মুন্সীগঞ্জে দুগ্রুপের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ সাংবাদিকসহ আহত ২০ গ্রেপ্তার-৯

নিউজ২৪লাইন:

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি – মুন্সীগঞ্জের সিরাজদলদিখান উপজেলার পূর্ব চান্দেরচর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে ও ফসলি জমির মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে কালাচান গ্রুপ ও কামু গ্রুপের মধ্যে টেটাযুদ্ধে ১১জন টেটা বিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এসময় ৯জনকে আটক করে পুলিশ। বুধবার সকাল ৬ টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষেও ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বালুচর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলেক চান সজীব আহত হন। এছাড়া সংঘর্ষে ৪টি বাড়িঘর ভাংচুর হয়। এতে টেটাবিদ্ধ গুরুতর আহত ইমন (৩০), বাদসা মিয়া (২৮), সরিফ হোসেন (৩০) ও পারভিন বেগম (৪০) কে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সকাল ৬টার দিকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ চলে সকাল ৯ টা পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্তন আনতে পুলিশ ২৫ রাউন্ড গুলি ছুড়েন। বর্তমানে ঘটনস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে দৈনিক মানবকণ্ঠের সিরাজদিখান প্রতিনিধি সাংবাদিক সালাহউদ্দিন সালমান সিরাজদিখান থানার পুলিশের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পূর্ব চান্দেরচর গ্রামের কামিজুদ্দিন কামু (৬০) ও একই এলাকার কালাইচান মাদব্বর (৫৫) সর্মথকদের মধ্যে ফসলি জমির মাটিকাটার টাকার ভাগবাটোয়ারা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে আজ সকাল ছয়টায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে গেল ২১ জুন উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল, ওই সংঘর্ষে ৪জন টেটাবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছিল। বালুচর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আওলাদ হোসেন

সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের দুই নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলেকচান সজীব সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হয়েছে, বর্তমান সে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি আছে, বেশ কয়েকজন টেটাবিদ্ধ হয়েছে বলে আমি শুনেছি। সিরাজদিখান থানার ওসি মো. মুজাহিদুল ইসলাম জানান, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’ সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’ ফসলি জমির মাটি কাটার টাকা ভাগবাটোয়ারা আর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়েছে। এঘটনায় বেশ কয়েকজন টেটাবিদ্ধ আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ২৫ রাউন্ড গুলি ছুড়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে ও সেখানে অভিযান চলছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৯জনকে আটক করা হয়েছে।

হাবিবার কলেজে পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন আনসার বাহিনী

নিউজ২৪লাইন:

শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি,

বাবা হারা সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন সংগ্রাম করছিলেন মা তাসলিমা বেগম। অভাবের সংসারে কোনোমতে মেয়ে হাবিবাকে এসএসসি পরীক্ষা দিতে দিলেও মায়ের ভাবনা ছিল পরীক্ষার পরে মেয়ের কলেজের ভর্তি নিয়ে। মায়ের মানবেতর জীবন-সংগ্রামের কথা জানতে পেরে হাবিবার কলেজে স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়েছিলেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী শরীয়তপুরের কমাড্যান্ট মো. মইনুল ইসলাম। কথা অনুযায়ী হাবিবার কলেজে ভর্তি নিশ্চিত করে বইখাতাসহ চেয়ার-টেবিল ক্রয় করে দিয়েছেন তিনি। তাই বিয়ের পিঁড়িতে না বসে কলেজে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হলো হাবিবার।

বুধবার (১০ জুলাই) শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নসাশন ইউনিয়নের সরদার কান্দি গ্রামে হাবিবাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় তার বইপত্রসহ অন্যান্য সামগ্রী।

প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালন করা হয় মা দিবস। গত মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবসের দিন হাবিবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বের হয়। ওইদিন মা দিবস উপলক্ষ্যে হাবিবার মা তাসলিমা বেগম বলেছিলেন, ‘মেয়ে আজ যে সুসংবাদ দিয়েছে, তাতে আমি কষ্ট ভুলে গেছি’। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ওই দিনই হাবিবার বাড়িতে গিয়ে তার পড়াশোনার খরচের দায়িত্ব নেন মো. মইনুল ইসলাম।

