ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শ্রী রথি কান্ত মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে

আমান আহমেদ সজীব

নিউজ২৪লাইন:

শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শ্রী রথি কান্ত মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। আদর করার নামে শিক্ষার্থীদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছেন এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করলে প্রধান শিক্ষক উল্টা শিক্ষার্থীদের চোখ রাঙানি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দেওয়া ৫ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের অডিও ক্লিপ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রথি কান্ত মিস্ত্রী ওই বিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষা ও স্কাউট বিষয়ক সহকারী শিক্ষক। সেই সুবাদে তিনি স্কাউটিং প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।

তারই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার স্কাউটদের সাপ্তাহিক ট্রুপ মিটিং ছিল। কোনো কারণ ছাড়াই তিনি সেই মিটিং বাতিল করে দেন। পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে বলে ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। তারপর সেখানে ওই শিক্ষার্থীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন।

এই বিষয়টি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের কাছে জানালে প্রধান শিক্ষক বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়রত সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. মহসিন মিয়া বলেন, আমরা এখন যে অভিযোগগুলো শুনেছি তা যদি সত্যি হয়, তাহলে আমার মেয়েকে আর এই বিদ্যালয়ে পড়াব না।

এ ব্যাপারে সহকারী শিক্ষক রথি কান্ত মিস্ত্রীর সঙ্গে বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করতে গেলে তাকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাকে দেখে নেয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শ্রী শ্যামল চন্দ্র শর্মা বলেন, আমি ব্যাপারটি গত কাল শুনেছি। শিক্ষক সাহেব যে কাজটি করেছেন, তা নিতান্তই অন্যায় কাজ করেছেন। আমি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করবো তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ ব্যাপারে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাছিবা খান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমেই আমি ব্যাপারটি জানলাম। আমি খোঁজ নিচ্ছি। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অবশ্যই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের ন্যক্কারজনক কাজ করে কেউ রেহাই পাবে না।

সুএ: ঢাকাটাইমস:

 

ভেদরগঞ্জে স্বপরিবারে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হলেন গীতা রানী রায়

শরীয়তপুর জেলার  ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়নে   সিঙ্গাচুরা গ্রামের স্বপন রায়ের স্ত্রী ছিলেন। স্বামীর অত্যাচার ও পরিবারের নির্যাতনে তিনি দিশেহার হয়ে পড়েন। তখন প্রতিবেশী মুসলিমদের কাছ থেকে সহযোগীতা ও সহানুভূতি পেয়েছেন। স্বামী ও পিতার পরিবার যখন তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তখন সে ও তার সন্তানেরা সিদ্ধান্ত নেয় ধর্মান্তরিত হওয়ার। সেই সিদ্ধান্তমতেই কাজ করে আজ স্বপরিবারে মুসলিম আয়শা।আয়শা (গীতা) জানায়, বিয়ের পূর্বে থেকেই সে দর্জি কাজ শিখেছিলেন। ২০০৩ সালে স্বপন রায়ের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল। স্বপন রায় নরসুন্দরের কাজ করতেন। এর পূর্বেও তার স্ত্রী ছিল এবং জুয়া সহ অনেক খারাপ নেশা ছিল। বিভিন্ন সময় স্বপন স্ত্রী গীতার মাধ্যমে উচ্চ সুদে টাকা ধার করে জুয়া খেলতেন। এক পর্যায়ে স্বপন ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে আমাকে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারির কাছে বন্ধক রাখে।

 

