শরীয়তপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল করে ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ

শরীয়তপুরের নাড়িয়া পৌরসভার নবগ্রাম এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃরওশন আলী শিকদারের জমি দখল করে বাউন্ডারি ওয়াল ও নির্মানাধীন ভবনের সাইট ভেঙে পৌরসভার রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের অভিযোগ।

এ ঘটনায় মেয়র এর নিকট অভিযোগ করেছেন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে প্রফেসর আব্দুল লতিফ তাতে কোন সুফল পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার ।
হঠাৎ করেই বোলডজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় বাউন্ডারি ওয়াল ও বসত ঘরের সাইট ওয়াল এ সময় অভিযুক্তরা বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এবং হুমকি-ধমকি দিয়ে ঐ স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
মেয়র স্বরেজমিনে পরিদর্শন করেন , তবে ভুক্তভোগী পরিবার জানান নির্মাণের সময় নড়িয়া পৌরসভার নিকট হইতে লিখিত অনুমোদন নিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল এবং বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে । এছাড়াও ল্যান্ড সার্ভে টাইবুনাল আদালত শরীয়তপুরে ২৩/২০২১ একটি মামলা চলমান রয়েছে।

আব্দুল লতিফ বলেন, আমি অসুস্থ মানুষ আমার সন্তানাদি নিয়ে আমি ঢাকায় বসবাস করি । প্রভাবশালী মহল সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমার জমি দখলের পায়তারা করছে,আমি চাই পৌরসভার উন্নয়ন হোক তবে উন্নয়ন কাজে যদি জমি দিতে হয় উভয় পাশ থেকে নিতে হবে সে ক্ষেত্রে কেন আমার উপর সব চাপিয়ে দেয়া হবে আমি সুস্ঠ বিচার চাই।
আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিব যদি সমাধান না হয় তাহলে আমি আইনের আশ্রয় গ্রহণ করব ।

উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে নড়িয়া পৌরসভার মেয়র অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অরে লাথি দিয়ে ওর জামি সুডাইয়া হালাইম অয় একএক জায়গায় জাইয়া টাকা হাদে রাস্তার যা দরকার দুইপাশ থেকে সমানভাবে নিতাছি, ওর বিল্ডিং এর অনুমোদন নাই বিল্ডিং ভাঙ্গা দিমু

দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর আন্দোলনের পর ফরিদপুর স্টেশনে থামলো চন্দনা কমিউটার ট্রেন

মো:টিটুল মোল্লা “বিশেষ প্রতিনিধি।। 

ফরিদপুরে দীর্ঘদিন আন্দোলনের পর অবশেষে স্টপেজ পেয়েছে চন্দনা কমিউটার ট্রেন। গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো ফরিদপুর স্টেশনে থামে ট্রেনটি। এতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আন্দোলন কারীরা। ভোরে ৫:৩৫ মিনিটে ফরিদপুর লক্ষীপুর রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ প্রতীক্ষা নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন আন্দোলন কারীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালে করতালির মধ্যে স্বাগত জানান তারা। এরপর সেখানে দুই মিনিট অবস্থান করে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় ট্রেনটি। ট্রেনটির স্টপেজের দাবিতে প্রায় আড়াই মাস যাবত আন্দোলন চলছিল। এ ব্যাপারে বেশ কয়েকজন তরুণ জানান এটি আমাদের দীর্ঘ দুই মাসের আন্দোলনের ফসল। ট্রেনটি ফরিদপুরের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু কোনো স্টপেজ ছিল না। ফরিদপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, তরুণ সমাজসহ ফরিদপুরবাসীর দীর্ঘদিন আন্দোলনের পর আজ তা বাস্তবায়িত হলো। আমরা রেলমন্ত্রী ও রেল কর্তৃপক্ষকে ফরিদপুরবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা বলেন আমরা সকালে ঢাকায় অফিসও করতে পারব এবং প্রয়োজনীয় কাজ শেষে সন্ধ্যায় আবার ফিরে আসতে পারবো। এ বিষয়ে ফরিদপুর সহকারী স্টেশন মাস্টার সুজাত আলী সরদার জানান, সপ্তাহে শুক্রবার ব্যতিত ছয়দিন ট্রেনটি চলবে এবং ফরিদপুর স্টেশনে থামবে। এ বিষয়ে আমরা নির্দেশনা পেয়েছি। সেই মোতাবেক মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো এখানে থেমেছে। ট্রেনটি প্রতিদিন রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে ফরিদপুর স্টেশনে এসে পৌঁছাবে এবং দুই মিনিট অবস্থান করে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। তবে, ফরিদপুর স্টেশন থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত টিকিট পাওয়া যাবে এবং ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ টাকা। এছাড়া ভাঙ্গায় গিয়ে নাম পরিবর্তন হওয়ার কারণে নতুন করে টিকিট কেটে নিতে হবে। একইভাবে ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৬টায় ছেড়ে আসবে এবং রাত ৮টায় ফরিদপুরে পৌঁছাবে। গত ৪ মে মাদারীপুরের শিবচরে এক অনুষ্ঠানে রাজবাড়ী-ভাঙ্গা-রাজবাড়ী রুটে ‘চন্দনা কমিউটার’ ও ভাঙ্গা-ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে ‘ভাঙ্গা এক্সপ্রেস’ নামে কমিউটার ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম। ট্রেনটি ফরিদপুর স্টেশন হয়ে যাচ্ছিল কিন্তু কোনো স্টপেজ না থাকায় মানববন্ধন, ট্রেন অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকি কাফনের কাপড় পরে তারা ট্রেনটির গতিরোধ করেন। তাদের সেই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন ফরিদপুরের বিশিষ্টজনেরা। অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত সফলতা পেল ফরিদপুরবাসী।

