বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোরআন শরীফ তৈরি হচ্ছে পাকিস্তানে

ইসলাম ডেস্ক- পবিত্র কোরআন এক বিস্ময়কর গ্রন্থ। পবিত্র কোরআনে কারিমের মহান লক্ষ্য হলো- মানুষকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেয়া এবং মিথ্যার প্রতিরোধ করা।

পবিত্র কোরআনের অলংকারিক সৌন্দর্য, বাগ্মীতা ও প্রজ্ঞা কোরআনেরই মোজেজা বিশেষ। আর জ্ঞানীদের জন্য কোরআন এক অলৌকিক সম্পদ ভান্ডার। আইন প্রনেতাদের জন্য এটি সবচেয়ে সামাজিক আইনের আধার। কোরআনে রয়েছে দুনিয়াবাসীর জন্য নজিরবিহীন সব নীতি।

তাই সংক্ষেপে বলা যায়, পবিত্র কোরআন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য এমনসব বাস্তবতা ও রহস্যের আকর- যে বাস্তবতাগুলো মানুষ কোরআন ছাড়া কখনও উদঘাটন করতে পারবে না।

সর্বদা বিশ্ববাসী কোরআনের অসীম সৌন্দর্যে অভিভুত ও বিমুগ্ধ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পবিত্র কোরআন নিয়ে চলে নানাবিধ গবেষণা। হয় কোরআন নিয়ে স্বপ্নময় অনেক কাজ। যেসব কাজের মাধ্যমে পবিত্র কোরআনে কারিমের মহত্ত্ব আরো প্রজ্জ্বোল হয়ে উঠে।

তেমনি এবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকারের পবিত্র কোরআন শরীফ তৈরি করা হচ্ছে পাকিস্তানে। করাচি আর্ট কাউন্সিলের উদ্যোগে এই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।

২০১৭ সাল থেকে এ প্রকল্পে কাজ করছেন কমপক্ষে ২০০ আর্টিস্ট। তারা স্বর্ণের প্রলেপ দেয়া অ্যালুমিনিয়ামের সুতা দিয়ে অক্ষর বিন্যাস করছেন। এর তত্ত্বাবধান করছেন শহীদ রাশাম। ২০২৬ সালের মধ্যে এ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পবিত্র এই কোরআন শরীফের দৈর্ঘ্য হবে ৮.৫ ফুট। আর প্রস্থ ৬.৫ ফুট।

বলা হচ্ছে এই কোরআন বিশ্বরেকর্ড করবে। কারণ এর আগে সবচেয়ে বড় মাপের কোরআন শরীফের দৈর্ঘ্য ছিল ৬.৫ ফুট। প্রস্থ ৪.৫ ফুট। এই কোরআন শরীফটি ২০১৭ সালে তৈরি করা হয়েছিল আফগানিস্তানে। বর্তমানে সেটি রাশিয়ার কাজান শহরে কুল শরীফ মসজিদে রাখা আছে। সেই হিসেবে পাকিস্তানে তৈরি এই কোরআন শরীফের আকার অনেক বড় হবে।

শহীদ রাশামের মতে, ইসলামের কমপক্ষে ১৪০০ বছরের ইতিহাসে তারাই প্রথম অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে পবিত্র কোরআনের অক্ষর বিন্যাস করছেন। এর আগে পবিত্র কোরআনে কাঠ, কাগজ, পশুর চামড়া এবং কাপড়ে ক্যালিগ্রাফি করা হয়েছে। তাতে ক্লাসিক আর্ট প্রদর্শন করা হয়েছে।
কিন্তু রাশাম বলেন, এই প্রকল্পটি আমার সারাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। শহীদ রাশামের বয়স ৪৯ বছর। তিনি তার সহযোগীদের নিয়ে গত দুই বছরে পবিত্র কোরআনের প্রথম দুটি পৃষ্ঠার অক্ষর বিন্যাস করেছেন। আর গত কয়েক মাসে তিনি দিনে গড়ে ১০ ঘন্টা সময় দিয়েছেন এ প্রকল্পে।

