সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রনয়নের দাবীতে দেশব্যাপী প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান

ডেস্ক রিপোর্ট ;

সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট স্মারকলিপি পাঠিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। বাংলাদেশ মমফস্বল সাংবাদিক ফোরাম-বিএমএসএফ’র ডাকে রোববার সারাদেশের জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে স্মারকলিপি পাঠানো হয়।

 

এদিকে বিএমএসএফ’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফরের নেতৃত্বে ঢাকা জেলা প্রশাসক মো: শহীদুল্লাহর কার্যালয়ে রোববার দুপুরে  স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়েছে।

এসময় কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোনালিসা মৌ, চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মাহতাব হোসাইন, ঢাকা জেলা দক্ষিন সিনি:সহ-সভাপতি সেহলী পারভীন, আনোয়ার হোসেন, সাঈদা সুলতানা, উত্তরের সহ-সভাপতি উজ্জল ভুইয়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক আনিস লিমন, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাবিকুন নাহার, মো: সাইম হোসেন, হাবিবুর রহমান বাবু, আবুল বারাকাত, বিএমএসএফ নেতা এ আর মামুন  প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

স্মারকলিপি প্রদান শেষে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর সংক্ষিপ্ত এক বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, দাবী এবং মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে বিএমএসএফ কাজ আসছে। সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত নানামুখী সমস্যায় পড়ছেই। তাই পেশাটির সাথে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের জন্য সুরক্ষা আইনটি খুবই জরুরী। তারই ধারাবাহিতায় আইনটি প্রনয়নের দাবীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে সারাদেশ থেকে স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সাংবাদিক সুরক্ষা আইনটি প্রণয়নে উদ্যোগী হবেন। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইনটি প্রণয়ন করা হলে সারাদেশের সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাদার অব মিডিয়া’ উপাধিতে ভুষিত করা হবে।

দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাসমূহের বিএমএসএফ এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, প্রেসক্লাবসহ সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি পাঠানো হয়।

 

এই দাবিতে বিএমএসএফ’র পক্ষ থেকে আন্দোলন অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দেয় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোরআন শরীফ তৈরি হচ্ছে পাকিস্তানে

ইসলাম ডেস্ক- পবিত্র কোরআন এক বিস্ময়কর গ্রন্থ। পবিত্র কোরআনে কারিমের মহান লক্ষ্য হলো- মানুষকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেয়া এবং মিথ্যার প্রতিরোধ করা।

পবিত্র কোরআনের অলংকারিক সৌন্দর্য, বাগ্মীতা ও প্রজ্ঞা কোরআনেরই মোজেজা বিশেষ। আর জ্ঞানীদের জন্য কোরআন এক অলৌকিক সম্পদ ভান্ডার। আইন প্রনেতাদের জন্য এটি সবচেয়ে সামাজিক আইনের আধার। কোরআনে রয়েছে দুনিয়াবাসীর জন্য নজিরবিহীন সব নীতি।

তাই সংক্ষেপে বলা যায়, পবিত্র কোরআন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য এমনসব বাস্তবতা ও রহস্যের আকর- যে বাস্তবতাগুলো মানুষ কোরআন ছাড়া কখনও উদঘাটন করতে পারবে না।

সর্বদা বিশ্ববাসী কোরআনের অসীম সৌন্দর্যে অভিভুত ও বিমুগ্ধ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পবিত্র কোরআন নিয়ে চলে নানাবিধ গবেষণা। হয় কোরআন নিয়ে স্বপ্নময় অনেক কাজ। যেসব কাজের মাধ্যমে পবিত্র কোরআনে কারিমের মহত্ত্ব আরো প্রজ্জ্বোল হয়ে উঠে।

তেমনি এবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকারের পবিত্র কোরআন শরীফ তৈরি করা হচ্ছে পাকিস্তানে। করাচি আর্ট কাউন্সিলের উদ্যোগে এই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।

২০১৭ সাল থেকে এ প্রকল্পে কাজ করছেন কমপক্ষে ২০০ আর্টিস্ট। তারা স্বর্ণের প্রলেপ দেয়া অ্যালুমিনিয়ামের সুতা দিয়ে অক্ষর বিন্যাস করছেন। এর তত্ত্বাবধান করছেন শহীদ রাশাম। ২০২৬ সালের মধ্যে এ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পবিত্র এই কোরআন শরীফের দৈর্ঘ্য হবে ৮.৫ ফুট। আর প্রস্থ ৬.৫ ফুট।

