কবি–মোঃ মোশাররফ হোসেন,

কবি–মোঃ মোশাররফ হোসেন,

পিতামৃত,আজিজুল হক মাতাববর,মাতামৃত,হাসনে বানু,
গ্রাম–কোড়াল তলী,থানা–ভেদর গন্ঞ্জ,জেলা–শরীয়তপুর।
কবি–মোঃ মোশাররফ হোসেন বাংলা কবিতায় স্বাতন্ত্র্য আবহ তৈরী করেছেন নিজের মতো করে।এমন গাঢ় গম্ভীর স্বকীয়তা
বর্তমান সময়ে অন্য কোনো লেখকের মাঝে খুব কমই লক্ষ্য করা যায়।তার নির্মান শৈলীর নিজস্ব চেতনাকে তিনি কবিতা লেখার চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই কবিতার সাথে জড়িত হয়ে লেখালেখির
কাজ শুরু করেন। তিনি তার শাণিত লেখনীর মাধ্যমে মেধা সিক্ত পাঠকদের বিস্মিত করে
ব্যাপক সাড়া তৈরি করেন।কবিতা রচনা দিয়েই তার সাহিত্য যাত্রা। তিনি অসংখ্য কবিতা,গল্প ও নাট্য প্রভৃতি লিখে
চলেছেন।বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার অসংখ্য কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।তিনি পেশায় সরকারী
চাকরিজীবি। তার প্রকাশিত গ্রন্থ,বীভৎস চিৎকার (২০০৩)
তার কবিতার জয় গানে বিকশিত হোক সত্য ও সুন্দরের
জাগরন।কবি দীর্ঘ জীবি হোক,
সেই কামনা করি।

সংসদে তুলোধুনো স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে, পদত্যাগ দাবি

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর
সমালোচনা হয়েছে সংসদে। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম, অক্সিজেন সংকটসহ কোভিড চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে তুলোধুনো করেছেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সদস্যরা। তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নির্লজ্জ আখ্যায়িত করে তার পদত্যাগ দাবিও করেন।

শনিবার (৩ জুলাই) সংসদের চলতি অধিবেশনের সমাপনী দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ দাবি করেন তারা।

বিএনপির গোলাম মুহম্মদ সিরাজ আলোচনার সূত্রপাত ঘটান। গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, বগুড়া এখন কোভিডের হটস্পট। গত তিনদিনে সেখানে ২৪ জন মারা গেছেন। সেখানে হাই ফ্লো নজেল ক্যানোলা সংকট। সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেই। জেলার তিনটি কোভিড হাসপাতালে করোনা রোগীতে ঠাসা।

জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সেদিন সংসদে আমি সার্জিক্যাল মাস্ক কেনা নিয়ে কথা বলেছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেটা তদন্ত করবেন। বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বললেন, ‘এটি সত্য নয়’। এজন্য আজকে আমি তথ্য-প্রমাণ নিয়ে এসেছি। সংসদীয় কমিটি বিষয়টি আলোচনা করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। সত্য বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে উনার তদন্ত করা উচিৎ ছিল। তাই আমার দাবি এ বিষয়ে তদন্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, করোনা অত্যন্ত মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। সব জায়গায় সেনাবাহিনী নামিয়ে এটা প্রতিরোধ করতে হবে। পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, জিজ্ঞেস করলেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন সব দিচ্ছি। কিন্তু কোথাও কিছু নেই। এভাবে আমরা একটা বছর সময় নষ্ট করেছি। আমাদের সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব দিলে অর্থ দিলে আমরা সব কিছু ঠিক করে দিতে পারতাম। কিন্তু আমাদের ওপর দায়িত্ব নয়। দায়িত্ব আমাদের ওপরে। তারা তো দুদিন পরে চলে যায়। জবাবদিহিতা তো তাদের নেই।
তিনি বলেন, আইসিইউ বেড আছে। কিন্তু প্রশিক্ষিত ডাক্তার নার্স নেই। অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। অধিকাংশ রোগী অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছেন। বিভিন্ন ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয় কিন্তু কোনও তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আজ পর্যন্ত আমাদের সামনে আসেনি। মানুষের জীবনের কি কোন দাম নেই? করোনাতো এখন সারা বিশ্বেই রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসায় কি ধরনের অনিয়ম মানা যায়?