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ নেতা’সাকিব আহমেদ(সেকেন মোল্লা)’কে হত্যা চেষ্টাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন 

মো:টিটুল মোল্লা,ফরিদপুর।।

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের “কানাইপুর বাজার বনিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শামীম হক ফ্যান্স ক্লাবের কানাইপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি “সাকিব আহমেদ (সেকেন মোল্লা)’কে কুপিয়ে গুরুতর আহত ও হত্যার চেষ্টার প্রতিবাদে মানবন্ধন ও এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬ জুলাই শনিবার বিকালে কানাইপুর এলাকাবাসী ব্যানারে এ মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানবন্ধনে বক্তারা বলেন গত ৪ (জুলাই)বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ১০-৩০ মিনিটের দিকে কানাইপুর হলপট্টির সামনে রাস্তার উপর রানদা,চাপাতি, ছুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে সেকেনকে কুপিয়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এদের মধ্যে ছিলো কানাইপুর মালাঙ্গা’র বাসিন্দা বাবলু বিশ্বাসের ছেলে আরিফ বিশ্বাস(৩২), আনজার আলীর বিশ্বাসের ছেলে তানভীর বিশ্বাস(২৭), বাকি মোল্লার ছেলে ইলিয়াস মোল্লা (৩২), বাকি মোল্লার ছেলে পারভেজ মোল্লা(২৭) সহ আরো অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জনের একটি সংঘব্ধ দল মিলে রানদা,চাপাতি,ছ্যান,ছুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। বক্তারা সেকেনকে একজন নম্র ভদ্র ও একজন বিশিষ্ঠ সমাজসেবী আখ্যায়িত করে তারা বলেন শান্ত কানাইপুরকে অশান্ত করার জন্য একদল মাদকসেবী দিনের পর দিন অসহায় মানুষের উপর অত্যাচার চালিয়ে আসছে। আজ সেকেসেন উপর হামলা হয়েছে। কাল আমার আপনার উপরও এ ধরনের হামলা করবে। তাই এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা। একই সাথে বক্তারা হুশিয়ারী দিয়ে বলেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে কানাইপুর ইউনিয়বাসী কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। এ বিষয়ে আহত মো:সাকিব আহমেদ(সেকেন মোল্লা)’র ছোটো ভাই উজ্জ্বল মোল্লা অভিযোগ করে বলেন,ইলিয়াস মোল্লা, তানভীর বিশ্বাস,পারভেজ মোল্লা, এবং আরিফ বিশ্বাস’সহ কয়েকজন ভিনদেশ/জেলা থেকে আশা একজন পুরুষ ও মহিলাকে আটকে ধরে টাকা পয়সা নেওয়ার জন্য একটা ধান্দা করছিলো। পরে আমার বড় ভাই সাকিব আহমেদ(সেকেন মোল্লা)সহ স্থানীয় কয়েকজন মিলে এক জায়গায় বসে বিষয়টি মিটিয়ে দেন এবং ওদের কাছ থেকে বহিরাগত দু’জনকে ছাড়িয়ে দেন। এতে করে ইলিয়াস মোল্লা, তানভীর বিশ্বাস,পারভেজ মোল্লা, এবং আরিফ বিশ্বাস’সহ যারা ছিলেন তারা প্রায় সব কজন ছিলো কানাইপুরের মালাঙ্গা এলাকার। তারা বিচারে সন্তুষ্টি হতে পারেননি। এজন্যই তারা আমার ভাইয়কে এভাবে তারা কুপিয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান শাহ মো: আলতাফ হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জুলফিকার আলি মিনু মোল্যা, সাধারন সম্পাদক সাইফুল আলম কামাল, কানাইপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতিসহ শামীমহক ফ্যানস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ, কানাইপুর বাজার বনিক সমিতির ব্যবসায়ী,স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গসহ সংবাদকর্মীরা ।।

