সখিপুর থানার অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ হাওলাদার মসজিদে মুসুল্লিদের কে করোনা প্রতিরোধ সচেতনতা মুলক পরামর্শ দেন

আমান আহমেদ সজীব , শরীয়তপুর প্রতিনিধি :

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ হাওলাদার জুম্মার সময় মসজিদে গিয়ে মুসুল্লিদের কে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা মুলক কথাবার্তা বলার পাশাপাশি মূল্যবান দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি নিয়ম তান্ত্রিক ভাবে প্রতি শুক্রবার সখিপুর থানার বিভিন্ন গ্রামে মসজিদে মসজিদে গিয়ে জুম্মার নামাজের সময় করোনা ভাইরাস সংক্রমণে মুসুল্লিদের সচেতন করে থাকেন। পাশাপাশি মাস্ক ব্যাবহার করার গুরুত্ব নিয়ে সাধারণ মুসুল্লিদের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করে থাকেন।
তিনি ওসি (আসাদুজ্জামান আসাদ ) বাংলাদেশ পুলিশের সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষকে বিট অফিসার বা অফিসার ইনচার্জের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন পুলিশের সেবা পেতে এখন আর কোনো দালালের প্রয়োজন নেই। আমি থানায় থাকাকালীন আপনারা যে কোনো আইনি সহযোগিতার জন্য সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। থানায় জিডি বা নিয়মিত মামলা দায়ের করতে কোনো ধরনের টাকা পয়সার প্রয়োজন নেই। তাই দালাল ধরে থানায় এসে প্রতারিত হবেন না। পাশাপাশি তিনি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
এদিকে সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করার লক্ষে এমন ভূমিকা প্রশংসা কুড়িয়েছে সখিপুর বাসীর মনে। সবাই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন নিজে এবং পরিবারকে সুস্থ রাখুন। প্রচারে,, সখিপুর থানা প্রশাসন।

সখিপুরের চরসেনসাসে অবৈধ ড্রেজিংয়ে মাটি কাটার মহোৎসব

আমান আহমেদ সজীব সখিপুর প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর চরসেনসাস ৮ নং ওয়ার্ডের খালাশী কান্দি গ্রামে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। এতে বিলীন হচ্ছে উপজেলার তিন ফসলি জমি।

উপজেলার চরসেনসাস ইউনিয়নের ড্রেজার দিয়ে প্রতিনিয়ত কৃষি জমি থেকে মাটি উত্তোলন করছে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী চক্র। গ্যার ও কাটা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় অর্ধ শতাধিক জমির মালিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেই হুমকিতে সাধারণ মানুষ, নিরুপায় হয়ে তারা এখন গ্যার ও ড্রেজার ব্যবসায়ী চক্রের কাছে জিম্মি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরসেনসাস খালাশী কান্দি গ্রামে কয়েক একর জমি নিয়ে টাকা হয়েছে মাছ চাষের গ্যার। যার ফলে এলাকার কৃষকের চোখে পানি। গ্যার এর কারনে চারো পাশে জমে থাকে পানি। নষ্ট হচ্ছে একের পর এক ফসল। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে বরে যায়। ঘর বাড়ি
তার উপর আবার ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা, বিকট শব্দের কারণে রাতে ঘুমাতে পারছেনা এলাক বাসী।

গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট তাদের দু:খের কথা বলতে গিয়ে অনেক কৃষক কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তাই এই অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারদাবি এলাকা বাসীর।

এবিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আল নাসীফ বলেন, অবৈধ ড্রেজার দিয়ে যদি কেউ মাটি কাটে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হবে, আমরা যেখানেই ড্রেজার পাই ড্রেজার বিনষ্ট করে দেওয়া হয়, এবং এ ধরনের খবর পেলেই আমরা অভিযানে যাই। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

উখিয়ায় অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিহতদের পরিবারকে স্কাসের নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান

সংবাদদাতা:

অতিবর্ষণের ফলে উখিয়ায় আকস্মিক বন্যায় নিহত ৩ পরিবারের মাঝে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে বেসরকারী সংস্থা সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস)।
৩০ জুলাই শুক্রবার নিহতদের স্বজনদের মাঝে এই সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

পরিবারের পক্ষে আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করেন, নিহত আব্দুর রহমানের স্ত্রী হাজেরা বেগম, নিহত আকবর আলীর স্ত্রী শাহীন ও নিহত আব্দুর রহিম রুবেলের শ্বশুর জাফর আলম।
এসময় তারা কান্নাজড়িত কন্ঠে সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা স্কাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা স্কাস পূর্বেও আমার ইউনিয়নে অনেক কাজ করছে। এই দুর্যোগকালীন সময়েও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করায় পালংখালী ইউনিয়ন বাসীর পক্ষে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাশাপাশি অন্যদেরও সহায়তায় এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

এছাড়াও রাজাপালং ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, বন্যায় নিহত রাজাপালং ধইল্যার ঘোনা এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে আকবর আলীর অসহায় পরিবারের পাশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহায়তা করায় স্কাস চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ভবিষ্যতেও তিনি এবং তার সংস্থা অসহায়দের পাশে দাঁড়াবেন এই আশা রাখছি।

স্কাসের প্রজেক্ট কো -অর্ডিনেটর তৌহিদুল মোস্তফা জানান, সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা-স্কাস বরাবরের মতোই দায়িত্ব হিসেবে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে। স্কাস চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমার নিজ উদ্যোগে বন্যায় নিহতদের এই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

এসময় অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্কাসের এডমিন অফিসার সজীব আবির, একাউন্টস অফিসার শহিদুল ইসলাম, উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক শ.ম গফুর, উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আকাশ, সাংবাদিক এন এইচ নিরব সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

১ আগস্ট থেকে শিল্প-কারখানা খোলা

ঢাকা- করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে আগামী ১ আগস্ট (রোববার) থেকে গার্মেন্টসহ রপ্তানিমুখী সব শিল্পকারখানা খুলে দেয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) বিকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে রফতানিমুখী সব শিল্প ও কলকারখানা বিধিনিষেধের আওতা বহির্ভূত রাখা হলো।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত দেশের রফতানিখাতসহ সব উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলে দেওয়ার দাবি জানায় ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই)।

ওই দিন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, করোনায় বিধিনিষেধের আওতায় সব শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রাণশক্তি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ ব্যবস্থা) সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আগামীতে পণ্য-সামগ্রী সঠিকভাবে সরবরাহ ও বাজারজাত না হলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এতে স্বল্প আয়ের ক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হবেন। পাশাপাশি রফতানি খাতের উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ থাকলে সময়মতো পরবর্তী রফতানি অর্ডার অনুযায়ী সাপ্লাই দেওয়া সম্ভব হবে না। এতে রফতানি অর্ডার বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শরীয়তপুরে ফাতেমা মেডিকেল সেন্টারের গাইনি বিভাগের ডাক্তার দেবশ্রী পাল এর দায়িত্ব অবহেলার কারণে ক্লিনিকের বাথরুমেই প্রসূতির মৃত বাচ্চা প্রসব

নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুরঃ

প্রথম পর্বের।
শরীয়তপুর ফাতেমা মেডিকেল সেন্টারের গাইনি বিভাগের ডাক্তার দেবশ্রী পাল ও নার্সদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে ফাতেমা ক্লিনিকের বাথরুমেই প্রসূতির মৃত বাচ্চা প্রসব।
শরীয়তপুর জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা সোহেল খানের স্ত্রী কেয়া আক্তার(২৪) এর প্রসব বেদনা উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বামী সোহেল খান তার স্ত্রীকে নিয়ে শরীয়তপুর সদর ফাতেমা মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে আসে। ফাতেমা মেডিকেলে আসার প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীর অভিভাবক সোহেল, ডাক্তার দেবশ্রী পাল কে বলেন এর চিকিৎসা এখানে করতে পারবেন তখন দেবশ্রী পাল বলেন পারব, তাদের কথা সন্দেহজনক হলে রোগীর স্বামী সোহেল রোগীকে নিয়ে ঢাকা যেতে চাইলে তখন ডা. দেবশ্রী পাল বাধা প্রদান করেন এবং বলেন ঢাকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই এর চিকিৎসা এখানে চলবে এই বলে রোগী ভর্তি নেয়।
গত ২৬ জুলাই ২০২১ সকাল সাড়ে দশটার দিকে সোহেল খান তার স্ত্রী কেয়া আক্তার কে ফাতেমা মেডিকেলে ভর্তি করেন। রোগী কেয়া আক্তার ফাতেমা মেডিকেল কেবিনে বাচ্চা প্রসব বেদনায় ছটফট করতে থাকে। ভর্তির ২ ঘন্টা চলে গেলেও প্রসূতি কেয়া আক্তার ওই হাসপাতালের ডাক্তার এবং নার্সদের কোন সেবা পায়নি। প্রসূতি কেয়া আক্তার প্রচন্ড প্রসব ব্যাথায় ছটফট করতে থাকে তখন ওই মুহূর্তে ফাতেমা মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তার ও নার্সদের ডেকে না পেয়ে,কেয়া নিজেই কষ্ট করে ঐ ক্লিনিকের বাথরুমে যায়। তখন ঐ মুহুর্তে প্রসূতি কেয়া আক্তার বাথরুমে মৃত বাচ্চা প্রসব করে। প্রসূতি কেয়া আক্তারের চিৎকারের শব্দ শুনে রোগীর স্বামীসহ অভিবাবকরা বাথরুম থেকে উদ্ধার করে ফাতেমা মেডিকেল কেবিনে নিয়ে আসে। অবশেষে ওই হাসপাতালেই প্রসূতি কেয়া আক্তারের চিকিৎসাসেবা চলতে থাকে। এদিকে প্রসূতি কেয়া আক্তারের স্বামী সোহেল খান ফাতেমা মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। তখন ওই মুহূর্তে প্রসূতি কেয়া আক্তারের স্বামী সোহেল ফাতেমা মেডিকেলের দায়িত্ব প্রাপ্তদের বলেন আমি এই বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের জানাবো। তখন ওই মুহূর্তে ফাতেমা মেডিকেল সেন্টারের গাইনি বিভাগের ডাক্তার দেবশ্রী পাল ওই হাসপাতাল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পালিয়ে যায়।প্রসূতি কেয়া আক্তারের স্বামী সোহেল এবং তার ভাই ফাতেমা মেডিকেল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল মিয়াকে বিষয়টি জানালে তিনি অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন এ কাজটি মোটেও ঠিক হয়নি আমরা এখানে বসছি রোগীর সেবা দিতে, সেবা দেওয়াই আমাদের কাজ।
প্রসূতি কেয়া আক্তারের স্বামী সোহেল খান গণমাধ্যমকে বলেন গত ২৬ জুলাই বেলা সাড়ে দশটার দিকে আমার স্ত্রীকে এই ফাতেমা মেডিকেলে ভর্তি করি। ভর্তির দুই ঘন্টার মধ্যে এই হাসপাতালে কোন ডাক্তার কোন নার্সদের সেবা পাইনি। সঠিক সময়ে সেবা না পাওয়ার কারণে আমার স্ত্রী এই হাসপাতালের বাথরুমে মৃত বাচ্চা প্রসব করে। তিনি আরো বলেন এই হাসপাতালের ডাক্তার এবং নার্সদের অবহেলার কারণে আমার স্ত্রীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত। তখন এই দায় কে নিত। সোহেল অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলেন বর্তমানে ক্লিনিকের অবস্থা এমন হয়েছে উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট। এসব ক্লিনিকে ভালো কোনো ডাক্তার নেই ভালো কোন নার্স নেই।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আশেপাশে ব্যাঙের ছাতার মতো ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। রোগীরা প্রকৃত সেবা পাচ্ছে না, এবিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনা উচিত।

