শ্রীলঙ্কায় হজরত আদমের (আ.) প্রথম পদচিহ্ন

ইসলাম ডেস্ক-হজরত আদমকে (আ.) বিশ্বজুড়ে সকল মুসলমান পৃথিবীর প্রথম মানব বলে বিশ্বাস করেন। তাকে কেউ দেখতে না পারলেও শ্রীলঙ্কায় থাকা তার পদচিহ্ন সহজেই গিয়ে দেখে আসা যায়।

শ্রীলঙ্কার জঙ্গল থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে বিস্তৃত হওয়া এই পদচিহ্ন ৭ হাজার ফিটেরও বেশি উঁচু। স্থানীয় লোকেরা হজরত আদমের (আ.) এই পবিত্র পদচিহ্নকে ভক্তিভরে শ্রীপদ বলে থাকে।

বিশ্বের চারটি প্রধান ধর্ম তথা ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সব ধর্মাবলম্বীর নিকট হজরত আদমের (আ.) পদচিহ্নযুক্ত এই পর্বতচূড়াটি একটি পবিত্র ভূমি হিসেবে পরিচিত। বৈশ্বিকভাবে এই পর্বতচূড়াটি অ্যাডাম’স পীক নামে পরিচিত যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘আদমের শৃঙ্গ’।

বর্ণিত আছে, আল্লাহতায়ালা কর্তৃক বেহেশত থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর আদম (আ.) সর্বপ্রথম এখানেই অবতরণ করেন। সমসাময়িক স্থানীয়রা এটিকে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বলে মনে করতো; যদিও পরবর্তীতে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া নয়।

বর্তমানে অনেকেই এই জায়গাটিকে একটি ধর্মীয় তীর্থস্থান বানিয়ে নিয়েছে। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বছরের এই পাঁচটি মাস দর্শনার্থীদের ভীড়ে স্থানটি জনাকীর্ণ থাকে।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে এই পদচিহ্নটি গৌতম বুদ্ধের, হিন্দুরা বিশ্বাস করে এই পদচিহ্নটি তাদের দেবতা শিবের। আর মুসলমান ও খ্রিষ্টানরা বিশ্বাস করে এটি পৃথিবীর প্রথম মানব হজরত আদমের (আ.)।

আদম (আ.) এর পদচিহ্নের দৈর্ঘ্য হলো ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি আর প্রস্থে ২ ফুট ৬ ইঞ্চি। হাদিসে এসেছে, তিনি প্রায় ৬০ হাত লম্বা ছিলেন।

কথিত আছে, প্রতি বছর একগুচ্ছ প্রজাপতি অ্যাডাম’স পীক অভিমুখে উড়ে যায়। তবে এই প্রজাপতিরা আর ফিরে আসে না; আমৃত্যু ওখানেই বসবাস করে। একারণে স্থানীয়ভাবে অ্যাডাম’স পীকের আরেকটি নাম হলো সামানালাকান্দা, বাংলায় প্রজাপতিচূড়া।

তরকারি স্বাদ না হওয়ায় স্ত্রীর ‘গোপনাঙ্গে’ আগুন দিলেন পাষণ্ড স্বামী

তরকারি স্বাদ না হওয়ায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে স্ত্রীর শরীরের অর্ধেকাংশে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছেন পাষণ্ড স্বামী। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের আলোকদিয়ার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ আঁখি খাতুন একই উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের ভুলবাকুটিয়া গ্রামের বরকত আলীর মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামীর নাম আনোয়ার হোসেন ভোলা। তিনি আলোকদিয়ার গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় নয় বছর আগে আঁখি খাতুনকে বিয়ে করেন আনোয়ার। বিয়ের কয়েক বছর পার হলেও তাদের কোনো সন্তান হয়নি। এ নিয়ে স্ত্রীকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাত খেতে যান আনোয়ার। তরকারি স্বাদ না হওয়ায় স্ত্রীর নাভি থেকে দুই পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন তিনি। পরে বাবার বাড়ির লোকজন জানতে পেরে মেয়েকে উদ্ধার করে বেড়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