বৃক্ষমেলার নামে চলছে গাছের সঙ্গে তামাশা

নিউজ২৪লাইন
বৃক্ষমেলার মাঠ জুড়ে ফুসকা-চটপটিসহ কসমেটিকস, প্রসাধনীর দোকান। আর এক কোণে পড়ে রয়েছে একটি মাত্র গাছের চারা বিক্রির দোকান। এমন মেলাকে কেউ বলছেন গাছের সঙ্গে তামাসা, আবার কেউ বলছেন বৈশাখী মেলা বা বাণিজ্য মেলা। বৃক্ষমেলার মূল ফটকে মেলার আয়োজক বন বিভাগ লেখা থাকলেও বন বিভাগ জানিয়েছে তারা কোনো মেলার আয়োজন করেনি। এমন বৃক্ষমেলার সার্বিক সহযোগিতা উপজেলা প্রশাসন করলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল এই মেলাকে বৃক্ষমেলা হিসেবে মানতে নারাজ।
শুক্রবার (৫ জুলাই) এমন একটি বৃক্ষ মেলা দেখা গেছে, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠ প্রাঙ্গণে।
জানা যায়, গোসাইরহাটে বৃক্ষরোপণকে উৎসাহিত করতে ‘আজকের গাছ আগামি দিনের ভবিষ্যৎ’ স্লোগানকে সামনে রেখে বৃক্ষমেলার আয়োজন হবে, এমন সংবাদকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছিল উপজেলাবাসী। কিন্তু পহেলা জুলাই থেকে শুরু হওয়া দশদিন ব্যাপী বৃক্ষমেলার বাস্তব চিত্র দেখে গাছের চারা রোপণে আশাহত হয়েছেন উপজেলাবাসী।
মেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মেলায় সর্বমোট দোকান বসেছে ৩৯ টি। এরমধ্যে ৩৮ টি দোকানই বিভিন্ন মুখরোচক খাবার ফুসকা-চটপটি, কসমেটিকস, প্রসাধনীসহ শিশুদের খেলনার বিভিন্ন রাইড দিয়ে সাজানো। মেলার এক কোণে পড়ে রয়েছে মান্নান নার্সারী নামে একটি গাছের চারা বিক্রির দোকান। মেলায় আসা দর্শনার্থীদের গাছের চারা বিক্রির ওই দোকানটি ছাড়া বাকি সকল দোকানেই ভীর করতে দেখা গেছে। বৃক্ষমেলায় গাছের চারা বিক্রির ওই দোকানটিতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র ২ হাজার বিক্রি হলেও মেলার মাঠের প্রধান অংশসহ পুরো জায়গা জুড়ে ফুসকা, চটপটি, আঁচার, কসমেটিকস, প্রসাধনী, দা-বটির দোকানসমূহের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাদের গড় বিক্রি প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। বৃক্ষমেলায় আসা দোকান মালিকদের কোনো ভাড়া দিতে হবে না বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। তবে দোকানদের মধ্যে অনেকেই জানিয়েছেন প্রতিদিন ১ হাজার বা তার চেয়ে কিছু কমবেশি ভাড়া দিতে হবে আয়োজক কমিটিকে।
এমন বৃক্ষমেলার প্রধান ফটকে আয়োজক বন বিভাগ শরীয়তপুরের নাম লেখা থাকলেও গোসাইরহাটে এমন কোনো বৃক্ষমেলা বন বিভাগ আয়োজন করেনি বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। কিন্তু গোসাইরহাট উপজেলা প্রশাসন বলছে মেলাটির আয়োজক বন বিভাগ, সার্বিক সহযোগিতা করেছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় পরিবেশ কর্মী, রাজনৈতিক কর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, এই মেলা দিয়ে উপজেলায় বৃক্ষরোপণের কোনো উপকার হবে না। বরং মানুষ গাছের চারা রোপণ করার জন্য যে টাকা বরাদ্ধ রেখেছিল, সেই টাকায় বৃক্ষমেলা থেকে কসমেটিকস, প্রসাধনী কিনে আঁচার-ফুসকা খেয়ে বাড়ি যাবে।