বলা হচ্ছে এই কোরআন বিশ্বরেকর্ড করবে। কারণ এর আগে সবচেয়ে বড় মাপের কোরআন শরীফের দৈর্ঘ্য ছিল ৬.৫ ফুট। প্রস্থ ৪.৫ ফুট। এই কোরআন শরীফটি ২০১৭ সালে তৈরি করা হয়েছিল আফগানিস্তানে। বর্তমানে সেটি রাশিয়ার কাজান শহরে কুল শরীফ মসজিদে রাখা আছে। সেই হিসেবে পাকিস্তানে তৈরি এই কোরআন শরীফের আকার অনেক বড় হবে।

শহীদ রাশামের মতে, ইসলামের কমপক্ষে ১৪০০ বছরের ইতিহাসে তারাই প্রথম অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে পবিত্র কোরআনের অক্ষর বিন্যাস করছেন। এর আগে পবিত্র কোরআনে কাঠ, কাগজ, পশুর চামড়া এবং কাপড়ে ক্যালিগ্রাফি করা হয়েছে। তাতে ক্লাসিক আর্ট প্রদর্শন করা হয়েছে।
কিন্তু রাশাম বলেন, এই প্রকল্পটি আমার সারাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। শহীদ রাশামের বয়স ৪৯ বছর। তিনি তার সহযোগীদের নিয়ে গত দুই বছরে পবিত্র কোরআনের প্রথম দুটি পৃষ্ঠার অক্ষর বিন্যাস করেছেন। আর গত কয়েক মাসে তিনি দিনে গড়ে ১০ ঘন্টা সময় দিয়েছেন এ প্রকল্পে।

কুমিল্লায় ঘটনায় দায়ীদের শিগগিরই গ্রেপ্তার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ২৪লাইন:, ঢাকা- কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে ঘটে যাওয়া ঘটনায় দায়ীদের খুবই শিগগিরই গ্রেপ্তার করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

রোববার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, যেভাবে এগোচ্ছি, তাতে আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই তাঁদের (দায়ী) গ্রেপ্তার করতে পারব।

তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় ২/৩ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিনষ্ট করতেই এ ঘটনা। তদন্ত করে শিগগিরই দোষীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি কুমিল্লার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছেন? সে বিষয় চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এ ঘটনার পেছনে অবশ্যই কোন কারণ আছে। কিছু দিনের মধ্যে আমরা আরও ক্লিয়ার বলতে পারবো। কুমিল্লার ঘটনায় আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি খুব সিরিয়াসলি দেখছেন। আমরা একটি নির্ভুল তদন্তের মাধ্যমে সব ঘটনাটি শিগগিরই আপনাদের জানাবো বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি আমাদের দেশের লোক ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্যই ঘটনানো হয়েছে। এটা যেই করেছেন বা কার ইন্ধনে করেছেন তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। আমরা প্রমাণ পেলেই আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা অবশ্যই করবো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু কুমিল্লায় নয়, রামুতে, নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা করে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টিই মূল উদ্দেশ্য। আমাদের দেশের লোক ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। আমরা জঙ্গি-সন্ত্রাসকে কোনো দিন স্থান দেইনি। সবাই একত্রিত হয়ে জঙ্গি-সন্ত্রাসকে দূর করেছিল। এমন একটি পরিস্থিতিতে আবার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কাদের লাভ হবে? করা এতে লাভবান হবে আপনাদের কাছে সেই জিজ্ঞাসা আমার। আমরা অনেক কিছু দেখছি, অনেক কিছু অনুমান করছি, এগুলো আমরা প্রমাণের অপেক্ষায় আছি। প্রমাণ পেলেই আপনাদের সামনে তুলে ধরব।

চারজনের প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পরপরই চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ এলাকায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। পুলিশ সদস্যরা আহত হয়েছেন। নোয়াখালী, ফেনী কক্সবাজারে ছোট ছোট ঘটনা ঘটেছে। হাজীগঞ্জ ও নোয়াখালীতে প্রাণহানি হওয়ায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।

তিনি আরও বলেন, কোনো ধর্মাবলম্বী মানুষ এই কাজটা করতে পারে না। সবাই ধর্মভীরু, যার যার ধর্ম সে সেই ধর্ম পালন করেন। কাজটা যেই করেছেন উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছেন, যে করেছেন কারো ইন্ধনে এবং স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে বিনষ্ট করতে করেছেন, আমরা সবকিছুই তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবো, যাতে করে সম্প্রীতি বিনষ্ট করার প্রয়াস যেন কেউ না পায়।