গণপরিবহনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ সেতুমন্ত্রীর

নিউজ২৪লাইন, ঢাকা- গণপরিবহনে পুনর্নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় এবং যাত্রী ভোগান্তি থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অন্যথায় দায়ী পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা পুনর্নির্ধারিত হারে ভাড়া আদায়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও বিভিন্ন পরিবহনে অধিক হারে ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে তার দপ্তরে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য বৃদ্ধিতে সরকার শুধু ডিজেলচালিত পরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে আজ থেকে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে বিআরটিএ’র মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

আবারও মালিক ও শ্রমিক নেতাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভাড়া আদায়ের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, তা নাহলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। কিছু কিছু গণমাধ্যম দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলেও দু-একটি গণমাধ্যম বিরূপ ও অপমানজনক সমালোচনা করছে, যা প্রত্যাশিত নয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, অন্যদিকে কেউ কেউ পাতানো খেলা বলছে, অনেকেই আঁতাতের গন্ধও খুঁজে পেয়েছেন। যাত্রী কল্যাণ সমিতি নামে একটি ভুয়া সংগঠনও বিষয়টি না জেনে, না বুঝে সমালোচনা করছে।

প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তাহলে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে সেটা কী জনগণের জন্য কল্যাণকর হতো? সেক্ষেত্রে মন্ত্রী মনে করেন যাত্রী ভোগান্তি কমাতে অতীতের ধারাবাহিকতায় গণমাধ্যমের মূল্যবান পরামর্শ অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।

আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপির আমলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ছিল নৈমিত্তিক ঘটনা, সেটা বিএনপি ভুলে গেলেও জনগণ ভুলেনি। বিএনপির পাঁচ বছরে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছিল আটবার। তারা দাম কমাতে পারেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকলেও দেশে তারা দাম বাড়িয়েছিল।

আওয়ামী লীগ গত ১৩ বছরে ৫ বার মূল্য বৃদ্ধি করলেও ৫ বার মূল্য হ্রাসও করেছে উল্লেখ করে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের ৭ দিনের মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস করেছিলেন।

দেশ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, দুর্ভিক্ষ চলছে এবং জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে- বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আসলে এসব নেতিবাচক বক্তব্য একটি দায়িত্বহীন রাজনৈতিক দলে হতাশার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়।

ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করায় বাদীকে ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিউজ২৪লাইন: বরগুনা- বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান ধর্ষণের অভিযোগের মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মামলার বাদী আসমা বেগমকে (২৬) ৫ বছরে কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন।

সোমবার (০৮ নভেম্বর) দুপুরে আসমা বেগমের উপস্থিতিতে আদালত এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হল, বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার উত্তর ঝাড়াখালী গ্রামের কালাম খানের স্ত্রী আসমা বেগম।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল রায় বলেন, আজকের এ রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মিথ্যা ও বানোয়াট নারী নির্যাতন-ধর্ষণ মামলা যারা করেন তাদের জন্য এটি সতর্কীকরণ। এ ধরনের মামলায় সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী জিয়া উদ্দীন বলেন, এ রায়ের পরে মিথ্যা মামলা দেওয়ার প্রবণতা কমে আসবে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, তালতলি উপজেলার ঝাড়াখালী গ্রামের আব্দুস ছত্তার খানের ছেলে স্বপনের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী কালাম খানের স্ত্রী আসমা বেগম ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ২০১৬ সালের ১৫ মে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলা তদন্তের জন্য তালতলী থানাকে নির্দেশ দেন। তালতলী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত শেষে অভিযোগ অসত্য-ভিত্তিহীন উল্লেখ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন।

এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী আসমা বেগম নারাজি আবেদন করলে আদালত তা অগ্রাহ্য করেন।

২০১৭ সালের ২ জানুয়ারি স্বপন খান ধর্ষণ মামলার বাদী আসমা বেগমের বিরুদ্ধে একই আদালতে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে সন্মানহানি, হয়রানি করার অভিযোগ মামলা দায়ের করেন। আদালত স্বাক্ষী প্রমাণ শেষে আসমা বেগমের বিরুদ্ধে সোমবার এ রায় দিয়েছেন।

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হচ্ছে ১৫ নভেম্বর

নিউজ২৪লাইন: ভারতে যেতে আগ্রহীদের জন্য আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে চালু হচ্ছে ট্যুরিস্ট ভিসা।

ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী আজ মঙ্গলবার সকালে আখাউড়া স্থলবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান। তিনি ঢাকা থেকে সড়ক পথে আখাউড়া হয়ে নিজ দেশে গেছেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছি আমরা। শুরুতে এক মাস মেয়াদের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা প্রদান করা হবে। যেতে হবে বিমানে। পর্যায়ক্রমে বিমানের পাশাপাশি স্থল ও রেলপথেও ভিসা দেওয়া হবে।’

এসময় তিনি দুই দেশের সীমান্তের কাছে আখাউড়া ইমিগ্রেশন ভবন নির্মাণে জটিলতাসহ সীমান্তে বিদ্যমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

আখাউড়া স্থলবন্দরে দুই দেশের সীমান্তে ইমিগ্রেশন ভবন নির্মাণে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বাধার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। আশা করা যায় দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে।’

ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের সম্পর্ক অন্য যেকোনও সময়ের চেয়ে ভালো আছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে আখাউড়া স্থলবন্দরে দুই দেশের শূন্য রেখায় ভারতীয় হাই কমিশনারকে স্বাগত জানান, আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোমানা আক্তার এবং থানার ওসি মিজানুর রহমান। এ সময় দুই দেশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।