শরীয়তপুরের ডামুড্যায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে অমানবিক নির্যাতন ও মারধর , পলাতক অভিযুক্ত আলাউদ্দিন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় যৌতুকের জন্য সুলতানা (৩২) নামে এক গৃহবধুকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী আলাউদ্দিন খাঁ’র (৪০) বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে নির্যাতিতা ওই নারী। আলাউদ্দিন খাঁ ডামুড্যা উপজেলার সিধলকুড়া গ্রামের মৃত হাসান খার ছেলে।

মামলা সুত্রে জানা গেছে, ১৩ বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে আলাউদ্দিন ও সুলতানার বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের কোনাে সন্তানাদী নেই । গত দুই বছর আগে আবদুল্লাহ নামে একটি ছেলে সন্তান দত্তক নেন তারা। বিয়ের পর থেকেই স্বামী আলাউদ্দিন খাঁ তার স্ত্রী সুলতানাকে বাবার কাছ থেকে যৌতুক এনে নিতে চাপ দেন এবং যৌতুক এনে না দিলে বিভিন্ন সময় সুলতানাকে মারধর করতেন। যার কারণে বিভিন্ন সময় সুলতানা বলেন তার বাবার কাছ থেকে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা এনে দিয়েছি প্রায় ১বছর আগে ও নতুন বাড়ি করতে ২ লাখ টাকা এনে দিয়েছি স্বামী আলাউদ্দিনকে দেন। কিছুদিন পূর্বে আবারও সুলতানাকে তার বাবার কাছ থেকে আরও এক লাখ টাকা এনে দিতে বলেন। সুলতানা টাক এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে স্বামী আলাউদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে সুলতানাকে এলােপাথারী কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। সুলতানা তার পালিত ছেলে আবদুল্লাহকে নিয়া বাবার বাড়িতে চলে যায় । গত ৩ জুলাই সকালে সুলতানা তার পালিত ছেলে আব্দুল্লাকে নিয়ে সিধলকুড়া স্বামীর বাড়ি গেলে যৌতুকের এক লাখ টাকা না নিয়ে যাওয়ায় স্বামী আলাউদ্দিন ও তার ভাবি, ভাই, বাড়ির উপরে বিয়ে দেওয়া বোন মিলে সুলতানাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল ঘুসি মারতে থাকে এবং চুলের মুঠি ধরে তলপেটে ও কোমরে লাথি মেরে নীলা ফুলা জখম করে। পরে ধাক্কা মেরে লেবু বাগানের কাটার উপর ফেলে দেয় । এসময় সুলতানার ডাক চিৎকার দিলে আশপাশের লােকজন এসে তাকে উদ্ধার করে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে গৃহবধূ সুলতানা কিছুটা সুস্থ্য হয়ে যৌতুক ও নারী নির্যাতন দমন আইনে স্বামী আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ডামুড্যা থানায় মামলা দায়ের করেন।

কক্সবাজারে পাহাড় ধ্বস; ৬ রোহিঙ্গা মৃত্যু, আহত ১০

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধ্বসে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ছয়জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উখিয়ার ১০নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

মৃতরা হলেন- ক্যাম্পের ব্লক জি/৩৭ এর নুর মোহাম্মদের মেয়ে নুর বাহার (৩০), শাহ আলমের ছেলে শফিউল আলম (১২), ব্লক জি/৩৮ এর ইউসুফের স্ত্রী দিল বাহার ও তাদের দুই সন্তান আবদুর রহমান (৩) আর আয়েশা সিদ্দিকা (২ )।

 

মৃত আরেক শিশুর পরিচয় তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি।

 

আহতদের ক্যাম্পের অভ্যন্তরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধ্বসে ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি তিনি শুনেছেন।

 

গত দুদিন ধরে কক্সবাজারে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। ভারী বর্ষণের কারণেই এই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে।

শরীয়তপুরে সাংবাদিকের তৎপরতায় বাল্যবিবাহ বন্ধ- কনের পিতাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

শরীয়তপুরে মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার কারণে মেয়ের বাবাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দশ হাজার টাকা জরিমানা। এ ঘটনা ঘটে গত ২৬ জুলাই ২০২১ বিকেল চারটার দিকে কনের বাবা বিল্লাল হোসেন মীর এর নিজ বাড়িতে।