জানা যায়, চার সন্তান রেখে হাবিবার বাবা দুলাল সরদার মারা যান। এরপর হাবিবার মা তাসলিমা বেগম চার সন্তান নিয়ে শুরু করেন শুরু করেন জীবন সংগ্রাম। বাড়ির আঙিনায় শাক-সবজি চাষ, সেলাই মেশিনে জামা তৈরীসহ বিভিন্ন কাজ করে ছেলে-মেয়ের মুখের আহার সংগ্রহ করতে হতো তাসলিমাকে। অভাবের সংসারে হাবিবার কলেজে পড়াশোনার স্বপ্ন থাকলেও তার মা ও অন্যান্য ভাইবোনদের ইচ্ছে ছিল এসএসসি পরীক্ষার পরে হাবিবাকে বিয়ে দিবেন। গত ১২ মে মা দিবসের দিনই হাবিবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলে হাবিবা কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু মেয়ের কৃতিত্বে মেয়েকে মিষ্টিমুখ করাবেন তো দূরের কথা, ঘরে ভালো-মন্দ কিছু রান্না করার মতো সম্বলও ছিল না তাসলিমা বেগমের। তবুও মা দিবস উপলক্ষ্যে নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে তাসমিলা বেগম জানান, মেয়ে আজ যে সুসংবাদ দিয়েছে, তাতে আমি কষ্ট ভুলে গেছি। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শরীয়তপুর কমাড্যান্ট মো. মইনুল ইসলাম পরবর্তীতে ওইদিনই তিনি মিষ্টি, নতুন জামা ও নগদ কিছু টাকা নিয়ে তাসলিমা বেগমের সঙ্গে দেখা করে হাবিবার পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে চাইলে হাবিবার পরিবার তাতে সম্মতি প্রদান করেন। এতে বিয়ের পিঁড়িতে না বসে কলেজে পড়ার স্বপ্ন আরো রঙিন হয় হাবিবার।

এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কলেজে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে হাবিবা খাতুনের আবেদনের প্রেক্ষিতে নড়িয়ার ডগ্রী ইসমাইল হোসেন স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয় সে। হাবিবার ভর্তি ফিসহ অন্যান্য খরচ প্রদানের জন্য ওই কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আনসার বাহিনী। হাবিবার পরিবারের বিস্তারিত জানতে পেরে তার ভর্তি ফি, বেতন ও পরীক্ষার ফি মওকুফ করে দেয় কলেজ প্রশাসন।

আজ বুধবার বিকেলে হাবিবার বাড়িতে গিয়ে চেয়ার, টেবিলসহ একাদশ শ্রেণীর এক সেট বই, খাতা-কলম, শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও আনসার বাহিনীর মহাপরিচালক এ কে এম আমিনুল হকের লেখা আনসার বাহিনীর উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার অবদান সম্পর্কিত বিভিন্ন বইপত্র তুলে দেন জেলা কমান্ড্যান্ট মো. মইনুল ইসলাম।

মেয়ে কলেজে ভর্তির পরে এমন উপহার পেয়ে তাসলিমা বেগম বলেন, ভেবেছিলাম আর পড়াব না মেয়েকে। বিয়ের চিন্তা করছিলাম আমিসহ পরিবারের সবাই। অভাবের কারণে আমার মেয়েকে কোনোদিন চেয়ার-টেবিলে পড়তে বসাতে পারিনি। বাবা হারা আমার মেয়ে কলেজে পড়বে ভাবতেও পারিনি। আমি মইনুল স্যারের জন্য দোয়া করি।

