শরীয়তপুরের জাজিরার পদ্মার চরে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্ত

নিউজ২৪লাইন:

বিশেষ প্রতিনিধি :
শরীয়তপুরের জাজিরার পদ্মানদীর মধ্যবর্তী পালেরচর এলাকার একটি চরে অজ্ঞাত একটি লাশ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার (১-নভেম্বর) স্থানীয়দের কাছে খবর পেলে রাত দশটার সময় জাজিরার মাঝীরঘাট নৌ-পুলিশ ফাড়ির দায়িত্বরত পুলিশ পদ্মার চর থেকে লাশটি উদ্ধার করে।

পরে সিআইডি ক্রাইম সিন ফরিদপুর ইউনিট বুধবার সকালে এসে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে লাশটির পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এসময় ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরে লাশটির দুই হাতের চার আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে এনআইডি সার্ভারের সহযোগিতায় লাশটির বিস্তারিত পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের সাহায্যে সিআইডি ফরিদপুর এর পুলিশ উপ-পরিদর্শক মোঃ আমিরুল ইসলাম জানান, আমরা লাশটির পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে জানতে পারি এটি 7362256021 নম্বরের জাতীয় পরিচয়পত্রধারী ব্যাক্তির লাশ। তিনি কিশোরগঞ্জের কাটিয়াদী থানার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মুমুরদিয়া গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে মোঃ হানিফ, তার মায়ের নাম নুরজাহান।

এদিকে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালীন সময়ে ইলিশ স্বীকারে গিয়ে নিখোঁজ পূর্ব নাওডোবার আলমখার কান্দি গ্রামের জেলে মজিবর ফকিরের স্ত্রী জাহানারা বেগমসহ তার পরিবার শুরু থেকেই লাশটি তাদের বলে দাবী করে আসছিলো। এমনকি ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে লাশটির পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পরেও তারা লাশটি নিখোঁজ মজিবর ফকিরের বলে দাবী করে যাচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে মাঝীরঘাট নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ তপন কুমার বিশ্বাস জানান, আমরা খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে আনার পর থেকেই একটি পক্ষ লাশটি তাদের বলে দাবী করে যাচ্ছে। আমরা এক্সপার্টদের মাধ্যমে লাশটির পরিচয় শনাক্ত করে সেখানকার স্থানীয় থানা ও চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।

ভেদরগঞ্জে ইউএনও-এসিল্যান্ডের উপর সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা

নিউজ২৪লাইন:

ইয়ামিন কাদের নিলয়
বিশেষ প্রতিনিধি

সরকারি খাস জমি উদ্ধার করতে গিয়ে মীর গোলাম মোস্তফা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী হামলার চেষ্টা করে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমসহ চার জন উপর। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) রাতে রামভদ্রপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রেজা শাহ আলম বাদী হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও মামলার বিবরণে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সরকারি খাস জমিতে স্থাপিত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দকৃত আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত ঘর পরির্দশনে যান রামভদ্রপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রেজা শাহ আলম। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও রামভদ্রপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম মোস্তফা ও জিন্না মীর মালতসহ ৪/৫ জন এসে ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে বাঁশের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করে।
রেজা শাহ আলম এতে বাধা দিলে তাকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। এ সময় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই হামলাকারীদের নিষেধ করলে তাকে ‘‘রাজাকার” বলে কটাক্ষ করে এবং মারধর করা হয়।
এ সময় হামলাকারীরা ওই প্রকল্পে থাকা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত সাইনর্বোড ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপরও হামলা করার চেষ্টা করে মীর গোলাম মোস্তফা বাহিনী। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। রাতে রামভদ্রপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রেজা শাহ আলম বাদী হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মীর গোলাম মোস্তফা ও জিন্না মীর মালতের বক্তব্যের জন্য বারবার চেষ্টা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, রামভদ্রপুরে সরকারি খাস জমিতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘর পরিদর্শন ও সরকারি উদ্ধার করতে গিয়ে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রেজা শাহ আলম স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মীর গোলাম মোস্তাফার হামলা শিকার হয়েছেন। এ সময় তারা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ‘রাজাকার’ বলে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে আমি ও এসিল্যান্ড সেখানে গেলে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়।
এ ব্যাপারে ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহালুল খান বাহার বলেন, ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ চারজনের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।