নারায়ণগঞ্জে মিশর হত্যা মামলার রায় : একজনের ফাঁসি, দুই জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিউজ২৪লাইন:

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগ‌ঞ্জের বন্দরে হত্যা মামলায় এক আসামীর মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে আরও দুই আসামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান সোমবার সকাল পৌনে ১০ টায় এই রায় ‌দেন। রায় ঘোষনার সময় তিন আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী নবীগঞ্জ এলাকার দেলোয়ার হোসনের ছেলে মিঠু আর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নোয়াদ্দা এলাকার মঞ্জুর হকের ছেলে মুন্না এবং নোয়াদ্দা এলাকার বংগার ছেলে শয়ন।বন্দরের কাইতাখালী এলাকার মৃত শফিউদ্দিন সিকদারের ছেলে মিজান সিকদার মিশর খু‌নের শিকার হন। সে গাজীপুরে একটি ডাইং কারখানায় কাজ করত। সে ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, পাওনা মাত্র ৫০০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মিজান সিকদার মিশরের সাথে তর্ক-বির্তক হয় নোয়াদ্দা এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মিঠুর । ২০১৯ সালে ২৩ জুলাই রাতে মশার কয়েল কিনতে দোকানে গেলে মিঠু ও তার সহযোগীরা মিজান সিকদার মিশরকে ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা উপজেলা কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রসিকিউশন শাওন শায়লা জানান, ঘটনার পর দিন নিহতের ভাই সানি বাদী হয়ে মিঠুকে প্রধান আসামি করে মামলা করে। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। আদালত দীর্ঘ শুনানি ও ১২ জনের সাক্ষ্য–প্রমাণ শেষে মিঠুকে মৃত্যুদণ্ড, মুন্না ও শয়নকে যাবজ্জীবন প্রদান করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের আরও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন, অনাদায়ে আরও ১ বছর সাজা প্রদান করেন।

মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই সানি জানান, এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। দ্রুত বিচার কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। যাতে এই বিচার দেখে আর কেউ কোন মায়ের বুক খালি করার সাহস না পায়।

এদিকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মুন্নার মা শাহিদা বেগম বলেন, আমার ছেলে অপরাধী না, তাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা ন্যায বিচার পাইনি। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো।

শরীয়তপুরে বিশ্ব বসতি দিবস ২০২২ পালিত

নিউজ২৪লাইন:
নুরুজ্জামান শেখ,শরীয়তপুর থেকে।

শরীয়তপুর জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়েছে। ৩ অক্টোবর ২০২২ সকাল ১১.০০ টায় বিশ্ব বসতি দিবস পালন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক এর সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিশ্ব বসতি দিবস পালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো: পারভেজ হাসান, সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো: মহিবুর রহমান, পিইঞ্জ, নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগ, শরীয়তপুর, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী মো: শাহজাহান ফরাজি, নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি, শরীয়তপুর, জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর ডিডি মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক রনি, এই আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এবং বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের পরিচালকসহ বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। প্রধান অতিথি হিসেবে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মো: পারভেজ হাসান গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন টেকসই স্থাপনা নির্মাণ করতে সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। এমন ভাবে বসতি নির্মাণ করতে হবে যেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম নিরাপদে থাকতে পারে এবং এছাড়া গ্রামের সুবিধা এমভাবে নিশ্চিত করতে হবে যেন মানুষ শহরমূখী না হয়। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মহিবুর রহমান, পিইঞ্জ, তাঁর বক্তব্যে বলেন ১৯৮৬ সাল হতে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার এ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছর বিশ্ব বসতি দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে “বৈষম্য হ্রাসের অঙ্গীকার করি সবার জন্য টেকসই নগর গড়ি”। তিনি আরো বলেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই নগরী এবং সবার জন্য নাগরিক সুবিধা সম্বলিত আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তর পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। আলোচনা শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিশ্ব বসতি দিবস ২০২২ এর ব্যানারে একটি র‌্যালি বের হয়ে জেলা গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের মৃত্যুতে বিএমএসএফ’র গভীর শোক

নিউজ২৪লাইন:

দৈনিক বাংলার সম্পাদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খান আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। বার্ধক্যজনিত জটিলতায় অসুস্থ হলে তাঁকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, শনিবার বেলা সাড়ে বারোটায় চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের মৃত্যুতে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে।

২০১৬ সালে একুশে পদক পাওয়া তোয়াব খানের সাংবাদিকতা জীবনের শুরু ১৯৫৩ সালে সাপ্তাহিক জনতার মাধ্যমে। ১৯৫৫ সালে যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। ১৯৬১ সালে তিনি দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক হন। এরপর ১৯৬৪ সালে যোগ দেন দৈনিক পাকিস্তানে। দেশ স্বাধীনের পর দৈনিক পাকিস্তান থেকে বদলে যাওয়া দৈনিক বাংলার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি দৈনিক বাংলার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব ছিলেন। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ও প্রেস ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দসৈনিকের ভূমিকা পালন করেন তোয়াব খান। সে সময় তার আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় নিয়মিত প্রচারিত হয় ‘পিণ্ডির প্রলাপ’ নামের অনুষ্ঠান।

দৈনিক জনকণ্ঠের শুরু থেকে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত পত্রিকাটির উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন তিনি।
এরপর নতুন আঙ্গিক ও ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত দৈনিক বাংলার সম্পাদকের দায়িত্ব নেন তিনি।