শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষক মোঃ মাহমুদুল হাসান (৩৮) এর বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ।

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ
শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার ইউনিয়নের, পম-সাজনপুর দারুসসালাম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখার হেফজ বিভাগের ১৪ বছরের শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে, ঐ মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোঃ মাহমুদুল হাসান (৩৮) এর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ভিকটিমের মামা রুহুল আমিন ছৈয়াল বাদী হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছে।

ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানাযায়, বাদীর ১৪ বছরের ভাগ্নে ভেদরগঞ্জ থানাধীন পম-সাজনপুর দারুস সালাম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় থাকিয়া হেফজ বিভাগে পড়া-লেখা করা কালীন, গত ১২ মে রাত অনুমান ২টা ৩০ মিনিটের সময় আসামী মোঃ মাহমুদুল হাসান (৩৮) বাদীর ভাগ্নে ভিকটিমকে ঘুমানোর রুমে ডেকে নিয়ে, ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক বলাৎকার করে। ঘটনার পরের দিন সকালে বাদীর ভাগ্নে মাদ্রাসা থেকে বাড়ী চলে যায়। বাদী তার ভাগ্নেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য বার বার চাপ প্রয়োগ করলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

বাদীর ভাগ্নে লোক লজ্জার ভয়ে যথাসময় ঘটনাটি প্রকাশ করেনি। বাদীর দায়ের করা এজাহারে ভিত্তিতে ভেদরগঞ্জ থানায় ১৩ জুন সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধনী/০৩) এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়।মামলা নং -৫।
অভিযুক্ত আসামী পিরোজপুর জেলার, নাজিরপুর থানার, পশ্চিম ছোট বুইচাকাঠি এলাকার আব্দুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে বলে জানা যায়।

ভেদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশীদুল বারী জানান, ভিকটিমের বাবা একজন প্রবাসী। তাই ছেলেটি মামা বাড়ি থেকে লেখাপড়া করছে। ছেলেটি লোকলজ্জার ভয়ে ঘটনাটি প্রকাশ করেনি। মামা মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য চাপাচাপি করলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে।

মামলা রুজুর পরপরই তদন্তকারী অফিসার, সংগীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে আসামীকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ্দ করা হয়েছে।ভিকটিমকে হেফাজতে নিয়ে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে

সুলতানা দিল আফরোজ এর “স্মৃতির আঙিনায়” ‘সামাজিক মানুষের বাস্তব প্রতিচ্ছবি’ – সাবেক যুগ্মসচিব।

জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের বধু হিসাবে তৎকালীন যশোর থেকে দূরবর্তী একটি পাড়াগাঁয়ের মেয়ে জ্ঞানদানন্দিনী দেবী মাত্র আট বছর বয়সে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় অগ্রজ সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহধর্মিনী হিসাবে ঠাকুর বাড়িতে পদার্পণ করেন। তাঁর বয়েস যখন চৌদ্দ ১৮৬৪ সালে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের প্রথম ভারতীয় সদস্য হিসাবে সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন। ঠাকুর বাড়ির বধুরা গৃহবধুই ছিলেন, তাঁদের অন্তঃপুরের বাইরে যাওয়া ছিল বারণ। সেই কঠোর কঠিন নিয়ম ছিঁড়েফুঁড়ে স্বামীর সঙ্গে স্বামীর কর্তব্যস্থল বোম্বাইয়ে যাওয়া ঠাকুর পরিবারের প্রথম গৃহবধু ছিলেন জ্ঞানদানন্দিনী দেবী। তিনি স্বামীর সাথে তাঁর আরো কর্মস্থলে – গুজরাট, ‍সিন্ধু, এমনকি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স – গিয়েছিলেন।

 

