যারা মুজিব আদর্শে বিশ্বাস করেন, তাদের প্রত্যেককে তিনটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

যারা মুজিব আদর্শে বিশ্বাস করেন, তাদের প্রত্যেককে তিনটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে কৃষকলীগ আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই তিনটি করে গাছ লাগান। একটি বনজ, একটি ফলজ ও একটি ভেষজ। প্রত্যেকে অন্তত এই তিনটা গাছ লাগাবেন। কারণ, গাছ আপনাদের আর্থিকভাবেও মূল্য দেবে, পরিবেশও রক্ষা হবে। আর সেই সাথে সাথে পুষ্টির জোগানও দেবে।

তিনি বলেন, আমি আমাদের প্রত্যেকটা সহযোগী সংগঠন এবং আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী, আমাদের কৃষকলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠন, এমনকি বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ থেকে শুরু করে সকলকে আমি আহ্বান জানাবো, মুজিব আদর্শে যারা বিশ্বাস করেন প্রত্যেকে অন্তত তিনটি করে গাছ লাগাবেন, তিনটি গাছ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে, জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে এই বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। আমাদের সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ আরও সবুজ হোক, আরও সুন্দর হোক এবং আমাদের পরিবেশ যেন ঠিক থাকে। তিনি বলেন, পরিবেশ এবং প্রতিবেশ ঠিক রেখে এই বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন আমরা করতে চাই। সেই উন্নয়নের জন্যই আমাদের এই পদক্ষেপ। সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশে আমি ১৯৯৬ সালে দেখেছিলাম মাত্র ৭ শতাংশ বনায়ন ছিল। আজ আমরা ২২ শতাংশে কিন্তু উন্নীত করেছি। আর তাছাড়া সারা বাংলাদেশে সামাজিক বনায়ন থেকে শুরু করে মানুষের ঘরে ঘরে বাগান… আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, এইভাবেই আমরা চাই আমাদের বনায়ন যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি পরিবেশ উন্নত হবে। আমাদের প্রতিবেশ সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে। সেই সাথে আমাদের দেশটা বিশ্বে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। আওয়ামী লীগের জনকল্যাণমূলক কাজের কথা তুলে ধরে দলটির সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সব সময় আমাদের দেশের কল্যাণে কাজ করে, জাতির কল্যাণে কাজ করে। জাতির পিতা আমাদের দেশ স্বাধীন করে দিয়েছেন। আমরা জাতির আদর্শ নিয়েই আমাদের সকল পদক্ষেপ নিয়ে থাকি। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল গণভবন আঙিনায় দুটি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় সেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষক লীগ সভাপতি সমীর চন্দ্র চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম।

স্বামীর খোঁজে প্রধানমন্ত্রীকে ‘মা’ ডেকে আবু ত্ব-হার স্ত্রীর চিঠি

 ঢাকা- আলোচিত ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান গত চার দিন ধরে নিখোঁজ । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় এই বক্তার নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা।

ছেলের খোঁজ না পেয়ে উৎকণ্ঠায় ও উদ্বিগ্নে দিনরাত পার করছেন মা আজেদা বেগম। স্ত্রী সাবিকুন্নাহার হন্যে হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন একটু সহযোগিতার আশায়। এই চারদিনের প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন থানায় গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত একটি মামলাও করতে পারেননি তিনি।

অবশেষে উপায় না পেয়ে শেষ ভরসা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে মা সম্বোধন করে সহায়তা চেয়ে একটি চিঠি লিখেছেন আবু ত্ব-হার স্ত্রী সাবিকুন্নাহার।

প্রধানমন্ত্রী বরাবর সাবিকুন্নাহারের সেই চিঠির একটি অনুলিপি গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।

যেখানে সাবিকুন্নাহার আবেদন করেছেন, ‘আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। কারও সহযোগিতা না পেয়ে আপনার (প্রধানমন্ত্রী) বরাবর শেষ আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনাকে মা ও আমার অভিভাবক মেনে আমার দু হাত জোড় করে আমার স্বামী নিখোঁজ আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানাচ্ছি।’

আবু ত্বহা কোনো অপরাধ করে থাকলে, তাকে আইনের কাছে সোপর্দ করা হোক বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন স্ত্রী সাবিকুন্নাহার।

