সখিপুর তারাবুনিয়া আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পুর্ন

নিউজ২৪লাইন:
মোঃ রুহুল আমিন // শরীয়তপুর প্রতিনিধিll

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর উত্তর তারাবুনিয়া আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সুষ্ঠভাবে সম্পুর্ন হয়েছে। শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর )অভিভাবকদের নিজ নিজ ভোটের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এ নির্বাচন।

সকাল ১০টায় থেকে বিকাল ৪টায় পর্যন্ত এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে অভিভাবক সদস্য পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদন্ধিতা করেন।

ভোট কেন্দ্রে অভিভাবকরা জানান এখানে কোন সমস্যা হচ্ছেনা সবাই সুষ্ঠভাবে যার যার ভোট দিতে পারছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল (প্রিজাইডিং অফিসার) -এর স্বাক্ষরিত ফলাফল পত্র থেকে জানা যায় ৫ জন বিজয়ী হয়েছেন। এদের মধ্যে মোঃ ফারুক আসামী (৬৮৬) ভোট পেয়ে প্রথম হন। . মোঃ কলিম উল্লাহ মাঝি ৫৭৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। মোঃ হোসেন সরকার (৫৭৪) ভোট পেয়ে তৃতীয় ও মোঃ নিজাম আসামী (৫৬৫) ভোট পেয়ে চতুর্থ এবং সংরক্ষিত মহিলা অভিভাবক সদস্য. লাকী ইসলাম (৫৮৪) ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এবং দাতা সদস্য হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ শাহিন আলম।

উল্লেখ্য,আব্বাস আলী ইবিদ্যালয়ের অভিভাবকদের ভোটার সংখ্যা ছিলো ১,৩৩৪ এবং ভোট সংগ্রহ হয়েছে ১,১৫৬ ভোট।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইউনুস আলী মোল্লা, সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাজী ইউনুছ সরকার,বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বি এ সি মোঃ কাউসার আহমেদ , সখিপুর থানার (ওসি তদন্ত) ওবায়দুল রহমানের নেতৃত্বে থানার অনান্য পুলিশ সদস্য।

জুনায়েদ জামশেদ, পাকিস্তানের নামকরা পপশিল্পী থেকে যেভাবে আল্লাহর ওলী হয়ে ওঠা

সবুজ খান সুহেল :
নিউজ২৪লাইন:
জুনায়েদ জামশেদ,
পাকিস্তানের নামকরা পপশিল্পী সেকি আল্লাহর ওলী হয়ে ওঠার

গত কয়েক বছর পূর্বে গান-বাজনা পরিত্যাগ করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ইসলামের একজন বিশিষ্ট দাঈ বা দ্বীন প্রচারক ছিলেন।

জুনায়েদ জামশেদ ২০০৮ সালে বাংলাদেশে তাবলীগে এসে বলেছিলেন তার বদলে যাবার কাহিনী। শুনুন-

“২০০৩ সালের কথা। একদিন জুন মাসের প্রচণ্ড গরমে করাচীর রাস্তা দিয়ে গাড়ী চালিয়ে যাচ্ছিলাম। বাইরে তখন লু-হাওয়া বইছে। রাস্তায় পায়ে হাঁটা মানুষের সংখ্যা খুব কমই পরিলক্ষিত হচ্ছিল। এমন সময় দেখি, তাবলীগের কিছু ভাই গাশতে (দ্বীনের দাওয়াতে) বের হয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। আর তাদের শরীর দিয়ে ঝর ঝর করে ঘাম ঝরছে। জামা-কাপড় সব ভিজে গেছে। তাদেরকে দেখে মনে মনে বললাম, লোকগুলো পাগল ছাড়া আর কি! নিজেদের আরামও নষ্ট করছে, অন্যদেরকেও বাড়ী থেকে বের করে কষ্টের মধ্যে ফেলার ফিকির করছে।

পরে চিন্তা করলাম, আমি এই এসি গাড়ীতে কত আরামে বসে আছি। কিন্তু এরা কিসের জন্য নিজেদেরকে এই কষ্টের মধ্যে ফেলছে? কেন তারা এই ত্যাগ স্বীকার করছে?

ওই জামা’আতে আমার স্কুল জীবনের এক সহপাঠী ছিল। সে আমায় বললো- ‘জুনায়েদ! এখন তুমি যে সম্মানের মধ্যে আছো, এটা চিরস্থায়ী নয়, এটা একদিন শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আমি তোমাকে যে পথে আহবান করছি-প্রকৃত সম্মান সে পথেই আছে। এখন হয়তো তুমি বুঝতে পারবে না। কিন্তু একদিন তোমার বুঝে আসবে যে, আমিই তোমার প্রকৃত কল্যাণকামী’।

আমি ভাবলাম, গান-বাদ্য তো আল্লাহর নাফরমানীর কাজ। তাই গান গাইতে ভালো লাগলো না। আবার চিন্তা করলাম, না গাইলে সংসার চলবে কি করে? এসব চিন্তা করে মনের সাথে লড়াই করে যেতে লাগলাম।

এদিকে শয়তান কিন্তু বসে থাকল না। আমার সংকল্প থেকে আমাকে টলাবার জন্য বিভিন্নভাবে সে জাল ফেলতে লাগলো। বড় বড় অফার আসতে লাগলো। একটা মাত্র গান গাওয়ার জন্য, একটা মাত্র শোতে অংশ নেয়ার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রস্তাব আসতে লাগলো। কিন্তু আমি আল্লাহর উপর ভরসা করে সব লোভ ত্যাগ করলাম। ইতোমধ্যে আমার ঈমানী পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল। বেতন দিতে না পারার কারণে ছেলে-মেয়েকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে আনলাম। গাড়ীটা বিক্রি করে দিলাম। এক সময় বাড়ীও বিক্রি করে দিলাম। স্ত্রী ঈমানের তালীম অর্জন করেছিল। বললো, আপনাকে সে চিন্তা করতে হবে না। আজ যিনি রিযিক দিচ্ছেন, আগামীকালও তিনিই রিযিক দিবেন।

এখন আমি পায়জামা-পাঞ্জাবী তৈরী করি। সারা পাকিস্তানে আমার ৪৫ টা শো রুম আছে। সবগুলো আমি চিনিও না। কোথাও আমার যাওয়াও লাগে না। আমি এখন একেবারে অবসর। প্রায় সারাবছর তাবলীগে সময় লাগিয়ে বেরাচ্ছি। আগে গান গাওয়ার জন্য সারা বিশ্ব সফর করেছি। এখন দাওয়াতের কাজে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছি। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্‌ তা’আলা আমার গলাটাকেও কাজে লাগিয়ে দিলেন।”