনি একজন “চতুর আমলা”, যিনি কিছু সময়ের মধ্যেই তাঁর সাথে ভাব জমিয়ে ফেলেছিলেন। যাহোক, ইতিমধ্যে কর্ণফুলী, মাতামূহুরী, সাঙ্গু, চেঙ্গী, বুড়িগঙ্গা, গড়াই, কালিগঙ্গা. পদ্মার স্রোতধারায় বিস্তর পানি বয়ে গেছে এবং তাঁরা উভয়েই পরিণত বয়সে এসে পৌঁছেছেন। দীর্ঘ তিরিশ বছরের অধিক সময়ের যুগলবন্দী অতিক্রম করে এসে যে আত্মতৃপ্তি তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে, তা’ নিঃসংশয়ে একটি সফল, ফলপ্রসূ ও আনন্দদায়ক জীবনের প্রতিচ্ছবি।

 

বইটিতে লেখকের সরল সত্য ভাষণে দুটো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়েছে। প্রথমতঃ তাঁর কমবয়সে বিবাহ সংঘটিত হয়েছিল। তাঁর যখন বিয়ে হয়, তিনি তখন আর দশটা বাঙ্গালি মেয়ের মতো গৃহকর্মে নিপুণা ছিলেন না। এমনকি এক কাপ চা কিভাবে বানাতে হয়, তা’ও জানতেন না। দ্বিতীয়তঃ অভিভাবকদের সিদ্ধান্তে আয়োজিত বিবাহ হলেও তিনি তাঁর স্বামীকে ও তাঁর পরিবারকে প্রথম দর্শনেই ভালবেসে ফেলেছিলেন। এ গুণ একাল সেকাল মিলিয়ে অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের মাঝে বিরল বৈকি।

 

অপরদিকে দুটো গুরুত্ববহ ঘটনা তাঁর জীবন পথের বাঁকে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। প্রথমতঃ তাঁর বড় মেয়ের জীবনাবসান। মেয়েটি পড়ালেখায় তো ভাল ছিলই, আচার-ব্যবহারেও খুব অল্প সময়েই সবার মন জয় করে নেয়ার অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিল। চেহারা যেমন মায়াবী, কথাবার্তাও তেমনি হৃদয়-ভুলানো। মা-বাবা তো বটেই আমরা তার প্রচন্ড গুণমুগ্ধ হয়ে উঠেছিলাম। কে জানতো সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা। নিঃসন্দেহে তার বাবা-মা মনে কষ্ট নিয়ে দিনাতিপাত করছেন। মহান সৃষ্টিকর্তা হয়তোবা তাড়াতাড়ি ওকে নিজের কাছে নিয়ে যাবেন বলেই এত গুণের সমাহার ঘটিয়েছিলেন।তিনি পরম দয়ালু ও দাতা। তিনি সবাইকে ভালো রাখুন।

 

দ্বিতীয়তঃ তাঁর ছেলের জন্মলাভ। তিনি লিখেছেন, “আমাদের সকলের মুখে হাসি ফোটাতেই এসেছে”। আবার লিখেছেন, “আমি যেন পেলাম, তাকেই পেলাম”। খুবই আবেগপ্রসূত কিন্তু জীবনের বাস্তবতা। তাঁর ছোট মেয়েটা আইসক্রিম খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল। এখন তাঁরা সকলেই ক্রমশঃ স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করলেন। সেই ছেলেটি এখন আমাদের সকলের নয়নমণি।

 

