শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ল ৩১ আগস্ট পর্যন্ত

নিউজ ২৪লাইন ডেক্সঃ ঢাকা- করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান ছুটি আরও একদফা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় এবং কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর থাকায়, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিবেচনায় করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে পরামর্শক্রমে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসাগুলোর চলমান ছুটি আগামী ৩১ শে আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

দেশে করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় তা বাড়ানো হয়।

এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা হবে তিন বিষয়ে

সময় ও নম্বর কমিয়ে গ্রুপভিত্তিক (বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্যসহ অন্যান্য গ্রুপ) তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আবশ্যিক কোনো বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে না। তবে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে আবশ্যিক বিষয় এবং চতুর্থ বিষয়ের নম্বর দিয়ে ফলাফলে যোগ করা হবে।

সোমবার (২৬ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম আমিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, এসএসসি ও সমমানের বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত, আইসিটি ও ধর্ম বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে না। আর এইচএসসি ও সমমানের আবশ্যিক বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে না।

বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনায় আরও জানানো হয়, বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশে জেএসসি ও সমমান এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে সাবজেক্ট ম্যাপিং করে আবশ্যিক বিষয় ও চতুর্থ বিষয়ের নম্বর প্রদান করা হবে। শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন নম্বর অনুযায়ী চতুর্থ বিষয়ের নম্বর সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২১-এর ফলাফলে নম্বর দেওয়া হবে।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন, আবশ্যিক বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে না। গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে সময় ও নম্বর কমিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

সুলতানা দিল আফরোজ এর “স্মৃতির আঙিনায়” ‘সামাজিক মানুষের বাস্তব প্রতিচ্ছবি’ – সাবেক যুগ্মসচিব।

জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের বধু হিসাবে তৎকালীন যশোর থেকে দূরবর্তী একটি পাড়াগাঁয়ের মেয়ে জ্ঞানদানন্দিনী দেবী মাত্র আট বছর বয়সে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় অগ্রজ সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহধর্মিনী হিসাবে ঠাকুর বাড়িতে পদার্পণ করেন। তাঁর বয়েস যখন চৌদ্দ ১৮৬৪ সালে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের প্রথম ভারতীয় সদস্য হিসাবে সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন। ঠাকুর বাড়ির বধুরা গৃহবধুই ছিলেন, তাঁদের অন্তঃপুরের বাইরে যাওয়া ছিল বারণ। সেই কঠোর কঠিন নিয়ম ছিঁড়েফুঁড়ে স্বামীর সঙ্গে স্বামীর কর্তব্যস্থল বোম্বাইয়ে যাওয়া ঠাকুর পরিবারের প্রথম গৃহবধু ছিলেন জ্ঞানদানন্দিনী দেবী। তিনি স্বামীর সাথে তাঁর আরো কর্মস্থলে – গুজরাট, ‍সিন্ধু, এমনকি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স – গিয়েছিলেন।

 

অনেকের মনে হতে পারে, শিবের গীত গাইছি, মোটেও তা নয়। বন্ধুবর সৈয়দ আশরাফের ক্ষেত্রেও আমি ঐ ঘটনার প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েছি। তিনিও একটি সম্ভ্রান্ত, ধর্মভীরু ও রক্ষণশীল পরিবারের সন্তান হওয়া সত্বেও তাঁর সৃন্দরী গৃহবধু স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন কর্মস্থলে ঘুরে বেড়িয়েছেন। এমনকি তাঁর স্ত্রী তাঁর কর্মস্থলে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা ছাপার অক্ষরে লিখেছেন “স্মৃতির আঙিনায়” নামের বইয়ে। ঠিক যেমনটি জ্ঞানদানন্দিনী দেবী লিখেছিলেন “স্মৃতিকথা” নাম দিয়ে। ১৯৪১ সালে ৯১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে ৪৪ পৃষ্ঠার এ বইটি কলিকাতার রূপা এন্ড কোম্পানী প্রকাশ করেছিল। আর “স্মৃতির আঙিনায়” প্রকাশ করেছে ঢাকার প্র প্রকাশনী ২০২১ সালে। স্থান-কাল-পাত্র কিংবা পরিবেশ-পরিস্থিতি ভিন্নতর হলেও দুজনের মনের কথা বলার আকুতি কিন্তু একই।

