ভারতে রাসুল সাঃ এর অবমাননায় শরীয়তপুরে বিক্ষোভ মিছিল

নিউজ২৪লাইন:

মঞ্জুরুল ইসলাম রনি শরীয়তপুর 

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও হযরত আয়েশা (রা.) কে নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ সহচর কট্ররপন্থী দল বিজেপির মুখপাত্র, নূপুর শর্মা ও দিল্লি শাখার গণমাধ্যম প্রধান, নবীন কুমার জিন্দালের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শরীয়তপুর জেলা কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ৪ দফা দাবি তুলে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সকল পন্য বয়কটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মিছিল এর আয়োজন করে শরীয়তপুর জেলা শাখা সংগঠন।

শুক্রবার সকাল ১০টায় পালং উত্তর বাজার জামে মসজিদ হইতে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে পৌরশহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শরীয়তপুর সদর পৌরসভা শহীদ মিনারে পৌঁছে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। পরে সেখানে বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি, মফতী তোফায়েল আহমেদ কাসেমী ও সাধারণ সম্পাদক, মাওলানা হাফিজুর রহমান শরীয়তপুরীসহ সংগঠনটির অনন্য নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া জেলা, উপজেলা ও আসপাশের বিভিন্ন এলাকার আমজনতা এ প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

 

বিএমএসএফ কাঁঠালিয়া শাখায় আহবায়ক কমিটি গঠন

নিউজ২৪লাইন:

ঝালকাঠি, শুক্রবার,১০ জুন,২০২২: বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম-বিএমএসএফের কাঁঠালিয়া উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে কাঁঠালিয়ায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে আবু বক্কর সিদ্দিকী জুয়েলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের ঝালকাঠি জেলা শাখার আহবায়ক মোঃ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ঝালকাঠি জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহাতাব জাবেদ শামীম, সাংবাদিক নেতা মিলন সরদার, সোহাগ হাওলাদার।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম কাঠালিয়া উপজেলা শাখার ১১ সদস্য আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আবু বক্কর সিদ্দিকি জুয়েলকে আহবায়ক, আসাদুজ্জামান সোহাগকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্য আহবায়ক কমিটি গঠিত হয় ।

সংগঠনের ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনের পূর্বের কমিটি ভেঙ্গে এ কমিটি গঠিত হয়।

একজন অপরাধী যুবক খলিফা উমর (রা) দরবারে

ইসলাম ও জীবন :