মানুষ বড় একা – নাসের ভুট্টো

মানুষ বড় একা

 

প্রতিদিন খুন হয় ভালোবাসার আন্দোলিত বুনন

অবহেলায় গড়িয়ে পড়ে অন্তর্গত শাশ্বত প্রসর্পণ

ছিনতাই হয় দুরুদুরু ইন্দ্রিয়ের… থরেথরে তরঙ্গ

এভাবে হৃদয় ও পৃথিবীর দূরত্ব মাপে মুগ্ধ- অঙ্গ।

 

তারপর নির্বাচিত হয় অলিখিত যতো প্রতিশ্রুতি

শুধ অনুভবে অনুবাদ করে স্বরচিত অজর স্মৃতি

দীর্ঘশ্বাসে খেলা করে কেবল প্রত্যাখানের ভুমিকা

অবশেষে বুঝে হারিয়ে সময়, মানুষ যে বড় একা।

কবি ও প্রাবন্ধিক নাসের ভুট্টো

 প্রকাশিত পঞ্চম গ্রন্থ- ‘বিনয়াবনত’।

গোসাইরহাটে ম্যানেজিং কমিটির হাতে জিম্মি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নিয়োগ নিয়ে কোর্টে মামলা।

নিউজ২৪লাইন:
শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া আহমাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি এনায়েত করিম মিলুর বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা চলমান থাকার পরে ও উক্ত মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবুল হাসনাতকে বেতন ভাতা বন্ধ করার ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধভাবে একজন সহ-সুপার, একজন নিরাপত্তা কর্মী,একজন আয়া নিয়োগ দেওয়ার প্রচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, নাগেরপাড়া আহমাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য দৈনিক সমকাল ও দৈনিক হুংকার পত্রিকায় গত ১৭/০৮/২১ একজন সহ সুপার, একজন নিরাপত্তা কর্মী,একজন আয়া নিয়োগ দেওয়া হবে মর্মে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়। উক্ত বিজ্ঞপ্তি বহুলভাবে প্রচারিত হয়নি মর্মে অভিভাবক সদস্য ফারুক হাওলাদার শরীয়তপুর সহকারী জজ কোর্টে একটি মামলা করেন যাহার নাম্বার ২৪০/২০২১। উক্ত মোকদ্দমার বাদীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়।২৪০/২০২১ মামলাটি প্রত্যাহার হওয়ার পর আবার অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য পায়তারা করলে উক্ত মাদ্রাসার একজন শিক্ষার্থীর বাবা জামাল বেপারী গত ২৭/০৯/২০২১ তারিখে মামলা করেন যাহার নাম্বার ২৭২/২০২১. সরজমিনে গিয়ে জানাযায় গত ৪ তারিখে উক্ত মাদ্রাসার সভাপতি এনায়েত করিম মিলু উক্ত মাদ্রাসার সুপারকে দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য ডিজি বরাবর একজন প্রতিনিধি চেয়ে মিটিং ডাকেন কিন্তু উক্ত মিটিংয়ে কমিটির ১০ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ৬ ছয় জন উপস্থিত ছিলেন।

নাগেরপাড়া আহমাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এনায়েত করিম মিলু বলেন, আমরা কোর্টের কোন কাগজ পাইনি পেলে মিটিং করতাম না।এখন ব্যস্ত আছি পরে কথা বলবো

নাগেরপাড়া আহমাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবুল হাসনাত বলেন,আমি মিটিং ডাকতে চাইনি, সভাপতি সাহেব আমাদের বেতন ভাতা বন্ধ করে দিবে, কোন স্বাক্ষর দিবেনা বলে হুমকি দেয়, কিন্তু কোর্টে একটা মামলা করেছিল ফারুক হাওলাদার, সেটা প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাদী।এখন একটা মামলা হয়েছে সেটার সমনের কাগজ পেয়েছি।

গোসাইরহাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন,নিয়োগ সংক্রান্ত ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির কাছে দেওয়া হয়েছে, তবে কমিটি ডিজি বরাবর প্রতিনিধি চেয়ে যে মিটিং করেছে সেখানে এই মর্মে লিখিত দিতে হবে যে এই নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে কোর্টে মামলা নাই, যদি মামলা থাকে তাহলে কোন প্রতিনিধি দেওয়া হবে না। ম্যানেজিং কমিটি যদি শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে থাকে তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এব্যাপারে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছুই জানেন না,উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার কে জিগ্যেস করতে বলেন,

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া মেয়ের গৃহশিক্ষক দ্বারা ধর্ষণে শিকার হয়েছেন এক মা

নিউজ২৪লাইন:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় মেয়ের গৃহশিক্ষক দ্বারা ধর্ষণে শিকার হয়েছেন এক প্রবাসীর স্ত্রী।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানায় গৃহশিক্ষক রুবেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর পরই উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ রুবেলকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃত গৃহশিক্ষক উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের মাটিকোড়া দিয়ারপাড়া গ্রামের মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে রুবেল। তিনি স্থানীয় বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের মাটিককোড়া দিয়ারপাড়া গ্রামের প্রবাসীর বাড়িতে একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে ও বিজ্ঞান কলেজছাত্র মো. রুবেল রানা এক প্রবাসীর মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতেন। কিছুদিন আগে রানার কুদৃষ্টির কারণে তাকে বাদ দেয়া হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাড়িতে কেউ না থাকায় রাত ৯টার দিকে রুবেল ওই বাড়িতে ঢুকে হত্যার ভয় দেখিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে রুবেল পালিয়ে যান।

উল্লাপাড়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. সাহেব গনি জানান, রুবেলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্কুলে এসে করোনা আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ মেলেনি: শিক্ষা উপমন্ত্রী

নিউজ২৪লাইন: স্কুল খোলার পর দেশের কয়েকটি স্থানে কয়েকজন শিক্ষার্থীর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গে কথা বলেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেছেন, স্কুলে এসেই যে শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে তার সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে যেসব জায়গায় শিক্ষার্থীদের করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলীতে ইউরোপীয়ান ক্লাবে প্রীতিলতার প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আজ শুক্রবার কথাগুলো বলেন তিনি।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ শিক্ষার্থীরা ঘরে থাকলে হতো না বা স্কুলে যাওয়া কারণে হয়েছে, এটার কোনো সত্যতা বা প্রমাণ এখন পর্যন্ত নেই। শিক্ষার্থীরা স্কুলে না গেলেও আত্মীয়স্বজনের বাসায়, বিনোদনের জায়গায় সবখানেই যাচ্ছিল। সুনির্দিষ্ট কিছু জায়গায় দেখেছি শিক্ষার্থীরা করোনা আক্রান্ত হয়েছে। আমরা সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছি।’

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মাহুতি দিবস প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নওফেল বলেন, ‘মাস্টারদা সূর্যসেন, প্রতীলতা ওয়াদ্দেদার থেকে শুরু করে যারা ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবে অংশ নিয়েছেন, সেই সব বীরদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাথা নতুন জাতীয় পাঠ্যক্রমে অন্তভুর্ক্তির জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্কুল-কলেজে সাপ্তাহিক ছুটি হচ্ছে ‘দুই দিন’

নিউজ২৪লাইন:
ঢাকা- সারাদেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু কমায় স্কুল-কলেজ খুলে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিল রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন করা হচ্ছে। যা আগামী ২০২৩ সাল থেকে বাস্তবায়ন হবে।

জানা গেছে, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে নতুন শিক্ষাক্রমে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় ছুটির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই রূপরেখা অনুমোদন দিয়েছেন।

জানতে চাইলে এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মশিউজ্জামান বলেন, ‘২০২৩ সাল থেকে দুই দিন ছুটি হবে।’

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে দুই দিন ছুটির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের আগেও চালু করতে পারে।

পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় ২ দিন ছুটির প্রস্তাব করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে নতুন শিক্ষাক্রমের একটি রূপরেখা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই রূপরেখার খসড়ায় অনুমোদন দেন। ওই দিন দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২২ সালে নতুন শিক্ষাক্রমের পাইলটিং করা হবে। আর ২০২৩ সাল থেকে পরিমার্জিত নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে। উচ্চ মাধ্যমিকের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হবে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে শিক্ষাক্রম পরিমার্জন প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ছুটি বাড়লেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষতি হবে না। তাদের লার্নিং আওয়ার কমবে না। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই এই প্রস্তাব করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ কমবে বলেও জানানো হয়।

এনসিটিবি জানায়, বিদ্যমান সাপ্তাহিক ও অন্যান্য ছুটি ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরে ক্লাস চলে ২১৫ দিন। শনিবার ছুটি হলে ক্লাস হবে ১৮৫ দিন।

নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় জানানো হয়, সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন ধরে প্রাক-প্রাথমিকে মোট শিখন ঘণ্টা শিক্ষাক্রম প্রণয়নের সময় নির্ধারণ করা হবে। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিখন হবে ৬৮৪ ঘণ্টা। চতুর্থ থেকে পঞ্চম শ্রেণির হবে ৮৫৫ ঘণ্টা। এ ছাড়া মাধ্যমিক স্তরে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির মোট শিখন ১ হাজার ৫০ ঘণ্টা, নবম ও দশম শ্রেণির ১ হাজার ১১৭ ঘণ্টা। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের একাদশ ও দ্বাদশ ১ হাজার ১৬৭ ঘণ্টা হবে।

রূপরেখায় বলা হয়, জাতীয় দিবসগুলোতে বিদ্যালয় খোলা থাকবে। শিক্ষার্থীদের দিবস পালনের কর্মসূচিও শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

কথাসাহিত্যিক সুলতানা দিল আফরোজের স্মৃতির আঙিনায়- শৈশব ও বাবাবেলা।

পাঠকের আনুগত্য ও আকর্ষণ কেবল লেখকের সৃষ্টিকর্মের মান ও উৎকর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তার জীবনাচার ও বিচিত্র বহুমুখী কর্মকান্ড় ও পালন করতে পারে একটা ভুমিকা। কারন, লেখকসত্বা কেবল লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, সেটি লেখকের জীবন ও সৃষ্টির ওপর যেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তেমনই পারে পাঠকের অন্তর্গত কৌতুহল ও আকর্ষণকে আনুগত্যের নিগড়ে বাঁধতে। আবার, লেখকের জীবনে খন্ড় খন্ড় অভিঞ্জতার সমাবেশ ঘটে। সেই সমাবেশে নানা রঙ- আনন্দ, বেদনা, সুখ ও দুঃখের অনির্বচনীয় এক অনুরণন নানা বর্ণবিভায় উদ্ভাসিত হয়। সুর্নিদিষ্ট আকার বা মাত্রা অজানা, জানা থাকে না আগামীকালের কোনো বিন্দুর তিলমাত্র- তারপরও লেখক ফিরে তাকাতে চায় নিজের ফেলে আসা অমল স্মৃতির দিকে, এবং সে দেখতে পায় পারিবারিক, সামাজিক বহু রঙে তার জীবন ছেয়ে আছে। মুহুর্তের পরতে পরতে ছাওয়া অনিশ্চয়তামাখা দিনরাত্রির মাঝে মেঘ মেদুর বর্ণচ্ছটা ও কথকতা তার একার সঞ্চয় হলেও যখন তা প্রকাশিত হয় শব্দে- বাক্যে, তখন তা সমগ্রের হয়ে নিশ্চিত দাঁড়ায়। তেমনি কথা সাহিত্যিক সুলতানা আফরোজও এই ধারাবাহিকতার বাইরে নন।