যদিও প্রেক্ষাপট ভিন্ন, তবুও আরেকটা বইয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে চাই। তা’ হলো সুনন্দা শিকদারের “দয়াময়ীর কথা”। ময়মনসিংহের প্রান্তিক গ্রাম এলাকার মেয়ে সুনন্দা বইটিতে তাঁর শৈশবকালে দেশভাগ ও দেশভাগ-উত্তর সময়কালের স্মৃতি বয়ান করেছেন। অসম্ভব সুন্দর, সম্পূর্ণ ব্যাকরণসম্মত একটি স্মৃতিকথা। ব্যাকরণসম্মত এই অর্থে যে, লেখিকা এখানে শুধু আদ্যোপান্ত স্মৃতিচারণই করেছেন – জিন্নাহ, নেহরু, কংগ্রেস বা মুসলিম লীগ প্রসঙ্গ তাঁর রচনায় একবারও আসেনি। পরিণত বয়সে তিনি তাঁর বোধবুদ্ধি ও সারল্য দিয়ে পঞ্চাশের দশকটিকে বিচার করেছেন এবং নিজের আত্মকথা লিখেছেন। নিঃসন্দেহে “দয়াময়ীর কথা” ঐ দশকের পূর্ববাংলার একটি ঐতিহাসিক দলিল হয়ে আছে। একইভাবে লেখিকা তাঁর “স্মৃতির আঙিনায়” গ্রন্থে আশি ও নবব্বইয়ৈর দশকের বাংলাদেশী সমাজের ছাপচিত্র তৈরি করেছেন, যা সম্পূর্ণ আবেগ কিংবা পক্ষপাত বর্জিত। বিশেষতঃ যে কালে আমলারা এবং তদীয় স্ত্রীগণ বিশেষ কোন মহলের গুণকীর্তন করতে গিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। আমার ধারণা, সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বইটি কালের সাক্ষী হিসাবে একদিন ইতিহাসের উপাদান হবে।

 

লেখকের জন্ম একটি আধুনিকমনস্ক গেরস্থ পরিবারে। সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকা, একসাথে ডালভাত খেয়ে বিরিয়ানীর ঢেকুর তোলা, একে অন্যের সুখে সুখী ও দুঃখে দুঃখী হওয়া, কারো বিপদে-আপদে সবাই একজোটে ঝাঁপিয়ে পড়া, ইত্যাদি এ জাতীয় পরিবারের বৈশিষ্ট্য। তাই পরিণত বয়সেও তিনি তাঁর ভাই-বোন, চাচা-ফুফু, মামা-খালা, ইত্যাদির দিক থেকে দুর সম্পর্কের কোন তস্য আত্মীয়ের খোঁজ রাখাও দায়িত্ব মনে করেন। বইটিতে তিনি হয়তোবা নিজের অজান্তেই মানুষ হিসাবে তাঁর এ বিরল গুণের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

 

সুধী পাঠক মাত্রেই বইটি পছন্দ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। মূখ্যতঃ একজন সরকারি কর্মকর্তার ছায়াসঙ্গী হিসাবে স্মৃতিকথার ঢংয়ে বইটি লেখা হলেও সকল শ্রেণীর সামাজিক মানুষেরা এতে তাঁদের জীবন গল্পের বাস্তব প্রতিচ্ছবি দেখতে পাবেন। বইটি আপনার সময়ের সদ্ব্যবহার নিশ্চিৎ করবে এবং আপনার জন্য উপভোগ্য হবে বলে মনে করি।

 

স্মৃতির আঙিনায় বইটির পর্যালোচনাটি লিখেছেন

এস এম মেসবাউল ইসলাম

সাবেক  যুগ্মসচিব

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রনালয়।

পাকিস্থানের চিড়িয়াখানায় দেখা মিললো অর্ধেক শিয়াল, ঊ মানুষের! (ভিডিও সহ)

পাকিস্থানের চিড়িয়াখানায় দেখা মিললো অর্ধেক শিয়াল, ঊ মানুষের! (ভিডিও সহ)

এমন শিয়ালের দেখা মিলছে করাচিতে। সেখানে চিড়িয়াখানায় আছে এই শিয়াল, যার অর্ধেক শরীর আবার মানুষের। আজব এই প্রাণীকে দেখতে গত ৪০ বছর ধরে নাকি ভিড় উপচে পড়ছে করাচি চিড়িয়াখানায়। মমতাজ বেগম, করাচির চিড়িয়াখানায়

থাকা এমন মানুষের এই নামকরণ করেছেন কর্তৃপক্ষ। মমতাজের শরীরের অর্ধেকটা শিয়ালের। গত চল্লিশ বছর ধরে করাচি চিড়িয়াখানাই ঠিকানা মমতাজের। কী ভাবে মমতাজের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল তা কর্তৃপক্ষ ট্রেড সিক্রেটের মতো চেপে আছেন।