মো. আনোয়ার হোসেন বৃক্ষমেলায় দা-বটিসহ গৃহের আসবাবপত্র সাজিয়ে দোকান দিয়েছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুলাই মাসের ১ তারিখে মেলা শুরু হয়েছে, চলবে ১০ তারিখ পর্যন্ত। এখনো পর্যন্ত আমার কাছ থেকে ভাড়া নেয়নি। তবে ভাড়া নিবে। কেননা মেলার তো খরচ রয়েছে। নৌকার দোকানদারসহ (শিশুদের খেলার রাইড) কয়েকজন দায়িত্বে রয়েছে। তারা আমাদের থেকে ভাড়া নিয়ে মেলার আয়োজকদের বুঝিয়ে দিবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুখরোচক খাবারের এক দোকানদার বলেন, দশদিন ব্যাপী এই মেলায় বৃষ্টির কারণে তেমন বিক্রি হচ্ছে না। কিন্তু প্রতিদিন এক হাজার টাকা ভাড়া দিতে হবে মেলা আয়োজক কমিটিকে। বিক্রি না হলে দশদিনে ১০ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে তেমন লাভ হবে না আমাদের।
শিশুদের বিনোদনের জন্য মেলার একপাশে রয়েছে ভূতের বাড়ি। শিশুদের বিনোদনের এই দোকানটির কর্মচারী ফজল বলেন, আমি প্রতিটি টিকেট ৪০ টাকায় বিক্রি করি। প্রতিদিন ১০ হাজার টাকার বেশি বিক্রয় হয়। ভাড়ার বিষয়টি মালিক পক্ষ জানে, আমি এবিষয়ে কিছুই জানি না।
মেলার একমাত্র নার্সারীর দোকান কর্মচারী রবিউল বলেন, আগের মতো মানুষ এখন আর গাছ কিনে না। দোকানে এসে মানুষ গাছের নাম ও দাম জিজ্ঞেস করে চলে যায়। অধিকাংশ মানুষ মেলার নৌকা ও নাগরদোলায় চড়ে আনন্দ করে, গাছ কিনে না। তবে কেউ কেউ এসে গাছ কিনে। গাছের প্রতি মানুষের তেমন কোনো আগ্রহ নেই। আজ শুক্রবার তেমন বিক্রি হয়নি। গতকাল পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি।
নার্সারিটির মালিক মো. মান্নান হাওলাদার বলেন, আমার মূল নার্সারী মাদারীপুরে। তবে একটি বাগান শরীয়তপুরের পশ্চিম কোটাপাড়া এলাকায়ও রয়েছে। বৃক্ষমেলায় একটি মাত্র গাছের চারা বিক্রির দোকান, বিষয়টি তেমন ভালো দেখায় না। অন্যান্যদেরও আসতে বলা হয়েছিল, তবে তারা আসেননি।
টুম্পা দেবনাথ নামে এক দর্শনার্থী বলেন, বৃক্ষমেলায় তো বৃক্ষ থাকার কথা। কিন্তু বৃক্ষর দোকানটি ছাড়া অন্য দোকানগুলোতে ভীর বেশি। বৃক্ষ মেলায় বৃক্ষ থাকলেই ভালো হতো।
মাহমুদা নামে একজন কসমেটিকসের দোকানে কেনাকাটা করছিলেন, এমন সময় তার সঙ্গে কথা হয় তার প্রশ্ন, মেলায় গাছের চারার দোকান আছে? থাকলে দোকানটি কই? তাকে দোকানটি দেখিয়ে দিলে তিনি বলেন, এটা কখনো বৃক্ষমেলা হতে পারে না।
বৃক্ষ মেলা উপলক্ষ্যে মেলায় এসেছেন মো. মনির হোসাইন। তিনি বলেন, আমি গতকালকেও মেলায় এসেছিলাম। আমার কাছে বিষয়টি অস্বস্তিকর মনে হয়েছে। মনে করেছিলাম অনেক ধরণের গাছ পাওয়া যাবে। কিন্তু এসে দেখলাম তেমন গাছ নেই। কেনার মতো কোনো গাছ পাইনি। মনে হয় বাণিজ্য মেলায় এসেছি। এই মেলাটি তরুণ প্রজন্মের জন্য বা উপজেলাবাসীর জন্য কোনো সুখবর বয়ে আনবে বলে আমার মনে হয় না। কারণ, বৃক্ষমেলায় বৃক্ষ নেই।