অনেকের মনে হতে পারে, শিবের গীত গাইছি, মোটেও তা নয়। বন্ধুবর সৈয়দ আশরাফের ক্ষেত্রেও আমি ঐ ঘটনার প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েছি। তিনিও একটি সম্ভ্রান্ত, ধর্মভীরু ও রক্ষণশীল পরিবারের সন্তান হওয়া সত্বেও তাঁর সৃন্দরী গৃহবধু স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন কর্মস্থলে ঘুরে বেড়িয়েছেন। এমনকি তাঁর স্ত্রী তাঁর কর্মস্থলে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা ছাপার অক্ষরে লিখেছেন “স্মৃতির আঙিনায়” নামের বইয়ে। ঠিক যেমনটি জ্ঞানদানন্দিনী দেবী লিখেছিলেন “স্মৃতিকথা” নাম দিয়ে। ১৯৪১ সালে ৯১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে ৪৪ পৃষ্ঠার এ বইটি কলিকাতার রূপা এন্ড কোম্পানী প্রকাশ করেছিল। আর “স্মৃতির আঙিনায়” প্রকাশ করেছে ঢাকার প্র প্রকাশনী ২০২১ সালে। স্থান-কাল-পাত্র কিংবা পরিবেশ-পরিস্থিতি ভিন্নতর হলেও দুজনের মনের কথা বলার আকুতি কিন্তু একই।

 

আমাদের প্রিয় মাতৃভুমি বেশ কিছুদিন যাবত প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনায় বিপর্যস্ত। লকডাউন, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং, স্যানিটাইজিং, ইত্যাদি কতিপয় নতুন নতুন ইংরেজী শব্দবন্ধ এখন অক্ষর-নিরক্ষর নির্বিশেষে সবার মুখে মুখে। এমনকি বাঙ্গালির তেরো পার্বণেও আমরা ঘরে বন্দী। এর মধ্যে সময় কাটানোর অবলম্বন যথেষ্ট সীমিত। অবশ্য বই পড়া তার মধ্যে অন্যতম ও বিশিষ্ট স্থান দখল করে নিয়েছে।

 

এ করোনাক্রান্ত সময়েও আমাদের প্রিয় লেখক সুলতানা দিল আফরোজ অবিরাম লিখে চলেছেন। “স্মৃতির আঙিনায়” তাঁর দ্বিতীয় বই। তাঁরই সৌজন্যে বইটি পেয়েছি আরো আগেই। কিন্তু অন্যবিধ ব্যস্ততা বা কিঞ্চিৎ অলসতার কারণে পড়ার সময় করে উঠতে পারিনি। কিন্তু যখন শুরু করেছি, পুরোটা শেষ না করা পর্যন্ত স্বস্তি পাইনি। দারুণ পছন্দ করেছি।

 

আমাদের মধ্যে ক’জনাই বা জীবন পথের শেষ লগ্নে এসে খানিকটা ফিরে দেখতে চায়, যাপিত জীবনের চর্বিত চর্বণ। কবি জীবনানন্দ দাশের ভাষায়, “কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে!” লেখক সে কাজটাই করতে চেয়েছেন অত্যন্ত নিপুণতা ও বিচক্ষণতার সাথে। আমি মনে করি, তিনি তাতে পুরোপুরি সফল হয়েছেন।

 

বইটির বিষয়বস্তু চমৎকার। লেখক অস্বাভাবিক স্বাভাবিকতায় যান্ত্রিক কার্যকারণ সম্পর্কের নিয়মবদ্ধতার নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলিত জীবনের সহজ বর্ণনা দিয়েছেন। কোন ধরণের বাগাড়ম্বরপূর্ণ বুলি সর্বস্বতায় যাননি। বইটি সুলিখিত ও সুখপাঠ্য। বইটার পঠন শুরু থেকেই উপভোগ করেছি। বইটির পঠনযোগ্যতা এক কথায় অসাধারণ এবং এটি আমাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক অদৃশ্য মায়াজালে জড়িয়ে রেখেছে। এখানে ধীরে ধীরে গল্প জমিয়ে তোলার কোন ব্যাপার আমার নজরে আসেনি। এক লাফে আমি আসরের ঠিক মাঝখানে গিয়ে বসে পড়েছি এবং পুরো ব্যাপারটা বুঝে উঠতে উঠতে আমি কাহিনীর শেষপাদে চলে এসেছি। বিশেষভাবে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবনবোধ, সংস্কৃতি এবং সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের বর্ণনা আমি খুবই উপভোগ করেছি।