কলেজে ভর্তি নিশ্চিতের পরে চেয়ার টেবিল উপকরণ পেয়ে হাবিবা আক্তার খুশিতে বলেন, আনসার বাহিনী আমার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছে। চেয়ার টেবিল কলেজের ভর্তি ও বইসহ উপহার দিয়েছেন। এখন আমি চেয়ার-টেবিলে বসে পড়াশোনা করতে পারব, এটা আমার কাছে বর্ণনাতীত আনন্দ সংবাদ। আপনাদের সকলের জন্য দোয়া করি আমি। আমার জন্যও দোয়া করবেন, যেন আমি শিক্ষক হয়ে অন্য এতিম ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে পড়াতে পারি।

ডগ্রী ইসমাইল হোসেন স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ কমলেশ চক্রবর্তী বলেন, হাবিবা ও তার মায়ের জীবন সংগ্রামের বিস্তারিত জানতে পেরে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাবিবার ভর্তি ফিসহ কলেজের সকল ফি মওকুফ করা হয়েছে। হাবিবা কোনো প্রকার ফি প্রদান ব্যতিত কলেজে নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারবে।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী শরীয়তপুরের কমাড্যান্ট মো. মইনুল ইসলাম বলেন, এবছরের মে মাসে মা দিবসের দিন জানতে পারি তাসলিমা ও হাবিবার পরিবারের জীবন সংগ্রামের কথা। পরবর্তীতে হাবিবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছিলাম।

আনসার বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় গ্রাম পর্যায়ে আনসার বাহিনীর সেবা পৌঁছে দিতে মানবিক এমন কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করেন। হাবিবার পড়াশোনার সকল খরচ আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকে বহন করা হয়েছে। হাবিবার মায়ের বিধবা ভাতার কার্ড সহ তার প্রয়োজনীয় বইপত্র চেয়ার টেবিলসহ অন্যান্য উপকরণ তাকে উপহার দিয়েছি। সমাজে এমন অনেক হাবিবা রয়েছে, যারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হয়। সচেতনরা একটু উদ্যোগ নিলেই এরা সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য নিজেকে তৈরী করতে পারে। হাবিবার পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনসার বাহিনী তার পাশে থাকব।

রূপগঞ্জে বিআরটিসি পরিবহন যেন ঘাড়ের উপর বিষফোঁড়া 

নিউজ২৪লাইন:

মোঃআবু কাওছার মিঠু

রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিআরটিসি বাসের চালক হেলপার সহ লিজ পার্টি জিল্লুর রহমানের ম্যানেজার মাসুদ কাউন্টার ম্যান ও লাঠিয়াল বাহিনীর হাত থেকে স্বস্তি চায় সাধারণ যাত্রীরা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রূপগঞ্জের একমাত্র গণপরিবহন বিআরটিসি। ভুলতা থেকে কুড়িল পর্যন্ত নিয়মিত যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই গণপরিবহনটি বিভিন্ন অভিযোগ মাথায় নিয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে যাত্রা শুরু করে। এতে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের সুবিধা হবে এবং অল্প টাকায় সকলে ঢাকা সহ আশেপাশের এলাকায় যাতায়াত করতে পারবে।  কিন্তু সে আসার গুড়ে বালি। যেখানে কুড়িল থেকে গাউছিয়া বাস ভাড়া হওয়ার কথা ৩০ থেকে ৪০ টাকা সেখানে বিআরটিসি বাসের ভাড়া গুনতে হয় ৬০ টাকা করে।  অথচ এই একই ভাড়ায় সিএনজিতে চলতে পারে সাধারণ যাত্রীরা। কিন্তু এখানেও বাধা দেয় বিআরটিসির লাঠিয়াল গুন্ডাবাহিনী।  কুড়িল থেকে কোন সিএনজি ড্রাইভার যদি যাত্রী উঠানামা করে তাহলে তাদের ধরে সেখানে বেধড়ক মারধর করার ঘটনা ঘটে প্রায়ই। ইদানিং আর লাঠিয়াল গুন্ডা নয়, জিল্লুর রহমান খোদ পুলিশ পাহারা রেখেছে বিআরটিসি কুড়িল কাউন্টারে। গত চার মেয়ে শনিবার কুড়িল রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করে সিএনজি চালক ও যাত্রীরা তাদের অভিযোগ কুড়িল গেলেই বিআরটিসি লাঠিয়াল গুন্ডাবাহিনী তাদেরকে লাঠি দিয়ে তাদের গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে দেয় এবং সুযোগ পেলে তাদের মেরে রক্তাক্ত করে দেয় এজন্য তারা কাঞ্চন-কুড়িল ৩০০ ফিট রোড অবরোধ করে ৪ ঘন্টা বন্ধ করে রাখে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন ও রুপগঞ্জ থানার ওসি দীপকচন্দ্র সাহার অনুরোধে তারা রাস্তা থেকে সরে যায়।  রূপগঞ্জ থানার ওসিম দীপক চন্দ্র সাহা আশ্বস্ত করেন যে এরপর কারো গায়ে একটি আঘাত আসলে তাদের বিরুদ্ধে আইননব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিএনজি চালকদের এখন লাঠিয়াল দিয়ে নয় খোদ পুলিশ দিয়ে শুরু হয়েছে হয়রানী।  কাউন্টারের আশেপাশে সিএনজি দাড়ালেই পুলিশ দিয়ে গাড়ি আটকে হয়রানীর  অভিযোগ উঠেছে। এজন্য বিআরটিসি বাসের প্রতি যাত্রীদে অনিহা ও দিন দিন যাত্রী সংকট তৈরীসহ বিভিন্নভাবে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