তিনি বলেন, আইসিইউ বেড আছে। কিন্তু প্রশিক্ষিত ডাক্তার নার্স নেই। অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। অধিকাংশ রোগী অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছেন। বিভিন্ন ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয় কিন্তু কোনও তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আজ পর্যন্ত আমাদের সামনে আসেনি। মানুষের জীবনের কি কোন দাম নেই? করোনাতো এখন সারা বিশ্বেই রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসায় কি ধরনের অনিয়ম মানা যায়?

এসময় তিনি বলেন, সাতক্ষীরায় অক্সিজেনের অভাবে ৭ জন কোভিড রোগী এক ঘণ্টার মধ্যে ছটফট করতে করতে মারা গেছেন। আগের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হকের বাড়ি সেখানে। সেখানকার হাসপাতালটি ফাইভ স্টার মানের হওয়া উচিত ছিল। মন্ত্রীরা যান, মন্ত্রী আসেন। কিন্তু নিজের এলাকাটাও ঠিক রাখতে পারেন না।

এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে কি মানুষ? বুঝলাম না। উনার লজ্জা-শরম কিছু নাই, নৈতিকতা নাই, উনার পদত্যাগ করা উচিত। আমি উনার পদত্যাগ দাবি করছি।

মুজিবুল হক বলেন, এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে আমেরিকার সাথে তুলনা করলেন। আমেরিকায় যে সংখ্যায় মানুষ মারা যায়, তার তুলনায় আমাদের দেশে অনেক কম মানুষ মারা যায়। মনে হয় এটা উনার ক্রেডিট, যে উনার কারণে মানুষ মারা যায় না এবং তিনি এও বললেন গত এক বছরে তিনি অনেক কাজ করেছেন। কোন দুর্নীতি হয়নি, অনেক কাজ করেছেন। কাজটা উনি করেছেন।

তিনি বলেন, আজ দেখা গেল দেশের ৩৭টি জেলায় অক্সিজেনের কোন ব্যবস্থা নাই। মানুষ মারা যাচ্ছে অক্সিজেনের অভাবে। হাসপাতালে যেয়ে অক্সিজেনের জন্য মানুষ লাইনে আছে ৫ জনকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে তো ২০ জন রোগী লাইনে আছে। শুধুমাত্র অক্সিজেনের কারণে ছটফট করে মানুষ মারা যাচ্ছে। এই যে এতো লোক মারা যাচ্ছে আজ পর্যন্ত দেখলাম না আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসাতালের ভেতরে গিয়ে দেখলেন। উনি ঘরের ভেতর বসে জুম মিটিং করেন।

তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোভিডের মধ্যে তার ফ্যামিলি নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে খেতে গেছিল সেজন্য ওই দেশে দাবি ওঠার পর উনি পদত্যাগ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তিনি ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য অনেক সফলতা অর্জন করেন। আনন্দে আত্মহারা হয়ে তার অফিসের সহকারীকে তিনি একটি চুমু খেয়েছিলেন এজন্য তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে, আর্জেন্টিনাতেও একই ঘটনা। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে কি মানুষ? বুঝলাম না। উনার লজ্জা-শরম কিছু নাই, নৈতিকতা নাই, উনার পদত্যাগ করা উচিত। আমি উনার পদত্যাগ দাবি করছি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে শুরু থেকেই মাঠে রয়েছে সখিপুর থানা পুলিশ

