জাজিরায় মা ইলিশ সংরক্ষণ নিয়ে জনসচেতনতা মূলক সভা

নিউজ২৪লাইন:

রতন আলী মোড়ল, জেলা প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের ছাত্তার মাদবর ও মঙ্গল মাঝীরঘাটে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২২খ্রীঃ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনসচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাজিরা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২৯-সেপ্টেম্বর) বেলা এগারোটায় সচেতনতা মূলক উক্ত সভা শুরু হয়ে বেলা বারোটায় তা শেষ হয়।

পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খার সভাপতিত্বে উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ কামরুল হাসান সোহেল, জাজিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল বাশার এবং মাঝীরঘাট নৌ-পুলিশ ফাড়ির আইসি মোঃ জহিরুল হক।

উক্ত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, পূর্ব নাওডোবার মাদবর পরিবারের মুরুব্বি নেছার উদ্দিন মাদবর, পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ও জেলেগন।

সভায় আরও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ মা ইলিশ সংরক্ষণে সবাইকে অধিকতর সচেতন থাকার পাশাপাশি ৭-২৮ অক্টোবর মোট ২২দিন মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে সবাইকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানান।

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়ি- ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

রিদয় হাসান সুমন :
শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ শরীয়তপুরের নড়িয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলায় একজনের মৃত্যুর ঘটনায় ওই গ্রামের নিরপেক্ষ ও আসামীদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুট-পাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার (২৮) সেপ্টেম্বর শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মৃধা কান্দী গ্রামে জমির বিরোধ নিয়ে মৃত করিম মুন্সীর ছোট ছেলে মতু মুন্সী (৩০) কে কুপিয়ে হত্যা করে একই গ্রামের আবু মৃধার ছেলে ইকবাল মৃধা(৩২),মোখলেস মৃধা(৩৮), বাদল মৃধা(২৭) সহ আরো ১০/১৫ জন তারই সুত্রে ধরে নিহত মতু মুন্সির দলের লোকেরা ওই গ্রামের নিরপেক্ষ লোকের বাড়ি সহ আসামীদের ১৫ টি বাড়ি- ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেন এবং বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এতে বাড়িতে থাকা নারী শিশুদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করে। অনেক বাড়ি ঘরের লোক তাদের বাড়ি ছেরে অন্যত্রে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী রফিক মৃধা মোবাইল ফোনে বলেন,আমরা ৩ ভাই প্রবাসে থাকি বাড়িতে পুরুষ মানুষ কেউ থাকে না দুই গ্রুপের কোন পক্ষের সাথেই আমরা দল বা সমর্থন করি না কিন্তু গতকাল মতু মুন্সি নিহত হওয়ার পরে আমাদের ৩ ভাইয়ের ঘরে চান মিয়া হাওলাদার এর ছেলে রমজান হাওলাদার ও আল আমিন হাওলাদার,নুর ইসলাম হাওলাদার এর ছেলে সেলিম হাওলাদার ও নাসির হাওলাদার,আনু কাজির ছেলে নুর ইসলাম কাজি সহ সাথে আরো ২০ থেকে ৩০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালায়।এ সময় তারা সাথে থাকা বোমা ঘরে মেরে বিস্ফোরিত করে ও চাপাতি,ছেন,আরো বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘর কুপিয়ে ভাংচুর করে পরে ভাংচুর ঘরের তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে ৩ ঘর থেকে ১৮ ভরি, স্বর্ন, ২ টি মোবাইল, ১ টি ল্যাপটপ, নগদ দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় ।অন্যদের সাথে ঝামেলার সুত্র ধরে তারা আমাদের প্রবাসি বাড়ি ফাকা পেয়ে হামলা চালায়। হামলা হবে সেই খবর আগে শুনে শরিয়তপুর এর এসপি সাইফুল হক ও নড়িয়া থানার ওসিকে জানালেও তারা কোন ব্যাবস্থা গ্রহণ করে নাই।

ছত্তর মৃধার স্ত্রী মাসুদা বেগম বলেন,আমার ছেলেরা ঢাকা ও বিদেশে থাকে কেউ দেশে থাকে না। আমরা কোন দলের সাথে নাই। কিন্তু মতু মুন্সি নিহত হওয়ার পর থেকেই দফায় দফায় আমাদের বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে মতু মুন্সি দলের লোকেরা। তারা আমার ঘর কুপিয়ে যাওয়ার সময় আমার গোয়াল ঘরে থাকা ২ টি গরু সহ বাড়ির আরো ৬ টি গরু লুট করে নিয়ে গেছে।

এবিষয়ে চান মিয়া হাওলাদারের বাড়িতে গেলে বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি।