সম্প্রতি বিআরটিসি লিজ পার্টি জিল্লুর সন্ত্রাসী বাহিনী ও কর্মচারী কর্তৃক গ্রীন ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা লাঞ্চিত হয়,  ঘটনার সূত্র ধরে গাউছিয়া-কুড়িল হাইওয়ে ব্যস্ততম রাস্থা অবরোধ করে ছাত্ররা। এ দিন ভুলতা- গাউছিয়া থেকে ঢাকা শহর পর্যন্ত যানজটের শিকার হয় সাধারণ যাত্রীরা।  ছাত্রদের অভিযোগ তাদের হাফ ভাড়া ও সাধারণ যাত্রীসহ ছাত্র হয়রানি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।  অবশেষে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বিআরটিসি চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করে তা সমাধান করা হয়।

অভিযোগ আছে, ভুলতা গাউছিয়া এবং কুড়িল বিশ্বরোডের দুটি কাউন্টার থেকে সিট ভর্তি যাত্রী নেয় এবং পুরা গাড়ি যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকে তারপর গাড়ি ছাড়ে,  টিকিট কাউন্টারে মাইক দিয়ে বলা হয় যে পরবর্তী বাস আসতে ১ ঘন্টা বা তারও বেশি দেরী হবে।

অভিযোগের ব্যাপারে মুঠোফোনে কথা হয় বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ের ডিজিএম অপারেশন শুকদেব ঢালীর সাথে, তিনি বিআরটিসির পিআরওর নাম্বার দিয়ে বলেন,  আমরা বিষয়টি আমলে নিচ্ছি এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।

এ ব্যাপারে লিজ পার্টি জিল্লুর রহমানের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে নাই।

তাং ১০-০৭-২০২৪ইং

বীর মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল করে কালভার্ট ও রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

নিউজ২৪লাইন:

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ
শরীয়তপুরের নাড়িয়া পৌরসভার নবগ্রাম এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃরওশন আলী শিকদারের জমি দখল করে বাউন্ডারি ওয়াল ও নির্মানাধীন ভবনের সাইট ভেঙে পৌরসভার রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণের অভিযোগ।