গৃহবধূ আঁখি বলেন, তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন স্বামী আনোয়ার। তিনি নেশা ও বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এসব নিয়ে বাধা দিলে প্রায়ই আমাকে মারধর করতেন।

করোনা আক্রান্ত শ্বশুরকে পিঠে নিয়ে হাসপাতালে ছেলের বউ

বাড়িতে কেউ নেই। জীবিকার জন্য বাড়ির বাইরে থাকেন স্বামী। ৭৫ বছর বয়সী শ্বশুরকে নিয়ে একা সামলান পুরো পরিবার। এদিকে করোনার মরণ থাবা তাতেও এনেছে বিপত্তি। নিজে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, আক্রান্ত হয়েছে বুড়ো বয়সী শ্বশুরও। করোনায় প্রতিনিয়ত শ্বশুরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সাহায্যের জন্য মানুষ না পেয়ে বাধ্য হয়েই বৃদ্ধ শ্বশুরকে পিঠে চাপিয়ে হাসপাতালে রওনা দেন ওই নারী।

ঘটনাটি ভারতের আসাম রাজ্যের নওগাঁ জেলায় ঘটেছে। সাহসী সেই নারীর নাম নীহারিকা দাস। পিঠে শ্বশুরকে নিয়ে নীহারিকার ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভাইরাল। আসামের অভিনেত্রী থেকে শুরু করে বিহার-মুম্বাই-চেন্নাইয়ের বহু মানুষ প্রশংসা করছেন নীহারিকার।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে থুলেশ্বরকে হাসপাতালে ও নীহারিকাকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। কিন্তু শ্বশুরকে একা ছেড়ে দিতে পারেননি নীহারিকা। স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই থেকে যান। শেষ পর্যন্ত তাদের দুজনকেই অ্যাম্বুলেন্সে ভোগেশ্বর ফুকনানি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন একজন চিকিৎসক।

হাসপাতালে গিয়েও শ্বশুরের সেবা করছিলেন নীহারিকা। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শ্বশুরকে তিনি বারবার অভয় দেন, ‘এটা আইসিইউ দেখে, ভয় পাবেন না। বুড়ো হয়ে ঢুকেছেন, ডেকা (যুবক) হয়ে বের হবেন। দেউতা (বাবা) আপনার কোনো চিন্তা নেই। কাঁদবেন না একদম। আমি তো আছি আপনার ভরসা। আর আমার আছেন আপনি।’

কিশোর গ্যাং ও মাদক প্রতিরোধে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে।

কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাং ও মাদক প্রতিরোধে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম শনিবার রাতভর সাঁড়াশি অভিযানে মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে গত শুক্রবারের ঘটনায় নগরীর ‘আরজিএস’ নামের একটি কিশোর গ্যাং এর ৪ সদস্য গ্রেফতার করার হয়। কিশোর গ্যাং এর বাকি সদস্যদের গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এসব কিশোর গ্যাং তৈরি হলেও পরে একসময় মাদক, অস্ত্র এমনকি খুনোখুনিতেও জড়িয়ে পড়ে।

মাদক, অস্ত্রের দাপটসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে জেলায়। ফলে কিশোরদের কেউ যখন বন্ধুদের মাধ্যমে কিশোর গ্যাংগুলোতে ঢুকছে এবং মাদক ও অস্ত্রের যোগান সহজেই পেয়ে যাচ্ছে। একারণে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কিশোর গ্যাং-মাদক প্রতিরোধে সাঁড়াশি অভিযান আব্যাহত রয়েছে নগরীর বিভিন্ন এলাকায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিশোর গ্যাং এক সদস্য সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, স্কুলে পড়তে গিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এলাকায় বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে গিয়ে শুরুতে মজার ছলে এসব কিশোর গ্যাং তৈরি করি। এইভাবে গড়ে ওঠে কিশোর অপরাধী এক একটি দল। অনেক সময় তুচ্ছ কারনেও ঝামেলা জড়িয়ে যাইতাম। পর্রবর্তীতে দলীয় রাজনৈতির আশ্রয় ও প্রশ্রয় নিয়ে সমবয়সী কিশোর এবং কয়েকজন বন্ধুরা একত্রিত হয়ে কিশোর গ্যাং তৈরি করি। এরপর খুব দ্রুত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্রুপগুলোর সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়।