 

চরিত্র বর্ণনায় লেখক অতি সুক্ষ্ম বৃত্তান্তও বাদ রাখেননি। চরিত্রগুলোর ভাব-ভঙ্গীর উপস্থাপন এতটা নিখুঁত যে, প্রতিটা চরিত্র আমার মনশ্চক্ষে ভেসে উঠেছে। মনে হয়েছে যেন আমি সেই কক্ষে দাঁড়িয়ে আছি। তাঁর শব্দ চয়ন ও বাক্য গঠন একইরূপ চমৎকারিত্বের সাথে সম্পন্ন হয়েছে। আমি প্রতিটি দৃশ্যের খুঁটিনাটি দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পেয়েছি। এখানেই লেখক হিসাবে সুলতানা দিল আফরোজ এর কৃতিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

 

১৯৮৮ সাল। তাঁর জীবনের একটি মাইলফলক। তিনি সৈয়দ আশরাফ নামের একজন নিরীহ  ভদ্র সরকারি কর্মচারির জীবন সঙ্গী হিসেবে পথচলা শুরু করেন। অবশ্য তাঁর ভাষায় তিনি একজন “চতুর আমলা”, যিনি কিছু সময়ের মধ্যেই তাঁর সাথে ভাব জমিয়ে ফেলেছিলেন। যাহোক, ইতিমধ্যে কর্ণফুলী, মাতামূহুরী, সাঙ্গু, চেঙ্গী, বুড়িগঙ্গা, গড়াই, কালিগঙ্গা. পদ্মার স্রোতধারায় বিস্তর পানি বয়ে গেছে এবং তাঁরা উভয়েই পরিণত বয়সে এসে পৌঁছেছেন। দীর্ঘ তিরিশ বছরের অধিক সময়ের যুগলবন্দী অতিক্রম করে এসে যে আত্মতৃপ্তি তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে, তা’ নিঃসংশয়ে একটি সফল, ফলপ্রসূ ও আনন্দদায়ক জীবনের প্রতিচ্ছবি।

 

বইটিতে লেখকের সরল সত্য ভাষণে দুটো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়েছে। প্রথমতঃ তাঁর কমবয়সে বিবাহ সংঘটিত হয়েছিল। তাঁর যখন বিয়ে হয়, তিনি তখন আর দশটা বাঙ্গালি মেয়ের মতো গৃহকর্মে নিপুণা ছিলেন না। এমনকি এক কাপ চা কিভাবে বানাতে হয়, তা’ও জানতেন না। দ্বিতীয়তঃ অভিভাবকদের সিদ্ধান্তে আয়োজিত বিবাহ হলেও তিনি তাঁর স্বামীকে ও তাঁর পরিবারকে প্রথম দর্শনেই ভালবেসে ফেলেছিলেন। এ গুণ একাল সেকাল মিলিয়ে অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের মাঝে বিরল বৈকি।

 