আমান আহম্মেদ সজীব শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ
শরীয়তপুরে সরকার ঘোষিত ৭ দিনের কঠোর লকডাউন পালিত হচ্ছে। লকডাউন কার্যকর করতে মাঠে রয়েছে প্রশাসন। শনিবার (৩ জুলাই) সকাল থেকে
সখিপুর বাজারে প্রবেশ মুখে অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। এদিকে লকডাউন বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
কিছু নিত্যপণ্যের কাচামাল ও ওষুধের দোকান জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। মাস্ক পরিধানে জনসাধরণকে বাধ্য করছে প্রশাসন। বিনা কারণে ঘরের বাইরে বের হলেই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার যে আংশিক লকডাউন ঘোষনা করেছেন সেটা যেনো হযথাযথ ভাবে পালন করা হয় সেই জন্য শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর বাজারে থানা পুলিশ কঠোর ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
দেশে পণ্যবাহী যানবাহন ও রিকশা ছাড়া সব ধরনের গণপরিহন বন্ধ থাকবে। তাই শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুজ্জামানর এর দিক নির্দেশনায় পুরো জেলাতেই কঠোর তৎপর রয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

এবিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আসাদ হাওলাদার সহ সকল পুলিশ সদস্য পরিশ্রম করে যাচ্ছেন মাঠে।
নিয়মিত টহলের মধ্য দিয়ে রাস্তায় থেকে বিষয়গুলো নিশ্চিত করছেন।
জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সবাই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন। মাক্স পরিধান করুন।
সবাই ঘরে থাকুন সুস্থ থাকুন। নিজে এবং পরিবারকে সুস্থ রাখুন।

মৃত মায়ের বুকে দুধ খাওয়া জন্য শিশুর কান্না হাসপাতালের বারা চোখের পানি চলে আসে

‘মা’ একটি ছোট্ট শব্দ। এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সব মায়া, মমতা, অকৃত্রিম স্নেহ, আদর, নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সব সুখের কথা। চাওয়া-পাওয়ার এই পৃথিবীতে বাবা-মায়ের ভালোবাসার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না। মায়ের তুলনা মা নিজেই। মায়ের মতো এমন মধুর শব্দ অভিধানে দ্বিতীয়টি আর নেই। নদীর তলদেশে তো যাওয়া যায় কিন্তু মায়ের ভালোবাসার গভীরতা পরিমাপ করা যায় না।

নতুন খবর হচ্ছে, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে সুমি বেগম। পাশে কাতরাচ্ছে তার নয় মাসের কন্যাশিশু। বাকি সবার কাছে সুমি তখন মৃত। কিন্তু তার অবুঝ শিশু জানে না মৃত্যু কি, জানে না মা বলে তার আর কেউ নেই। তাইতো তখনো চেষ্টা করে যাচ্ছিলো মায়ের বুক থেকে দুধপানের। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই দৃশ্য দাগ কেটেছে সবার মনে। ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

বুধবার (৩০জুন) তীব্র পেটব্যথা নিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয় ২৫ বছর বয়সী সুমি বেগম। গতকাল বৃহস্পতিবার (০১জুলাই) দুপুরে মারা যান তিনি। তিনি কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের মন্নান মিয়ার মেয়ে।

মৃত নারীর ভাই পারভেজ মিয়া জানান, সপ্তাহখানেক আগে সে বাবার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলো। এর মধ্যে পেটব্যথার সমস্যা নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পারভেজ মিয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসক ও সেবিকারা রোগীকে গুরুত্ব দেয়নি। এখানে চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা না থাকলে তারা রোগীকে উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দিতে পারতেন বলেও উল্লেখ করেন পারভেজ।

অন্যদিকে, হাসাপাতাল কতৃপক্ষের দাবি, ঐ নারীকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এম মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বিষয়টি অবগত হবার পর তিনি ঐ রোগীর ফাইল তলব করে দেখেছেন। চিকিৎসায় তিনি কোনো অসঙ্গতি দেখেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।