নগরীর বিভিন্ন সমবয়সীদের নিয়ে কিশোর গ্যাংটি নিজেই গড়ে তুলে। শুরুতে তারা অন্যদের হামলা থেকে নিজেদের প্রটেক্ট করার জন্যই তারা কয়েকজন বন্ধু একত্রিত হতে। পরে ৫০/৬০ জনকে নিয়ে বড় আকারে একটা কিশোর গ্যাং তৈরি করে। কিছু সময় অন্যার কারণেও ঘটতো বিভিন্ন গ্রুপের সাথে মারামারি। এক এলাকার ছেলে অন্য এলাকায় যাওয়া নিয়ে হইতে মারামারির ঘটনা ঘটে এবং মেয়েলি বিষয় এবং সিনিয়র-জুনিয়রদের বিরোধ থেকেও অসংখ্য মারামারি হয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই তাদের গ্রুপে মাদকও ঢুকে পড়ে।

তাদের গ্যাংয়ের কয়েকজনের মধ্যে একটা সময় লোভ চলে আসে। গ্রুপটাকে কাজে লাগিয়ে টাকা আদায়ের ধান্দা শুরু করে। একসময় কেউ কেউ ছিনতাই শুরু হয়। আর মাদক নেয়া তো ভয়াবহ পর্যাযে চলে যায়। কয়েকজন বিভিন্ন অপরাধে জেলও খেটেছে। নগরীর বিভিন্ন
এলাকায় অনেক কিশোর গ্যাংয়ের নাম রয়েছে।

এবিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে কাজ করলে তার সুফল পাইবে এবং এখনকার সময়মত প্রায় অভিযান চালিয়ে যায় তার পজিটিভ ফল জনসাধারণের চোখে পড়বে। গত কিছুদিন যাবত কিশোর গ্যাংয়ের বেশ কয়েকটি গ্রুপের অপরাধ এবং খুনের চেষ্টা করার ঘটনার পর থেকেই আইন-শৃংখলা বাহিনীর বাড়তি পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে।

শরীয়তপুরে প্রাণী সম্পদ সার্জন ছাইদুর রহমানের অবহেলায় অসহায় কৃষকের ছাগলের মৃত্যুর অভিযোগ পওয়া ।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ
শরীয়তপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে ভেটেরিনারি সার্জন ছাইদুর রহমানের অবহেলায় অসহায় কৃষক পরিবারের ছাগলের মৃত্যু হওয়ার খবর পওয়া গেছে।

৬ জুন রবিবার বেলা ১১ টায় শরীয়তপুর উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে গেলে এমন অভিযোগ করেন কৃষক জামাল খাঁ।

কৃষক জামাল খাঁ বলেন, আমি পালং ইউনিয়নের পাটানিগাঁও থেকে এসেছি। আমার ছাগলটা ঘাঁস কম খায়। পেট ফুঁলে গেছে। চিকিৎসা দিতে এসেছি। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর, ডাক্তার ছাইদুর রহমান না এসে, তার কম্পাউন্ডার পাঠায়। কম্পাউন্ডার নিরঞ্জন বাবু আমার ছাগলকে পর-পর ৩ টা ইনজেকশন দেয়। ছাগলের দুই পায়ে ইনজেকশন দেয়ারপর ঘাঁড়ে ইনজেকশন দিলে ছাগলটি মরে যায়। আমি জিঙ্গাসা করলে আমাকে ধমক দিয়ে বলে, তোমার ছাগলকে বিষ দিয়েছি! আমি গরিব মানুষ, আমি এর ক্ষতিপূরণ চাই।

এছাড়াও সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের বুড়িরহাটের নাসিমা বেগম (৪৫), পশ্চিম সোনামুখি সাইদুল সরদার (৪০) পালং ইউনিয়ন দক্ষিণ বিলাশখান হালিমা বিবি (৫০) সহ ডোমসার ইউনিয়নের মিরাজ বেপারি (১২) অভিযোগ করে বলেন, এখানে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে গরু-ছাগলের চিকিৎসা নিতে হয়। তারা যখনি আসেন এই নিরাঞ্জন বাবুই চিকিৎসা দেন। অফিসের কেউ বলেননি তিনি ডাক্তার না। আমাদের সরকারি ফি’র বাইরেও টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। সরকারি ঔষুধ যা দেয়, তার চেয়ে বেশি প্রেসক্রিপশন করে দেয়।