 

আমাদের প্রিয় মাতৃভুমি বেশ কিছুদিন যাবত প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনায় বিপর্যস্ত। লকডাউন, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং, স্যানিটাইজিং, ইত্যাদি কতিপয় নতুন নতুন ইংরেজী শব্দবন্ধ এখন অক্ষর-নিরক্ষর নির্বিশেষে সবার মুখে মুখে। এমনকি বাঙ্গালির তেরো পার্বণেও আমরা ঘরে বন্দী। এর মধ্যে সময় কাটানোর অবলম্বন যথেষ্ট সীমিত। অবশ্য বই পড়া তার মধ্যে অন্যতম ও বিশিষ্ট স্থান দখল করে নিয়েছে।

 

এ করোনাক্রান্ত সময়েও আমাদের প্রিয় লেখক সুলতানা দিল আফরোজ অবিরাম লিখে চলেছেন। “স্মৃতির আঙিনায়” তাঁর দ্বিতীয় বই। তাঁরই সৌজন্যে বইটি পেয়েছি আরো আগেই। কিন্তু অন্যবিধ ব্যস্ততা বা কিঞ্চিৎ অলসতার কারণে পড়ার সময় করে উঠতে পারিনি। কিন্তু যখন শুরু করেছি, পুরোটা শেষ না করা পর্যন্ত স্বস্তি পাইনি। দারুণ পছন্দ করেছি।

 

আমাদের মধ্যে ক’জনাই বা জীবন পথের শেষ লগ্নে এসে খানিকটা ফিরে দেখতে চায়, যাপিত জীবনের চর্বিত চর্বণ। কবি জীবনানন্দ দাশের ভাষায়, “কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে!” লেখক সে কাজটাই করতে চেয়েছেন অত্যন্ত নিপুণতা ও বিচক্ষণতার সাথে। আমি মনে করি, তিনি তাতে পুরোপুরি সফল হয়েছেন।

 

বইটির বিষয়বস্তু চমৎকার। লেখক অস্বাভাবিক স্বাভাবিকতায় যান্ত্রিক কার্যকারণ সম্পর্কের নিয়মবদ্ধতার নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলিত জীবনের সহজ বর্ণনা দিয়েছেন। কোন ধরণের বাগাড়ম্বরপূর্ণ বুলি সর্বস্বতায় যাননি। বইটি সুলিখিত ও সুখপাঠ্য। বইটার পঠন শুরু থেকেই উপভোগ করেছি। বইটির পঠনযোগ্যতা এক কথায় অসাধারণ এবং এটি আমাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক অদৃশ্য মায়াজালে জড়িয়ে রেখেছে। এখানে ধীরে ধীরে গল্প জমিয়ে তোলার কোন ব্যাপার আমার নজরে আসেনি। এক লাফে আমি আসরের ঠিক মাঝখানে গিয়ে বসে পড়েছি এবং পুরো ব্যাপারটা বুঝে উঠতে উঠতে আমি কাহিনীর শেষপাদে চলে এসেছি। বিশেষভাবে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবনবোধ, সংস্কৃতি এবং সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের বর্ণনা আমি খুবই উপভোগ করেছি।

 

