বাবার লাশ বাড়িতে রেখে একাই পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হলো মেয়েকে নরসিংদীর হৃদয় বিদারক ঘটনা

নিউজ২৪লাইন:
এসএসসির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সিনথিয়া কবির। সকালে সহপাঠীদের মতো বাবাকে নিয়ে আনন্দের সাথে এসএসসির প্রথম দিনের পরীক্ষায় যাওয়ার কথা। কিন্তু সেই আনন্দই পরিণত হলো বিষাদে। হঠাৎ বাবার মৃত্যুর কারণে লাশ বাড়িতে রেখে একাই পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হলো তার। হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার কুটিপাড়া গ্রামে।

সিনথিয়া কবির ঘোড়াশাল পৌর এলাকার জনতা আদর্শ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী। তিনি কুটির পাড়া গ্রামের হুমায়ুন কবিরের মেয়ে। তার বাবা জনতা জুটমিলে কোয়ালিটি অফিসার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। শনিবার রাতে হঠাৎ তার বাবা হুমায়ুন কবির অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। পরে রোববার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।

সিনথিয়ার স্বজনরা জানান, হুমায়ুন কবিরের দুই মেয়ের মধ্যে সিনথিয়া সবার বড়। বাবাকে হারিয়ে অনেকটা নির্বাক হয়েও সহপাঠী ও কেন্দ্র সচিবের সহযোগিতায় ঘোড়াশাল ডা: নজরুল বিন নূর মহসিন বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে সিনথিয়া প্রথম দিনের পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেন। সিনথিয়া কবিরের বাবার মৃত্যুর খবরে স্বজনের মধ্যে যেমন শোকের ছায়া নেমে আসে, তেমনি সিনথিয়ার সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যেও দেখা দেয় শোকের ছায়া। পরীক্ষা থেকে সহপাঠীরাও সমবেদনা জানাতে ছুটে আসে সিনথিয়ার বাড়িতে।

ডা: নূর মহসিন বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজর অধ্যক্ষ ও পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব রিনা নাসরিন জানান, পরীক্ষার্থী সিনথিয়া কবিরের বাবার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা অবগত আছি। তার জন্য কোনো বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে না। সে সবার সাথে স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষা দিচ্ছে। আমরা মনে করি, বিশেষ কোনো ব্যবস্থা ছাড়া সবার সাথে পরীক্ষা দিলে তার জন্য ভালো হবে। আমরাও তাকে সান্ত্বনা ও উৎসাহ দিয়েছি পরীক্ষা দিতে এবং তার দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখা হয়েছে।

জনতা আদর্শ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক মাসুদ খান বলেন, সিনথিয়ার বাবার মৃত্যুর খবর শুনে তাদের বাড়িতে গিয়ে সিনথিয়াকে সাহস দিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে পাঠাই। সে ভালো পরীক্ষা দিয়েছে। আমরা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে সবধরণের সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো। পাশাপাশি তার বাবার কর্মস্থান থেকেও যেন শোকাহত পরিবারটি সহযোগিতা পায় সেই চেষ্টা করবো।

বালিশ নিয়ে ঢাকায় এসেছেন রিজওয়ান

নিউজ২৪লাইন:
প্রত্যাশা পূরণের পথে থাকলে আজ তাদের ব্যস্ত থাকার কথা ছিল দুবাইয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রস্তুতি নিয়ে। কিন্তু সেমি-ফাইনালে বদলে গেছে গতিপথ। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে ফাইনালের আগের দিন পাকিস্তান দল চলে এলো ঢাকায়। এবার তাদের অভিযান, বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ।

বিমানবন্দরে পাকিস্তান দলের দলের তোলা কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে। সেই ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে একটি সাদা কাপড়ে মোড়ানো বালিশ দুই হাত দিয়ে বুকে জড়িয়ে হাঁটছেন রিজওয়ান। বোলারদের ঘুম কেড়ে নেওয়া সেই রিজওয়ান বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন একটি বালিশ!

বিমান কিংবা বাসে আরামে বসার জন্য এই বালিশ, না রাতে ঘুমানোর সময় মাথার নিচে দেওয়ার জন্য—তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক একবার জানিয়েছিলেন, মোহাম্মদ হাফিজ ও রিজওয়ান সফরে যাওয়ার সময় নিজেদের বালিশ সঙ্গে নিয়ে যান।

ক্রিকেটার-সাপোর্ট স্টাফ মিলিয়ে ২৭ জনের বহর বিমানবন্দর থেকে পৌঁছে গেছে হোটেলে। সেখানে কোভিড পরীক্ষা শেষে আজকের দিনটিই কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে তাদের। সবাই নেগেটিভ হলে রোববার থেকেই শুরু করতে পারবেন অনুশীলন।

ঠাকুরগাঁওয়ে জামানত হারিয়েছেন নৌকার এক প্রার্থী

নিউজ২৪লাইন- ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী ৪টিতে জয়লাভ করেছেন।

অপরদিকে একটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ওই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ওই ৫টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ভোটগ্রহন চলে। নির্বাচনে ১নং ধর্মগড় ইউনিয়নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কাশেম ৭ হাজার ৪৫৬ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হন।

২নং কাশিপুর ইউনিয়নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আতিকুর রহমান ৮ হাজার ৯৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ৩নং লেহেম্বা ইউনিয়নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালাম ৬ হাজার ৩শ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

৪নং নেকমরদ ইউনিয়নে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মো: আবুল হোসেন ৮ হাজার ৪১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

৫নং রাতের ইউনিয়নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শরৎ চন্দ্র রায় ৭ হাজার ৪২৩ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হন।

তবে ৪নং নেকমরদ ইউনিয়নে আ’লীগের দলীয় প্রার্থী ২৪৭ ভোট পেয়েছেন। এতে জামানত হারাচ্ছেন তিনি।