অপরদিকে দুটো গুরুত্ববহ ঘটনা তাঁর জীবন পথের বাঁকে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। প্রথমতঃ তাঁর বড় মেয়ের জীবনাবসান। মেয়েটি পড়ালেখায় তো ভাল ছিলই, আচার-ব্যবহারেও খুব অল্প সময়েই সবার মন জয় করে নেয়ার অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিল। চেহারা যেমন মায়াবী, কথাবার্তাও তেমনি হৃদয়-ভুলানো। মা-বাবা তো বটেই আমরা তার প্রচন্ড গুণমুগ্ধ হয়ে উঠেছিলাম। কে জানতো সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা। নিঃসন্দেহে তার বাবা-মা মনে কষ্ট নিয়ে দিনাতিপাত করছেন। মহান সৃষ্টিকর্তা হয়তোবা তাড়াতাড়ি ওকে নিজের কাছে নিয়ে যাবেন বলেই এত গুণের সমাহার ঘটিয়েছিলেন।তিনি পরম দয়ালু ও দাতা। তিনি সবাইকে ভালো রাখুন।

 

দ্বিতীয়তঃ তাঁর ছেলের জন্মলাভ। তিনি লিখেছেন, “আমাদের সকলের মুখে হাসি ফোটাতেই এসেছে”। আবার লিখেছেন, “আমি যেন পেলাম, তাকেই পেলাম”। খুবই আবেগপ্রসূত কিন্তু জীবনের বাস্তবতা। তাঁর ছোট মেয়েটা আইসক্রিম খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল। এখন তাঁরা সকলেই ক্রমশঃ স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করলেন। সেই ছেলেটি এখন আমাদের সকলের নয়নমণি।

 

যদিও প্রেক্ষাপট ভিন্ন, তবুও আরেকটা বইয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে চাই। তা’ হলো সুনন্দা শিকদারের “দয়াময়ীর কথা”। ময়মনসিংহের প্রান্তিক গ্রাম এলাকার মেয়ে সুনন্দা বইটিতে তাঁর শৈশবকালে দেশভাগ ও দেশভাগ-উত্তর সময়কালের স্মৃতি বয়ান করেছেন। অসম্ভব সুন্দর, সম্পূর্ণ ব্যাকরণসম্মত একটি স্মৃতিকথা। ব্যাকরণসম্মত এই অর্থে যে, লেখিকা এখানে শুধু আদ্যোপান্ত স্মৃতিচারণই করেছেন – জিন্নাহ, নেহরু, কংগ্রেস বা মুসলিম লীগ প্রসঙ্গ তাঁর রচনায় একবারও আসেনি। পরিণত বয়সে তিনি তাঁর বোধবুদ্ধি ও সারল্য দিয়ে পঞ্চাশের দশকটিকে বিচার করেছেন এবং নিজের আত্মকথা লিখেছেন। নিঃসন্দেহে “দয়াময়ীর কথা” ঐ দশকের পূর্ববাংলার একটি ঐতিহাসিক দলিল হয়ে আছে। একইভাবে লেখিকা তাঁর “স্মৃতির আঙিনায়” গ্রন্থে আশি ও নবব্বইয়ৈর দশকের বাংলাদেশী সমাজের ছাপচিত্র তৈরি করেছেন, যা সম্পূর্ণ আবেগ কিংবা পক্ষপাত বর্জিত। বিশেষতঃ যে কালে আমলারা এবং তদীয় স্ত্রীগণ বিশেষ কোন মহলের গুণকীর্তন করতে গিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। আমার ধারণা, সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বইটি কালের সাক্ষী হিসাবে একদিন ইতিহাসের উপাদান হবে।

 

লেখকের জন্ম একটি আধুনিকমনস্ক গেরস্থ পরিবারে। সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকা, একসাথে ডালভাত খেয়ে বিরিয়ানীর ঢেকুর তোলা, একে অন্যের সুখে সুখী ও দুঃখে দুঃখী হওয়া, কারো বিপদে-আপদে সবাই একজোটে ঝাঁপিয়ে পড়া, ইত্যাদি এ জাতীয় পরিবারের বৈশিষ্ট্য। তাই পরিণত বয়সেও তিনি তাঁর ভাই-বোন, চাচা-ফুফু, মামা-খালা, ইত্যাদির দিক থেকে দুর সম্পর্কের কোন তস্য আত্মীয়ের খোঁজ রাখাও দায়িত্ব মনে করেন। বইটিতে তিনি হয়তোবা নিজের অজান্তেই মানুষ হিসাবে তাঁর এ বিরল গুণের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

