রূপালী পর্দার ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী করোনায় মারা গেছেন

সারাহ বেগম কবরী।

অসম্পূর্ণ অনেক কাজ, অনেক স্বপ্ন রেখেই চলে গেলেন কবরী। বাংলার অন্যতম সেরা অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। ঢাকার সিনেমার ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী সক্রিয় ছিলেন সিনেমায়। ক্যামেরার সামনে থেকে চলে গিয়েছিলেন পেছনে, পরিচালকের আসনে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ দিনের মাথায় তিনি চলে গেলেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার রাত ১২টা ২০মিনিটে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। প্রথম আলোকে কবরীর ছেলে শাকের চিশতী খবরটি নিশ্চিত করেন।

 

খুসখুসে কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে করোনার নমুনা পরীক্ষায় দেন সারাহ বেগম কবরী। ৫ এপ্রিল দুপুরে পরীক্ষার ফল হাতে পেলে জানতে পারেন, তিনি করোনা পজিটিভ। ওই রাতেই তাঁকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ এপ্রিল দিবাগত রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। অবশেষে ৮ এপ্রিল দুপুরে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে কবরীর জন্য আইসিইউ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট নেওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না।

 

 

১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় কবরীর। ১৯৬৫ সালে অভিনয় করেন ‘জলছবি’ ও ‘বাহানা’য়, ১৯৬৮ সালে ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘আবির্ভাব’, ‘বাঁশরি’, ‘যে আগুনে পুড়ি’। ১৯৭০ সালে ‘দীপ নেভে নাই’, ‘দর্পচূর্ণ, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বিনিময়’ ছবিগুলো।

 

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি চলে যান তিনি। সেখান থেকে পাড়ি জমান ভারতে। কলকাতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে বিভিন্ন সভা-সমিতি ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন কবরী। তখনকার স্মৃতি স্মরণ করে একবার কবরী বলেছিলেন, ‘সেখানকার এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অবস্থার কথা তুলে ধরেছিলাম। কীভাবে আমি মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন সবাইকে ছেড়ে এক কাপড়ে পালিয়ে সেখানে পৌঁছেছি, সে কথা বলেছিলাম। সেখানে গিয়ে তাদের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের দেশকে সাহায্যের আবেদন করি।’

 

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবারও চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন কবরী। শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। নায়ক রাজ্জাকের সঙ্গে ‘রংবাজ’ পায় বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

 

১৯৭৫ সালে নায়ক ফারুকের সঙ্গে ‘সুজন সখী’ ছাড়িয়ে যায় আগের সব জনপ্রিয়তাকে। এরপর কেবলই এগিয়ে চলা সামনের দিকে। জনপ্রিয় ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আগন্তুক’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘সারেং বৌ’, ‘দেবদাস’, ‘হীরামন’, ‘চোরাবালি’, ‘পারুলের সংসার’। ৫০ বছরের বেশি সময় চলচ্চিত্রে রাজ্জাক, ফারুক, সোহেল রানা, উজ্জ্বল, জাফর ইকবাল ও বুলবুল আহমেদের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ঢাকার চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি ছিলেন রাজ্জাক-কবরী।

 

তাঁদের বিপুল জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কবরী বলছিলেন, ‘আমরা এতটাই আবেগ দিয়ে অভিনয় করতাম যে ছবির প্রতিটি দৃশ্যকেই জীবন্ত করে তুলতাম।’ অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননাসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা।

 

মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার মঞ্চে ‘আজীবন সম্মাননা পুরস্কার’ পাওয়া গুণী শিল্পী সারাহ্ বেগম কবরী

মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার মঞ্চে ‘আজীবন সম্মাননা পুরস্কার’ পাওয়া গুণী শিল্পী সারাহ্ বেগম কবরীছবি: প্রথম আলো

২০০৫ সালে ‘আয়না’ নামের একটি ছবি নির্মাণের মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন কবরী। এমনকি ওই ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তিনি অভিনয়ও করেছিলেন। এরপর রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যুক্ত হয়েছেন অসংখ্য নারী অধিকার ও সমাজসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-তে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর আত্মজীবনীমূলক বই ‘স্মৃতিটুকু থাক’।

 

কবরী ও বুলবুল আহমেদ, বাংলাদেশে নির্মিত দেবদাস (১৯৮২)

কবরী ও বুলবুল আহমেদ, বাংলাদেশে নির্মিত দেবদাস (১৯৮২)