সুলতানা দিল আফরোজা এ সময়ের একজন নিবিষ্ট ও নির্জন কথা সাহিত্যিক। স্মৃতিচারণ নয়, যেন হৃদয়ক্ষরণের বিষাদ বাঁশি বাজিয়ে যাচ্ছেন অপূর্ব শিল্পমুগ্ধতায়। প্রাত্যহিক পরিচর্যায় এঁকে যাচ্ছেন যাপিত জীবনের মর্মলিপি। লেখকের প্রথম গ্রন্হ ‘ আমার শৈশব, আমার বাবাবেলা ‘। এখানে লেখকের বাবার বিশাল জীবনের ব্যাখা ও বিস্তৃতি উঠে এসেছে। মূলত এটি পারিবারিক পুরাণ। সেই পুরাণের পরতে পরতে শব্দের গাঁথুনি সম্পূর্ন স্বতন্ত্র এবং সাম্প্রতিকতা ও চিরন্তনতার এক অনন্য সম্মিলনের প্রতীক। তাঁর বইয়ের ভেতরে একই সাথে প্রেম, ক্রান্তিকালের দহন, মৃত্যুচিন্তা এবং কালচেতনা সব সংমিশ্রিত হয়ে অবির্ভূত হয়ে থাকে যা একমাত্র লেখকদের জন্য সম্ভব। তাই যে পৃথিবীতে সব সম্পর্কই রক্তের শিরাময়, ছায়াময়, মায়াময়, সব সম্পর্কই নিদারুণ স্বপ্নকাতর, সেই পৃথিবীর জন্যেই কথাসাহিত্য সুলতানা দিল আফরোজ বেশী কাতর। সেই কাতরে অবলীলায় সৃষ্টি করেন দ্বিতীয় গ্রন্হঃ ‘ স্মৃতির আঙিনায় ‘। এটি শুধু আত্বজৈবনিক প্রবন্ধই নয়, একটি নান্দনিক দলিল। লেখকের প্রজ্ঞা, জীবনবোধ আর মর্মস্পর্শী বর্ণনা এই বইটিকে করে তুলেছে অনন্য।

কথাসাহিত্যিক সুলতানা দিল আফরোজ তাঁর বইতে নাগরিক প্রবণতায় যথোপযুক্ত দান করেছেন আর এগিয়ে নিয়েছেন বোধের সীমানাকে। প্রখরভাবে নাগরিক তিনি, নাগরিক বৈশিষ্ট্য তার মৌলুউপজীব্য কিন্তু সেটা কায়েম করতে গিয়ে ফিরিয়ে নিয়েছেন পাঠককে চিরন্তন ও চিরায়ত মুগ্ধতার প্রকৃতিতে। লেখক এতে চিত্ররূপে বর্ণিল, অঙ্কনে আবীরময়, বহুবর্ণাভায় প্রতীকায়িত, সমৃদ্ধময়। উপযুক্ত মানস- বিষয়ীতে, আধার ও আধেয়র আবর্তে। দীর্ঘদিন পরিচর্যায় তিনি সৃষ্টি করেছেন- ‘ আমার শৈশব আমার বাবাবেলা’ র পর ‘ স্মৃতির আঙিনায় ‘। পাঠক মহলে যথেষ্ট সাঁড়া তুলেছে প্রকাশিত এই বই দুটি। তিঁনি বসে নেই, কলম চলছে দ্রুত গতিতে। পাঠককে উপহার দিতে চান তথ্যবহুল সমৃদ্ধ আরো অজানা বিষয় নিয়ে নতুন কিছু, প্রতিক্ষণে সৃষ্টিঘোরে আচ্ছন্ন এ কথাসাহিত্যক। সৃষ্টির শৈল্পিক অঙ্গীকারে আবদ্ধ থেকে দর্শন এবং সৌন্দর্যের নান্দনিক সংমিশ্রণে নব নির্মাণে প্রাগ্রসর। তাঁর লেখায় সংহত উচ্ছারণ ও বহুমাত্রিক ভাবে বৈচিত্র্যে ফুটে উঠেছে আত্বক্ষরণের সর্বৈব মানচিত্র, তাই শাশ্বত সত্য হয়ে অন্তর্লীণ অনুভূতির অভিঘাতে মর্মরিত।