নড়িয়া থানার ওসি তদন্ত মোঃ আবির হোসেন বলেন, মতু মুন্সি নিহতের ঘটনায় নিহতের বড় ভাই রিপন মুন্সি বাদী হয়ে ৩৮ জনের অভিযোগ দেন সেই অনুযায়ী মামলা হয়েছে। মতু মুন্সি নিহত হওয়ার পরে এসপি স্যার আমাকে রফিক মৃধা ব্যাপারে বলেন আমারা সঙ্গে সঙ্গে সে খান যাই কিন্তু আমরা রফিক মৃধা বাড়িতে না গিয়ে ভূলে অন্য রফিক মৃধার বাড়ি চলে যাই তাই এমন হামলা লুটপাট চালাতে পেরেছেন। তবে লুট হওয়া গরুর মধ্যে আমরা ২ টি গরু উদ্ধার করে মালিকে বুজিয়ে দিয়েছি।

৯ নং বেড়া চিকন্দী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃতাজুল ইসলামের এর অবসর জনিত বিদায়ী সংবর্ধনা

বিশেষ প্রতিনিধি :শরীয়তপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ৯ নং বেড়া চিকন্দী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃতাজুল ইসলামের এর অবসর জনিত বিদায়ী সংবর্ধনা জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর ) বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বিদায়ী সংবর্ধনায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমেনা বেগমের এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডোমসর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চানমিয়া মাদবর । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেড়া চিকন্দী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি জনাব আনোয়ার হোসেন কাজী ও বেড়া চিকন্দী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম নান্নু।

উক্ত অবসর জনিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, অত্র স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি শাহাবুদ্দিন শিকদার, সাবেক মেম্বার আবু আলেম শিকদার, সাবেক মেম্বার আমির শিকদার, বর্তমান মেম্বার মাহবুব খান,কাজি ইউসুফসহ প্রমুখ।

এসময় অনুষ্ঠানে ৯নং বেড়া চিকন্দী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক বৃন্দ ও ছাত্র ছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সমগ্র অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দ্বায়িত্ব পালন করেন বেড়া চিকন্দী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আক্তার হোসেন।

স্কুল পরিচালনাসহ নানা অবদানের স্বাক্ষর রাখায় অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মোঃ তাজুল ইসলাম বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস- ২০২২ উদযাপন

টিটুল মোল্লা,,

ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে এক র‍্যালি ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় । ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে জেলা প্রশাসক চত্বর এলাকা হতে একটি র‍্যালীবের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আশেকুল হক।
এসময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার,অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার,সরকারী রাজেন্দ্র কলেজের ইংরেজী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মোঃ রেজভী জামান,এনডিসি জনাব মোঃ আশিকুর রহমান, জেলা সুপার মোঃ আল মামুন,আনসার ভিডিপি কমান্ডার নাদিরা বেগম সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর ছাত্রছাত্রী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। আলোচনায় বক্তারা সাধারণ জনগণের তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিৎ করতে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যাক্তিদেরকে আরও সদয় হওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়াও তারা সাধারণ জনগণকে তথ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে প্রচার প্রচারণার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

জাজিরা উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের শুভ উদ্বোধন

নিউজ২৪লাইন:

রতন আলী মোড়ল জেলা প্রতিনিধি;
শরিয়তপুর জেলা জাজিরা উপজেলার
নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুল হাসান সোহেল এর সভাপতিত্বে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

জাজিরা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি জন্য সুবার্তা আজ সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

অদ্য ২৬ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ১২ট ৩০মিনিটে জাজিরা মুক্তিযোদ্ধা ভবনের বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং ফলক উন্মোচন সহ নব-নির্মিত ৩ তলা ভবন সহ শরীয়তপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি এবং শরীয়তপুর সদর-১ জনাব মোঃ ইকবাল হোসেন অপু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল হক খান, জাজিরা পৌরসভার মেয়র ইদ্রিস মাদবর, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড থানা সভাপতি ইকবাল হোসেন মাসুদ সহ আরো সকল নেতৃবৃন্দ।জানা গেছে,উপজেলা প্রকৌশল জাজিরার বাস্তবায়নে প্রায় ২ কোটি ৩৫ লক্ষ ৮ হাজার ৮৮৪ টাকা ব্যায়ে, জাজিরা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। যার চুক্তি মূল্য ছিলো ২ কোটি ৪ লক্ষ টাকা।এতে করে মুক্তিযোদ্ধা সহ পরিবার খুবি উপকৃত হবে।এ সময় মন্ত্রি সকল মুক্তি যোদ্ধা পরিবারকে এক হয়ে, সকল দেশ বিদেশি সড়যন্ত্র থেকে সোচ্চার হবার আহবান করেন।ব্যাপক জনসমাগম আনন্দ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে অনুসঠানের সমাপ্তি হয়।

সখিপুরে অষ্টম শ্রেণীর এক কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার।