হুমায়ুন শিকদার গোসাইরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি বলেন, বৃক্ষমেলাটি কী বৃক্ষমেলায় রূপান্তর হলো নাকি আনন্দ মেলায় রূপান্তর হলো? এ প্রশ্ন আমার। আসলে যে উদ্দেশ্যে এখানে বৃক্ষমেলাটি আয়োজন করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে, সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়নি। এটা নামে মাত্র বৃক্ষ মেলা বলেই আমি মনে করি। মেলার মাঠ ঘুরে আমি যা দেখলাম, এটা কখনো বৃক্ষ মেলা হতে পারে না। বৃক্ষমেলা যেন, বৃক্ষ মেলাই হয়, এই দাবি রাখছি।
গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ঢালী বলেন, আপনাকে ধন্যবাদ এই কারণে যে এমন একটি বিষয় নিয়ে আপনি লিখতে যাচ্ছেন। আমি গত ৩০ জুন দায়িত্ব শেষ করেছি। আমার শেষ অফিসের দিন দেখেছি, ইউএনও মহোদয় মাঠে মেলার জন্য দোকান নির্মাণ করছেন। কিন্তু আমি জানতাম না, এখানে কিসের মেলা হবে। বৃক্ষমেলায় সাধারণত গাছের চারা বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু মেলায় মাত্র একটি নার্সারীর দোকান থাকবে, এ কেমন বৃক্ষমেলা! বিষয়টি গোসাইরহাট উপজেলাবাসীর জন্য লজ্জ্বাসহ দুঃখজনক। এটা কখনোই বৃক্ষমেলা হতে পারে না।
বৃক্ষমেলার বিষয়ে কিছুই জানেন না নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান এমদাদ হোসেন বাবলু মৃধা। তিনি বলেন, আমি ঢাকায় ছিলাম। মেলা কোথায় হচ্ছে, কীসের মেলা হচ্ছে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। হয়ত আমার চেয়ারম্যান অথবা সাবেক জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি জানেন।
বিষয়টি নিয়ে শরীয়তপুর বন বিভাগের বন কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, মূল ফটকে কী লেখা রয়েছে তা আমি জানি না। গোসাইরহাটে মেলা করার জন্য বন বিভাগের কোনো বরাদ্দ নেই। কোনো আয়োজনও বন বিভাগ করেনি। নার্সারী মালিক সমিতির আবেদনের পরে একদিন মিটিংয়ে জেলা প্রশাসন বলেছিল উপজেলা প্রর্যায়ে বৃক্ষমেলা মেলার আয়োজন করার জন্য। তবে আমাদের বরাদ্দ নেই বলে আমরা জানিয়েছিলাম। গোসাইরহাটের বৃক্ষমেলাটির আয়োজন হয়ত উপজেলা প্রশাসন করেছে। আয়োজকের স্থলে বন বিভাগের নাম তারা হয়ত ভুলে লিখেছে।
বৃক্ষমেলার নামে ৩৯ টি দোকানের মধ্যে একটি মাত্র দোকান গাছের চারা বিক্রি করার, বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, এই বিষয়টির ব্যাখ্যা আমি দিতে পারব না, আপনি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলুন।
বৃক্ষমেলা নিয়ে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আহমেদ সাব্বির সাজ্জাদ বলেন, মেলাটি বন বিভাগ আয়োজন করেছে, তা মূল ফটকে লেখা রয়েছে। মেলাকে সার্বিক সহযোগিতা করছে উপজেলা প্রশাসন। আর ভাড়া নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। কারণ সরকারি মাঠে মেলা করতে আবার কীসের ভাড়া? উর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া তিনি আর কোনো প্রশ্ন শুনতে বা বক্তব্য দিতে রাজি হোননি।