চিঠির বিষয়টি সোমবার রাতে মোবাইল ফোনে নিশ্চিত করেছেন আবু ত্ব-হার স্ত্রী সাবিকুন্নাহার। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমার স্বামী এবং তার দুই সঙ্গী ও গাড়িচালকের কোনো খোঁজ পাইনি। এমতাবস্থায় আমার স্বামী আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান, তার দুই সঙ্গী ও গাড়ি চালকের জীবন রক্ষার্থে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চেয়ে একটি চিঠি দিয়েছি। চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেটে জমা নেওয়া হয়েছে। এখন আল্লাহ যদি মুখ তুলে তাকায়।’

সাবিকুন্নাহার আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চিঠির বিষয়টি আমি সেভাবে সাংবাদিকদের জানাতে পারিনি। আমি আজ সারাদিন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, ডিবি অফিস আর পল্লবী থানায় যেতে যেতে ক্লান্ত। আর পারছি না। রাত সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পল্লবী থানায় ছিলাম। আজ পল্লবী থানা বিষয়টি অভিযোগ আকারে নিয়েছে। আপনাদের গণমাধ্যমে খবর প্রকাশসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ত্ব-হার সন্ধান চেয়ে জোরালো দাবি ওঠায় পুলিশ বিষয়টি আমলে নিয়েছে। এমন আরো একটি চিঠি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি বরাবর দেব। ’

দীর্ঘশ্বাস ফেলে সাবিকুন্নাহার বলেন, ‘এমন স্বাধীন দেশে জ্বলজ্যান্ত চারজন মানুষ নিখোঁজ হয়ে যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেটা তো রুখতেই পারল না, এমনকি মামলাও নিচ্ছে না। সহায়তাও করছে না। এটা ভাবা যায়? আমার মতো দুর্ভাগ্য যেন আর কোনো স্ত্রীর না হয়।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১০ জুন) রংপুর থেকে ঢাকায় রওনা হওয়ার পর থেকে আবু ত্ব-হা নিখোঁজ হয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর পরিবার। আবু ত্ব-হার সঙ্গে থাকা আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দীন ফয়েজেরও নিখোঁজ।

তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ আবু তোহা মোহাম্মদ আদনানের শ্যালক জাকারিয়া হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রংপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন আবু ত্ব-হা ও তার সঙ্গীরা। পরে গাবতলী থেকে তারা নিখোঁজ হন বলে জানতে পেরেছি। সর্বশেষ রাত ২টা ৩৬ মিনিটে যখন আবু ত্ব-হার সঙ্গে যোগাযোগ হয়, তখন তিনি ঢাকার গাবতলীতে ছিলেন।

এরপর থেকে তাদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি। নিখোঁজের পরদিন শুক্রবার আবু ত্ব-হার স্ত্রী দারুসসালাম থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।

পরীমনি ভাগ্যবতী, ত্ব-হা’র পরিবারের সেই সৌভাগ্য হয়নি: সংসদে রুমিন ফারহানা।

ঢাকা- ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পরীমনির মতো ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের পরিবারের সৌভাগ্য হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিলের ওপর সংশোধনী প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুমিন বলেন, ‘কোথায় মামলা করবো? কার কাছে মামলা করবো? কার কাছে অভিযোগ করব? কেউ তো জিডি নিতে রাজি হচ্ছেন না, কথাটি বলছিলেন ত্ব-হার (আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান) স্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন এবং তার সঙ্গে আরও তিন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের ব্যাপারে কোনো খোঁজ পাওয়া যায় নাই।

তিনি বলেন, একই সময় একই ধরনের অভিযোগ করতে দেখেছি নায়িকা পরীমনিকে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিনি ভাগ্যবতী। কারণ তার মামলা নেয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু সেই সৌভাগ্য হয়নি ত্ব-হার পরিবারের।

‘সেই সৌভাগ্য হয়নি বাংলাদেশের আরও ৬০৪টি পরিবারের। যারা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। তাদের ব্যাপারে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু বলছে, না লোকাল পুলিশ স্টেশন কিছু বলতে পারছে।’

বিএনপির এই এমপি বলেন, সরকার যখন বলছে তারা পরকীয়ার টানে চলে গেছে, ঋণের বোঝা আছে, পারিবারিক কলহের জেরে চলে গেছে। তখন ২০১৯ সালের এপ্রিলে ফ্রান্সভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এফআইডিএইচ বলছে, গুমের এই ঘটনাগুলো বিক্ষিপ্ত, বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এগুলো যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করে, তাদের সমন্বিত কৌশলের অংশ। এই ঘটনাগুলো নিয়মতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রীয় নীতিমালার পরিপন্থি। এফআইডিএইচ বলছে যেহেতু বেশিরভাগ ভুক্তভোগীকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে টার্গেট করা হয়, তাই কাজগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ। অর্থাৎ গুমকে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধ বলছে।

তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব অভিযোগগুলো তদন্ত করা। তদন্তের ভিত্তিতে তারা কোথায় হারিয়ে গিয়েছে সেটা বের করা। বারবার বলা হয় বাংলাদেশের বিরাজনীতিকরণ করা হচ্ছে। বিরাজনীতিকরণ করা হচ্ছে এই অর্থে যে, যখন কোনো ব্যক্তিকে গুম করা হয়, তার পরিবার পায় না, তখন বলে আমার ছেলে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। তার মানে সরকারি দল না করলে সরকারি মতের সঙ্গে না মিললেই সে হাওয়া হয়ে যেতে পারে, নাই হয়ে যেতে পারে, এটাই বিরাজনীতিকরণ।

বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদ বলেন, আলেম অর্থ আমি যেটুকু বুঝি যারা কোরআন এবং হাদিসের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাকারী। আজ তারা কিন্তু সাংঘাতিক নিপীড়নের মধ্যে আছেন। আজ আমাদের যে সমস্ত আলেম এ ধরনের রিমান্ড, গ্রেফতারের সম্মুখীন হয়েছেন তাদের দয়া করে মুক্তি দিন।

তিনি বলেন, (তা না হলে) নাগরিক উদ্বেগ এবং দেশে ভারসাম্যহীন অবস্থা তৈরি হবে। সারা বাংলাদেশে আপনি ধর্মীয় তাফসির বন্ধ করে দিয়েছেন। গত চার দিন ধরে পত্রপত্রিকায় আসছে আমাদের একজন বিশিষ্ট আলেম মো. আদনান নিখোঁজ। তার পরিবার তার সন্ধান দাবি করছে।

বিএনপির অপর সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সব মানুষের কিন্তু জীবনের নিরাপত্তা আছে। কে দল করল, কে বেদল করল সেটা দেখার বিষয় নয়, আইন সবার জন্য সমান। আমরা দেখেছি, ইসলামিক স্কলার আদনান কীভাবে নিখোঁজ হয়েছেন।

বিএনপির অপর সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সব মানুষের কিন্তু জীবনের নিরাপত্তা আছে। কে দল করল, কে বেদল করল সেটা দেখার বিষয় নয়, আইন সবার জন্য সমান। আমরা দেখেছি, ইসলামিক স্কলার আদনান কীভাবে নিখোঁজ হয়েছেন।

তিনি বলেন, সেই আদনানের বিষয়ে তার পরিবার বা কেউ জানছে না। পুলিশ মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করছে। কোনো মামলা নিয়ে যে তাঁর খোঁজ করবে সেটাও কিন্তু করছে না। আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। পরীমণি ভাগ্যবতী যে, তার মামলা নেওয়া হয়েছে। আমরা ধন্যবাদ জানাই যে, (অভিযুক্তদের) আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিবি কার্যালয়ে পরীমণি।

ঢাকা- ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী পরীমনিকে রাজধানীর মিন্টো রোডের গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে কথা বলার জন্য ডাকা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুন) বিকেল ৪টার দিকে তিনি ডিবি কার্যালয়ে পৌঁছেন।

এর আগে বেলা সাড়ে ৩টায় বনানীর বাসা থেকে বের হন পরীমনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চয়নিকা চৌধুরী ও পরীর কস্টিউম ডিজাইনার জিমি।

এর আগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পরীমনি ৪টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে আসবেন। মামলার তদন্তের জন্য পরীমনির বক্তব্য দরকার। সে জন্যই পরীমনিকে ডাকা হয়েছে।’

এর আগে পরীমনি জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে ডিবি থেকে কল করা হয়। বিকালে ডিবি কার্যালয়ে ডাকা হয়।

ইসলামি বক্তার নিখোঁজে ফেসবুকে আসিফ নজরুলের প্রতিবাদ

রংপুরে ওয়াজ মাহফিল শেষে ঢাকার বাসায় ফেরার পথে শুক্রবার (১১ জুন) গভীর রাতে আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তার সঙ্গে নিখোঁজ হয়েছেন আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দীন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি। এদিকে, আদনানের মতো ইসলামি বক্তার নিখোঁজের পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক. আসিফ নজরুল।