শরীয়তপুরে মসজিদের নামে ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে

শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের আওতাধীন পশ্চিম কোটাপাড়ার লঞ্চ ঘাটটি ছিল অত্যন্ত ব্যস্ততম ঘাট। এক সময় ঢাকা যাওয়ার প্রধান মাধ্যম ছিল নদীপথ। নদীপথে মানুষ যাতায়াত করে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ বোধ করত। মামামাল পরিবহনের সহজ মাধ্যম ছিল নদী পথ। সময়ের কালক্রমে নদীর নাব্যতার হারানোর কারণে মানুষ এখন নদী পথে যাত্রা ও মালামাল পরিবহন ভুলে যেতে বসেছে। আধুনিক যুগের যান্ত্রিক সভ্যতার কারণে অতি দ্রুত যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনে মানুষ এখন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। একসময় শরীয়তপুরের মানুষ নৌযান লঞ্চে ঢাকা যাতায়াত করতো। তখন পশ্চিম কোটাপাড়া সাবেক ঘাটটি লঞ্চ ঘাটে পরিণত হয়েছিল। তখন এই ঘাট থেকে নিরাপদ, বোগদাদীয়া-১১, খেওয়াপার, সুরেশ্বরের-১, লঞ্চ গুলো প্রতিদিন ছেড়ে যেত ঢাকার উদ্দেশ্যে। পশ্চিম কোটাপাড়ার লঞ্চঘাটটি ইজারাদারদের আওতাধীন ছিল এবং প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা তোলা হতো পরে তা সরকারি খাতে জমা হতো। শরীয়তপুর কীর্তিনাশা নদীর নাব্যতার হারানোর কারণে পশ্চিম কোটা পাড়ার লঞ্চ ঘাটটি একেবারে হারিয়ে গেছে। এই ঘাটে এখন আর বড় বড় লঞ্চ ভিড়েনা এবং মানুষ ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকায় যেতে ঘাটে লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করে না। তবে বর্তমানে এ ঘাট দিয়ে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার এর মাধ্যমে মালামাল পরিবহন করা হয়। রড সিমেন্ট অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে এই পশ্চিম কোটাপাড়ার সাবেক ঘাটটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে বর্তমানে এই ঘাটে নেই কোনো ডাক, নেই কোন ইজারাদার তবুও নিয়মিত মালামাল ওঠানামা করতে হলে ট্রলারমালিক কাছ থেকে এবং মালামালের মালিকের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হয় জোরপূর্বক। সাবেক এই লঞ্চঘাটের কিছু অসাধু চক্র সুকৌশলে মসজিদের নামে রশিদ বানিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে। অবৈধ এই চাঁদাবাজির কর্মকান্ড প্রশাসনের দৃষ্টিগোচরে নেই।