দ্বিতীয় ঘটনা:
ক্লিনিকে ভর্তি কৃত ভুক্তভোগী প্রসূতির বড় বোন গণমাধ্যমকে বলেন গতকাল ২৫ তারিখে আমার বোন সীমাকে এই ফাতেমা ক্লিনিকে ভর্তি করাই সিজারে জন্য। তারা রোগীদের কোন গুরুত্ব দেয় না তাদের যে কাজ করা দরকার তারা সেটাও করে না। আমার বোন সীমাকে ডাক্তার দেবশ্রী পাল দুইবার অপারেশন করেছে। ছেলে বাবু হয়েছে রোগীর অবস্থা একটু ভালো। আমার বোনকে দুইবার কেন অপারেশন করল আপনারা ডাক্তার মহিলা কে জিজ্ঞেস করেন।

সখিপুরে ধর্ষণের অপমান সইতে না পেরে গলায় দড়ি বেঁধে আত্মহত্যা করেন সুমাইয়া

ভুক্তভোগী ওই কিশোরী উক্ত এলাকার লেবানন প্রবাসী শাহেনসা খানের মেয়ে।

এ ঘটনায় নিহত মাদ্রাসাছাত্রীর মা ফেরদৌসী ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার ডিএমখালি ইউনিয়নের আজিজ হাওলাদারের ছেলে কাদের হাওলাদার (কাজল) ও কামাল সরদারের ছেলে নিক্সন সরদারকে অভিযুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে সখিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশ মামলা নেয়নি।

বুধবার (২৮ জুলাই) মাদ্রাসাছাত্রীর মা নিউজ ২৪লাইন ডেক্স কে বলেন, আমার মেয়ে সুমাইয়া মাদ্রাসা যাওয়ার পথে কাদের ও তার বন্ধু নিক্সন প্রায় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করতো কিন্তু সুমাইয়া না করে দিয়েছিলো। কিন্তু কাদের তা না শুনে একই কাজ করতেই থাকতো। এক সময় কাদেরর প্রেমে রাজি হয় সুমাইয়া। আমি জানতে পেরে কাদেরকে ডেকে এনে বুঝিয়ে বলি। সুমাইয়া এখনও ছোট প্রাপ্ত বয়স হলে আমি তোমার কাছে সুমাইয়াকে বিয়ে দিব।

তিনি বলেন, কাদেরর বন্ধু নিক্সনের ঘর আমাদের ঘর একই বাড়িতে হওয়ার কারণে কাদের নিক্সনের বাসায় এসে প্রায় সুমাইয়ার সাথে দেখা করতো। একইভাবে ১১ জুলাই নিক্সনের বাবা-মা বেড়াতে গেলে। নিক্সনের ঘর ফাঁকা পেয়ে রাতে কাদের সুমাইয়াকে ডেকে নিয়ে গিয়ে দুইজনে মিলে ধর্ষণ করে। আমার হঠ্যাৎ ঘুম ভেঙে যায় সুমাইয়ার চিৎকারে। আমি সেখানে গেলে কাদের ও নিক্সন পালিয়ে যায় এবং ধর্ষণের সময় ভিডিও ধারণ করে। পরে নিক্সনের পরিবার আমার মেয়েকে তাদের ঘরে গেছে কেন তাই গালামন্দ করে। আমার মেয়ে ধর্ষণের অপমান সইতে না পেরে ১৩ জুলাই বিকেলে আমি বাজারে গেলে ঘর ফাঁকা পেয়ে গলায় দড়ি বেঁধে আত্মহত্যা করে। পরে সখিপুর থানায় কাদের ও নিক্সনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেই কিন্তু এখনো কোন মামলা হয় নাই।

অভিযুক্ত নিক্সনের মা লাকি বলেন, সেই রাতে আমরা বাসায় ছিলাম না, আমার ছেলে তার বন্ধু বান্ধব নিয়ে রাতে ফুটবল খেলা দেখার কথা ছিলো। কিন্তু তারপর কি হয়েছে আমি তা জানি না