শরীয়তপুর সদর পৌরসভা ৭ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ মধ্য পাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বিল্লাল হসেন মির (৪২)লোভের বশবর্তী হয়ে (১৪) বছরের মেয়েকে চন্দ্রপুর ইউনিয়নের (৪২) বছরের সৌদি প্রবাসী ছেলের সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। এই বাল্য বিবাহের বিষয়টি স্থানীয় সূত্রে সাংবাদিকরা সংবাদ পেয়ে কনের বাড়িতে গেলে ওই বিয়ে বাড়ি থেকে ভয়ে বর সহ সকলে পালিয়ে যায়।

বাল্যবিবাহের সত্যতা পেয়ে ঘটনাস্থল হতেই শরীয়তপুর জেলা মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি এবং দৈনিক দেশবার্তা পত্রিকার ব্যুরো প্রধান মোঃ ফারুক হোসেন মোল্লা জেলা প্রশাসকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাহবুব আলম কে মুঠোফোনে জানালে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ফোর্স নিয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম কনের বাড়িতে চলে আসেন।

কনের জন্ম নিবন্ধন ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এটা একটি বাল্যবিবাহ এবং এটাও নিশ্চিত করেন ওই মেয়েটির বয়স সর্বোচ্চ(১৪)বছর।

পুলিশ আসার বিষয়টি টের পেয়ে কনের বাবা বিল্লাল হোসেন মীর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম কনের বাবাকে ঘটনাস্থলে হাজির করেন।

কনের বাবা বিল্লাল হোসেন মীর বলেন আমার মেয়ের বয়স (১৪)বছর। আমি এটা ভুল করেছি।

তখন ঘটনাস্থলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কনের বাবা বিলাল হোসেন মীর কে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে দশ হাজার টাকা জরিমানা করেন। মেয়ের বাবা তিনশত টাকার স্ট্যাম্পে মুচলেকা দেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন এর বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া যাবে না।

কনে সাংবাদিকদের বলেন আমি দক্ষিণ মধ্য পাড়া আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা মাদ্রাসা নবম শ্রেণীর ছাত্রী, আমার বয়স এখন (১৪) বছর। ঘটকের মাধ্যমে আমার বাবা-মা আমাকে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল।

ক্ষমতা ভোগ-বিলাসের বিষয় না: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ২৪লাইন ডেক্সঃ ঢাকা- সরকার গঠন করা বা ক্ষমতায় আসা ভোগ-বিলাসের বিষয় নয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটা বিরাট দায়িত্ব।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন ও জনপ্রশাসন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অংশ নিয়ে তিনি এ গল্প বলেন।

অনুষ্ঠানে ২০২০ সালে জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে অবদান রাখায় ৯ এবং ২০২১ সালে ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জনপ্রশাসন পদক দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পদক তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গঠন করা বা ক্ষমতায় আসা এটা শুধু ভোগ-বিলাসের বিষয় না। আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েছি বলে যে মহা কিছু হয়ে গেছি, তা না। এটা একটা বিরাট দায়িত্ব।

‘সেই সাথে আমার যারা সহকর্মী, বিশেষ করে সরকারি কর্মচারী, তাদেরও দায়িত্ব। কারণ, বাংলাদেশের জনগণ তারাই তো আপনাদের ভরণপোষণ, খাবার জোগান তারাই তো করেন; আমাদের সকলের জন্যই করেন। তাদের জন্য আমরা কতটুকু কী করতে পারলাম, সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় বিষয়। তাদের সার্বিক উন্নয়নটাই হলো আমাদের সকলের দায়িত্ব, যে যখনই সরকারে আসুক। এটা যদি না হয় তাহলে কিন্তু একটা দেশ এগোতে পারে না।’

সরকারের কর্মকাণ্ড মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করায় জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান সরকারপ্রধান।

এসময় দেশের জনগণকে ব্যাপকভাবে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, ইতোমধ্যে ভ্যাকসিন কেনা আমরা শুরু করেছি। ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে। ব্যাপকভাবে ভ্যাকসিন দিতে হবে। যাতে দেশের সকলেই সুরক্ষিত থাকে।