আজ সোমবার (১৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আদনানের ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত শাস্তি দাবি করেন তিনি।

স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল বলেন, ‘যে দেশে মডেল মসজিদ হয় সেখানে আলেম উলামারা এতো হুমকির মুখে থাকে কিভাবে? কিভাবে নিঁখোজ হয়ে যায় আবু তোহা মোহাম্মদ আদনানের মতো একজন নির্বিরোধী ইসলামিক বক্তা? অবিলম্বে আদনানের সন্ধান চাই, যারাই জড়িত আছে এর পেছনে তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।’

এদিকে নিখোঁজ আবু তোহা মোহাম্মদ আদনানের শ্যালক জাকারিয়া হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (১০ জুন) রংপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন আবু ত্ব-হা ও তার সঙ্গীরা। পরে গাবতলী থেকে তারা নিখোঁজ হন বলে জানতে পেরেছি। সর্বশেষ রাত ২টা ৩৬ মিনিটে যখন আবু ত্ব-হার সঙ্গে যোগাযোগ হয়, তখন তিনি ঢাকার গাবতলীতে ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর থেকে তাদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি। নিখোঁজের পরদিন শুক্রবার আবু ত্ব-হার স্ত্রী দারুসসালাম থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।’

নাসির আমার স্পর্শকাতর স্থান গুলোতে স্পর্শ করেছে: পরীমণি

টনাস্থল ঢাকা বোট ক্লাবে কী’ ঘটেছিল তার বর্ণনা দিয়ে মামলার এজাহারে পরী;মণি লিখেছেন, এক নম্বর আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদের ডেকে বারের ভেরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি

খাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে আসামি মদ্যপান করার জন্য ;জো’র করেন।

এ;জাহারে তিনি আরও লিখেছেন, মদ্যপান করতে না চাইলে নাসির জোর করে আমার ;মুখের মধ্যে মদের বোতল ঢুকিয়ে মদ খাওয়া;নোর ;চেষ্টা করে। এতে আমি সামনের দাঁত ও ঠোঁটে আঘাত পাই। নাসির

আমাকে অকথ্য ভাষায় গা;লিগালা;জ করে। আ;মার শরী;রের বিভিন্ন স্পর্শকা;তর স্থানে স্প’র্শ করে এবং আমাকে জো’র করে ধ;;র্ষ;ণের চে;ষ্টা করে। আমা’র সঙ্গীদের সহায়;তায় হাত থেকে র;ক্ষা পাই।
সূত্রঃ সমকাল

দামি মদ নিতে না দেওয়ায় আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে : গ্রেফতারের আগে নাসির।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমণির মামলা দায়েরের পর এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদকে গ্রেফতার করেছে। রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে আজ সোমবার (১৪ জুন) তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের আগে নাসির উদ্দিন দাবি করেন, দামি মদ নিতে না দেওয়ায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার রাতে বোট ক্লাবে মদ্যপ অবস্থায় ঢুকে পরীমণিসহ কয়েকজন। এসময় তাদের সঙ্গে থাকা এক ছেলে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছিল। আর তারা যখন রাতে ক্লাবে প্রবেশ করে তখন সিকিউরিটি অফিসাররাও ছিলেন না। নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ঘটনার রাতে আমি উপস্থিত ছিলাম। আমি বোট ক্লাবের একজন পরিচালক। আমি যখন রাতে বের হয়ে যাচ্ছিলাম, তখন পরীমণিসহ কয়েকজনকে ক্লাবের ভেতরে ঢুকতে দেখি। যারা এসেছিল সবাই মদ্যপ অবস্থায় ছিল।

আমি কমপ্লিটলি ভিকটিমাইজড’ উল্লেখ করে নাসির উদ্দিন আরও বলেন, ক্লাবের ভেতরে ঢুকেই বারের রিসিপশনে চলে যায় তারা। সেখানে দামি মদ ছিল। সেসব দামি দামি মদ তারা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। আপনার বিরুদ্ধেই কেন অভিযোগ পরীমণির-এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, তারা ড্রিঙ্কস নিয়ে যেতে চেয়েছিল। আর তারা তা নিয়ে যেতে পারেনি। আমার ধারণা, এই ক্ষোভ থেকেই আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

1 2