ডিএমখালি ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন হক আবু বলেন, আমি যতটুকু শুনেছি সুমাইয়া নামক এক মাদ্রাসা ছাত্রী তার মায়ের সাথে অভিমান করে গলায় দড়ি বেঁধে আত্মহত্যা করেছে। আমি ঘটনা শুনতে পেরে তাৎক্ষণিক ভেদরগঞ্জ হাসপাতালে ছুটে যাই। পরবর্তী সখিপুর থানার পুলিশের সাথে মিলে পোস্ট মোর্টেমের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠাই।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়ে জানানো হলেও এ ঘটনায় সখিপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে সখিপুর থানা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান দৈনিক অধিকারকে বলেন, মেয়েটি মোবাইলে ফোনে কথা বলতো ঠিকমতো পড়াশোনা করতে না তাই তার মা বকাঝকা করছে। তাই তার মায়ের সাথে অভিমান আত্মহত্যা করেছে। ধর্ষণের কোন অভিযোগ আমাদের কাছে দেওয়া হয় নাই। অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে।সেই পরিপেক্ষিতে সুরতহাল আমরা সেই ভাবে করে করে পোস্ট মোর্টেমের জন্য পাঠাই।

দুই যুগ ধরে গর্তে শিকলবন্দী ফরিদপুরের রবিউল

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে শিকলবন্দী অবস্থায় জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মানসিক ভারসাম্যহীন রবিউল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবক।

জানা যায়, রবিউল উপজেলার ময়না ইউনিয়নের পশ্চিম চরবর্ণী গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। তার বাবা পেশায় একজন ভ্যানচালক।

রবিউলের বাবা নুরুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘রবিউল আমার বড় ছেলে। ওর বর্তমান বয়স ৩০ বছর। ওর বয়স যখন ১০ বছর তখন হঠাৎ করে একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারপর থেকে আস্তে আস্তে শরীর শুকিয়ে যায়। স্থানীয় ছাড়াও জেলা সদর থেকে শুরু করে বড় বড় ডাক্তার, কবিরাজ, ফকির, হুজুরের সব ধরনের চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। দিন দিন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ভাঙচুর-পাগলামি করার কারণে মাজায় ও পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘অভাবের সংসারে কেউ খোঁজ নেন না। কয়েকদিন আগে বোয়ালমারী উপজেলার ছোলনা গ্রামের বাসিন্দা সুমন রাফি খোঁজ পেয়ে কোরবানির মাংস, চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী নিয়ে দেখতে এসেছিলেন। নগদ কিছু টাকাও দিয়েছেন। সুমন রাফির কারণে এবার পরিবারের সবাই মিলে কোরবানির মাংস খেয়েছেন। কষ্টের মধ্যেও ঈদটা ভালো কেটেছে। তাকে আল্লাহ যেন অনেক ভালো রাখেন।’

রবিউলের ছোট ভাই ইানামুল হোসেন জানান, ‘আমি জন্মের পর থেকেই বড় ভাইটার এই অবস্থা দেখে আসছি।বর্তমানে ভাই যে ঘরে থাকে এখানে আমাদের মুদি দোকান, ঘর ছিল। দীর্ঘ প্রায় একযুগেরও বেশি এই ঘরেই আমার ভাইটা এইভাবে পড়ে আছে। ঘরটিতে নেই কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ। মাজায় ও পায়ে শিকল দিয়ে বাঁধা। সারাদিন শুধু হাত দিয়ে মাটি খুঁড়ে। হাঁটতে পারে না, কথা বলতে পারে না। শরীরে কোনো কাপড়-চোপড় রাখে না।’

এ ব্যাপারে স্থানীয় ময়না ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য (মেম্বার, ৬নং ওয়ার্ড) মো. মোস্তাফিজুর রহমান চু্ন্নু বলেন, রবিউল মানসিক ভারসাম্যহীন। দীর্ঘ প্রায় একযুগের বেশি তাকে শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছে। তবে তারা সাহায্য-সহযোগিতার জন্য কখনো আসেন না। তারপরও সামনে কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা আসলে তাদের পরিবারে খোঁজ নেয়া হবে।

1 2 3 222