১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্মগ্রহণ করেন কবরী। তাঁর আসল নাম ছিল মিনা পাল। বাবা শ্রীকৃষ্ণদাস পাল এবং মা লাবণ্য প্রভা পাল। ১৯৬৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে উঠেছিলেন তিনি। তারপর টেলিভিশন ও সবশেষে সিনেমায়। কবরী বিয়ে করেন চিত্ত চৌধুরীকে। সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর ১৯৭৮ সালে তিনি বিয়ে করেন সফিউদ্দীন সরোয়ারকে। ২০০৮ সালে তাঁদেরও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। কবরী পাঁচ সন্তানের মা।

প্রিয়াঙ্কা যখন বিশ্বসুন্দরী নিকের বয়স তখন ৮

২০০০ সালে ১৮ বছরের প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যখন বিশ্বসুন্দরী হন, তার হবু স্বামী নিক জোনাসের বয়স তখন ৮।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিক-প্রিয়াঙ্কার তখনকার একটি ছবি ভাইরাল হয়ে গেছে। এবিপি আনন্দ পত্রিকার খবরে বলা হয়, নিক বয়সে প্রিয়াঙ্কার থেকে ১১ বছরের ছোট।

তিনি এখন ২৫, উল্টোদিকে প্রিয়াঙ্কা পা দিয়েছেন ৩৬-এ। কিন্তু প্রেম তো বয়স দেখে না। তাই এ বছরের শেষেই বিয়ে করছেন নিক-প্রিয়াঙ্কা, পাঞ্জাবী রীতিতে তাদের আশীর্বাদ অনুষ্ঠান (বাগদান) হয়ে গেছে।

 

এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে গেছে এই ছবিটি। কোলাজে দেখা যাচ্ছে, ২০০০ সালে মিস ওয়ার্ল্ড হওয়া পিগি চপসকে। আর পাশেই পুঁচকে নিক, বয়স তখন ৮, স্কুলে যাচ্ছেন গুটি গুটি।

 

নিক অবশ্য বরাবরই নিজের থেকে বয়সে বড় নারীদের পছন্দ করেন। তার আগের প্রেমিকারাও বয়সে তার থেকে বড় ছিলেন।

আনন্দ আর উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে তুরাগ থানা কৃষকলীগের সভাপতির ৩৯ তম জন্মদিন পালিত

 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ আনন্দ উদ্দীপনার এবং আনন্দঘন পরিবেশে কেক কেটে তুরাগ থানা কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব মোঃ সাজেদুল ইসলাম এর ৩৯ তম জন্মদিন পালন করা হয়েছে। ২১.০৩.২০২১ইং রবিবার সন্ধ্যা ৬:৩০ ঘটিকায় আহালিয়ায় তুরাগ থানা কৃষকলীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় এর পক্ষ থেকে কেক কাটার মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে জন্মদিনের অনুষ্ঠান। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তুরাগ থানা কৃষকলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জনাব মোঃ রবিউল আলম দোলন, তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের কার্যকারী সদস্য জনাব মোঃ রাইসুল ইসলাম লিটন জন্মদিনে তুরাগ থানা কৃষকলীগের সভাপতি সাজেদুই ইসলাম বলেন, জন্মদিন হলো জীবন থেকে একটি বছর চলে অতিবাহিত হওয়া। একজন মুসলমান হিসেবে এটি অবশ্যই অনুতপ্ত হওয়ার সময়। জন্মদিন উপলক্ষে তুরাগ থানা কৃষকলীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান সাজেদুল ইসলাম।

বোধ বন্দনা

 

কবি ও প্রাবন্ধিক নাসের ভুট্টো।

জীবন নদী গোপন বন্দরে থমকে গেলে

বোধেরা ভীষণ লজ্জা পায়,

অন্ধকারের ক’টা মানুষ টলতে টলতে…

হাতে হাত রাখে ব্যাকুল বৈঠায়।

 

আজও অগণিত জন্ম ঘুমিয়ে রয়েছে বলে

সমুদ্রেরও থাকে বিবর্ন ছায়া,

জলের ভাঁজে লুকিয়ে থাকা ঘুমন্ত ঢেউ

ছাড়েনা জোয়ারের চির মায়া।

 

জোয়ার- ভাটার গতিবিধি ঝুলে আছে

অন্তরের বিশুদ্ধ পেয়ালায়…..