পশ্চিম কোটাপাড়া বাইতুন নূর জামে মসজিদের ইমামের সহযোগিতায় অসাধু চক্রের মূল হোতা দিন ইসলাম বেপারী ও ইমরান বেপারী মসজিদের টাকা আদায়ের রশিদের হুবহু নকল করে নতুন রশিদ বানিয়ে টলার প্রতি একশত পঞ্চাশ টাকা এবং ট্রলার থেকে মালামাল খালাস বাবদ মালিকেদের কাছ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে নিচ্ছে। ভুক্তভোগীরা প্রতিবেদককে বলেন, আমরা ট্রলারমালিক অসাধু চক্রের মূল হোতা দ্বীন ইসলাম বেপারী কাছে অত্যন্ত অসহায়। আমাদের এই ঘাটে টলার ভিরালেই টলার প্রতি একশত পঞ্চাশ টাকা এবং টলার থেকে প্রতি বস্তা সিমেন্ট খালাস করতে তাদেরকে দিতে হয় ২৫ পয়সা। এই ঘাট দিয়ে প্রতি দিন হাজার হাজার বস্তা সিমেন্ট খালাস হয়। অসাধু চক্রের মূল হোতা দ্বীন ইসলাম বেপারী ও তার সঙ্গীরা মসজিদের নাম ব্যবহার করে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতিমাসে শরীয়তপুরের কমপক্ষে ২০ জন বিশিষ্ট ডিলার ব্যবসায়ীর মালামাল এই ঘাট দিয়ে খালাস হয়। আর মালামাল খালাস করলেই মালিকদের দিতে হয় চাঁদা। চাঁদাবাজদের কিছু বলতে গেলেই মালিকদের সাথে করে খারাপ আচরণ। পূর্ব কোটাপাড়া প্রেমতলা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সেনাবাহিনীর সাহসী সৈনিক মোক্তার হোসেন চৌকিদার ফ্রেশসিমেন্ট এর ডিলার। তার সিমেন্ট ও পশ্চিম কোটাপাড়ার লঞ্চ ঘাট দিয়েই খালাস করতে হয়। এ ঘাট দিয়ে মাল খালাস করলেই দিন ইসলাম বেপারী কে দিতে হয় চাঁদা। ভুক্তভোগী মুক্তার হোসেন চৌকিদার গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে বলেন, আমি গত কয়েক মাসে এই ঘাট দিয়ে দশ হাজার বস্তা সিমেন্ট খালাস করি এবং প্রতি বস্তা ২৫ পয়সা হারে খালাস করতে আমাকে গুনতে হয় ২৫০০ টাকা। এভাবে প্রতিবার মসজিদের নামে করা নকল ও কার্বন বিহীন রশিদের মাধ্যমে চাঁদা দাবি করে ওরা অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিচ্ছে সিমেন্ট মালিকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা। আমি গত ৩০ জুন সন্ধ্যা সাতটার দিকে পশ্চিম কোটা পাড়া নদীর পাড় বাইতুন নুর জামে মসজিদ লঞ্চ ঘাটে বাকি টাকা দিতে গেলে দিন ইসলাম ব্যাপারির কাছ থেকে টাকা আদায়ের রশিদ চাইলে দিন ইসলাম আমার সাথে খারাপ আচরণ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়, এমনকি আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বালতি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। ওই সময় ঘটনাস্থলে আমার ম্যানেজার সহ আশেপাশের সাধারণ লোকজন উপস্থিতিতে আমি প্রানে রক্ষা পাই। তারপর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চলে আসি এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে যাই। আমি পরের দিন সুষ্ঠু বিচারের দাবীতে পালং থানা হাজির হইয়া চাঁদাবাজ দ্বীন ইসলাম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করি। পশ্চিম কোটাপাড়া নদীর পাড় বাইতুন নুর জামে মসজিদ এর সভাপতি মোঃ রব ব্যাপারীর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তার কাছে মসজিদের নামে রশিদ বানিয়ে চাঁদা তোলার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। মসজিদের নামে চাঁদা তোলেন এই মসজিদের ইমাম ও দিন ইসলাম বেপারী। তিনি আরো বলেন, মসজিদের নামে টাকা তুলে তারা খায় না মসজিদে দেয় সেটাও আমি জানি না। এ বিষয়ে দ্বীন ইসলামের কাছে হিসাব জানতে চাইলে বিগত দিনে আমার সাথে মনোমালিন্য হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দিন ইসলাম বেপারী গণমাধ্যমকে বলেন, আমি দীর্ঘদিন এই মসজিদের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করতেছি। আমি এবং ইমরান বেপারী এই মসজিদ কমিটির সদস্যদের হুকুমে মসজিদের উন্নয়নের জন্য মসজিদের রশিদ দিয়ে প্রত্যেক ট্রলার থেকে দেড় শত টাকা এবং বস্তাপ্রতি ২৫পয়সা করে আদায় করি। সিমেন্ট ব্যবসায়ী মোক্তার চৌকিদারের সাথে আমার মারামারি হয় ঘাট দিয়ে মাল নামানোর টাকা চাওয়ায়। সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মন্দীপ ঘড়াই গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগকারী আমাকে অবহিত করেনি। অভিযোগকারী উপজেলা বরাবর অভিযোগ করলে উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিদায় চিলি সেমিফাইনালে ব্রাজিল

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখার দৌড়ে বড় একটা ধাপ পার হলো ব্রাজিল। রিও ডি জেনিরোয় আজ কোয়ার্টার ফাইনালে চিলিকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের দেখা পেয়েছে তিতের দল।

সেমিফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ গতবার ফাইনালে ওঠা পেরু। রাত ৩টায় শেষ আটে অপর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পায় পেরু।