সুলতানা দিল আফরোজ একজন গৃহিণী। ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা জনাব জামাল আহমেদ পেশায় একজন কৃষিবিদ। তিনি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়নের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। মাতা হাবিবুন নাহার একজন গৃহিণী। তিন ভাইবোনদের মধ্যে তিনি সবার বড়। পিতার বদলিযোগ্য চাকরির সুবাদে শৈশবে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়েছেন, আহরণ করেছেন প্রকৃতির নিবিড় পাঠ, দিগন্তের আভা আর মানুষের বুনিয়াদি আঁকর। কৈশোরে চলে আসেন বার আউলিয়ার দেশ চট্রগ্রামে। পড়ালেখা করেন চট্রগ্রাম গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজে। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা জনাব এস এম আশরাফুল ইসলামের সাথে বিবাহে আবদ্ধ হন। আবার শুরু হয় ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল চষে বেড়ানো আর বাস্তবতার ঘোর ঠেলে খুঁজে ফেরা চরাচরব্যাপী সন্মোহনী প্রাকৃতিক বিলোড়ন। লেখিকার এক কন্যা, এক পুত্রসন্তান এবং স্বামীকে নিয়ে তাঁর গেরস্থলী।

লেখিকার অপূর্ব অনুরাগ মাখা স্বপ্নময় নানারবাড়ীর স্মৃতিচারণ, অতৃপ্ত আবেগে দাদারবাড়ীর রক্তে রাঙা রূপসী বাংলা,প্রিয় বাবার সঙ্গে নিবিড় সান্নিধ্য যা পাঠক পাবে খন্ড় খন্ড় স্মৃতিচারণের ভেতরে অখন্ড় আখ্যানের চমকপ্রদ স্বাদ। আছে ব্যাক্তির জীবন, রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের মানুষ ও সমাজ বাস্তবতার টুকরো উপলব্দি। জীবনের প্রয়োজনে আমরা এগিয়ে যাই সামনে কিন্তু হারানো অতীত স্মৃতিগুলো মনের কোণে ফিরে আসে বারবার, সেই অদম্য স্মৃতিরা এক সময় মিছিল করতে করতে পত্রপল্লবে বিস্তৃতি হয়ে জন্ম নেয় একেকটি গ্রন্থ। যার প্রতিফলন লেখিকা সুলতানা দিল আফরোজের অন্তর্লোক থেকে উৎসারিত ‘আমার শৈশব,আমার বাবাবেলা’ ও ‘স্মৃতির আঙ্গিনায়’।

তাছাড়াও গ্রন্থের গোপনে যতনে আছে- চারপাশের বাস্তবতার এই প্রতিরূপায়নের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে প্রতিদিনের চেনা দৃশ্যকে চোখের সামনে তুলে ধরে লেখিকা আমাদের তথাকথিত প্রগতিশীলতার মুখোশের অন্তরালে যে সমাজতান্ত্রিক ব্যাক্তিমানুষের বসবাস তাকে চপেটাঘাত করেছেন। প্রতিটি পর্বে দেখতে পাই স্বচ্ছতা, স্পস্টতা রূপায়নের ফলেই আমরা পেয়ে যাই লেখিকার ধ্যানের সমস্ত আয়োজন। যা পাঠকদের মুগ্ধচৈতন্যে গুঞ্জন তুলবে অহর্নিশ।

বাংলাদেশে লেখকের লেখায় সে প্রসিদ্ধ কালোত্তরে আরও চর্চিত যেমন হবে তেমনি নতুন পাঠকও তৈরিতে সক্ষম হবে। আমাদের এ যুগের ভাবচিন্তায় তিনি সন্ত, হৃদ্য। গ্রন্থ দুটির বহুল প্রচার ও প্রসার কামনা করছি।

লেখক-

কবি ও প্রাবন্ধিক নাসের ভূট্টো।

1 2 3 17