ফরিদপুর সদর উপজেলার উন্নয়নে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান চৌধুরী নায়াব ইউসুফের

মো:টিটুল মোল্লা”” ফরিদপুর।।

ফরিদপুর সদর উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়ন জোরদার এবং জনসেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ–এর সাথে এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
​উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হওয়ার পর সংসদ সদস্য সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “জনগণের সেবক হিসেবে আমাদের মূল লক্ষ্য হবে উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করা এবং প্রশাসনের সাথে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয় নিশ্চিত করা।”
​উপজেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভা শেষে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির নিয়মিত বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।
​উক্ত সভায় উপজেলা এসিল্যান্ড, কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত), বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা এবং উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
​#Faridpur #ChowdhuryNayabYusuf #PublicService #Development #FaridpurNews #সদর_উপজেলা

ফরিদপুরে আন্তঃজেলা ইজিবাইক চোর চক্রের মূল রহস্য উদ্ঘাটন: ১৮টি ইজিবাইকসহ গ্রেপ্তার ১২

মো:টিটুল মোল্লা।। 

​ফরিদপুরে সংঘবদ্ধ ইজিবাইক চোর চক্রের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। দীর্ঘ অভিযানে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তারসহ উদ্ধার করা হয়েছে ১৮টি চোরাই ইজিবাইক ও বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ।

​সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম

​যেভাবে উদ্ঘাটিত হলো চুরির রহস্য

​পুলিশ সুপার জানান, সম্প্রতি ফরিদপুর কোতয়ালী থানা এলাকার একটি পার্কিং থেকে একটি ইজিবাইক চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী চালকের মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্তে নামে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযানে চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

​চক্রের কার্যপদ্ধতি

​জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, তারা ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে পরিকল্পিতভাবে ইজিবাইক চুরি করত। শনাক্তকরণ এড়াতে তারা অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিচের কাজগুলো করত:

  • ​ইজিবাইক ভেঙে যন্ত্রাংশ আলাদা করা।
  • ​বডি ও চেসিসের রং পরিবর্তন করা।
  • ​ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর বিকৃত করা।
  • ​অবৈধ গ্যারেজে নতুনভাবে সংযোজন করে বাজারে বিক্রি করা।

​উদ্ধার অভিযান ও মালামাল

​ফরিদপুরের বোয়ালমারী, মধুখালী, কোতয়ালী এবং পাশের জেলা শরীয়তপুর ও মাগুরায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পুলিশ নিম্নলিখিত সাফল্য পায়:

  • মোট উদ্ধার: ১৮টি চোরাই ইজিবাইক (১৩টি সচল এবং ৫টি অচল)।
  • অন্যান্য: বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ এবং ইজিবাইক কাটার সরঞ্জাম।

​গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন:

​মোজাম্মেল মণ্ডল, ইলিয়াস হোসেন, আবুল হোসেন মোল্লা, তানভীর শেখ, আওয়াল বিশ্বাস, বদিউজ্জামান মোল্লা, মৃদুল, মিলন খান, মো. আশরাফ, শহীদ শিকদার, জুয়েল রানা ও রনি মিয়া। পুলিশ জানিয়েছে, এরা সবাই পেশাদার চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য।

​প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন

​অভিযান ও প্রেস ব্রিফিংকালে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) রায়হান গফুর এবং ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়ালসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

​পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।