বিদ্যুৎ এর মিটার কারসাজি ধরায় সাংবাদিক ও তার পরিবারের উপর হামলা

মো:টিটুল মোল্লা”ফরিদপুর।।

ফরিদপুর সদরের কৈজুরী ইউনিয়নে বিদ্যুৎ এর মিটার কারসাজির বিষয়টি ধরে ফেলায় সাংবাদিক রবিউল হাসান রাজিব ও তার পরিবারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার পর থেকে সাংবাদিক ও তার পরিবার নিরাপত্বাহীনতায় ভুগছে।সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনার বিষয়টি কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

হামলার শিকার সাংবাদিক রবিউল হাসান রাজিব। তিনি দৈনিক মুক্ত খবর ও মর্নিং গ্লোরি নামের পত্রিকার ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি।

থানায় দেয়া অভিযোগ ও সাংবাদিক রাজিবের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তার বাড়ী কৈজুরী ইউনিয়নের কৈজুরী গ্রামে। তার বাড়ীর পাশেই জামাল মল্লিক গং দীর্ঘদিন যাবত ব্যাটারী চালিত ইজি বাইক, অটো রিক্সা/ভ্যান চার্জ দেয়ার ব্যবসা করে আসছে। তারা সেখানে প্রতিদিন ৪০/৫০ টি অটো চার্জ দেয়। অভিযোগ উঠে যে তারা মিটার কারসাজি করে বিদ্যুৎ বিল কম দিয়ে আসছে। খবর পেয়ে প্রথমে ঘটনার সত্যতা জানার চেষ্টা করে রাজিব, তখন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে বিয়ষটি বিদ্যুত বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন তিনি। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন এবং অভিযুক্তদের অফিসে ডেকে নেন। খবর পেয়ে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও ঘটনাস্থলে যান।

এরপর গত ১ জুলাই অভিযুক্তরা বিদ্যুৎ অফিসে হাজির হয়ে মুচলেকা দিয়ে আসে। বাড়ী ফিরে এসেই তারা হুমকি দিতে থাকে, যে আমরা বিদ্যুৎ বিল দেই বা নাই দেই তাতে রাজিবের কি, ও কেন অভিযোগ দিলো, কেন সাংবাদিকদের জানালো, ওকে যেখানে পাবো সেখানেই মারবো।

রাজিব জানায়, গত ২ জুলাই বাড়ীর সামনে ইউপি সদস্য রাহাতুল হাসানের সাথে কথা বলছিলাম। এ সময় অতর্কিতভাবে অভিযুক্ত জামাল মল্লিক, রাজ্জাক মল্লিক, ইমরান মল্লিক, সাহিদ মল্লিক, সাকিব মল্লিক, নাছিমা বেগমসহ আরো ৫/৬ জন লাঠিসোটানিয়ে অতর্কিতভাবে আমার উপর হামলা করে। এসময় রাজিবের স্ত্রী তানিয়া আক্তার স্বামীকে বাচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও মারপিট করে হামলাকারীরা। রাজীবের ৬ বছরের কন্যা রাফিয়া তাসনিম বাবাকে ধরে কান্নাকাটি করলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। ঘটনার সময় ভিডিও করতে গেলে রাজীবের ও তার স্ত্রীর মোবাইল ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। পরে ইউপি সদস্য মোবাইল ফোন উদ্ধার করে ফেরত দেয়। আমার চিৎকারে আশে পাশের বাড়ির লোকজন বের হয়ে এসে হামলাকারীদের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা নেই আমি।