চরিত্র বর্ণনায় লেখক অতি সুক্ষ্ম বৃত্তান্তও বাদ রাখেননি। চরিত্রগুলোর ভাব-ভঙ্গীর উপস্থাপন এতটা নিখুঁত যে, প্রতিটা চরিত্র আমার মনশ্চক্ষে ভেসে উঠেছে। মনে হয়েছে যেন আমি সেই কক্ষে দাঁড়িয়ে আছি। তাঁর শব্দ চয়ন ও বাক্য গঠন একইরূপ চমৎকারিত্বের সাথে সম্পন্ন হয়েছে। আমি প্রতিটি দৃশ্যের খুঁটিনাটি দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পেয়েছি। এখানেই লেখক হিসাবে সুলতানা দিল আফরোজ এর কৃতিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

 

১৯৮৮ সাল। তাঁর জীবনের একটি মাইলফলক। তিনি সৈয়দ আশরাফ নামের একজন নিরীহ  ভদ্র সরকারি কর্মচারির জীবন সঙ্গী হিসেবে পথচলা শুরু করেন। অবশ্য তাঁর ভাষায় তিনি একজন “চতুর আমলা”, যিনি কিছু সময়ের মধ্যেই তাঁর সাথে ভাব জমিয়ে ফেলেছিলেন। যাহোক, ইতিমধ্যে কর্ণফুলী, মাতামূহুরী, সাঙ্গু, চেঙ্গী, বুড়িগঙ্গা, গড়াই, কালিগঙ্গা. পদ্মার স্রোতধারায় বিস্তর পানি বয়ে গেছে এবং তাঁরা উভয়েই পরিণত বয়সে এসে পৌঁছেছেন। দীর্ঘ তিরিশ বছরের অধিক সময়ের যুগলবন্দী অতিক্রম করে এসে যে আত্মতৃপ্তি তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে, তা’ নিঃসংশয়ে একটি সফল, ফলপ্রসূ ও আনন্দদায়ক জীবনের প্রতিচ্ছবি।

 

বইটিতে লেখকের সরল সত্য ভাষণে দুটো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়েছে। প্রথমতঃ তাঁর কমবয়সে বিবাহ সংঘটিত হয়েছিল। তাঁর যখন বিয়ে হয়, তিনি তখন আর দশটা বাঙ্গালি মেয়ের মতো গৃহকর্মে নিপুণা ছিলেন না। এমনকি এক কাপ চা কিভাবে বানাতে হয়, তা’ও জানতেন না। দ্বিতীয়তঃ অভিভাবকদের সিদ্ধান্তে আয়োজিত বিবাহ হলেও তিনি তাঁর স্বামীকে ও তাঁর পরিবারকে প্রথম দর্শনেই ভালবেসে ফেলেছিলেন। এ গুণ একাল সেকাল মিলিয়ে অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের মাঝে বিরল বৈকি।

 

অপরদিকে দুটো গুরুত্ববহ ঘটনা তাঁর জীবন পথের বাঁকে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। প্রথমতঃ তাঁর বড় মেয়ের জীবনাবসান। মেয়েটি পড়ালেখায় তো ভাল ছিলই, আচার-ব্যবহারেও খুব অল্প সময়েই সবার মন জয় করে নেয়ার অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিল। চেহারা যেমন মায়াবী, কথাবার্তাও তেমনি হৃদয়-ভুলানো। মা-বাবা তো বটেই আমরা তার প্রচন্ড গুণমুগ্ধ হয়ে উঠেছিলাম। কে জানতো সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা। নিঃসন্দেহে তার বাবা-মা মনে কষ্ট নিয়ে দিনাতিপাত করছেন। মহান সৃষ্টিকর্তা হয়তোবা তাড়াতাড়ি ওকে নিজের কাছে নিয়ে যাবেন বলেই এত গুণের সমাহার ঘটিয়েছিলেন।তিনি পরম দয়ালু ও দাতা। তিনি সবাইকে ভালো রাখুন।

 