নির্ধারিত সময় পর্যন্ত রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ৩-৩ গোলে অমীমাংসীত ছিল। লাল কার্ড দেখেন দুই দলের একজন করে খেলোয়াড়। গতবারের ফাইনালে পেরুকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল।

নিলতন সান্তোস স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে দুই দল সুযোগ তৈরি করলেও সুবর্ণ সুযোগগুলো হাতছাড়া করেছে ব্রাজিল। ১৫ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে বল পেয়ে যান রিচার্লিসন। দৌড়ে লং রেঞ্জের শট নিয়েছিলেন। কিন্তু বাম প্রান্ত থেকে তার নেওয়া নিরীহ শট সরাসরি জমা পড়ে ব্রাভোর গ্লাভসে।

২২ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া করে তারা। বাম প্রান্ত থেকে চিলি রক্ষণকে বোকা বানিয়ে দূরের পোস্ট বরাবর ক্রস দিয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু লক্ষ্যে বল রাখতে পারেননি এগিয়ে আসা ফিরমিনো।

২৭ মিনিটে প্রতি আক্রমণে ভালো সুযোগটি পেয়েছিল চিলিও। একক প্রচেষ্টাতে ডান প্রান্ত দিয়ে দৌড়ে দুরূহ কোণ থেকে শট নিয়েছিলেন চিলির ফরোয়ার্ড ভারগাস। ব্রাজিল গোলকিপার এদেরসন বাম প্রান্তে ঝাঁপিয়ে কোনও মতে তার শট রক্ষা করেছেন।

৩২ মিনিটে আবার সুযোগ তৈরি করেও হতাশ করে সেলেসাওরা। বক্সের প্রান্ত থেকে দানিলোর নেওয়া শট চলে যায় বারের ওপর দিয়ে। বিরতির আগে জেসুসের শট দারুণ সেভে রক্ষা করেন চিলির গোলকিপার ব্রাভো।

৩২ মিনিটে আবার সুযোগ তৈরি করেও হতাশ করে সেলেসাওরা। বক্সের প্রান্ত থেকে দানিলোর নেওয়া শট চলে যায় বারের ওপর দিয়ে। বিরতির আগে জেসুসের শট দারুণ সেভে রক্ষা করেন চিলির গোলকিপার ব্রাভো।

বিরতির পর ফিরমিনোর বদলে নামেন প্যাকেতা। আর তাতেই দৃশ্যপট পাল্টে যায় সেলেসাওদের। ৪৬ মিনিটে গোলমুখে নেইমারের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে চিলির জাল কাঁপিয়ে দেন লুকাস প্যাকেতা।

দুই মিনিট বাদে অবশ্য বাজে ট্যাকলের খেসারত দিতে হয় স্বাগতিকদের। ব্রাজিল পরিণত হয় ১০ জনের দলে। সরাসরি লাল কার্ড দেখেন জেসুস। বল দখল করতে গিয়ে বুট দিয়ে চিলি খেলোয়াড় মেনার মুখ বরাবর আঘাত করেন তিনি! তার পর থেকেই বেশ চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। ৬২ মিনিটে চিলি সমতাও ফিরিয়েছিল। ফ্রি কিক থেকে জাল কাঁপিয়েছিলেন ইসলা। কিন্তু অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় তা। ভার রিভিউ নেওয়া হলে আগের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে পরে।

এর পর শেষ দিকে বার বার ব্রাজিল রক্ষণে ত্রাস ছড়ায় ২০১৫ ও ২০১৬ আসরের চ্যাম্পিয়ন চিলি। ভাগ্যদেবী সহায় না থাকায় কাঙ্ক্ষিত গোল তারা পায়নি। যেমনটি হয়েছিল ৭৮ মিনিটে। ভারগাসের দেওয়া শট থেকে বল পেয়ে লক্ষ্য বরাবর শট নেন মেনসেস। দারুণ দক্ষতায় তার শট বাঁচিয়ে দেন ব্রাজিল গোলকিপার।

৮১ মিনিটে সময় নষ্ট করার মাশুল দেন ব্রাজিল গোলকিপার এদেরসন। হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। শেষটায় আর গোল না হলেও নিজেদের রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল ব্রাজিল।