মমতাজকে দেখতে রোজই ভিড় উপচে পড়ে করাচির এই চিড়িয়াখানায়। মমতাজের জন্য আবার বিশেষ ধরনের খাঁচাও বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে মাথায় ঘোমটা দিয়ে দর্শকদের সঙ্গে মোলাকাত করেন মমতাজ।

মমতাজের সবচেয়ে ভালো লাগে ছোটদের সঙ্গে কথা বলতে। ছোটরা হাজারো রকম সওয়াল করে তাঁর এই বিস্ময়কর চেহারা নিয়ে। মমতাজ দর্শনে টিকিট মূল্য মাত্র ১০ টাকা। ভিড় এতটাই যে তা সামাল দিতে নাভিশ্বাস ওঠে চিড়িয়াখানা কর্মীদের। এত দিন মত্‍স্যকন্যা থেকে অশ্বমানুষের কথা শোনা গেছে। যদিও, বাস্তবে এঁদের কারও দ’র্শ’ন পাওয়া যায়নি। সেখানে শিয়াল-মানুষ! চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে চেপে ধরতেই বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

জানা গিয়েছে চিড়িয়াখানার শিয়াল মানুষটি অভিনয় করা। আসলে, বেদির উপরে শিয়ালের চেহারার মডেল রেখে তার মাথার কাছে মমতাজের মাথা রাখা হয়েছে। বেদির নীচে আছে সিক্রেট চেম্বার। যেখান থেকে শুয়ে মাথাটা বেদির বাইরে বের করে দেন মমতাজ। মাথার সঙ্গে ওড়না জড়িয়ে রাখায়া শিয়ালের দেহাংশের সঙ্গে মানুষের দেহাংশের পার্থক্য সহজে ধরা পড়ে না।

বিস্ময়ের আরও বাকি। কারণ, মমতাজ বেগম বলে যাকে ডাকা হচ্ছে তাঁর আসল নাম মুরাদ আলি। ৪০ বছর আগে চিড়িয়াখানায় মমতাজের চরিত্রটি তৈরি করা হয়েছিল। মুরাদের আগে তাঁর বাবা এই কাজ করতেন। বাবার অকাল মৃ’ত্যু’তে ১৬ বছর আগে এই কাজ ধরেন মুরাদ। রোজ টানা ১২ ঘণ্টা এভাবেই অর্ধেক মানুষ ও অর্ধেকের শেয়ালের ভূমিকায় অভিনয় করেন মুরাদ।

নুসরাতের সন্তানের বাবার অশিকার, ​বললেন, ‘সন্তান আমার না’

বিনোদন ডেস্ক- ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাংসদ নুসরাত জাহান মা হতে চলেছেন। শুক্রবার (৪ জুন) সকাল থেকেই এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে টলিপাড়ার।

অভিনেত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠমহলের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত এবং নুসরতের জীবনে আসতে চলেছে নতুন অতিথি। ১ মাস আগেই এই সুখবর পেয়েছেন তারা। যদিও এ নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি নুসরাত।

কয়েকমাস ধরেই ঝড় চলছে নুসরাতের ব্যক্তিগত জীবনে। স্বামী নিখিল জৈনের সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না হলেও আলাদা থাকছেন দু’জন।

নুসরাতের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার প্রসঙ্গে নিখিল বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ওর সঙ্গে দীর্ঘদিন আমার কোনও সম্পর্ক নেই। এর থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে এই সন্তান আমার নয়।’

দুই বছর আগে ঘটা করেই নিখিল জৈনকে বিয়ে করেন নুসরাত। তবে বছর না গড়াতেই শুরু হয় তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন। এদিকে অভিনেতা যশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে নুসরাতের। বিভিন্ন পার্টিতে একসঙ্গে দেখা যায় তাদের। এ নিয়ে শুরু হয় যশ-নুসরাত নতুন রসায়নের ইঙ্গিত।