এ ঘটনায় মেয়র এর নিকট অভিযোগ করেছেন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে প্রফেসর আব্দুল লতিফ তাতে কোন সুফল পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার ।
হঠাৎ করেই বোলডজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় বাউন্ডারি ওয়াল ও বসত ঘরের সাইট ওয়াল এ সময় অভিযুক্তরা বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এবং হুমকি-ধমকি দিয়ে ঐ স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
মেয়র স্বরেজমিনে পরিদর্শন করেন , তবে ভুক্তভোগী পরিবার জানান নির্মাণের সময় নড়িয়া পৌরসভার নিকট হইতে লিখিত অনুমোদন নিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল এবং বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে । এছাড়াও ল্যান্ড সার্ভে টাইবুনাল আদালত শরীয়তপুরে ২৩/২০২১ একটি মামলা চলমান রয়েছে।

আব্দুল লতিফ বলেন, আমি অসুস্থ মানুষ আমার সন্তানাদি নিয়ে আমি ঢাকায় বসবাস করি । প্রভাবশালী মহল সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমার জমি দখলের পায়তারা করছে,আমি চাই পৌরসভার উন্নয়ন হোক তবে উন্নয়ন কাজে যদি জমি দিতে হয় উভয় পাশ থেকে নিতে হবে সে ক্ষেত্রে কেন আমার উপর সব চাপিয়ে দেয়া হবে আমি সুস্ঠ বিচার চাই।
আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিব যদি সমাধান না হয় তাহলে আমি আইনের আশ্রয় গ্রহণ করব ।

উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে নড়িয়া পৌরসভার মেয়র অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অরে লাথি দিয়ে ওর জামি সুডাইয়া হালাইম অয় একএক জায়গায় জাইয়া টাকা হাদে রাস্তার যা দরকার দুইপাশ থেকে সমানভাবে নিতাছি, ওর বিল্ডিং এর অনুমোদন নাই বিল্ডিং ভাঙ্গা দিমু।

শরীয়তপুরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা-মারধরের  অভিযোগ

আশিকুর রহমান হৃদয় শরীয়তপুর থেকে ঃ

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় জাকির আকন নামে এক ইটালি প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ভাঙচুর ও তাঁর পরিবারের লোকজনকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার দারুলআমান ইউনিয়নের নাদ্রা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রবাসীর ভাই ইলিয়াছ আকন বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

থানায় অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ডামুড্যা উপজেলা দারুলআমান ইউনিয়নের নাদ্রা গ্রামের ইটালি প্রবাসী মো: জাকির আকনের পরিবারের সাথে জমি নিয়ে একই গ্রামের মুনতাজ উদ্দিন ফকিরের সাথে বিরোধ চলে আসছিলো। তারই জের ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে ফারুক ফকির ( ৩০) মুনতাজ উদ্দিন ফকির (৫০) কামাল ফকির সহ ৪/৫ জন ওই প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও পরিবারের লোকজনকে মারধর করে। হামলায় প্রবাসী মো: জাকির আকনের বোন আয়েশা (৩৫) কাজল ( ২৮) এবং বৃদ্ধ চাচী হালিমা ( ৭০) আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

ভুক্তভোগী ওই প্রবাসীর ভাই ইলিয়াছ আকন বলেন, মুনতাজ উদ্দিন ফকিরের সাথে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ। আমার ভাই প্রবাসী সেই টাকায় আমরা এই বাড়ীটি নির্মাণ করি। কিন্তু মাঝে মধ্যেই ফারুক ফকির তাঁর লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়ীর কাজে বাঁধা দেয়। ওইদিন আমাদের বাড়ীর উঠানে এসে গালাগাল করে। এসময় প্রতিবাদ জানালে কোনকিছু বুঝে উঠার আগেই আমার দুই বোন ও চাচীর উপর হামলা চালায়। এতে আমার বোন মারাত্মক ভাবে আহত হয়। এখনো তার চিকিৎসা চলছে। আমি এবিষয়ে ডামুড্যা থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমি চাই প্রশাসন তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেক।