দীর্ঘ ৪০ বছর সনাতন হিন্দু ধর্মের দিক্ষিত ছিলেন গীতা রায়। হিন্দু পরিবার, প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ঘৃণা, অবহেলা পেয়ে ও বিভিন্ন ভাবে প্রতারিত হয়ে আসছিলেন তিনি। জীবনে যতটুকু সহায়তা ও সুপরামর্শ পেয়েছে তা প্রতিবেশী মুসলিমদের কাছ থেকে। এক পর্যায়ে সন্তানদের ইচ্ছার গুরুত্ব দিতে গিয়ে স্বপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম হয়েছে পরিবারটি। ইতোমধ্যে তারা হলফ নামার মাধ্যমে নাম পরিবর্তণ করেছেন। হুজুরের মাধ্যমে কালিমা পড়েছে। এখন তারা নামাজ রোজা পালনের পাশাপাশি ইসলামের রীতি নীতি মেনে চলছেন। ধর্মান্তরিত এই পরিবারটি মুসলিমদের কাছ থেকে সার্বিক সহায়তা কামনা করছেন।

গীতা রায় (আয়শা) প্রদত্ত হলফ নামা থেকে জানা গেছে, গীতা রায় (৪০) ভেদরগঞ্জ উপজেলার সিঙ্গাচুরা গ্রামের স্বপন রায়ের স্ত্রী ছিলেন। স্বামীর অত্যাচার ও পরিবারের নির্যাতনে তিনি দিশেহার হয়ে পড়েন। তখন প্রতিবেশী মুসলিমদের কাছ থেকে সহযোগীতা ও সহানুভূতি পেয়েছেন। স্বামী ও পিতার পরিবার যখন তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তখন সে ও তার সন্তানেরা সিদ্ধান্ত নেয় ধর্মান্তরিত হওয়ার। সেই সিদ্ধান্তমতেই কাজ করে আজ স্বপরিবারে মুসলিম আয়শা।আয়শা (গীতা) জানায়, বিয়ের পূর্বে থেকেই সে দর্জি কাজ শিখেছিলেন। ২০০৩ সালে স্বপন রায়ের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল। স্বপন রায় নরসুন্দরের কাজ করতেন। এর পূর্বেও তার স্ত্রী ছিল এবং জুয়া সহ অনেক খারাপ নেশা ছিল। বিভিন্ন সময় স্বপন স্ত্রী গীতার মাধ্যমে উচ্চ সুদে টাকা ধার করে জুয়া খেলতেন। এক পর্যায়ে স্বপন ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে আমাকে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারির কাছে বন্ধক রাখে।

বিষয়টি স্বামী স্বপনকে জানিয়েও কোন ফল পায়নি গীতা। বিয়ের দীর্ঘ ১৫ বছর পরে সন্তানদের নিয়ে সে স্বামীর সংসার থেকে চলে আসে। পরে তিনি শরীয়তপুর শহরে একটি টেইলার্স দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। এখন তিনি ধার নেওয়া অনেক টাকা পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছেন। এখন সন্তানদের পরামর্শে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ইসলাম গ্রহণের পরে ছেলের নাম সয়ন রায় থেকে মো. ইব্রাহীম ও মেয়ে স্বর্ণা রায় থেকে মোসা. ফাতেমা ইসলাম আয়া হয়েছেন।মো. ইব্রাহীম ও ফাতেমা জানায়, বুঝতে শেখার পর থেকে দেখেছি মায়ের উপর পিতার অত্যাচার। আমাদেরও অত্যাচার করত। অনেকবার মেরে ফেলতেও চেয়েছে আমাদের।

আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে কোন প্রতিবাদ বা ন্যায় বিচার পাইনি। যতটুকু সহায়তা ও সহযোগিতা পেয়েছি তা মুসলিমদের কাছ থেকে। তাই আমরা মাকে মুসলিম হওয়ার জন্য প্রস্তাব করি। মা আমাদের প্রস্তাবে সম্মতি দেয়। পরে আইন ও ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। কালেমা পড়ে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি। এখন আমরা নামাজ পড়ি ও রোজা রাখি। ইসলামী বিধান মতে জীবন চালাতে চেষ্টা করছি। যেহেতু আমরা ধর্মান্তরিত সেহেতু মুসলিদের কাছ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা কামনা করি।

 

কিউএনবি/অনিমা/১৬ অগাস্ট ২০২২, খ্রিস্টাব্দ