নিউজ২৪লাইন:

আমান আহমেদ সজীব :
শরীয়তপুর প্রতিনিধিll
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর নিজ ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় শামীমা আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পরিবার ও স্থানীয়রা।
রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে সখিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সখিপুর আব্দুর রশিদ বেপারী কান্দি গ্রামে
এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীমা আক্তার আব্দুর রশিদ বেপারী কান্দি গ্রামের কালু মৃর্ধার মেয়ে। সে সখিপুর ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল বলে জানা গেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীমা প্রতিদিনের ন্যায় আজও সকালে নাস্তা করে স্কুলে যায়। দুপুরের দিকে বাসায় আসে। পরিবারের সদস্যদের সাথে খাওয়া দাওয়া শেষ করে, ঘরের দরজা চাপিয়ে শুয়ে থাকে।
বিকাল শেষে সন্ধ্যা হওয়ার পূর্বে মা- মেয়েকে ডাক দিচ্ছে, ঘরের ভিতর থেকে মেয়ের কোন সারাশব্দ না পেয়ে, চাপানো দরজা খুলে
মা ঘরে ঢুকে মেয়ে শামীমার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এবং সখিপুর থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে
লাশটি সুরতহাল করে।

এবিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আসাদুজ্জামান আসাদ হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সখিপুরে ভূয়া দুদক কর্মকর্তা সেজে চাঁদা দাবি,৬ জনের বিরুদ্ধে জিতু বেপারীর মামলা দায়ের

নিউজ২৪লাইন:

আমান আহমেদ সজিব // শরীয়তপুর প্রতিনিধি||
শরীয়তপুরের সখিপুর থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও চরসেনসাস ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান জিতু মিয়া বেপারী বাদী হয়ে এম.এ ইদ্রিস খান নামে এক ভূয়া দুদক কর্মকর্তাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে শরীয়তপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বরিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এ মামলা করেন তিনি।
এবং সখিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন যারনং ০৮

মামলার বিবরণে জানা গেছে, প্রতিপক্ষের ইন্দনে জিতু মিয়া বেপারীর ক্ষতি করার জন্য চাঁদপুরের মতলব উপজেলার সুজাত খানের ছেলে এম.এ ইদ্রিস খান এক ব্যক্তি দুদক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ০১৯১২৩৭৭৮০৯ নাম্বার থেকে ফোন করে আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুমকী দেয়। এবং তার কাছে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এছাড়াও জিতু মিয়াকে ঢাকায় দুদুক কার্যালয়ে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে ওই নম্বরে কল করলে তাকে মগবাজার যেতে বলে। এসময় ইদ্রিস খান নিজেকে দুদুক কার্যালয়ের স্টাফ পরিচয় দিয়ে বলে, আপনার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আছে। তবে আমি আপনাকে মুক্ত করতে পারি। যদি আমাকে ২০ লক্ষ টাকা দেন।

এসময় তাকে আমার ভুয়া প্রমানিত হলে আমি তার পরিচয়পত্র দেখতে চাই। তখন সে বলে, আমি দুদকের লোক নই। আমি এনটিভি চ্যানেলের ক্রাইম রিপোর্টার। আমি তখন সেই পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে সে বলে পরিচয়পত্র সাথে নেই। আপনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। পরে একটি পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করে। পরে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বরিবার জিতু মিয়া বাদী হয়ে ৬ জনের নামে শরীয়তপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

জিতু মিয়া বেপারী বলেন, কোন ধরণের ভিত্তি ছাড়াই প্রতিপক্ষের লোকজনের মিথ্যা তথ্যের উপর নির্ভর করে এক বিভ্রান্তিকর সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যা আমার জন্য খুবই অসম্মানজনক।

“আমি শুরু থেকেই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারকে নিয়মিত ভ্যাট, ট্যাক্স প্রদান করে আসছি। যা আয়কর ফাইলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অতএব অবৈধ সম্পদ অর্জনের কোন সুযোগই আমার নেই”- বলছিলেন জনাব জিতু মিয়া বেপারী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হওয়া ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, জিতু মিয়া বেপারী চরসেনসাস ইউনিয়নের বেড়াচাক্কি এলাকায় অন্যদের জমি জোরপূর্বক দখল, ইটভাটার জমি জোরপূর্বক দখল, চাঁদপুরে ৩টি বাড়ি, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ, চাঁদপুর এক হাসপাতালে ৮০% শেয়ার, গ্রামে আলিশান বাড়ি, শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরীঘাট নিয়ন্ত্রন করে কয়েক’শ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

