নামধারী ভুয়া শাহআলম এর চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযোগ সাংবাদিক শাহআলমের

মঞ্জুরুল ইসলাম রনি,শরীয়তপুর থকে: শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ভুয়া সাংবাদিক শাহআলম নামধারী পরিচয়ে আলতাফ মাদবর ওরূপে (আল্তু) ও জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের পেশকার দৌলত খান পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই জনের নাম উল্লেখ করে জাজিরা উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামের রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী ভুক্তভোগী শামীম মাদবর (২৮) বাদী হয়ে গেলো (২৩ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার জাজিরা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের পর আসল সাংবাদিক শাহআলমের নজরে এলে তিনি এ ঘটনাকে অস্বীকার করে এ অপরাধের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে। পরে ওই ভুক্তভোগী অভিযোগের বাদী শামীম মাদবরের কাছে ছুটে যান সাংবাদিক শাহআলম।

ঘটনার বিষয় শামীম মাদবরের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঘটনার দিন আসল সাংবাদিক শাহআলম ঘটনাস্থলে ছিল না। তার ভিজিটিং কার্ড দেখিয়ে শৌলপাড়া গ্রামের আলতাফ মাদবর ওরূপে (আল্তু) নিজেকে শাহ আলম দৈনিক তৃতীয় মাত্রা পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন আর তার সাথে থাকা দৌলত খান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের পেশকার পরিচয় দেন।

এ ঘটনার সকল বিষয় নিশ্চিত হয়ে সাংবাদিক শাহআলম তার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগে মানক্ষুন্ন হয়েছে এই দাবীতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে এমনটাই জানা যায়।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্র জানায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে ভুক্তভোগী শামীম মাদবর জাজিরা উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়নের কোরবান হাজীর কান্দি গ্রামে শ্রমিকের মাধ্যমে ভেকু দিয়ে পুকুর পাড় বাঁধছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকায় গিয়ে আলতাফ হোসেন মাদবর নিজেকে শাহ আলম দৈনিক তৃতীয় মাত্রা পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক ও দৌলত খান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের পেশকার পরিচয় দেন।

তারা ভুক্তভোগী শামীম মাদবরের কাছ থেকে
২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন। না দিলে ভেকু আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলবো ও ব্যাটারি খুলে নিয়ে যাব এমন হুমকি প্রধান করেন এতে শামীম ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। শামীম কিছু টাকা কমানোর জন্য তাদের অনুরোধ করেন। এ সময় কথিত ভুয়া নামধারী সাংবাদিক আলতাফ মাদবর ও ভুয়া পেশকার দৌলত খানের সঙ্গে পরামর্শ করে ১০ হাজার টাকা নিতে রাজি হন। শামীম মাদবর টাকা প্রদান করলে অভিযুক্তরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

দৈনিক তৃতীয়মাত্রা প্রতিনিধি শাহআলম বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আমার নাম ও ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করায় আমার মানক্ষুন্ন হয়েছে। আমি পেশায় একজন সাংবাদিক আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাই আমি আইনের আশ্রয় নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আশা রাখি অপরাধীরা অবশ্যই শাস্তি পাবে।

অভিযুক্ত আলতাফ হোসেন মাদবর (৪০) তিনি নিজেকে সাংবাদিক শাহআলম হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। আর কথিত জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পেশকার দৌলত খান (৩৮)। 

জাজিরা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের নাম ও এসিল্যান্ড অফিসের পেশকার পরিচয়ে চাঁদাবাজির ঘটনায় দুই ব্যক্তির নামে ভুক্তভোগী শামীম মাদবর অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।