ফরিদপুরে চাঁদা না পেয়ে ফুটপাত ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম
মো:টিটুল মোল্লা””ফরিদপুর।।
ফরিদপুর সদর উপজেলার পৌর এলাকার হেলিপোট বাজারে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ফুটপাত ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। আহত ব্যবসায়ীর নাম মিন্টু পাটোয়ারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হেলিপোট বাজার এলাকায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ফুটপাত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, মোঃ বক্কার শেখ ও তার পুত্র তন্ময় শেখসহ আরও কয়েকজন এই চাঁদাবাজ চক্রের সঙ্গে জড়িত। ব্যবসায়ীরা এতদিন ভয়ে মুখ না খুললেও সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনায় বাজারজুড়ে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
ভুক্তভোগী মিন্টু পাটোয়ারী জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে অভিযুক্তরা তার কাছে চাঁদার টাকা দাবি করে। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। হামলার সময় তার পকেটে থাকা এক লাখ সাতাশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি হামলাকারীরা তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয় বলেও দাবি তার।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিন্টু বলেন, “ওরা আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছে। আজ যদি আমি মরে যেতাম, তাহলে আমার তিনটি ছোট সন্তানকে দেখার কেউ থাকত না। কিছুদিন আগেই আমার স্ত্রী মারা গেছে। আমি এখন বেঁচে থাকলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভীষণ শঙ্কায় আছি।”
এ ঘটনায় বাজারজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা চাঁদাবাজির শিকার হলেও ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারেননি। এখন প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দিনের আলোয় এমন নৃশংস হামলা শুধু একজন ব্যবসায়ীর ওপর নয়—সমগ্র বাজার ব্যবস্থার ওপর একটি অশুভ বার্তা। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা না হলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আরও ভয় ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়বে।
সচেতন মহলের মতে, ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হলে বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে আসবে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপই পারে এমন চাঁদাবাজ চক্রের দৌরাত্ম্য রুখে দিতে।