রাজীব জানায় বিষয়টি নিয়ে তিনি কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্বাহীনতা ভুগছেন বলে জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রাহাতুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনা আমার উপস্থিতিতেই হয়েছে। জামাল মল্লিক আমার কাছে নালিশ দিয়েছিল যে সে বিল দেক বা না দেক, রাজিবের এইটা নিয়ে মাথা ব্যাথা কেন, তুমি এইটা দেখ নইলে রাজিবকে মারবো। তখন আমি বলছি, মারামারির দরকার নেই, আমি দেখতেছি। আমি তখন রাজিবকে বাড়ির সামনে ডেকে নিয়ে এই ব্যপারে কথা বলতেছিলাম, ওই সময়েই জামাল মল্লিক, তার ছেলে ও শ্যালকরা মিলে ঘিরে ধরে ঘটনাটা ঘটায়।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসানুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডামুড্যায় দুই নারীকে মারধর-বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে

বিশেষ প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই নারীকে মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
গত সোমবার (২৪ জুন)দুপুর ৩ ঘটিকায় ডামুড্যা উপজেলার চর ধানকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৭ জুন অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা করেন চর ধানকাঠি গ্রামের সুমাইয়া আক্তার (২২)।
অভিযুক্তরা হলেন,১। সালাম ঢালী (৫৪)২।লিপি বেগম (২৫), ৩। আলেয়া বেগম(৩৫), ৪। ফাতেমা বেগম (২৪) ৫। আকাশ চৌকিদার(১৯)৬। তাজুল ইসলাম সরদার (৫৩)৭। সুজন সরদার(২০)সর্ব সাং ডামুড্যা থানার চর মালগাও হাওলাদার কান্দি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,গত সোমবার(২৪ জুন)দুপুর ৩ ঘটিকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভূমি দস্যু অভিযুক্তরা লাঠিসোঠা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে সুমাইয়া আক্তার এর স্বামীর বসত বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে অশ্লীল ভাষায় গাল মন্দ করতে থাকে৷ এ সময় সুমাইয়া আক্তার বাড়ি থেকে বের হয়ে গাল মন্দের প্রতিবাদ করলে ১নং আসামির হুকুমে অভিযুক্তরা সবাই তাঁকে এলোপাথাড়ি ভাবে লাথি ঘুষি দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্নস্থানে রক্তাক্ত যন্ত্রনা দায়ক জখম করে।

পরে সুমাইয়া আক্তার চিৎকার করলে তার শ্বাশুড়ি মাজেদা বেগম এগিয়ে এসে অভিযুক্তদের হাত থেকে রক্ষা করতে গেলে তখন অভিযুক্তরা তাঁকেও মারধর করে ছেনতা দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি মারাত্নক ভাবে রক্তাক্ত হয়ে জখম হোন।পরবর্তীতে এই সুযোগে অভিযুক্তরা তাদের গলায় রক্ষিত ২ ভরি চেইন ছিনিয়ে নিয়ে বাড়ির দরজা ভেংগে আলমারি থেকে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও সোকেস থেকে দুইটি মোবাইল ফোন যার মূল্য ষাইট হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ঘর লুটপাট করে ভাংচুর করে।
পরে কান্নাকাটির ডাক চিৎকারে অভিযোগের সাক্ষীরা সহ আশপাশের লোকজন এসে অভিযুক্তদের হাত থেকে তাঁদের রক্ষা করে। এ সময় অভিযুক্তরা খুন জখমের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ।পরে এলাকাবাসী সুমাইয়া আক্তার ও তার শ্বাশুড়ি মাজেদা বেগম কে উদ্ধার করে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকে ভর্তি রাখে।
ডামুড্যা থানার এস আই শরিফুজ্জামান বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি সব কিছু সরেজমিনে দেখেছি।

রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক বাবুলের যোগসাজশে খুরুশকুল-পিএমখালিতে ৫০ পয়েন্টে অবাধে পাহাড় নিধন ও বালি বিক্রি চলছে

রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক বাবুলের যোগসাজশে খুরুশকুল-পিএমখালিতে ৫০ পয়েন্টে অবাধে পাহাড় নিধন ও বালি বিক্রি চলছে

