সখিপুরে ২৪ মামলার ৩ ডাকাত ও ৫ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিউজ২৪লাইনঃ

আমান আহমেদ সজিব // শরীয়তপুর প্রতিনিধিll
শরীয়পুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানায় ২৪ মামলার ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে সখিপুর থানা পুলিশ।

সোমবার (২৪ জানুয়ারী) আধুনিক টেকনোলজি অবলম্বন করে শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে তিন জন ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- ভেদরগঞ্জের সাং রামভদ্রপুর চর কোরালতলী বেপারী (বাড়ি) মৃত সিকিম আলী বেপারীর ছেলে আব্বাস বেপারী (৪৭) নারায়নপুর সূর্যমনি ৫ নং ওয়ার্ড ফরিদ খান এর ছেলে সাগর খান(২৬) ও রামভদ্রপুর চর কোরালতলী আব্দুল জলিল গাজীর ছেলে আবুবকর গাজী (৩৯)
এবং শরীয়তপুর- চাঁদপুর নসিংহপুর ফেরীঘাট থেকে ১কেজি খাজা সহ আরো পাঁচ জনকে আটক করা হয়।
সখিপুর থানার মামলা নং ০৬ ২৪/১/২০২৩ এবং ৩৬(১)সারণিয় ১৯(খ)৪১ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ পস্তুুত করে আদালতে সোপার্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানান যায়
ভেদরগঞ্জ-ডিএমখালি সড়কে গাছ ফেলে একাদিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সড়ক আটকে লুটপাট চালায় ডাকাত দল। এ সময় অন্তত ১০-থেকে ১২টি যানবাহন আটকে প্রায় ৩-৪ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে জানান সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আসাদুজ্জামান হাওলাদার। গ্রেফতারকৃত ডাকাতদেরমধ্যে আব্বাস বেপারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২৪ টি মামলা রয়েছে বলে জানান (ওসি) আসাদুজ্জামান হাওলাদার। তবে তাদের এধরনের সন্ত্রাস মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত থাকবে।

ভেদরগঞ্জের মহাসড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি

আমান আহমেদ সজিব // শরীয়তপুর প্রতিনিধিll
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ভেদরগঞ্জ-ডিএমখালি সড়কে গাছ ফেলে একাদিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সড়ক আটকে লুটপাট চালায় ডাকাত দল। এ সময় অন্তত ১০-থেকে ১২টি যানবাহন আটকে প্রায় ৩-৪ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে রামভদ্র পুর ইউনিয়নের মির্ধা কান্দিতে রাস্তায় গাছ কেটে রাস্তা আটকে দিয়ে দুই প্রান্তে ডাকাত দলের ১৫-২০ সদস্য অবস্থান নেয়। দেশি অস্ত্র , ছুরি, র‍্যানদ্যা, চাইনিজ কুড়াল নিয়ে যাত্রী ও পথচারীদের পথরোধ করে ডাকাতি করে। এ সময় নগদ টাকা ও মোবাইল ডাকাতি করে নিয়ে যায়।এবং ভুক্তভোগীদের আটকে রাখা হয়। ওই রাস্তায় প্রায় রাতেই ডাকাতি সংঘটিত হয়। এলাকাবাসী পুলিশের কাছে বার বার অভিযোগ দেওয়ার পরও ডাকাতি বন্ধ হচ্ছে না। বর্তমানে ঐ রাস্তায় যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শরীয়তপুর- চাঁদপুর ফেরীঘাট মাছ ব্যবসায়ী লাদেন মিয়া জানান তার গলায় ছুরি ধরে, তার কাছ থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। ডিএমখালি এলাকার চরচান্দা খাশমহল বাজারের ব্যবসায়ী অলি মিয়া ও লুৎফর রহমানসহ ট্রাক, পিকআপ,সিএনজি ও মটরসাইকেল চালক ডাকাতদের কবলে পড়ে বলে জানান।

এছাড়াও কয়েকজন ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, রাস্তায় পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী, ট্রাক,পিকআপ, সিএনজি চালক, বাজার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ডাকাতিসহ মারধর করে ডাকাত সদস্যরা।

ডাকাতি খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( ভেদরগঞ্জ সার্কেল) মোঃ মুশফিকুর রহমান ও ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহালুল খান,এবং সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান হাওলাদার।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেদরগঞ্জ সার্কেল)মোঃ মুশফিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ডাকাত সদস্যদের ধরতে ইতিমধ্যে পুলিশের একাধিক ইউনিট মাঠে নেমেছে। খুব শীঘ্রই তাদরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

নিউজ২৪লাইনঃ
ইয়ামিন কাদের নিলয় বিশেষ প্রতিনিধি ঃ
নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কোন প্রকার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে পুকুর কেটে মাছ চাষ করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হাসান ইবনে আমিনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, করোনাকালীন টিকাদানের জন্য বরাদ্দের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন তিনি।
এতে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। যথাসময়ে ডাক্তার অফিসে না আসা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস ত্যাগ করা যেন তাদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোদ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হাসান ইবনে আমিন যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ ওঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার, ভুক্তভোগী রোগী ও স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, নাম সর্বস্ব পত্রিকায় দরপত্রের ঘুপছি বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে পছন্দের লোককে কাজ পাইয়ে দেয়া, টেন্ডারে বেশি মূল্যে খাবার সরবরাহের অনুমতি প্রদান, বছরের পর বছর একই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দ্বারা রোগীদের খাবার সরবরাহ, দালাল দিয়ে সরকারি হাসপাতালের রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে কমিশন বাণিজ্য, হাসপাতাল চত্বরে পুকুর ও সবজি ক্ষেত বানিয়ে মাসে মাসে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ নানা অনিয়মের মূল হোতা ডাঃ হাসান ইবনে আমিন। এছাড়াও সরকারি দামি ওষুধ রোগীকে না দিয়ে ক্লিনিকে সরবরাহ, অস্বাভাবিক মৃত্যুর লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও মারামারি রোগীর সার্টিফিকেট বিক্রিসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে ডাঃ হাসান ইবনে আমিনের বিরুদ্ধে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা চরকুমারিয়ার আসাদ হাওলাদার বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য ফাইজার টিকা দিতে এসেছিলাম। কিন্তু টাকা দিতে পারি নাই বলে আমাকে টিকা দেয়া হয়নি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মারামারির রোগী রুবেল, হৃদয়সহ অন্যান্যরা অভিযোগ করেন, মেডিক্যাল সার্টিফিকেটের জন্য মোটা অংকের টাকা দাবি করেন ডাঃ হাসান ইবনে আমিন। টাকা দিতে পারি নাই বলে সার্টিফিকেট দেয় নাই। ৪০ বছর পর বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন চালু করা হলেও গরীব রোগীরা সেই সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব দুর্নীতির বিষয়ে অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হাসান ইবনে আমিন বলেন, ‘পূর্বে হাসপাতালে রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জামগুলো অকেজো থাকায় তখন চিকিৎসা সেবা ব্যহত হতো। আমি এখন ভালো কিছু করার চেষ্টা করছি।’