সম্প্রতি নিজেদের সম্পর্কে ইনস্টাগ্রাম অফিসিয়্যালের স্টাম্পও দিয়ে দিয়েছেন নুসরাত-যশ। এখন বেশিরভাগ সময় একসঙ্গেই কাটাচ্ছেন তারা।

গত সোমবার এক পত্রিকারর সমীক্ষায় টলিউডের সবচেয়ে ‘কাঙ্ক্ষিক’ নারীর তালিকায় তিন নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন নুসরাত। আর সেই প্রতিবদেনে স্পষ্টভাবে নুসরাতের সম্পর্কের স্ট্যাটাস হিসেবে লেখা রয়েছে, ‘ডেটিং যশ দাশগুপ্ত’।

নুসরাত নিজে প্রতিবেদনের সেই অংশ ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, দুজনের মনের বাগানে যে ভালোবাসার ফুল ফুটেছে তা নানাভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন তারা। এরমধ্যে এলো নুসরাতের মা হওয়ার খবর।

আপত্তিকর অবস্থায় টিকটক-লাইকি মডেল আটক

ঝিনাইদহে টিকটক-লাইকি মডেল এক তরুণী ও যুবককে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আদর্শপাড়ার মহিলা কলেজপাড়া থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃত টিকটক ও লাইকি মডেল তুলি শহরের পবহাটি গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের মেয়ে ও মডেল আশিকুর রহমান আদর্শ পাড়ার তৌফিকুর রহমানের ছেলে। আশিকুরের বাড়িতে স্ত্রী রয়েছে বলে জানা যায়। আটক তুলি ও আশিকুর টিকটক-লাইকিতে মডেলিংয়ের ভিডিও শেয়ার করতো।

ঝিনাইদহ সদর থানার উপ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, রাতে আদর্শপাড়ার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে আপত্তিকর অবস্থায় তাদেরকে আটক করা হয়। ব্যভিচার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অপরাধে মামলা দিয়ে বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকালে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে বুধবার রাতেই পুলিশ তুলিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তুলে বলেছেন, এই বাসায় প্রতিদিন আমার বান্ধবীরা এসে ইয়াবা সেবন করে এ বিষয়টি আমি জানতাম না। বুধবার রাতে বাসায় আসার পরে বান্ধবীরা তাকে জানায়।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি একটি ভিডিও দেখে টিকটক-লাইকি মডেল তুলি সম্পর্কে বিভিন্নজন বিভিন্ন মন্তব্য করেন। এছাড়া ঝিনাইদহে পরিচিত অনেকেই মডেল তুলির বেপরোয়া চলাফেরা ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে আপত্তিকর অভিযোগ করেছেন।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. আনোয়ার সাঈদ বলেন, জেলা শহরে একটি চক্র উঠতি তরুণ-তরুণীদের টিকটক-লাইকির ফাঁদে ফেলে অসামাজিক কাজে বাধ্য করছে। তারা মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসায় জড়িত হচ্ছে। অশ্লীল ও আপত্তিকর টিকটক, লাইকি ও বিগো লাইভ ভিডিও সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ চক্রের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি জানান।

অশ্লীল ভিডিও দেওয়া টিকটকারদের ধরতে অভিযান পুলিশের

যে সব ছেলেমেয়েরা টিকটকে অশ্লীল ভিডিও বানাচ্ছে, তাদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তেঁজগাও ডিভিশনের ডিসি মো. শহীদুল্লাহ।

সেলিব্রিটি হওয়ার সাথে অর্থের লোভ এই দুটি কারণেই টিকটকের অপরাধী চক্রে জড়িয়ে পড়তো কিশোরীরা। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওর নির্যাতিত মেয়েটিই একমাত্র ভুক্তভোগী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরও বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর খোঁজ পাওয়া গেছে।