এসব দাবির প্রতিটির ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের বিরুদ্ধে চক্রান্তের বিষয়টি উল্লেখ্য করেন জিতু মিয়া বেপারী।
তিনি বলেন, “যে ব্যাক্তি আমাকে নিয়ে লিখেছেন। তিনি দুদক কর্মকর্তার পরিচয়ে প্রথমে আমার কাছে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন, পরে এনটিভির ক্রাইম রিপোর্টার পরিচয়ে দাবি করেন ৫০ হাজার টাকা। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারনে তিনি আমাকে নিয়ে সংবাদ প্রচারের হুমকি দেন। আমার বিপক্ষে সংবাদ প্রচারের জন্য অনেক লোক তাকে টাকা দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি আমাকে হুমকি দিয়ে যান। আমার কাছ থেকে টাকা না পেয়ে, পরবর্তীতে আমার প্রতিপক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঐ ব্যাক্তি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণায় লিপ্ত হোন।

চরসেনসাস বেড়াচাক্কি এলাকায় জমি দখলের বিষয়ে জিতু মিয়া বেপারী বলেন, ২০-২৫ বছর আগে ঐ দুর্গম এলাকার জমি এক সময় ৩০-৪০ হাজার টাকা একর বিক্রি হতো আমি ঐ সময় ঐ এলাকায় কিছু জমি কিনেছিলাম। পরবর্তীতে ঐ জমি অন্য ব্যাক্তির কাছে লিজ দিয়েছি সেখানে তারা মাছের খামার করছে। ঐসব জমির যাবতীয় দলিলপত্র আমার কাছে রয়েছে। ঐ ঘের আমার না। তবে আমার একটা মাছের আড়ৎ আছে। যা আয়কর ফাইলে লিপিবদ্ধ।

আর, আমার ইটের ভাটার জমি মালিকদের কাছ থেকে লিজ নেয়ার যাবতীয় চুক্তি আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। চাইলে দেখাতে পারবো। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন জমি আমার দখলে নেই। চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন। আর আমাদের গ্রামের বাড়িতে যৌথ পরিবার মিলে যে বাড়ি রয়েছে তা বহু বছরের পুরানো।

পার্শ্ববর্তী চাঁদপুর জেলায় জিতু বেপারীর ৩টি বাড়ি রয়েছে বলে যে তথ্য প্রতিবেদনে দেয়া হয়েছে, সে বিষয়েও পরিস্কার করেন সাবেক এ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, চাঁদপুর জেলায় আমার স্ত্রীর নামে একটি চার তলা বাড়ি রয়েছে। অনেক আগে ঐ জমিটি আমারা কিনেছিলাম। পরে বছরে বছরে আস্তে আস্তে সেখানে চার তলা গড়ে তুলেছি। এছাড়া আমাদের আর কোন বাড়ি নেই। জামতলা এলাকায় একখন্ড পতিত জমি আছে। শেয়ার মার্কেটে আমার কোন বিনিয়োগ নেই। আর চাঁদপুরের যে হাসপাতালে আমার ৮০% শেয়ারের কথা বলা হয়েছে সেখানে মাত্র ৫% শেয়ার রয়েছে যাতে কোন প্রকার মুনাফা নেই।

দীর্ঘদিন ধরে ফেরী ঘাটের অবৈধ নিয়ন্ত্রনের বিষয়ে জিতু মিয়া বেপারী বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন টেন্ডার নিতে ব্যার্থ হওয়ার ক্ষোভে আমাকে দোষারোপ করছে। আমি শুধু বিআইডাব্লিউটিএর ইজারাদার হিসেবে লোকজন দিয়ে ধার্যকৃত টাকা উত্তোলন করি।

এক কথায় আমার সাথে রাজনৈতিকভাবে, ব্যবসায়ীক ও সামাজিকভাবে ব্যার্থ হয়ে আমার সুনামক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে আমার প্রতিপক্ষের লোকজন। কিন্তু এলাকার লোকজন আমার সম্পর্কে অবগত আছে। আমি কেমন মানুষ। আমার কর্ম দ্বারাই আমি জনগনের কাছে বিবেচিত হবো। আমার আয় ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত আয়কর ফাইলে লিপিবদ্ধ আছে। আমি আমার সকল সম্পত্তির বিষয়ে সব যায়গায় হিসেব দিতে প্রস্তুত।

চেয়ারম্যান হওয়ার পূর্বে আমার ভাইয়ের স্বর্ণের ব্যবসা ছিলো, দক্ষিন তারাবুনিয়া মাল বাজারে আমার নিজের রাইচ মিল ছিলো তাছাড়া ঐ সময় আমি ছোটখাটো ঠিকাদারী করতাম। এলাকার লোকজন সবাই এটা জানে। ঐ ভূয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমি মাছ বিক্রেতা থেকে চেয়ারম্যান, কোটিপতি। এ ধরনের মিথ্যা ও অসম্মানজনক তথ্যের আমি তীব্র নিন্দা জানাই এবং বিচার চাই।

1 2 3 7