বেছে নাও- নিতে হয়- ধ্যানের আসনে

সংরক্ষিত জীবনের বনছায়।

 

সকালের সূর্যস্নানে শুদ্ধ হবে, ভেবে যারা

মুখস্ত করে বিকেলের গান,

অনাগত সত্যের সুধা সঞ্চার মরুদ্যানে

হতে তো পারে বিরহ পূরাণ।

 

রাত্রির নৈঃশব্দে শূদ্ধতম ধূসর আঁধারে

যদি পাও জোনাকি পোকা,

প্রার্থনার প্রথম নকশিকাঁথা বিছিয়ে দাও

ভেবো না! তুমি যে বড় একা….. ।

 

লেখক,

কবি ও প্রাবন্ধিক

নাসের ভুট্টো

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ দীঘিভরা প্রাচীন মেঘ’।

বাংলাদেশ হেরিটেজ স্টাডি কর্তৃক কবি নাসের ভুট্টোকে সম্মাননা প্রদান।

ক্রেস্ট গ্রহণ করতেছেন কবি “নাসের ভুট্টো”

দরিয়ানগরখ্যাত কক্সবাজার শহরের প্রথা বিরােধী লেখক , প্রাবন্ধিক ও সংগঠক কবি নাসের ভুট্টোকে বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ বাংলাদেশ হেরিটেজ স্টাডি ‘ সম্মাননা প্রদান করেছেন। কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র অডিটরিয়ামের বর্ণাঢ় অনুষ্টানে সম্মাননা প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান এমপি । উপস্থিত ছিলেন জনাব আখতার হােসেন , মাননীয় সচিব , যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় , জনাব মামুনুর রশীদ , মাননীয় জেলা প্রশাসক , কক্সবাজার , প্রফেসর ড.শিরিন আখতার , মাননীয় উপাচার্য্য , চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় , জনাব , জাকির হােসেন , অতিরিক্ত সচিব , সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় , জনাব , জাফর আহমদ এম , পি , চকরিয়া । জনাব , হাসানুজ্জামান , পুলিশ সুপার , কক্সবাজার । জনাব আ ন ম হেলাল উদ্দীন , সভাপতি , কক্সবাজার হেরিটেজ স্টাডি , কক্সবাজার জেলা শাখা , এডঃ শাহিদা খান , মহাসচিব , বাংলাদেশ হেরিটেজ স্টাডি , বীর মুক্তিযুদ্ধা নুরুল আবছার , কবি কামরুল হাসান ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আসিফ জাহাঙ্গীর সহ অনেকেই । অনুষ্ঠান শেষে প্রাপ্ত সম্মাননার অনুভূতি জিজ্ঞাসা করা হলে কবি নাসের ভুট্টো জানান , আমি সব সময় অন্তরে লুকিয়ে থাকা অভ্যক্ত প্রত্যয় গুলােকে মাচন করার চেষ্টায় লেখালেখিতে আছি । এরকম সম্মাননা আমার লেখালেখি তাে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে ।