দুপুরে এই পুলিশ কর্মকর্তা তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। রিমান্ডে থাকা হৃদয় বাবুসহ গ্রেফতার আসামিরা তাদের সিন্ডিকেটে থাকা আরও অনেকের নাম বলেছেন। সেইসাথে তারা মেয়েদের ভারতে ‘পিস’ হিসেবে চালান করতো বলেও স্বীকার করেছে।

তবে তাদের দেওয়া কিছু তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দিহান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তথ্য যাচাই বাছাই করে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

ইউরোপের দেশে কমে জাচ্ছে পুরুষ’ বিপাকে নারী।

ইউরোপের স্বনামধন্য কয়েকটা দেশ আছে যেগুলোতে নারী ও পু’রুষের শতকার হারের মধ্যে অনেক গ’রমিল রয়েছে। রাশিয়া, লাটভিয়া, বেলারুশ, লিথুনিয়া, আর্মেনিয়া, ই উক্রেন এই দেশগুলোতে পুরুষ থেকেও মহিলার সংখ্যা বেশি।

লাটভিয়ায় প্রতি ১০০ জন পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ১১৮.০। লিথুনিয়ায় প্রতি ১০০ জন পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ১১৭.২। আর্মেনিয়ায় প্রতি ১০০ জন পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ১১৫.৫।

রাশিয়ায় প্রতি ১০০ জন পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ১১৫.৩। বেলারুশে প্রতি ১০০ জন পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ১১৫.২। ইউক্রেনে প্রতি ১০০ জন পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ১১৫.৮৭।

এর মধ্যে বাল্টিক রাষ্ট্র লাটভিয়া সাবেক কমিউনিষ্ট সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে এসে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে প’রিণত হয়েছে প্রায় দুই দশক হতে চললো। কিন্তু, পুঁজিবাদি ব্যব’স্থায় লাটভিয় মহিলারা যতোটা এগিয়েছেন,

ততোটাই পিছিয়ে পড়ছেন সেখানকার পুরুষরা। পুরুষদের চেয়ে মেয়েরা সেখানে গড়ে এগারো বছর করে বেশী বাঁচছেন। ফলে, তৈরী হয়েছে নারী-পুরুষের মধ্যে এক সামাজিক ভারসা’ম্যহী’নতা।

নারী -পুরুষের এই ভারসাম্যহীনতার প্রকৃষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় লাটভিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে – এখানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা ৫০% বেশী। সমাজবিজ্ঞানী বাইবা বেলা বলছেন,

এইসব দেশগুলোতে মেয়েরা যে বয়সে সংসার গড়ার জন্য তৈরী হয় সেই বয়সে দেখা যায় ছেলেরা হয় মা’রা যাচ্ছে নয়তো আ’ত্মহ’ত্যা করছে। আর এই আ’ত্মহ’ত্যার সংখ্যা হচ্ছে তাদের স্বা’ভাবিক মৃ’ত্যুর চারগু’ণ।

নারী-পুরুষের ভার’সাম্যহী’নতা প্রথম বোঝা যায় ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়েসীদের মধ্যে – কারণ ঐ বয়সে যে‘কজন মেয়ে মা’রা যাচ্ছে – তার চেয়ে তিনগুণ বেশী মা’রা যাচ্ছে ছেলেরা।

এর অর্থ হচ্ছে, ঐ বয়েসীদের মধ্যে গাড়ী দুর্ঘ’টনা, মা’দকাস’ক্তি, ক’র্মস্থলে দু’র্ঘ’টনা ইত্যাদির ক্ষেত্রে মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের ঝুঁ’কি বেশী।

৫ বারের বাসোর রাত কাটানোর অভি-গোতা তুলে ধরলেন সুন্দরী নারী।

বাসর রাতেকেউ বলে বাসর, কেউ বলে ফুলসজ্জা, আবার কেউ বলে সোহাগ রাত! সে যাই বলুক প্রথম রাত বলে কথা বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর প্রথম রাত।

এমন কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সুসজ্জিত বিছানা, গোলাপ ফুলের পাপড়ি, সুগন্ধী মোমবাতি আর একরাশ উত্তেজনা।লাভ ম্যারেজ হোক বা অ্যারেঞ্জড, বিয়ের প্রথম রাত সব দম্পতির জীবনেই হয় স্পেশাল।