এই যুবক আমাদের পিতাকে হত্যা করেছে। আমরা এর বিচার চাই।”
দোষী যুবককে টেনে-হিঁচড়ে খলীফার দরবারে নিয়ে এসেছেন দুই ব্যক্তি। তারা তাদের পিতার হত্যার বিচার চান।
.
খলীফা হযরত উমর (রা) সেই যুবককে জিজ্ঞেস করলেন যে তার বিপক্ষে করা অভিযোগ সত্য কিনা। অভিযোগ স্বীকার করল যুবক। দোষী যুবক সেই ঘটনার বর্ণনা দিলঃ
.
“অনেক পরিশ্রমের কাজ করে আমি বিশ্রামের জন্য একটি খেজুর গাছের ছায়ায় বসলাম। ক্লান্ত শরীরে অল্প সময়েই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার একমাত্র বাহন উটটি পাশে নেই। খুঁজতে খুঁজতে কিছু দূর গিয়ে পেলাম, তবে তা ছিল মৃত। অভিযোগকারী এই দুই ব্যক্তির বাবাকে আমার মৃত উটের পাশে পেলাম। সে আমার উটকে তার বাগানে প্রবেশের অপরাধে পাথর মেরে হত্যা করেছে। এই কারণে আমি হঠাৎ করে রাগান্বিত হয়ে পড়ি এবং তার সাথে তর্কাতর্কি করতে করতে এক পর্যায়ে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে ফেলি। ফলে সে সেইখানেই মারা যায়। যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটে গেছে। এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।”
.
বাদী’রা জানালেন- “আমরা এর মৃত্যুদণ্ড চাই।” সব শুনে হযরত উমর (রা) অপরাধী যুবককে বললেন, “উট হত্যার বদলে তুমি একটা উট দাবি করতে পারতে, কিন্তু তুমি বৃদ্ধকে হত্যা করেছ। হত্যার বদলে হত্যা। এখন তোমাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে। তোমার কোন শেষ ইচ্ছা থাকলে বলতে পারো।” নওজোয়ান বললো, “আমার কাছে কিছু ঋণ ও অন্যের রাখা কিছু আমানত আছে। আমাকে যদি কিছু দিন সময় দিতেন, আমি বাড়ি গিয়ে আমানত ও ঋণগুলি পরিশোধ করে আসতাম।”
.
খলিফা হযরত উমর (রা) বললেন, “তোমাকে এভাবে একা ছেড়ে দিতে পারি না। যদি তোমার পক্ষ থেকে কাউকে জিম্মাদার রেখে যেতে পারো তবে তোমায় সাময়িক সময়ের জন্য যেতে দিতে পারি।“ নওজোয়ান বললো, “এখানে আমার কেউ নেই যে আমার জিম্মাদার হবে।” যুবকটি তখন নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
.
এই সময় হঠাৎ মজলিসে উপস্থিত একজন সাহাবী হযরত আবু যর গিফারী (রা) দাঁড়িয়ে বললেন, “আমি হবো ঐ ব্যক্তির জামিনদার। তাকে যেতে দিন।” আবু যর গিফারীর (রা) এই উত্তরে সভায় উপস্থিত সবাই হতবাক। একে তো অপরিচিত ব্যক্তি, তার উপর হত্যার দন্ডপ্রাপ্ত আসামী! তার জামিনদার কেন হচ্ছেন আবু জর!
খলিফা বললেন, “আগামি শুক্রবার জুম্মা পর্যন্ত নওজোয়ানকে মুক্তি দেয়া হলো। জুম্মার আগে নওজোয়ান মদীনায় ফেরত না আসলে নওজোয়ানের বদলে আবু যরকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে।” মুক্তি পেয়ে নওজোয়ান ছুটলো মাইলের পর মাইল দূরে তার বাড়ির দিকে। আবু যর গিফারী (রা) চলে গেলেন নিজ বাড়িতে।
.
দেখতে দেখতে জুম্মাবার এসে গেল। নওজোয়ানের আসার কোনো খবর নেই। হযরত উমর (রা) রাষ্ট্রীয় পত্রবাহক পাঠিয়ে দিলেন আবু যর গিফারির (রা) কাছে। পত্রে লিখা, আজ শুক্রবার বাদ জুমা সেই যুবক যদি না আসে, আইন মোতাবেক আবু যর গিফারির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে। আবু যর যেন সময় মত জুম্মার প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে নববীতে হাজির হন। খবর শুনে সারা মদীনায় থমথমে অবস্থা। একজন নিষ্পাপ সাহাবী আবু যর গিফারী আজ বিনা দোষে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবেন।
জুমার পর মদীনার সবাই মসজিদে নববীর সামনে হাজির। সবার চোখে পানি। কারণ দন্ডপ্রাপ্ত যুবক এখনো ফিরে আসেনি। জল্লাদ প্রস্তুত।
.
জীবনে কত জনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছে তার হিসেব নেই। কিন্তু আজ কিছুতেই চোখের পানি আটকাতে পারছে না জল্লাদ। আবু যরের মত একজন সাহাবী সম্পূর্ণ বিনা দোষে আজ মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবেন, এটা মদীনার কেউ মেনে নিতে পারছেন না। এমনকি মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রদানকারী খলিফা উমর (রা) নিজেও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। হৃদয় তাঁর ভারাক্রান্ত। তবু আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কারো পরিবর্তনের হাত নেই। আবু যর (রা) তখনও নিশ্চিন্ত মনে হাঁসি মুখে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। জল্লাদ ধীর পায়ে আবু যর (রা) এর দিকে এগুচ্ছেন আর কাঁদছেন। আজ যেন জল্লাদের পা চলে না। পায়ে যেন কেউ পাথর বেঁধে রেখেছে।
.
এমন সময় এক সাহাবী উচ্চ স্বরে জল্লাদকে বলে উঠলেন, “হে জল্লাদ একটু থামো। মরুভুমির ধুলার ঝড় উঠিয়ে ঐ দেখ কে যেন আসছে। হতে পারে ঐটা নওজোয়ানের ঘোড়ার পদধুলি। একটু দেখে নাও।” ঘোড়াটি কাছে আসলে দেখা যায় সত্যিই এ সেই নওজোয়ান।
.
নওজোয়ান দ্রুত খলিফার সামনে এসে বললো, “আমীরুল মুমিনীন, মাফ করবেন। রাস্তায় যদি আমার ঘোড়া পায়ে ব্যথা না পেত, তবে যথা সময়েই আসতে পারতাম। বাড়িতে গিয়ে আমি একটুও দেরি করিনি। বাড়ি পৌঁছে গচ্ছিত আমানত ও ঋণ পরিশোধ করি। তারপর বাবা, মা এবং নববধুর কাছে সব খুলে বলে চিরবিদায় নিয়ে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়ে মদীনার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। এখন আমার জামিনদার ভাইকে ছেড়ে দিন আর আমাকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে পবিত্র করুন। কেননা কেয়ামতের দিন আমি খুনি হিসেবে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে চাই না।”
.
আশেপাশের সবাই একেবারেই নীরব। চারিদিকে একদম থমথমে অবস্থা। সবাই হতবাক, কী হতে চলেছে! যুবকের পুনরায় ফিরে আসাটা অবাক করে দিলো সবাইকে।
.
খলিফা হযরত উমর (রা) যুবককে বললেন, “তুমি জানো তোমাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে, তারপরেও কেন ফিরে এলে?” উত্তরে সেই যুবক বলল- “আমি ফিরে এসেছি, কেউ যাতে বলতে না পারে, এক মুসলমানের বিপদে আরেক মুসলামান সাহায্য করতে এগিয়ে এসে নিজেই বিপদে পড়ে গেছিলো।”
.
এবার হযরত উমর (রা) হযরত আবু যর গিফারী (রা) কে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কেন না চেনা সত্যেও এর জামিনদার হলেন?” উত্তরে হযরত আবু যর গিফারী (রা) বললেন, “পরবর্তিতে কেউ যেন বলতে না পারে, এক মুসলমান বিপদে পড়েছিলো, অথচ কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি।”
.
এমন কথা শুনে, হঠাৎ বৃদ্ধের দুই সন্তানের মাঝে একজন বলে উঠল, “হে খলীফা, আপনি তাকে মুক্ত করে দিন। আমরা তার উপর করা অভিযোগ তুলে নিলাম।”
.
হযরত উমর (রা) বললেন, “কেন তাকে ক্ষমা করে দিচ্ছ?” তাদের এক ভাই বলে উঠলো, “কেউ যেন বলতে না পারে, এক মুসলমান অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল করে নিজেই স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরেও অন্য মুসলমান তাকে ক্ষমা করেনি।”

[হায়াতুস সাহাবা-৮৪৪]