অনুভূতির গভীরে যাপন ‘ আমার শৈশব,আমার বাবাবেলা’।

নাসের ভুট্টো,

সুলতানা দিল আফরোজ এ সময়ের একজন নিবিষ্ট ও নির্জন লেখিকা। সোনালী শৈশব ও বাবা’র বিশাল জীবনের প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের সাতরং সাজানো পরিচর্যার মর্মলিপি ‘আমার শৈশব, আমার বাবাবেলা’। তাতে কোন উচ্চস্বর নেই, নেই কোন দুর্বোধ্য আগল। বরং লেখিকার অন্তর্লোক থেকে উৎসারিত বোধের সরল নির্মাণ প্রতিটি স্মৃতি যা- অনাবিল সরসতায় স্নিগ্ধ ও মধুরিমায় আপ্লুত। নিরাভরণ অথচ ব্যঞ্জনাময় শব্দসৌরভের সুর যে কোন পাঠককে নিয়ে যায় অনুভবের ভিন্ন- আঙ্গিনায়।
সংসার- জীবন- পৃথিবী চিত্রণে লেখক তাঁর শৈশব ও বাবাবেলা শৃংঙ্খলিত দোলাচলের মাঝেও রোপণ করেন বহুমাত্রিক নন্দনবৃক্ষ। সেই ফেলে আসা জীবন বৃক্ষের বোধাতীত বিস্ময় ও স্মৃতির ভান্ড়ার আজকের নান্দনিক সৃষ্টি ‘আমার শৈশব,আমার বাবাবেলা’। গ্রন্হটি চতুর্দশ পর্বে বিভাজিত। প্রতিটি শিরোনামই জানিয়ে দেয় জীবনের রক্তমাংস ও নিঃশ্বাসের সঙ্গে লেখিকার নিবিড়তর সম্পর্ক ও আবেগের আন্তরিক প্রকাশ।
সুলতানা দিল আফরোজ একজন গৃহিণী। ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা জনাব জামাল আহমেদ পেশায় একজন কৃষিবিদ। তিনি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়নের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। মাতা হাবিবুন নাহার একজন গৃহিণী। তিন ভাইবোনদের মধ্যে তিনি সবার বড়। পিতার বদলিযোগ্য চাকরির সুবাদে শৈশবে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়েছেন, আহরণ করেছেন প্রকৃতির নিবিড় পাঠ, দিগন্তের আভা আর মানুষের বুনিয়াদি আঁকর। কৈশোরে চলে আসেন বার আউলিয়ার দেশ চট্রগ্রামে। পড়ালেখা করেন চট্রগ্রাম গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজে। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা জনাব এস এম আশরাফুল ইসলামের সাথে বিবাহে আবদ্ধ হন। আবার শুরু হয় ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল চষে বেড়ানো আর বাস্তবতার ঘোর ঠেলে খুঁজে ফেরা চরাচরব্যাপী সন্মোহনী প্রাকৃতিক বিলোড়ন। লেখিকার এক কন্যা, এক পুত্রসন্তান এবং স্বামীকে নিয়ে তাঁর গেরস্হালী।
লেখিকার অপূর্ব অনুরাগ মাখা স্বপ্নময় নানারবাড়ীর স্মৃতিচারণ, অতৃপ্ত আবেগে দাদারবাড়ীর রক্তে রাঙা রূপসী বাংলা,প্রিয় বাবার সঙ্গে নিবিড় সান্নিধ্য যা পাঠক পাবে খন্ড় খন্ড় স্মৃতিচারণের ভেতরে অখন্ড় আখ্যানের চমকপ্রদ স্বাদ। আছে ব্যাক্তির জীবন, রাষ্ট্র,রাষ্ট্রের মানুষ ও সমাজ বাস্তবতার টুকরো উপলব্দি। জীবনের প্রয়োজনে আমরা এগিয়ে যাই সামনে কিন্তু হারানো অতীত স্মৃতিগুলো মনের কোণে ফিরে আসে বারবার, সেই অদম্য স্মৃতিরা এক সময় মিছিল করতে করতে পত্রপল্লবে বিস্তৃতি হয়ে জন্ম নেয় একেকটি গ্রন্হ। যার প্রতিফলন লেখিকা সুলতানা দিল আফরোজের অন্তর্লোক থেকে উৎসারিত ‘আমার শৈশব,আমার বাবাবেলা’। তাছাড়াও গ্রন্হের গোপনে যতনে আছে- চারপাশের বাস্তবতার এই প্রতিরূপায়নের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে প্রতিদিনের চেনা দৃশ্যকে চোখের সামনে তুলে ধরে লেখিকা আমাদের তথাকথিত প্রগতিশীলতার মুখোশের অন্তরালে যে সমাজতান্ত্রিক ব্যাক্তিমানুষের বসবাস তাকে চপেটাঘাত করেছেন। প্রতিটি পর্বে দেখতে পাই স্বচ্ছতা, স্পস্টতা রূপায়নের ফলেই আমরা পেয়ে যাই লেখিকার ধ্যানের সমস্ত আয়োজন। যা পাঠকদের মুগ্ধচৈতন্যে গুঞ্জন তুলবে অহর্নিশ।

প্রচ্ছদ


এই সময়ের স্বাধীনচেতা লেখিকা সুলতানা দিল আফরোজের এটি প্রথম গ্রন্হ। করোনাকালে জীবনের ব্যস্ততা কিছুটা কমে এলে শেকড়ের সন্ধানে নেমে মায়ের সুত্রে পরিচিত হন ‘ মরহুম উমেদ আলী সিকদারের বংশধারা’ ফেসবুক গ্রুপে। সেই সুত্রে বংশের ধারা বর্ণনা করতে গিয়ে লেখিকা ঝুঁকে পড়েন লেখালেখিতে এবং লেখার ব্যাপ্তির পাশাপাশি সকলের উৎসাহ, লেখিকার মামাত বোন জুবাইদা মোস্তফার সুযোগে নিয়মিত লেখা তাঁর চৈতন্যের শিকড়ে প্রোথিত হয় আকাঙ্খার বাস্তবরূপ। সেই রূপের ঝংকারে উঠে এসেছে- লেখিকার শৈশবে নানারবাড়ীর হৈ চৈ, দলবেঁধে বেড়ানো, বিকেলে হাঁটু জলে মাছ ধরা, চি-কুত কুত খেলা, ‘ফুল টোকা’ খেলার আন্দোলিত উচ্ছাস। বইটি পাঠ শেষে মনে হয়- এ যেন রক্তে রাঙা রূপসী বাংলার মুকুলের মুকুর।