জানা যায়, নিরঞ্জন বাবু উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ড্রেসার পদে চাকুরি করতেন। এখন তিনি আবসরে আছেন। তিনি উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের কর্মকর্তা ডাঃ তরুন কুমার রায় এর অনুরোধে এই চিকিৎসা সেবার কাজ করছেন।

অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ভেটেরিনারি সার্জন ছাইদুর রহমান নিজের কক্ষ ছেড়ে চেয়ারে বসে ভ্যাকসিন বিক্রি করছেন অন্য রুমে। অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই কাজ ওতো করতে হবে। এই দেখেন কত কাজ। ভ্যাকসিন বিক্রি করা, চিকিৎসা দেয়া, রেজিস্ট্রার করা, পেশেন লিস্ট করা, ড্রেসিং করা। একজন মানুষ কতটুকু করতে পারে। আমাদের জনবলের সমস্যা। আপনি থাকতে কামপাউন্ডার নিরঞ্জন বাবু কেন ছাগলের চিকিৎসা করলো? বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে, তিনি সব সৃষ্টি কর্তার ইচ্ছা বলে জানান।

এবিষয়ে সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ তরুন কুমার রায় , এই ঘটনা অতন্ত্য দুঃখজনক।
আমাদের লোকবলের অভাব। আমি নিরঞ্জন বাবুকে আনছি। ওনাকে বলেছি জনসেবা করার জন্য। উনি কিন্তু ড্রেসার সহ সব কিছু ভালো পারে।

ছাগল মৃত্যুর বিষয়ে বলেন, ছাইদুর সাহেব ছাগলের বিষয়ে আমাকে ফোনের মাধ্যমে জানিয়েছেন। আমি কিছুটা নির্দেশনা দিয়েছিলাম। তাছাড়া নিরঞ্জন বাবু অনেক অভিজ্ঞ লোক। আমাদের এইখানে ভেটেরিনারি পদ শূন্য। তাই অনেক সময় আমাদের টেলি মেডিসিনের মতো চিকিৎসা দিতে হয়। অফিসে ১২ জনের পরিবর্তে আছে ৫ জন। তাই যে কোন সময়, যে কোন ক্ষতি হয়ে যেতে পারে এটা দূর্ভাগ্যবসত। তারপরেও কোন অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখবো।
সুএঃদৈনিক রুদ্রবার্তা।

প্রবাসীর স্ত্রীর আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ায় গ্রামবাসী বিয়ে দিয়ে দিলেন।

স্বামীকে তালাক প্রবাসীর স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ে

ঢাকার ধামরাইয়ে পরকীয়ায় মত্ত যুগলকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে বিয়ে পড়িয়ে দিয়েছে গ্রামবাসী। শুক্রবার (৪ জুন) দুপুরে ওই পরকীয়া প্রেমিক যুগল একটি কক্ষের ভেতর আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়লে গ্রামবাসী এ ঘটনাটি ঘটায়।

জানা যায়, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে পরকীয়া প্রেমিক শফিকুল ইসলাম সাবু ওই প্রবাসীর বাড়িতে যায়। এ সময় গ্রামবাসী প্রেমিক যুগলকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে পৌর শহরের ইসলামপুর মহল্লা মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রার ও কাজী মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল আলীমকে ডেকে কাবিন রেজিস্ট্রি করে তাদের বিয়ে দেয়া হয়। দুসন্তানের মা ওই গৃহবধূর স্বামী দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকে।

