শরীয়তপুরে কর্তব্যরত ডাক্তারের অবহেলায় কিশোরীর মৃত্যু

নিউজ২৪লাইন:

মঞ্জুরুল ইসলাম রনি, শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শরীফুর রহমানের কর্তব্যে অবহেলায় বিষপান করা এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহত কিশোরীর স্বজনরা। নিহত কিশোরী নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেনীর ছাত্রী বলে জানাযায়।
গত ৮ আগস্ট রাতে এঘটনা ঘটে, রাত নয়টার দিকে নূসরাতকে এনে ভর্তি করে ভর্তির পর প্রায় ছয় ঘন্টা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে রাত তিনটায় মারাযায় নূসরাত। এই বিষয়ে নুসরাতের মামা জয়নাল মাদবর জানান,নুসরাত বিষপান করেছে বুঝতে পেরে সাথে সাথে আমরা শরীয়তপুর সদর হাসপাাতালে নিয়ে আসি কিন্তু ডাক্তার ওয়াস না করে স্যালাইন দিয়ে রেখেছে,ডাক্তার বলেছে ভালো হয়ে, যাবে,আপনারা চিন্তা করবেননা,কিন্তু নূসরাত মারা গেলো।

সেদিন রাতে হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীরা বলেন,রাত নয়টার দিকে একজন বিষপানের রোগী আসে তখন মেয়েটি ছটফট করতে ছিলো,ঐ রুগীর স্বজনরা ডাক্তারকে ডাকাডাকি করলেও ডাক্তার তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না দিয়ে শুধু একটি স্যালাইন দিয়ে চলে যায়,এরপর আর কোনো খোঁজ নেয়নি।পরে রাত তিনটায় মেয়েটি মারা যায়।

বিষপানের বিষয়ে পরিবার সূত্রে জানাযায়, জপসা ইউনিয়ন বাসী দেলু মাঝির ছেলে আলামীন মাঝীর সাথে চার বছর যাবত প্রেমের সম্পর্ক ছিলো,
আলআমীনের পরিবার এই প্রেমের সম্পর্ক মেনে নেয়নি এবং আলামীনের বিয়ে অন্যত্র ঠিক করায় বিষপান করে নূসরাত।

স্থানীয়রা জানায় আলামিন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত, আলামিন আরো অনেক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়েছে।

তবে চিকিৎসায় অবহেলার কথা অস্বীকার করে ডাঃ শরীফুর রহমান বলেন,মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে পরায় আমরা ওয়াস করতে পারিনি,আমরা চেস্টা করেছি,কিন্তু বাঁচাতে পারিনি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ আবদুস সোবহান বলেন,বিষয়টি আমি জেনেছি যদি চিকিৎসায় কোনো অবহেলা হয়ে থাকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
এ বিষয়ে নুসরাতের মামা বোরহান উদ্দিন মাদবর বাদি হয়ে নড়িয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কল করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

 

ভেদরগঞ্জে খালের উপর অবৈধভাবে নির্মিত দোকান উচ্ছেদ

নিউজ২৪লাইন:

ইয়ামিন কাদের নিলয় বিশেষ প্রতিনিধি

ভেদরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডে খালের উপর অবৈধভাবে নির্মিত ৫ টি দোকান উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আবদুল্লাহ আল মামুন। ৫টি দোকানঘর উচ্ছেদ করা হলেও এখনো অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা আনাচে-কানাচে দখল করে রয়েছে অনেকে।উপজেলা বিভিন্ন খালের পাড়ের উপর নির্মিত দোকান দখল মুক্ত হলে এলাকায় ফিরে পাবে তার নতুন জীবন এমনটাই ধারনা করছেন এলাকাবাসি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,ভেদরগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন নদী-নালা, খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে ‘নদীমাতৃক’ পরিচয়টি হারাতে বসেছে তেমনি ভূমি খেকো মানুষজনও অবৈধ ভাবে এসকল জায়গা দখল করে গড়ে তুলছেন দোকানপাট। এসকল ভূমি খেকো মানুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেশ কিছু প্রভাবশালীরা ব্যস্ত নদীর চর দখল করে তাতে অবৈধভাবে স্থাপনা বানাতে। কেউবা আবার বানাচ্ছেন রান্না ঘর, কেউবা গরু ঘর, কেউ আবার টয়লেট, কেউ আবার দোকান।নদী ও খাল বিলগুলো ভরাট হওয়ায় ফসল উৎপাদন যেমন হ্রাস পেয়েছে তেমনি ভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন,যোগদান করার পর থেকেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছি। ধারাবাহিকভাবে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত থাকবে।আমাদের নকশা অনুযায়ী খালের পাড়ে যত অবৈধ স্থাপনা থাকবে, সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে। আমরা চেষ্টা করব সকল খাল উদ্ধারের এর জন্য সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করছি।