কক্সবাজারে ইউসেপ বাংলাদেশ ও এনি চৌধুরী বিউটি পার্লারের মধ্যে সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষর


কক্সবাজার প্রতিনিধি;

কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইউসেপ বাংলাদেশএনি চৌধুরী বিউটি পার্লার-এর মধ্যে একটি পারস্পরিক সহযোগিতা স্মারক (Consent Letter of Mutual Cooperation) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) স্বাক্ষরিত এ সহযোগিতা স্মারকের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিল্প প্রতিষ্ঠানে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ (Attachment), শিক্ষানবিশ (Apprenticeship), দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করবে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইউসেপ বাংলাদেশ প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, Recognition of Prior Learning (RPL) কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে। অপরদিকে এনি চৌধুরী বিউটি পার্লার প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, বাস্তব কর্মপরিবেশে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন এবং দক্ষ বিউটি ও ওয়েলনেস পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।

সমঝোতা স্মারকে ইউসেপ বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মো. আকরাম হোসাইন, ডেপুটি ম্যানেজার, ইউসেপ কক্সবাজার টিভিইটি ইনস্টিটিউট। এনি চৌধুরী বিউটি পার্লারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানের মালিক আনোয়ারউল ইসলাম সিকদার

অনুষ্ঠানে ইউসেপ বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জাহেদুল ইসলাম, অফিসার (SI & E), ট্রেইনার শারমিন বেগম এবং ট্রেইনার বিপ্লব বড়ূয়া। এদিকে এনি চৌধুরী বিউটি পার্লারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক খালেদা আক্তার এনি এবং প্রশিক্ষনার্থী চাঁদনী দাস।

এনি চৌধুরী বিউটি পার্লার কক্সবাজার সদর উপজেলার লিংক রোডস্থ আরিফ মার্কেটের ২য় তলায় (গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের পাশে) অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি বিউটি ও ওয়েলনেস সেবার পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরিতেও কাজ করে আসছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ সহযোগিতার মাধ্যমে বিউটি ও ওয়েলনেস খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্পখাতের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ ধরনের অংশীদারিত্ব দেশের দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বাঁশখালীতে বন্যার্তদের পাশে ছাত্রদল নেতা আফজাল রহমান, ৩০০ পরিবার পেল ত্রাণ

নিউজ২৪লাইন:

বাঁশখালীতে বন্যার্তদের পাশে ছাত্রদল নেতা আফজাল রহমান, ৩০০ পরিবার পেল ত্রাণ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার দুর্যোগ ও বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক আফজাল রহমান। সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও টানা ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়, দুস্থ ও বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে মোট ৩০০টি পরিবারের হাতে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

ত্রাণ বিতরণকালে ছাত্রদলের নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক আফজাল রহমান বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই ত্রাণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ছাত্রদল সব সময় মানুষের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে একইভাবে মানুষের পাশে থাকবে। ইতোমধ্যে ৩০০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ ও উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।”

ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা যুবদল নেতা মিজান মোল্লা, মোহাম্মদ ইসমাইল উদ্দিন ইমন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ তারেক, মোহাম্মদ বাহাদুর, মোহাম্মদ শাকিল।বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন রিফাত, রকিবুল হাসান,সোহেল কাদের রানা, তৌহিদ, বাঁশখালী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোহাম্মদ এনাম, মোহাম্মদ রাশেদ, মোহাম্মদ এরশাদ। ইউনিয়ন যুবদল নেতা আব্দুল আলিম, ইউনিয়ন কৃষকদল নেতা মোহাম্মদ রিয়াদ ,মোহাম্মদ ওয়াহেদ, মোহাম্মদ হাবিব, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা পূজা কমিটি আশিস দ্যা, সুমন দ্যা, প্রিয় দে’সহ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

উখিয়ার হলদিয়াপালং ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৫০ বছরের জনদুর্ভোগ: রাস্তা সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসীর আকুতি

রাস্তার বর্তমান অবস্থা


কক্সবাজার প্রতিনিধি :

৫০ বছরের দুর্ভোগেও মিলেনি মুক্তি

উখিয়ার হলদিয়াপালংয়ে ভাঙাচোরা সড়কে বিপর্যস্ত ৫-৬ গ্রামের হাজারো মানুষ

জরুরি রোগী, শিক্ষার্থী ও কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত; দ্রুত সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী শাহাব মিয়ার রাইস মিল থেকে জাহেলিয়ামুরা (ইসলামাবাদ) মসজিদ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে অবহেলার শিকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে সড়কটির টেকসই উন্নয়ন হয়নি। ফলে ৫ থেকে ৬টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের উত্তর পাড়ের বিশাল জনগোষ্ঠীর একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম এই সড়কটি। পাশাপাশি পাগলীর বিল এলাকার সঙ্গেও এ সড়কের সংযোগ রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কাদামাটি ও পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও নিম্নমানের ইটের সলিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ যেকোনো যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০২১-২২ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রধান সড়ক থেকে আবু তাহের চৌধুরীর বাড়ি পর্যন্ত কিছু অংশ পাকা করলেও বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ সড়কের উন্নয়নকাজ আর এগোয়নি। পরবর্তীতে প্রায় এক কিলোমিটার অংশে নিম্নমানের সিঙ্গেল ইট বসিয়ে কাজ করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই ইট উঠে গিয়ে সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে এ সড়কে দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন কর্মজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়া রাস্তা দ্রুত মেরামতের জন্য

৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা “ওবাইদুল আজাদ” এই জনদুর্ভোগের কথা বলতে গিয়ে তার ফেইসবুক পোস্টে লিখেন, উখিয়া হলদিয়া পালং ৪ নং ওয়ার্ডে আমাদের জন্মই যেন এক আজন্ম পাপ।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “প্রতি নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়ন হয় না। বছরের পর বছর আমরা শুধু আশ্বাসই শুনে আসছি।”

এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও পাকা নির্মাণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের ভাষায়, “এই সড়ক শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। তাই দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।”