গ্রামবাসী জানান, স্ত্রী ও তার দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ সুখের কথা ভেবে কয়েক বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসে চলে যান ওই গৃহবধূর স্বামী। বিদেশে স্ত্রী-সন্তানের জন্য শরীরের ঘাম ঝরাচ্ছেন স্বামী আর এদিকে স্ত্রী পরকীয়ায় মত্ত হয়ে আনন্দ ফুর্তিতে দিন কাটাচ্ছে। তাই আমরা বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারিনি। হাতেনাতে আপত্তিকর অবস্থায় তাদের আটক করে গ্রামবাসী মিলে ওদের বিয়ে পড়িয়ে দিয়েছি।

ওই গৃহবধূ জানান, আমার প্রথম স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর থেকেই শফিকুল ইসলাম আমার সঙ্গে পরকীয়া করে আসছে। তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে আমাকে বিয়ে না করে টালবাহানা করে শুধু সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। গ্রামবাসীর হাতে আটক না হলে সে আমাকে বিয়ে না করে শুধু আমার দেহই ভোগ করত। আল্লাহ যা করেন তা ভালোর জন্য করেন।

পরকীয়া প্রেম ও দৈহিক মেলামেশার কথা স্বীকার করে পরকীয়া প্রেমিক শফিকুল ইসলাম ইসলাম সাব বিয়ের বিষয়ে তার অসম্মতির কথা জানান। তিনি বলেন, আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দিয়েছেন গ্রামবাসী। এ বিয়ে আমি মানি না। আমি গ্রামবাসীর বিচার চাই।

রাষ্ট্র ও ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী পূর্বের স্বামীকে তালাক প্রদান না করেই দ্বিতীয় বিয়ের এ কাবিন রেজিস্ট্রি ও বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। এ ব্যাপারটি কতটুকু যৌক্তিক? এমন প্রশ্নের উত্তরে কাজী মাওলানা আব্দুল আলীম বলেন, আমাকে পূর্বের স্বামী থাকার কথা গোপন রেখে কাবিন রেজিস্ট্রি ও বিয়ে সম্পন্ন করেছেন গ্রামবাসী। এ বিয়ে বৈধ নয়। পূর্বের স্বামীকে তালাকের দিন থেকে ৩ মাস ১৩ দিন ইদ্দত পালনের পর দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে একজন স্ত্রী।

এছাড়া যদি সে আগেই বিয়ে করে অথবা প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে তাহলে তা রাষ্ট্র ও মুসলিম পারিবারিক আইনবিরোধী। এক্ষেত্রে ঠিক তাই ঘটেছে।

ইজরাইলকে হামাসের নতুন হুমকি।

সম্প্রতি আবারও ইসরায়েলকে হুঁশায়ারি দিয়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজায় যদি তাদের আগ্রাসন অব্যাহত থাকে তাহলে আবার যুদ্ধ শুরু হবে বলে জানিয়েছে।

এ নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে হামাসের অন্যতম মুখপাত্র সামি আবু জুহরি বলেন, ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে আবার যুদ্ধ শুরু হবে ইহুদিবাদী ইসরায়েল চুক্তির প্রতি সম্মান দেখাচ্ছে না এবং দৈনিক ভিত্তিতে পশ্চিম তীরের শহরগুলোতে আগ্রাসন চালাচ্ছে। এছাড়া, পবিত্র জেরুজালেম আল-কুদস শহরের লোকজনকে ঘরহারা করার পরিকল্পনা করছে তারা। সে ক্ষেত্রে এসব ঘটনা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে পারে হামাস। হামাসের মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, দুই পক্ষ যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে তা একটি পরিপূর্ণ যুদ্ধবিরতি নয়। দখলদার ইসরাইলের রক্তপিপাসু ও অপরাধমূলক তৎপরতার কারণে এই অস্ত্রবিরতি চুক্তি অনেকটাই ভঙ্গুর।

তার ভাষ্যমতে, ইসরায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলবে হামাসও ততক্ষণ পর্যন্ত তা মানবে। কিন্তু ইসরাইল যদি যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে সহযোগিতা না করে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সাথে সংঘর্ষ শুরু হবে।

উল্লেখ্য, হামাস ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ফিলিস্তিনে দুটি দল বেশ সক্রিয়। একটি হামাস, অন্যটি ফাতাহ। এর মধ্যে হামাসের দখলে রয়েছে গাজা এলাকা।

1 2