অন্তত সেই রাতকে স্পেশাল করে রাখা সবরকম আয়োজন ও উদ্যোগ নেওয়া হয়।কিন্তু বন্ধ ঘরের ভিতরের সেই অভিজ্ঞতা বাইরের মানুষগুলির কাছে অজানাই থেকে যায়।

চার দেওয়ালের ভিতরের ছবিটা এবার তুলে ধরলেন পাঁচ বিবাহিত মহিলা। কেমন ছিল তাদের প্রথম রাত?ক্রিস্টি: আগে থেকেই ঠিক করেছিলাম, সারা রাত এমন কিছু করবো যাতে দিনটাকে স্মরণীয় করে রাখব। তেমন উদ্যোগও নিয়েছিলাম।

কিন্তু যতটা ভেবেছিলাম, হয়ে উঠল না। বিয়ের সমস্ত কাজ নিয়ে গোটা দিন নানা খাটা-খাটনি হয়েছিল। তাই দুজনেই ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। বিয়ের পর আমাদের জীবন নিঃসন্দেহে অসাধারণ।

কিন্তু সে রাতে তেমন কিছুই হয়নি।জেনি: পালিয়ে বিয়ে করেছিলাম। তাই ভেবেছিলাম প্রথম রাতটা এক্কেবারে অন্যরকম হবে। কিন্তু সেদিনই আমার শারীরিক কিছু সমস্যা হয়ে যায়।

তাই আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইনি। তার উপর রাতে এত বেশি খেয়ে ফেলেছিলাম, যে ভীষণ ঘুম পেয়ে গিয়েছিল। তাই ফুলসজ্জা নিয়ে মনে যা যা ফ্যান্টাসি ছিল, তা সেদিনই কেটে গিয়েছিল।

এলা: বিয়ের প্রথম রাতে আমি পাঁচ-ছ’মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম। সে সময় ভীষণ ক্লান্তি লাগত, খিদে পেত, পায়ে ব্যথা করত। সেই রাতটা হোটেলে কাটিয়েছিলাম। প্রচুর খেয়েছিলাম। আমার স্বামী আমার জন্য খুব ভালভাবে শোয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। ভালই কেটেছিল রাতটা।

ডেনিস: বিয়ের রাত নিয়ে মানুষ যেন একটু বেশি উৎসাহী থাকেন। তবে আমার ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু আলাদা ছিল। বিয়ের আগে পাঁচ-ছ’বছর আমরা একসঙ্গেই থাকতাম।

তাই প্রথম রাতের সুখের বিষয়টি আমাদের কাছে স্পেশাল কিছু ছিল না। তবে সত্যিই সেদিন আর (প্রকাশ অযোগ্য শব্দ) হয়ে ওঠেনি। রাতে মদ্যপান, নাচ-গান, খাওয়া-দাওয়া সব চলেছিল পুরোদস্তুর।

তাই শেষমেশ হাঁপিয়ে গিয়ে ঘুমিয়েই পড়ি।মেগান: বিয়ের প্রথম রাত নিয়ে মানুষের মনে ঠিক যেমন ধারণা আছে, আমার রাতটা একেবারে তেমনই ছিল।

শারীরিক সমস্যার কারণে বিয়ের আগে খুব বেশি মিলন ঘটেনি। তবে বিয়ের দিনকয়েক আগে সুযোগ এসেছিল। কিন্তু প্ল্যান করেই নিজেদের আবেগকে আটকে রেখেছিলাম। যাতে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

খুব অল্প জায়গাতেই বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল। অনুষ্ঠান বাড়িতেই রাত কাটাই। প্রথমে হালকা মিউজিক চালিয়ে স্বামীর সঙ্গে নাচ। তারপর ধীরে ধীরে (প্রকাশ অযোগ্য শব্দ) লিপ্ত হই। সত্যিই অপেক্ষা করা সার্থক হয়েছিল। সেই রাতটার কথা এখনও মনে পড়লে মুখের হাসি চওড়া হয়ে যায়।

1 2 3 25