 

সুধী পাঠক মাত্রেই বইটি পছন্দ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। মূখ্যতঃ একজন সরকারি কর্মকর্তার ছায়াসঙ্গী হিসাবে স্মৃতিকথার ঢংয়ে বইটি লেখা হলেও সকল শ্রেণীর সামাজিক মানুষেরা এতে তাঁদের জীবন গল্পের বাস্তব প্রতিচ্ছবি দেখতে পাবেন। বইটি আপনার সময়ের সদ্ব্যবহার নিশ্চিৎ করবে এবং আপনার জন্য উপভোগ্য হবে বলে মনে করি।

 

স্মৃতির আঙিনায় বইটির পর্যালোচনাটি লিখেছেন

এস এম মেসবাউল ইসলাম

সাবেক  যুগ্মসচিব

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রনালয়।

প্রবাসী নিয়ে হজ পালনের ঘোষণা দিলেন সৌদি সরকার।

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ সৌদি আরব বলেছে যে করোনভাইরাস মহামারীর আলোকে এই বছরের হজের আনুষ্ঠানিকতার জন্য সৌদি নাগরিক এবং সৌদিআরবে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

স্বাস্থ্য ও হজ মন্ত্রণালয় শনিবার ঘোষণা করেছে যে এ বছর মোট ৬০,০০০ হাজীদের হজ করার অনুমতি দেওয়া হবে। এবং জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে হজ শুরু হয়।

কঠোর শর্তাবলী আরোপ করে বলা হয়েছ যে, হজ করতে ইচ্ছুকরা অবশ্যই যেকোন দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে এবং সৌদির ভ্যাকসিনেশন ব্যবস্থা অনুযায়ী ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা নেওয়া থাকতে হবে,  হজ করার ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সের মধ্যে থাকতে হবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তটি “গ্র্যান্ড মসজিদ এবং মসজিদে নববীর দর্শনার্থীদের হজ ও ওমরাহ পালন করতে সক্ষম করার জন্য রাজ্যের অবিচ্ছিন্ন আগ্রহের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে হজ মন্ত্রীর একজন সহকারী বলেছেন যে এই বছরের হাজীদের সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সৌদি আরব মুসলিম দেশগুলির কাছ থেকে সম্মতি পেয়েছে।

ইসলামিক সহযোগিতা সংগঠনটি সৌদি আরবের হজ ২০২১ সালের সৌদির অভ্যন্তরে থাকা হাজীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়

