পদ্মা সেতুর মালামাল বহন কারি জাহাজ ডুবে গেলো বঙ্গোপসাগরে

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি ডুবন্ত জাহাজের সাথে ধাক্কা লেগে আরেকটি পণ্যবাহী জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার সময় পণ্যবাহী জাহাজের নাবিকেরা মাছ ধরার ছোট নৌকায় উঠে প্রাণে রক্ষা পান।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মো: সেলিম।

তিনি আরো জানান, মঙ্গলবার সকালে জাহাজটি চট্রগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় শিকার জাহাজটি হলো এম ভি হ্যাং গ্যাং-১। জাহাজটি পরিচালনা করছে এম জেড শিপিং লাইন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ ওই স্থান এড়িয়ে চলতে লালবয়া স্থাপন করে। বার্জের মতো জাহাজটি যেখানে ডুবেছে, সেখানে গত শনিবার এমভি ফুলতলা-১ নামের একটি জাহাজ ডুবে যায়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ভাসানচর থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পণ্যবাহী জাহাজটি দুর্ঘটনায় পড়েছে। জাহাজটিতে পদ্মা সেতুর জন্য মালামাল নেয়া হচ্ছিল। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পণ্যবাহী জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবন্ত জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে পণ্যবাহী জাহাজটি ডুবে যায়।

রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে জাল টাকা তৈরির কারখানার ও বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও টাকা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ

ঢাকা : রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে জাল টাকা তৈরির একটি কারখানার সন্ধানসহ বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- আব্দুর রহিম শেখ, ফাতেমা বেগম, হেলাল খান, আনোয়ার হোসেন ও ইসরাফিল আমিন।

সোমবার দুপুরে বাড্ডা থানার নুরের চালা সাঈদ নগর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ৪৩ লক্ষ তৈরিকৃত জাল টাকাসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এ অভিযান সম্পর্কে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন উৎসবে বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে জাল টাকা তৈরি চক্র, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি, ছিনতাইকারী এদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়। আমরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এদের তৎপরতা রুখতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি। আজ ডিবির ডিসি মশিউরের নেতৃত্বে এ বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছি। জাল টাকায় শুধু দেশবাসী প্রতারিত হচ্ছে না রাষ্ট্রও বিশাল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে সম্মানিত মহানগরবাসী যাঁরা অধিক টাকা বহন করবেন, তাঁরা নগদ ক্যাশ বহন না করে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করার জন্য অনুরোধ করেন ডিবির এই কর্মকর্তা।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, অভিযানকালে আমরা কারখানাটি থেকে ১০০০ টাকা ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের প্রায় ৪৩ লক্ষ তৈরিকৃত জাল টাকা, একটি ল্যাপটপ, দুইটি কালার প্রিন্টার, বিপুল পরিমাণে আঠা ও আইকা, বিভিন্ন ধরনের রং, জাল টাকা তৈরির জন্য এ ফোর সাইজের প্রচুর কাগজ, নিরাপত্তা সুতার বান্ডেল, লেমিনেটিং মেশিন, কাটার, বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো সম্পন্ন বিশেষ কাগজ জব্দ করেছি। যা দিয়ে কয়েক কোটি মূল্যের জাল টাকা তৈরি করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতরা জাল টাকা ও মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে জড়িত থেকে পূর্বেও গ্রেফতার হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত ফাতেমা বেগম ২০১৯ সালে হাতিরঝিল এলাকার একটি বাসায় জাল টাকার তৈরি করার সময় অপর সহযোগীসহ হাতে নাতে ধরা পড়েছিল। কিন্তু তার স্বামী রহিম ওই সময় পালিয়ে গিয়েছিল। এ সময় তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকা খুচরা এবং পাইকারি বিক্রি করতো। গত তিন বছর ধরে ঈদসহ অন্যান্য উৎসবের আগে আগে জাল টাকা তৈরির কাজে নিয়োজিত থেকে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি জাল টাকা বাজারে ছেড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। ১০০ টি কাগজের নোটের এক বান্ডেল জাল টাকা তৈরি করতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। তৈরিকারকরা প্রতি বান্ডেল পাইকারি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। পাইকাররা আবার এ গুলোকে প্রান্তিক পর্যায়ের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতাদের কাছে প্রতি বান্ডেল ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। যা রুট পর্যায়ের জাল টাকার কারবারিরা কখনো কখনো গহনা গাটি, কখনো কাপড় চোপড়, ভোজ্য পণ্য এমনকি পশুর হাটে বিক্রি করে ছড়িয়ে দিয়ে থাকে বলে তিনি জানান। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে মর্মে গোয়েন্দা এই কর্মকর্তা জানান।

ঈদে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ছুটি শুরু ১৮ জুলাই

ঈদুল আজহা উপলক্ষে শ্রমিকদের আগামী ১৮ জুলাই (রোববার) থেকে ছুটি ঘোষণা করছেন পোশাক কারখানার মালিকরা।

আগামী ২১ জুলাই ঈদুল আজহা। সে উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকবে ২০ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত, অর্থাৎ মোট তিন দিন। করোনার এ সময়ে ঈদে শ্রমিকরা যাতে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে বাড়ি যেতে পারেন, সেজন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি ছুটির পাশাপাশি শ্রমিকদের বার্ষিক ছুটিও যোগ করে দিচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দেশে করোনার অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় পোশাক শ্রমিকের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে সরকার ঘোষিত ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি দিচ্ছে কারখানাগুলো। তারপরও আমরা চাই শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুক।

তিনি বলেন, এমনিতে সরকার ঈদ উপলক্ষে তিনদিন ছুটি ঘোষণা করেছে। তবে গার্মেন্টস কারখানাগুলোর ছুটির বিষয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর শ্রম ভবনে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বৈঠক করবেন। এরপর বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

এ বিষয় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ঈদে সরকারি ছুটি তিন দিনের বেশি দেওয়ার এখতিয়ার নেই। তবে যদি কোনও কারখানা মালিক ও শ্রমিক সমন্বয় করে ছুটি বাড়ান, তাহলে বাড়াতে পারেন। গার্মেন্টস শ্রমিকদের ছুটির বিষয় নিয়ে শ্রমিক ও মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পরই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।

এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন।

সোমবার (১২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন ও সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত এ আহ্বান জানান।

যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রত্যেক ঈদ উৎসবেই দেখা যায়, বেতন-বোনাস নিয়ে মালিকরা সমস্যা সৃষ্টি করে। ঈদের দিনেও শ্রমিকদের বেতন-বোনাসের জন্য কারখানায় অবস্থান করতে হয়। অনেক কারখানায় ১৮/১৯ তারিখে বেতন-বোনাস পরিশোধের কথা।

তারা বলেন, এর ফলে দেখা যাবে, ব্যাংকের ঝামেলার কথা বলে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস অনিশ্চিত করে তুলবেন মালিকরা। তাই ১৫ জুলাইয়ের মধ্যেই সকল কারখানায় সম্পূর্ণ বেতন-বোনাস পরিশোধ করার আহ্বান জানান তারা।