দ্বিতীয়তঃ তাঁর ছেলের জন্মলাভ। তিনি লিখেছেন, “আমাদের সকলের মুখে হাসি ফোটাতেই এসেছে”। আবার লিখেছেন, “আমি যেন পেলাম, তাকেই পেলাম”। খুবই আবেগপ্রসূত কিন্তু জীবনের বাস্তবতা। তাঁর ছোট মেয়েটা আইসক্রিম খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল। এখন তাঁরা সকলেই ক্রমশঃ স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করলেন। সেই ছেলেটি এখন আমাদের সকলের নয়নমণি।

 

যদিও প্রেক্ষাপট ভিন্ন, তবুও আরেকটা বইয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে চাই। তা’ হলো সুনন্দা শিকদারের “দয়াময়ীর কথা”। ময়মনসিংহের প্রান্তিক গ্রাম এলাকার মেয়ে সুনন্দা বইটিতে তাঁর শৈশবকালে দেশভাগ ও দেশভাগ-উত্তর সময়কালের স্মৃতি বয়ান করেছেন। অসম্ভব সুন্দর, সম্পূর্ণ ব্যাকরণসম্মত একটি স্মৃতিকথা। ব্যাকরণসম্মত এই অর্থে যে, লেখিকা এখানে শুধু আদ্যোপান্ত স্মৃতিচারণই করেছেন – জিন্নাহ, নেহরু, কংগ্রেস বা মুসলিম লীগ প্রসঙ্গ তাঁর রচনায় একবারও আসেনি। পরিণত বয়সে তিনি তাঁর বোধবুদ্ধি ও সারল্য দিয়ে পঞ্চাশের দশকটিকে বিচার করেছেন এবং নিজের আত্মকথা লিখেছেন। নিঃসন্দেহে “দয়াময়ীর কথা” ঐ দশকের পূর্ববাংলার একটি ঐতিহাসিক দলিল হয়ে আছে। একইভাবে লেখিকা তাঁর “স্মৃতির আঙিনায়” গ্রন্থে আশি ও নবব্বইয়ৈর দশকের বাংলাদেশী সমাজের ছাপচিত্র তৈরি করেছেন, যা সম্পূর্ণ আবেগ কিংবা পক্ষপাত বর্জিত। বিশেষতঃ যে কালে আমলারা এবং তদীয় স্ত্রীগণ বিশেষ কোন মহলের গুণকীর্তন করতে গিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। আমার ধারণা, সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বইটি কালের সাক্ষী হিসাবে একদিন ইতিহাসের উপাদান হবে।

 

লেখকের জন্ম একটি আধুনিকমনস্ক গেরস্থ পরিবারে। সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকা, একসাথে ডালভাত খেয়ে বিরিয়ানীর ঢেকুর তোলা, একে অন্যের সুখে সুখী ও দুঃখে দুঃখী হওয়া, কারো বিপদে-আপদে সবাই একজোটে ঝাঁপিয়ে পড়া, ইত্যাদি এ জাতীয় পরিবারের বৈশিষ্ট্য। তাই পরিণত বয়সেও তিনি তাঁর ভাই-বোন, চাচা-ফুফু, মামা-খালা, ইত্যাদির দিক থেকে দুর সম্পর্কের কোন তস্য আত্মীয়ের খোঁজ রাখাও দায়িত্ব মনে করেন। বইটিতে তিনি হয়তোবা নিজের অজান্তেই মানুষ হিসাবে তাঁর এ বিরল গুণের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

 

সুধী পাঠক মাত্রেই বইটি পছন্দ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। মূখ্যতঃ একজন সরকারি কর্মকর্তার ছায়াসঙ্গী হিসাবে স্মৃতিকথার ঢংয়ে বইটি লেখা হলেও সকল শ্রেণীর সামাজিক মানুষেরা এতে তাঁদের জীবন গল্পের বাস্তব প্রতিচ্ছবি দেখতে পাবেন। বইটি আপনার সময়ের সদ্ব্যবহার নিশ্চিৎ করবে এবং আপনার জন্য উপভোগ্য হবে বলে মনে করি।

 