৫ বছরের শিশু সহ্ বাবা মাকে গুলি করে হত্যা

কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে স্ত্রী-সন্তান ও এক যুবককে গুলি করে হত্যার পর তাদের লাশের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। তিনজনকেই দুটি করে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার (১৩ জুন) বিকেলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে লাশগুলোর ময়নাতদন্ত করার পর চিকিৎসক এ কথা জানান।
বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাশ তিনটির ময়নাতদন্ত করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার।
ময়নাতদন্ত শেষে তাপস কুমার সরকার বলেন, তিনজনকে দুটি করে ছয়টি গুলি করা হয়েছে। প্রত্যেকের মাথার কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রথমে শাকিল খানের ময়নাতদন্ত করা হয়। তার মাথার বাম পাশে গুলি করা হয়েছে। এছাড়া তার ডান পায়ের ঊরুতে গুলির চিহ্ন রয়েছে।
এরপর আসমা খাতুনের ময়নাতদন্ত করা হয়। আসমার মাথা ও গলায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। সবশেষে শিশু রবিনের (৬) ময়নাতদন্ত করা হয়। রবিনের মাথায় ও পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে কারও গুলিই পাওয়া যায়নি। গুলিগুলো শরীর ভেদ করে বাইরে চলে গেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, রবিনকে দৌড়ে পালানোর সময় পেছন থেকে পিঠে গুলি করা হয়। এরপর পড়ে গেলে তার মাথায় গুলি করা হয়।
রোববার বেলা ১১টার দিকে শহরের কাস্টমস মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ সৌমেন রায় নামে এক এএসআইকে পিস্তলসহ আটক করেছে। তিনি ফুলতলা থানায় কর্মরত। তার বাড়ি মাগুরা সালিখা উপজেলার আসপা গ্রামে।
কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে গুলি করে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় আটক এএসআই সৌমেন রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
খুলনা জেলার পুলিশ সুপার মাহবুব রহমান বলেন, ঘটনা জানার পর সৌমেন রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এরপর তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে সর্বশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে এ ঘটনায় খুলনা রেঞ্জ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া পুলিশ সূত্র জানায়, সৌমেন রায় ২০১৫ সালে কনস্টেবল থেকে এএসআই পদে উন্নীত হন। পরে ২০১৬ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানায় যোগ দেন। সেখান থেকে জেলার অন্যান্য থানায়ও কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ মিরপুর থানার হালসা ক্যাম্পে ছিলেন। এরপর বাগেরহাট হয়ে খুলনা ফুলতলা থানায় যোগ দেন।
সন্ধ্যায় শাকিল খানের বাবা মেজবার রহমান বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় সৌমেন রায়কে একমাত্র আসামি করে মামলার এজাহার দায়ের করেন

নাম বলতে পারি নিউজ কর‌বেন কিন্তু আমার জীবনের নিরাপত্তা দিবে কে।

বিনোদন ডেস্ক-ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পরীমণি। এ ঘটনার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানিয়েছেন। আজ রোববার রাতে এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকর্মেীদের বিস্তারিত জানাতে নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করছেন পরীমণি।

এদিকে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টাকারীর নাম জানাতে চাইলে রোববার রাতে পরীমণি বলেন, ‘আমি নাম বল‌লে আপনারা নিউজ কর‌বেন কিন্তু আমার জীবনের নিরাপত্তা কে দে‌বে। আমি সব বল‌বো, গত চারদিন ধরে বলেছি। আমার শেষ ভরসা আপনারাই। আমি মিডিয়াকে অন রেকর্ড সব বলব দ্রুত সময়ে। আমি এর বিচার চাইবোই।’

রোববার রাত ৮টার দিকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ তুলে পরীমণি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আমাদের সময়’র পক্ষ থেকে পরীর মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানতে সাংবাদিকদের তার বাসায় যেতে অনুরোধ করেন। পরীমণি বলেন, ‘আমি এভাবে জানাতে জানাতে টায়ার্ড। আমি সবাইকে একবারে বলতে চাই, আমাকে একটু হেল্প করেন। আমাকে মাফ করেন, আর পারতেসি না এভাবে বলতে।’

কান্নারত অবস্থায় পরীমণি বলেন, ‘আপনারা সবাই আমার বাসায় আসেন। আমি সবার সামনে বলতে চাই। বলে অন্তত মরি। আমার নামটা জানাইতে হবে। আমার পুরোটা জানাইতে হবে। আমি বিস্তারিত বলব। সব বলে আমি মরতে চাই। আমি তো ওই মানুষ না যে একা একা অন্যায় সহ্য করে মরে যাব।’

পরীমণি তার ফেসবুক পেজে লিখেন-

বরাবর,

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আমি পরীমণি। এই দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র।

আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি।

আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আমি এর বিচার চাই।

এই বিচার কই চাইবো আমি? কোথায় চাইবো? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি গত চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু, আমি কাউকে পাই না মা।

যাদেরকে পেয়েছি সবাই শুধু ঘটনা বিস্তারিত জেনে, দেখছি বলে চুপ হয়ে যায়!