স্থানীয় প্রতিবেশী কাদির আকন বলেন,ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম। হটাৎ মারামারি দেখে আমি ও আমার মা এগিয়ে গিয়ে ছাড়ানোর চেষ্টা করি। কিন্তু মুনতাজ উদ্দিন ফকিরের লোকজন উল্টো আমার মায়ের উপর হামলার চালায়। এরপর আমি আমার মাকে নিয়ে হাসপাতালে চলে যা-ই। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এবিষয়ে অভিযুক্ত মো:ফারুক আকন বলেন,আমি এবং আমার লোকজন তাদের ওপর হামলা করে নি। তাদের সাথে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ এটা সত্য। কিন্তু মারামারির বিষয়টি মিথ্যা।

এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমারত হোসেন বলেন, প্রবাসীর বাড়িতে হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর আন্দোলনের পর ফরিদপুর স্টেশনে থামলো চন্দনা কমিউটার ট্রেন

মো:টিটুল মোল্লা “বিশেষ প্রতিনিধি।। 

ফরিদপুরে দীর্ঘদিন আন্দোলনের পর অবশেষে স্টপেজ পেয়েছে চন্দনা কমিউটার ট্রেন। গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো ফরিদপুর স্টেশনে থামে ট্রেনটি। এতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আন্দোলন কারীরা। ভোরে ৫:৩৫ মিনিটে ফরিদপুর লক্ষীপুর রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ প্রতীক্ষা নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন আন্দোলন কারীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালে করতালির মধ্যে স্বাগত জানান তারা। এরপর সেখানে দুই মিনিট অবস্থান করে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় ট্রেনটি। ট্রেনটির স্টপেজের দাবিতে প্রায় আড়াই মাস যাবত আন্দোলন চলছিল। এ ব্যাপারে বেশ কয়েকজন তরুণ জানান এটি আমাদের দীর্ঘ দুই মাসের আন্দোলনের ফসল। ট্রেনটি ফরিদপুরের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু কোনো স্টপেজ ছিল না। ফরিদপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, তরুণ সমাজসহ ফরিদপুরবাসীর দীর্ঘদিন আন্দোলনের পর আজ তা বাস্তবায়িত হলো। আমরা রেলমন্ত্রী ও রেল কর্তৃপক্ষকে ফরিদপুরবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা বলেন আমরা সকালে ঢাকায় অফিসও করতে পারব এবং প্রয়োজনীয় কাজ শেষে সন্ধ্যায় আবার ফিরে আসতে পারবো। এ বিষয়ে ফরিদপুর সহকারী স্টেশন মাস্টার সুজাত আলী সরদার জানান, সপ্তাহে শুক্রবার ব্যতিত ছয়দিন ট্রেনটি চলবে এবং ফরিদপুর স্টেশনে থামবে। এ বিষয়ে আমরা নির্দেশনা পেয়েছি। সেই মোতাবেক মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো এখানে থেমেছে। ট্রেনটি প্রতিদিন রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে ফরিদপুর স্টেশনে এসে পৌঁছাবে এবং দুই মিনিট অবস্থান করে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। তবে, ফরিদপুর স্টেশন থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত টিকিট পাওয়া যাবে এবং ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ টাকা। এছাড়া ভাঙ্গায় গিয়ে নাম পরিবর্তন হওয়ার কারণে নতুন করে টিকিট কেটে নিতে হবে। একইভাবে ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৬টায় ছেড়ে আসবে এবং রাত ৮টায় ফরিদপুরে পৌঁছাবে। গত ৪ মে মাদারীপুরের শিবচরে এক অনুষ্ঠানে রাজবাড়ী-ভাঙ্গা-রাজবাড়ী রুটে ‘চন্দনা কমিউটার’ ও ভাঙ্গা-ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে ‘ভাঙ্গা এক্সপ্রেস’ নামে কমিউটার ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম। ট্রেনটি ফরিদপুর স্টেশন হয়ে যাচ্ছিল কিন্তু কোনো স্টপেজ না থাকায় মানববন্ধন, ট্রেন অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকি কাফনের কাপড় পরে তারা ট্রেনটির গতিরোধ করেন। তাদের সেই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন ফরিদপুরের বিশিষ্টজনেরা। অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত সফলতা পেল ফরিদপুরবাসী।