সুলতানা দিল আফরোজ।


আমাদের লেখিকা সুলতানা দিল অফরোজের অপ্রাপ্তির যন্ত্রনার জন্য এখন আর হাহাকার নেই, নেই ব্যাকুলতা কিংবা বেদনার অলজ্জ চিৎকার- বরং ‘আমার শৈশব, আমার বাবাবেলা’ গ্রন্হে পাঠক নিশ্চয় খুঁজে পাবে বাবার প্রতি মেয়ের প্রাণঢালা ভালোবাসার আজন্ম কোঁচড় ও তত্বলোকে উত্তীর্ণ হবার প্রশান্ত প্রতীতি। গ্রন্হটির নিপূণ বিন্যাস, ভাষার স্বতঃস্ফূর্ত ও সাবলীল গতি এবং মানুষের মনোবিশ্লষণী অন্তর্দৃষ্টির দিকটি নিশ্চয় মুগ্ধতা ছড়াবে যে কোন পাঠককে। প্র প্রকাশনীর প্রকাশক জনাব মহিউদ্দীন খালেদ বইটি সময়ের অদম্য লেখিকা সুলতানা দিল আফরোজের স্বরচিত ‘ আমার শৈশব,আমার বাবাবেলা’ গ্রন্হটি প্রকাশ করেন।গ্রন্হটি পাওয়া যাচ্ছে- পাঠক সমাবেশ, শাহবাগ,ঢাকা, বাতিঘর,চট্রগ্রাম ও একুশে বইমেলা ২০২১ এবং আশা করছি পাঠকের চিত্তে উপচে পড়বে মুকুলিত মুকুরে অনুভূতির গভীরে যাপন।

লেখক,

কবি নাসের ভুট্টো


কবি, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক
নাসের ভুট্টো।

১০ বছরের পার্থক্যে বিয়ে করেও কেন সুখি জনপ্রিয় দম্পতি প্রিয়াঙ্কা-নিক!

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

বলিউড থেকে হলিউডে পদার্পণ। বিয়েও করেছেন আমেরিকান গায়ক নিক জোনাসকে। সময়ের সেরা জুটি প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস। নিক-প্রিয়াঙ্কা জুটি নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। তাই তো তাদের যে কোন খবর পেতে মুখিয়ে থাকেন ভক্তরা। তবে এবার এক প্রিয়াঙ্কা একটি গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন প্রিয়াঙ্কা। বিয়ের আগে নাকি নিকের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলেন এই নায়িকা। আর সেই চুক্তির কারণেই তাঁদের সম্প’র্ক এত মজবুত এত গভীর।

 

ব্রিটিশ সাময়িকী এলের বরাতে বলিউড বাবলের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা স্বীকার করেছেন, বিয়ের আগে একটি চুক্তি করেছিলেন তাঁরা। আর সেটি হলো, মাসে অন্তত একবার তাঁদের একত্র হতে হবে, তা সে যত ব্যস্ততাই থাকুক। বিয়ের আগে নিকের সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে এলেকে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘প্রতি তিন সপ্তাহে আমাদের দেখা হয়। পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন, মাসে অন্তত কয়েক দিনের জন্য আমরা উড়ে যাই। বিয়ের জন্য এটাই ছিল আমাদের নিয়ম। নইলে আমরা কখনো পরস্পরকে দেখতে পেতাম না।

মাত্র দুই মাস প্রেমের সুযোগ পেয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা ও নিক। আর এরই মধ্যে নিক হাঁটু মুড়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন। প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘ওই সময় আমি প্রস্তাবটা আশা করিনি… মাত্র দুই মাস! ভেবেছিলাম হবে, কিন্তু তখন হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নিক জোনাসের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। ভারতের যোধপুরের উমেদ ভবন প্রাসাদে হয় তাঁদের রাজকীয় বিয়ের আয়োজন। সনাতন ও খ্রিস্টান রীতিতে হয় তাঁদের বিয়ে। ভারতের পর যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে হয় তাঁদের বিয়ের পার্টি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই তাঁরা দারুণ সব ছবি শেয়ার করে নিজেদের ভালোবাসার গল্প ভক্তদের জানান দেন।

1 2 3 22