সরকার প্রধান বলেন, ইতোমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি‑ পরিবারে যারা.. ড্রাইভার থেকে শুরু করে বাড়িতে যারা কাজ করে তাদের জন্য ভ্যাকসিন দিয়ে দেওয়া হয়। তাহলে সবাই সুরক্ষিত থাকতে পারবে। এর জন্য প্রয়োজনে যত টাকা লাগবে, যত ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হবে আমরা কিনব। ভবিষ্যতে আমরা বাংলাদেশে ভ্যাকসিন তৈরি করব। যাতে মানুষের কোন অসুবিধা না হয়।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসবে। নতুন উদ্ভাবন হবে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই আমরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত দেশের মানুষ সেবা পাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা মানুষ ব্যাপকভাবে পাচ্ছে। আমরা দেশের মানুষকে যে সকল সহযোগিতা করছি তার সবকিছুই এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে। এতে আমাদের কাজ যথাযথ হচ্ছে, সময় বাঁচছে।

শরীয়তপুরের সখিপুর বালার বাজারে আগুেপুড়া ১৭ টি দোকানী কে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নগদ ৫ হাজার টাক করে প্রধান করেন

আমান আহমেদ সজিবঃ
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার বালার বাজারে আগুন লেগে সতেরোটি দোকান পুড়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সোমবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পুড়ে যাওয়া দোকানগুলো হলো দুদু মিয়া ব্যাপারীর ফল, জহিরুল ইসলামের ফল, নান্নু পাঠওয়ারীর ফল, মুন্সী মোল্লার মুদি, আলমাস মুন্সীর মুদি, নোয়াব হাংলাদারের মুদি, খাজা মোল্লা কসমেটিকস, নুরে আলম বালা কাপড়,
আমানুল্লাহ ওষুধ, গোপাল স্বর্ণ, সুরেশ দর্জি, আদু মোল্লা ইলেক্ট্রনিকস, সিরাজ ওষধ, লতিফ মুদি, সোহেল বালা মদি, বাচ্চু মামুদ মুদি, খোকন গাজী মুদি দোকান।

শরীয়তপুরের ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক মো. সেলিম মিয়া জানান, খবর পেয়ে রাত ৪টা ১০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস
সদর ও ডামুড্যা উপজেলার ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে এ আগুন লেগেছে।

বালার বাজার কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বালা বলেন, বাজারের ১৭টি দোকান আগুনে পুড়ে গে‌ছে। গভীর রাতে আগুন লাগার কারণে কোন মালামাল বের করা সম্ভব হয়নি। ব্যবসায়ীরা সর্বশান্ত হয়ে গে‌ছে। আমরা সরকারের কাছে সহায়তা চাই।

চরসেনসাস ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জিতু মিয়া ব্যাপারী জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাজারের সতেরোটি দোকানে আগুন লেগেছে—এমন খবর জানিয়ে ভোরে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী তাঁকে মুঠোফোনে খবর দেন। তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম এনামুল হক শামীমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছেন। পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি জানান, আগুন লাগার ঘটনায় এসব দোকানের অন্তত এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগীতা করবেন বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর আল নাসীফ বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি ব্যবসায়ীকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে দেয়া হয় এবং চেয়ারম্যান জিতু মিয়া বেপারীর নিজেস্ব তহবিল থেকে তিন হাজার টাকা করে দেয় হয় মোট আট হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

ভেদরগঞ্জের সখিপুরের বালার বাজারে ১৭ টি দোকান আগুনে পুড়ে গেছে ক্ষতি পরিমাণ ১ কোটি টাকা

জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরের বালার বাজারে আগুনে পুড়ে ১৭ টি দোকান ছাই হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে ব্যবসায়ী এবং দোকান মালিকগন এক কোটি টাকারগ ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাদের।

ক্ষতিগ্রস্থ মালিক এবং ব্যবসায়ীরা হলেন মোঃ খাজা মোল্লা, তার কসমেটিকস দোকান, আদু মোল্লা তার ইলেকট্রনিকস এর দোকান, সুরেশ এর দর্জির দোকান, গোপালের স্বর্ণের দোকান, নুরে আলম বালার কাপড়ের দোকান, আমানুল্লাহ এর ঔষধের দোকান,মোঃ সিরাজ এর ঔষধের দোকান, এ ছাড়াও রয়েছে দুদু মিয়া ব্যাপারী,জহিরুল ইসলাম ও নান্নু পাটোয়ারীর ফলের দোকান, আলমাস মুন্সি, নোয়াব হাওলাদার, লতিফ, সোহেল, বাচ্চু মাহমুদ,মুন্সি মোল্লা এবং খোকন গাজীর রয়েছে মুদি দোকান।

জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসার আগেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় দোকান গুলো। তবে স্থানীয় লোকজন এবং ব্যবসায়ীরা বলেন, এতো আগুন যা আমাদের পক্ষে নেভানো সম্ভব হয়নি তবে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখানে পৌঁছাতে পারলে হয়তো কিছুটা ক্ষতি কম হতো।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ সহকারী-পরিচালক বলেন, ভেদরগঞ্জ উপজেলার বালার বাজারে আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনটি ইউনিট ঘটনা স্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টার পড়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক কোন ত্রুটির কারণে এ আগুনের সুত্রপাত হতে পারে।

এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর আল নাসিফ বলেন, উপজেলার বালার বাজার আগুন লাগা স্থান পরিদর্শন করেছি এবং উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি ব্যবসায়ীকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হবে এবং পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

এদিকে শরীয়তপুর দুই (নড়িয়া ও সখিপুর) এর সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বিষয় টি জেনেছেন এবং সার্বিক খোঁজ খবর নিয়েছেন সেইসাথে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক এবং ব্যবসায়ীদের সব রকম সহায়তা দিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ফরিদপুরে জলাশয়ে আটকা পড়েছে কুমির, আতঙ্কে এলাকাবাসী

টিটুল মোল্লা ফরিদপুর থেকে ঃ ফরিদপুরে একটি জলাধারে কুমির এসে আটকা পড়েছে। রোববার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৩৮ দাগ এলাকার সালাম খাঁর ডাঙ্গী চরের জলাশয়ে কুমিরটি দেখা যাচ্ছে। এরপর ওই এলাকায় মাইকিং করে সর্বসাধারণকে ওই জলাশয়ে না নামার জন্য বলা হয়েছে।

জানা গেছে, সালাম খাঁর ডাঙ্গী চরে আনুমানিক তিনশ ফুট দৈর্ঘ্য ও দুইশ ফুট প্রস্থ একটি জলাশয় রয়েছে। ওই জলাশায়ে কুমিরটি এসে আটকা পড়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, রোববার সালাম খাঁর ডাঙ্গী গ্রামের জেলে হজরত মিয়া (৩৬) পদ্মা নদী থেকে আনুমানিক চার কেজি ওজনের একটি বোয়াল মাছ ধরেন। মাছটি তাজা রাখার জন্য মাছের মুখে দড়ি বেঁধে জলাশয়ের মধ্যে রাখেন। কিছুক্ষণ পর তিনি মাছটি তুলে আনার জন্য দড়ি ধরে টান দিলে কুমিরটি দেখতে পান।

এলাকাবাসী জানায়, পদ্মা নদী থেকে একটি সরু চ্যানেল ওই জলাধারের কাছে গেছে। এর মধ্যে নদীতে পানি কমে যাওয়ায় চ্যানেলের পানি শুকিয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি মেঁছো কুমির। কোনো মাছ তাড়া করতে করতে কুমিরটি জলাধারে এসে আটকা পড়েছে। কুমিরটি দেখার পর ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় পুরাতন মোহন মিয়া হাট জামে মসজিদ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। ওই জলাধারে যাতে কেউ না নামেন সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে এলাকাবাসীকে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান বলেন, কুমিরটির আনুমানিক দৈর্ঘ্য পাঁচ ফুট হবে। কুমিরটি দেখার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে বন বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ফরিদপুর বন বিভাগের আঞ্চলিক কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, যে জলাধারে কুমিরটি অবস্থান করছে সেটি ১৫ থেকে ২০ ফুট গভীর। সেখান থেকে কুমিরটি ধরা কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

তিনি বলেন, যে চ্যানেল দিয়ে কুমিরটি ওই জলাধারে ঢুকেছে সেই চ্যানেলের মুখে হাঁস-মুরগি বেঁধে রেখে কুমিরকে প্রলুব্ধ করে বের করে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে এ উদ্যোগ সফল না হলে বিষয়টি বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা কার্যালয়কে জানানো হবে।  যাতে কুমিরটি জলাধার থেকে সরিয়ে বড় কোনো নদীতে ছেড়ে দেওয়া যায়।

1 2