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের পিএমখালী রেঞ্জের খুরুশখুল বিটের বিশাল বনভূমি বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। রেঞ্জার ফারুক বাবুলের বিরামহীন অনিয়ম—দুর্নীতি ও গাফেলতির কারণে প্রায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে পিএমখালি রেঞ্জ। এসব অভিযোগ স্থানীয় ভুক্তভোগীদের। অভিযোগ উঠেছে, উক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা খুরুশকুল বনবিভাগের আওতাভুক্ত পাহাড়কাটা, গাছপালা কাটা, খালের বালি বিক্রিসহ হেন কোন অপকর্ম নেই তিনি করছেননা। এসব অনৈক কাজ করতে তিনি ৫০টির অধিক পয়েন্ট তৈরি করেছেন। যেখান থেকে প্রতিনিয়ত গাছ কাটা, পাহাড় কাটা ও বালি বিক্রি চলছে অবাধে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, রেঞ্চ অফিসার ফারুক বাবুল তার অপকর্ম নির্বিঘ্নে চালাতে তাকে সহযোগিতা করেন বন কর্মকর্তা পরিচয়ধারী বন প্রহরী তরিকুল ইসলামসহ খুরুশকুল ও পিএমখালির স্থানীয় কিছু দালাল চক্র!
খুরুশখুল তেতৈয়া এলাকায় যে পাহাড়গুলো কাটা হচ্ছে— তেতৈয়ার বেলাল সিকদারের বাড়ির পিছনের পাহাড়। ইউসুফ ফকির পাড়া বাবুলের বাড়ির পাশের পাহাড় প্রায় কাটা শেষের দিকে। হাতকাটা জালিয়া বাপের পাড়া ও নূরানী মাদরাসা এর পাশের আহসান উল্লাহর বাড়ির পাশের পাহাড় এই পাহাড়গুলো কেটে সাবাড়!
কুমারিয়ার ছড়া এলাকায় যে পাহাড়গুলো কাটা হচ্ছে— কুমুরিয়ার ছড়া মসজিদের পূর্ব পাশের পাহাড় রেঞ্জ অফিসার বাবুলের ছত্রছায়ায় কাটতেছে এই পাহাড়।
কুমারিয়ার ছড়া, মালেকের গুনা পাহাড়, কেটে শেষ।
ঘোনার পাড়া মাদ্রাসার পাশে দুইটি পাহাড় কেটে শেষ ৷ আর্দশ গ্রাম, কদমতলী যাওয়ার মুখে পাহাড় কেটে সাবাড়! বওনা কাটা, কয়েকটি পাহাড় কেটে শেষ। দিঘির ঘোনা বিটেও অনেক পাহাড় কেটে শেষ!
রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক বাবুল তার তৈরি করা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংস করে শুধু রাতে নয় দিনের আলোতে বিক্রি করে দিচ্ছে পাহাড় খেকোদের কাছে। এই কাজে তিনি তার ডান হাত খ্যাত খুরুশকুল অফিসের বন প্রহরী তরিকুল ইসলামকে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, পিএমখালি রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক বাবুলের এই অনিয়ম ও অবৈধ পাহাড় কাটা, গাছ বিক্রি ও বালি বিক্রির বিষয়টি স্থানীয় সচেতন মহলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও বিভাগীয় সহকারী বন কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা খুরুশখুলে স্পেশাল টিম প্রেরণ করেন। তবে গ্রাম্য প্রবাদের মত “ঘরের মধ্যে চুর থাকলে চুর ধরবে কেমনে”! স্পেশাল টিম অভিযানে বের হলে রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক বাবুলের নির্দেশে তারই ডানহাত বন প্রহরী তরিকুল ইসলাম পাহাড় খেকোদের ফোন দিয়ে আগেই সতর্ক করে দেন! যার ফলে বিভাগীয় স্পেশাল টিম কোন ধরনের প্রতিকার করতে পারেন নি।

এই বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক বাবুলের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি!

এমতাবস্থায়, স্থানীয়রা এই রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে! স্থানীয়দের দাবি অনতিবিলম্বে এই পাহাড় খেকো, বন খেকো রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক বাবুলকে শাস্তিমূলক বদলি করতে হবে। অন্যথায় তারা মানববন্ধন, জেলাপ্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন!

1 2 3 368