শেখ হাসিনা ১৬ কোটি বাঙালির মা আমারও মা, মায়ের কাছে আমি বিচার চাই,

নিজস্ব প্রতিবেদক।।   

ডামুড্যা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের বিশা কুড়িগ্রামের সাখাওয়াত হোসেন সেকু গাজী তার প্রতিবেশী শফিকুল ইসলাম সরদারের কলেজ পড়ুয়া কন্যা জান্নত ইসলাম(২০)কে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে।   

ঘটনা জানতে চাইলে জান্নাত ইসলাম বলেন,২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪.৩০ মিনিটের সময় আমি সাখাওয়াত হোসেন সেকু গাজীর স্ত্রী কে জিজ্ঞেস করি যে, আপনারা আমাদের জায়গায় প্রতিদিন কেন ময়লা আবর্জনা ফেলেন? একথা বলতে না-বলতেই ঘর থেকে সেকু গাজী খুব বাজে ভাষায় গালাগাল করতে করতে ঘর থেকে বাহিরে আসে এবং আমাকে কে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।আমি তাদেরকে বলি আপনারা এসমস্ত ময়লা আমাদের জায়গায় না ফেলে একত্রে করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলতে পারেন। এ কথা বলে আমি সমস্ত ময়লা ঝাড়ু দিয়ে একসাথে করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ঐ আগুনের ধুঁয়া সেকু গাজীর ঘরে প্রবেশ করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসে তখন আমি ভয়ে পিছিয়ে যেতে থাকি একপর্যায়ে আমার তাদের ঘরের দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকে যায় ঐ সময় সেকু গাজী আমার চুলের মুঠি ধরে টেনে হিঁচড়ে আগুনের ভেতর চেপে ধরে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে এবং বলে তোকে আজকে মেরেই ফেলবো দেখি তোর কোন বাপে বাঁচায়? এ কথা বলে সেকু গাজী আমার গলা চেপে ধরে এবং আমাকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করে এতে করে আমার গলায় জখমের সৃষ্টি হয় এবং আগুনে আমার পা,হাত ও মুখের বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায়। এ ঘটনার সময় আমার বাবা ও ভাই বাহিরে থাকায় সেকু গাজী খুব বেশি সুযোগ পায়।

 জান্নাত ইসলাম আরো বলেন,সেকু গাজী আমাকে শুধু আগুনে পুড়িয়েই ক্ষান্ত্য হয়নি পরবর্তীতে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। আমার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে সেকু গাজী আমাকে মাটিতে ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমার ভাই সাইফুল ইসলাম ঘটনা স্থলে এসে আহত অবস্থায় আমাকে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।এর পরে আমার অবস্থা আরো বেশি অবনতি হওয়ায় শরীয়তপুর সদর হসপিটালে নিয়ে আসেন।

আমি যখন বলেছি আমি আইনের আশ্রয় নিবো তখন আমাকে বলেছে আমরা তোকে মেরে গুম করে ফেলবো।তোর কোন আইন আছে, তোর আইন আমার কি করবে।

মামলা করেছি এজন্য বলছি তার ভাই শাকিল গাজী যিনি ডামুড্যা উপজেলার চেয়ারম্যানের গাড়ী চালায় তিনি আমাদের হুমকি ধামকি দিয়ে বলছেন এর পরিণাম খুব খারাপ হবে।

ওরা কোনো আইন মানে না কোন আইন কে পরোয়া করে না আমি চাচ্ছি ওদের আইনগত বিচার হোক। 

 

দেশে কি কোন আইন নাই নারীদের জন্য।প্রধানমন্ত্রী তো নারীদের জন্য অনেক কিছু করেছেন।একটা বাড়ির ভিতরে গিয়ে একটা মেয়েকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করবে আগুনে পুড়িয়ে মারবে এর জন্য কি কোন আইন নেই। 

শেখ হাসিনা তো ১৬ কোটি বাঙালির মা।তিনি আমারও মা আমি তার মেয়ে।তার মেয়ে হিসাবে আমার মায়ের কাছে বলছি আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।ওরা আইন কে ভয় পায় না।ওরা বলছে তোর আইন আমার কিছুই করতে পারবেনা।আমি দেখতে চাই সাথে দেখাতে চাই আমার দেশের আইন কি করতে পারে।

জান্নাতের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম জানান,সেকু গাজী জান্নাত কে মেরেই ক্ষান্ত হয়নি তার গলায় থাকা ৮০ হাজার টাকা মূল্যর স্বর্নের চেইন ছিনিয়ে নেয়।বর্তমানে আমার বোনের শরীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ডামুড্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।এখান থেকে ঢাকা নেওয়া লাগতে পারে।আসামি পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় বিভিন্ন ভাবে আমার এবং পরিবারকে হুমকি দিয়ে চলছে। আমাদরকে মেরে গুম করে ফেলবো।উক্ত ঘটনার দুই দিন পর জান্নাতের ভাই সাইফুল বাদি হয়ে সেকু গাজীর বিরুদ্ধে ডামুড্যা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। জান্নাতের ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন,মামলা করার পর থেকে সেকু গাজী ও তার ভাই উজ্জ্বল গাজী মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভয় ভীতি সৃষ্টি করে আসছে এবং এলাকার প্রভাবশালীদের দারস্থ হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে সেকু গাজীর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে কোনোভাবে যোগাযোগ করা যায়নি।      

 

ডামুড্যা থানায় কর্মরত উক্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন জানান, একটা মামলা হয়েছে। আমরা আসামির বাড়িতে গিয়েছিলাম আসামিদের কাউকে পাইনি।আমরা আসামিকে ধরার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।