স্মৃতির আঙিনায় বইটির পর্যালোচনাটি লিখেছেন

এস এম মেসবাউল ইসলাম

সাবেক  যুগ্মসচিব

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রনালয়।

।তাের ছেলের নাম রাখবি জয়।

১৯৭১ সালের জুলাই মাস। ধানমন্ডি ১৮নং সড়কের একতলা একটা ছােট বাড়ি। এই বাড়িতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বন্দী করে রেখেছিল আমার মাকে। সাথে জামাল, রেহানা, রাসেল। আমিও আমার স্বামী, খােকা কাকা, চাচী ও তাদের ছেলে। আমি সন্তান সম্ভাবনা। মার্চ মাসের ২৩ তারিখ আব্বা যেদিন পতাকা তুললেন নিজের হাতে, সেদিন আমাকে বললেন, “তোর ছেলে স্বাধীন দেশের নাগরিক হবে। তাের ছেলের নাম রাখবি জয়।” জয় তখন চার মাসের পেটে। প্রথম সন্তান আমার কোলে আসবে। মাতৃত্বের প্রথম স্বাদ পেতে যাচ্ছি। সে এক অন্যরকম অনুভূতি যা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না।

সূত্র : শেখ হাসিনা রচনা সমগ্র- ২
প্রবন্ধ : আমি মা
পৃষ্ঠা : ৩৭৭

স্কুল খুললেই ১ হাজার টাকা পাবে শিক্ষার্থীরা

মঙ্গলবার (০১ জুন) গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও উপবৃত্তি প্রকল্প সূত্রের বরাতে একটি সংবাদমাধ্যম থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তবে করোনার কারণে যদি নির্ধারিত সময়ে স্কুল খোলা সম্ভব না হয় তাহলে জুনের মধ্যে এ টাকা পাবে শিক্ষার্থীরা।
এ প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা জানান, স্কুলের শিক্ষার্থীদের ২০২০ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ছয় মাসের উপবৃত্তি বিতরণ চলছে। এ বিতরণ শেষ হলে জুনের ১০ তারিখের পর জামা-জুতা কেনার জন্য কিডস অ্যালাউন্স বাবদ এক হাজার টাকা বিতরণ শুরু হবে।

দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার পর শিক্ষার্থীদের উপহার হিসেবে এ টাকা ১৩ জুনের পর দেয়া হবে। কোনো কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৩ জুন খোলা সম্ভব না হলেও এ টাকা বিতরণ করা হবে। এককালীন টাকা বিতরণের জন্য ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতর এ খাতের প্রয়োজনীয় অর্থও প্রস্তুত রয়েছে। সময়মত শিক্ষার্থীদের মায়ের নগদ অ্যাকাউন্টে এ টাকা পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এখন ২০২০ সালের শেষ ছয় মাসের উপবৃত্তি বিতরণ করা হচ্ছে। এটা শেষ হলেই ১৩ জুন স্কুল খুললে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসার উপহার হিসেবে জামা-জুতা কেনার জন্য এককালীন এক হাজার টাকা বিতরণ শুরু হবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, প্রায় এক বছর পর বিভিন্ন জটিলতা ও আর্থিক সঙ্কট কাটিয়ে গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসের উপবৃত্তি পাচ্ছে এ বছর জুন মাসে। ২০২০ সালে বছরের প্রথম দিন নতুন বইয়ের সঙ্গে জামা-জুতা কেনার জন্য এককালীন এক হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বছর অর্থ ছাড়ের জটিলতায় তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আর ২০২১ সালের করোনার কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে না এসে নতুন বই সংগ্রহ করেছে। ফলে এ বছরের প্রথম দিনে এ টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে প্রাথমিক স্কুলে কিডস অ্যালাউন্স পাওয়ার যোগ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখের কিছু বেশি। এ শিক্ষার্থীর কিডস অ্যালাউন্স বাবদ প্রায় ১১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপবৃত্তির দুই কিস্তির বকেয়া পরিশোধ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ২০২০ সালের উপবৃত্তির তিন কিস্তির ও এককালীন কিডস অ্যালাউন্স বাবদ ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়। এ টাকা থেকে প্রতি কিস্তি (তিন মাস অন্তর) উপবৃত্তি বিতরণ করতে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে প্রতি বছরে চার কিস্তিতে প্রয়োজন হয় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থীকে জামা-জুতা কেনার জন্য এককালীন এক হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। এতে আরও ১১০০ কোটি টাকা লাগবে।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ

আগামী বছরের (২০২২ সাল) এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করা হয়েছে। এ সিলেবাস অনুসারে ১৫০ দিনের পাঠদান শেষে এসএসসি পরীক্ষা হবে। আর এইচএসসি পরীক্ষা হবে ১৮০ দিন পাঠদান শেষে। শুক্রবার (২৮ মে) ঢাকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এ সিলেবাস প্রকাশ করা হয়।

এর আগে বুধবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এর পরই সিলেবাস দুটি প্রকাশ করল ঢাকা বোর্ড।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের এসসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ২০২১ সালে এসএসএসি পরীক্ষার্থীরা ৬০ দিন এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ৮৪ দিন ক্লাসের পর পরীক্ষায় অংশ নেবে। ২০২২ সালের পরীক্ষার্থীরা যথাক্রমে ১৫০ দিন ও ১৮০ দিন ক্লাস করবে। তারপর পরীক্ষায় অংশ নেবে।

এর আগে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান ছুটি আগামী ১২ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেন।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আগামী ১২ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে। আমাদের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে ক্লাস নিতে পারব।

গফরগাঁওয়ে প্রধান শিক্ষককে পেটালেন দপ্তরী

শ্রেণিকক্ষ খুলে পরিষ্কার করতে বলায় ময়মসিংহের গফরগাঁওয়ে প্রধান শিক্ষককে পেটালেন দপ্তরী। শুধু পিটিয়েই থেমে যাননি অভিযুক্ত ব্যক্তি, পরিবারের লোকজন ডেকে অকথ্য ভাষায় করেছেন গালাগালি। প্রকাশ্যে এমন মারধরের শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই নারী শিক্ষক।

ঘটনা বৃহস্পতিবার দুপুরের। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীলুফা খানম স্কুলে ডাকেন দপ্তরি রাকিবকে। বলেন, শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করতে। কারণ দীর্ঘ বন্ধে কক্ষগুলোতে পড়ে গেছে ধুলার আস্তরণ।

দপ্তরি রাকিব সরাসরি ক্লাসরুম পরিষ্কার করতে অপারগতা জানান। বন্ধে কোনোরকম কাজ করতে পারবে না বলে সাফ উত্তর দেন। অভিযোগ, এক কথা দু’ কথা হতে হতে স্কুলের মাঠেই প্রধান শিক্ষক নীলুফাকে মারধর করেন দপ্তরি। এসময় রাকিবের ভাই এসেও গালমন্দ করেন নীলুফাকে।

প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত প্রধান শিক্ষক নিলুফা।যমুনা নিউজকে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় অপমানে কান্না করে ফেলেন। বলেন, সে আমাকে মারার জন্য খুন্তি নিয়ে আসে। অন্যরা বাধা দেয়ায় স্কুলের মাঠে আমার মাথায় সজোরে ঘুষি মারে। আমি হেড মিস্ট্রেস, আমাকে এভাবে মারতে পারে সে!

রাকিবের বিরুদ্ধে মাদকসেবনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সে নিয়মিত গাঁজা, ইয়াবা সেবন করে। কিছু করতে বললে ক্ষেপে উঠে।

ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন দপ্তরি রাকিবকে আটকালে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পান প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছেন মারধরের শিকার শিক্ষক। পুলিশ বলছে, তারা দ্রুতই ব্যবস্থা নেবে।

গফরগাঁও পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনার কথা জেনেছি। শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে থেকে অভিযোগ পেলে সে মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

1 2 3 14